মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় জননিরাপত্তার সংকট: জবাবদিহি কোথায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জননিরাপত্তার সংকট: জবাবদিহি কোথায়?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
‎বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে এই প্রথম সাতক্ষীরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতবেশি অবনতির দিকে গিয়েছে। যেখানে প্রতিদিন প্রকাশ্যে দিবালোকে খুন, জবরদস্তি জমি দখল, সন্ত্রাস, গণপিটুনি, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, মাদক ও চোরাকারবার এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সাতক্ষীরার মানুষের নিত্যদিনের জীবনসংগ্রামের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎অথচ সাতক্ষীরা বাংলাদেশের এমন একটি জেলা, যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধের কথা বলে মানুষের ভোট নিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। কিন্তু নির্বাচিতরা ক্ষমতায় যাওয়ার পর সাতক্ষীরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং অপরাধ দমনে কার্যকর কোন ভূমিকা রাখতে দেখা যায় না।
‎নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, জেলার মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, মাদক নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন, শিশু ও নারী নির্যাতন দমন, হত্যা ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ এবং সাতক্ষীরাকে একটি শান্তিপূর্ণ মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার কথা বারবার বলা হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর আমরা তার বিপরীত চিত্র দেখতে পাচ্ছি। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের দৃশ্যমান কোন ভূমিকা না থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাঁরা কি নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত, নাকি জেলার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাঁদের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে? আজ সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণের মতো ভয়াবহ সমস্যা থেকে জেলার মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি কোথায়?

‎বিগত ২৪ মাসে সাতক্ষীরা জেলার ৮টি থানা এলাকায় ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক সংঘাত এবং ঘের দখলকে কেন্দ্র করে হত্যাকান্ডের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মোট হত্যাকান্ডের ঘটনায় এই দুই বছরে সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৭৫টি মামলা রুজু হয়েছে। হাতে তুলে নেওয়ার জঘন্য প্রবণতা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। জেলায় অন্তত ১৪টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে সাতক্ষীরা সদরে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই ২৪ মাসে জেলায় ৩৮টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাতক্ষীরার বিভিন্ন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রায় ১,৩০০টি মামলা দায়ের হয়েছে। সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এই দুই বছরে সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে ফেন্সিডিল, ইয়াবা, হেরোইন এবং ভারতীয় পণ্যসহ ১১০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের অবৈধ চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। ঘের ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে ছোট-বড় প্রায় ২৫০টির বেশি সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বহু মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।

সাতক্ষীরার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্বের অংশ। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বিস্তর ফারাকের অভিযোগ উঠেছে। তার জবাব জনগণ তাঁদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করেন। জেলার সাধারণ মানুষ জানতে চান-হত্যা, গণপিটুনি, ধর্ষণ, মাদক, চোরাচালান ও জবরদখল বন্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী দিনে কী কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে? সাতক্ষীরার মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন চান। তাঁরা এমন একটি জেলা চান, যেখানে নারী ও শিশু নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে, মানুষ নির্ভয়ে বসবাস করতে পারবে, জমি ও মৎস্য ঘেরের মালিকেরা তাঁদের সম্পদের নিরাপত্তা পাবেন এবং অপরাধীরা রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কারণে কোনো ধরনের ছাড় পাবে না।
গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা।

Ads small one

সম্পাদকীয়/ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার নিশ্চিত হোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার নিশ্চিত হোক

উপকূলীয় লোনাঞ্চলের লাখো মানুষের দীর্ঘদিনে লালিত একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। বেতগ্রাম থেকে তালা-পাইকগাছা হয়ে কয়রা পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক সড়কটির উন্নয়ন ও বাঁক সরলীকরণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। ৫৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই মেগা প্রকল্প পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে খুলনা ও সাতক্ষীরার চার উপজেলার সড়ক যোগাযোগে এক নতুন দিগন্ত সূচিত হবে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, বিশাল বিশাল গর্ত আর ধূলিবালির নরকযন্ত্রণা সহ্য করা পথচারী ও এলাকাবাসীর জন্য এটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা।
প্রকল্পের সুফল নিয়ে কোনো দ্বিধা না থাকলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যেসব অভিজ্ঞতা ও প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে, তা এড়ানো অসম্ভব। ২০২০ সালে ৩৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালে এসে পৌঁছানো এবং ব্যয় প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা বেড়ে ৫৩৫ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকার বিষয়টি আমাদের পরিকাঠামো খাতের এক পুরনো ও পরিচিত ব্যাধির কথাই স্মর করিয়ে দেয়Ñপ্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা ও সময়মতো জমি অধিগ্রহণে ব্যর্থতা।
সড়ক ও জনপথ দপ্তর (সওজ) এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভাষ্যমতে, ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সোজা করার ক্ষেত্রে ১১.২৪ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং জেলা প্রশাসন ও ভূমি মালিকদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই এই বিলম্ব। প্রয়োজনীয় অর্থ বা চেক প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও ভূমি মালিকরা সঠিক সময়ে ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় আন্দোলন-বিক্ষোভের মুখে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের মতো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রকল্পের শুরুতেই সঠিকভাবে নিবৃতি ও সমন্বয় করা গেলে আজ চার বছরের বাড়তি বিলম্ব এবং জনগণের দীর্ঘ ভোগান্তি এড়ানো যেত।
যেকোনো অবকাঠামোগত প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ। এই অঞ্চলের মানুষের কৃষিজাত পণ্য সরবরাহ, জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ এবং দৈনিক যাতায়াত সহজ করতে সড়কটির অবদান হবে অনস্বীকার্য। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং কপিলমুনি ও গোলাবাটি মোড়সহ শেষদিকের বাকি কাজটি চলতি মাসের মধ্যেই শেষ করে বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
আমরা আশা করব, সওজ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট এই স্বল্প সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে সড়কটির অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করবে। একই সাথে, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত যেসব জটিলতা এখনো বিক্ষিপ্তভাবে রয়ে গেছে, স্থানীয় জেলা প্রশাসন তা দ্রুত ও সঠিকভাবে নিষ্পত্তি করবে। উন্নয়নের মিষ্টি ফলের পাশাপাশি যেন সময় ও অর্থের অপচয়ের তেঁতো অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রকল্পে পুনরায় দেখতে না হয়Ñসে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত শিক্ষা নেওয়া জরুরি।

উপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লাখ বীজ ও চারা সুরক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
উপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লাখ বীজ ও চারা সুরক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ

সংবাদদাতা: জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জনপদে ১০ লাখ বীজ রোপণের পর এবার রোপিত বীজ ও জন্ম নেওয়া চারাগাছের সুরক্ষায় যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ের তদারকি কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শ্যামনগরে বারসিকের উপকূলীয় আঞ্চলিক কেন্দ্রে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য কমলা রানী। বারসিকের ক্যাম্পেইন অ্যান্ড নেটওয়ার্ক ফ্যাসিলিটেটর স ম ওসমান গনী সোহাগের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলাম, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ােিলশনের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান, কৈখালী ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ােিলশনের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ােিলশনের সভাপতি মো. আশরাফ হোসেন, সর্বোচ্চ বীজদাতা লতা রানী এবং প্রভাষক কিশোর কুমার প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কেবল সবুজায়নের কর্মসূচি নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার একটি সামাজিক আন্দোলন। তবে এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে চারার যথাযথ পরিচর্যা ও সুরক্ষার ওপর। উন্মুক্ত আলোচনায় চারাগাছের চারপাশে ঘের ও বেড়া নির্মাণ, নিয়মিত পাহারা এবং ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে পরিচর্যা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই শ্যামনগরে এই ১০ লাখ বীজ রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছিল।

‘স্বাস্থ্যসেবায় যতেœর ছোঁয়া’: সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে সার্ভিস উন্নয়ন সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩২ পূর্বাহ্ণ
‘স্বাস্থ্যসেবায় যতেœর ছোঁয়া’: সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে সার্ভিস উন্নয়ন সভা

সংবাদদাতা: ‘স্বাস্থ্যসেবায় যতেœর ছোঁয়া’ স্লোগান এবং ‘সম্মান, শৃঙ্খলা, সহযোগিতা ও প্রো-অ্যাক্টিভনেস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল সাতক্ষীরা লিমিটেডে মাসিক সার্ভিস উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হাসপাতালের কনসালটেশন সেন্টারে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হাসপাতাল ইনচার্জ মুহা. মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য, পুষ্টি ও ডায়েট বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদ তাছনীম জান্নাত প্রার্থী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনজুরুল ইসলাম খান, সিনিয়র অফিসার ও হিসাব কর্মকর্তা শেখ শরিফুল আউয়াল, আরএমও ডা. আসলাম হোসেন এবং বিভিন্ন বিভাগের ইনচার্জসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।