শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিতে গাবুরার দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, সুপেয় পানির সংকটে হাজারো পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিতে গাবুরার দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, সুপেয় পানির সংকটে হাজারো পরিবার

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোরায় খোলপেটুয়া নদীর চরে অবস্থিত সরকারি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থাপনাটির খাবার পানির পুকুর, চারপাশের সরকারি খাল, গাছপালা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও মহিলা মাদ্রাসা নদীভাঙন এবং লবণাক্ত পানির ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির অন্যতম উৎসটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

২০০৩ সালে চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের সময় গাবুরা এলাকার খাবার পানির সংকট নিরসন ও সবুজ বনায়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইকোপার্কের আদলে ‘দৃষ্টিনন্দন’ প্রকল্পের আওতায় স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়। সময়ের ব্যবধানে এটি দক্ষিণ উপকূলের একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও স্থাপনাটিতে উল্লেখযোগ্য সংস্কারকাজ হয়নি।

গাবুরার বিভিন্ন এলাকায় মেগা প্রকল্পের আওতায় উন্নত সড়ক নির্মিত হলেও খোলপেটুয়া নদীর চরে অবস্থিত এ স্থাপনাটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চারপাশের মাটির বাঁধ ক্ষয়ে যাওয়ায় নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। জোয়ারের লবণাক্ত পানি স্থাপনার ভেতরে প্রবেশের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে খাবার পানির পুকুরের পাড় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পুকুরটি প্লাবিত হয়। এতে পুকুরের পানি দূষিত হয়ে পান করার অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় সমগ্র গাবুরা প্লাবিত হলে এলাকার অধিকাংশ খাবার পানির পুকুর নষ্ট হয়ে যায়। সে সময় দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার পুকুরটি এলাকার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন বহু পরিবার এ পুকুরের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও লবণাক্ত পানি প্রবেশের ঝুঁকিতে সেই পানির উৎসও সংকটের মুখে পড়েছে।

উপকূলীয় জনপদ গাবুরায় সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখানকার মানুষের নিরাপদ পানির ব্যবস্থা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটির পুকুর ও আশপাশের অবকাঠামো রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এটি নষ্ট হয়ে গেলে কয়েক হাজার মানুষ নিরাপদ খাবার পানি সংগ্রহে আরও দুর্ভোগের মুখে পড়তে পারেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থাপনাটির চারপাশের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও পুকুরের পাড় সংস্কার, লবণাক্ত পানি প্রবেশ রোধ, সরকারি খাল পুনঃখনন এবং গাছপালা ও অন্যান্য অবকাঠামো সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থাপনাটিকে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে শুধু একটি দৃষ্টিনন্দন সরকারি স্থাপনাই নয়, উপকূলের কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎসও হারিয়ে যেতে পারে। তাই নদীভাঙন ও লবণাক্ততার ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Ads small one

ধানদিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুজ্জামানের গণসংযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ পূর্বাহ্ণ
ধানদিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুজ্জামানের গণসংযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সমাজসেবক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ নির্বাচনী গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেছেন।

 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ধানদিয়া ইউনিয়নের সেনেরগাতি ঢালিপাড়া এলাকায় এ গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মিজানুর রহমান, ডা. শামসুর জামান, মো. রোস্তম ঢালী, হাসান গাজী, আব্দুল রাবী গাজী, নজরুল ঢালী, আব্দুল মান্নান গাজীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

তালায় সবুজ বাংলা সিআইজি কৃষক ফসল সমবায় সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ
তালায় সবুজ বাংলা সিআইজি কৃষক ফসল সমবায় সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালায় উৎসবমুখর পরিবেশে সবুজ বাংলা সিআইজি কৃষক ফসল সমবায় সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা করপোরাল রফিকুল ইসলাম খাঁ, সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন শিক্ষক শ্যামল চৌধুরী এবং কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন মো. মিজানুর রহমান গাজী।

সমিতির মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের সংগঠিত করে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন। এ লক্ষ্যে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বিনিময়, উৎপাদন খরচ কমানো, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সম্মিলিতভাবে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে এ ধরনের সংগঠন ভূমিকা রাখে।

নবনির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

আশাশুনিতে জমি নিয়ে বিরোধ, শাবলের আঘাতে আহত ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জমি নিয়ে বিরোধ, শাবলের আঘাতে আহত ২

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার নাকনা গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে শাবলের আঘাতে দুজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নাকনা গ্রামের মাফুয়ার রহমান ও মাকসুদুর রহমান নাকনা মৌজায় ক্রয়সূত্রে ১৬ দশমিক ৮০ শতক জমির মালিক। অভিযোগে বলা হয়েছে, জমিটি তাঁদের নামে নামজারি করা রয়েছে। এ জমি নিয়ে খাদিজা খাতুন (নাকনা), আব্দুস সালাম মোড়ল (নওয়াবেকী) এবং রাকিব ও সাকিব হোসেনের (নাকনা) সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, খাদিজা খাতুনের পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে তাঁদের জমির ০.০৩ শতক অংশে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। জমির অন্য অংশ ইজারা দেওয়া হলে ইজারাগ্রহীতারা প্রায় সাত থেকে আট বছর ধরে সেখানে চাষাবাদ ও ভোগদখল করে আসছেন। তবে বিবাদীরা ইজারাগ্রহীতাদের জমি ভোগদখলে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে জমি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে বিবাদীরা মাকসুদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী খায়রুন্নেছাকে শাবল দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁরা রক্তাক্ত জখম হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় অন্যদেরও ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজেদের জানমাল ও জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।