বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

দেবহাটায় জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণে অ্যাডভোকেসি সংলাপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণে অ্যাডভোকেসি সংলাপ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক জেন্ডারভিত্তিক ধারণা ও বৈষম্য দূরীকরণ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কিশোরীদের নিরাপদ ও ইতিবাচক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে সাতক্ষীরার দেবহাটায় অ্যাডভোকেসি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেবহাটা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপের আয়োজন করে আমাদের যুব টিম। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সংলাপে জেন্ডারভিত্তিক নেতিবাচক ধারণার প্রভাব, নারী ও কিশোরীদের সমান সুযোগ ও অংশগ্রহণ, অনলাইন হয়রানি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধ এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের ভূমিকা এবং সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা ও যুব সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, সংলাপের আগে প্রকল্পের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দুই দিনে পৃথক দুটি যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনের ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি সেশনে ১৫ জন নারী ও ১৫ জন পুরুষসহ ৩০ জন করে তরুণ-তরুণী অংশ নেন। দুই সেশনে মোট ৬০ জন অংশগ্রহণকারী জেন্ডারভিত্তিক প্রচলিত ধারণা, নারী ও কিশোরীদের অধিকার, সুরক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, গণমাধ্যম বিষয়ে সচেতনতা এবং সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের নেতৃত্ব ও অ্যাডভোকেসি নিয়ে আলোচনা করেন।

পূর্ববর্তী সেশনগুলোর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আয়োজিত সংলাপে তরুণদের মতামত ও সুপারিশ স্থানীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এবং নারী ও কিশোরীদের নিরাপদ ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন মারুফ সাহা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মিজানুর রহমান, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কবির হোসেন, দেবহাটা সদর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রেহেনা পারভীন, টাউনশ্রীপুর শরৎচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. আমিরুল ইসলামসহ ধর্মীয় নেতা, স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, তরুণ ও নারী নেতারা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের কর্মী মো. মনিরুল ইসলাম।

আয়োজকরা বলেন, জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা যথেষ্ট নয়; পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও কার্যকর সংলাপের মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম করবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

Ads small one

সাতক্ষীরায় জলবায়ু সহনশীল জীবনমান উন্নয়নে ‘রাইজ’ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জলবায়ু সহনশীল জীবনমান উন্নয়নে ‘রাইজ’ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

সংবাদদাতা: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার উন্নয়ন এবং নারীদের টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় ‘রাইজ’ প্রকল্পের জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স (বিটিএস) ও টেরে দেস হোমস (টিডিএইচ) ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জার্মান সরকারের সহায়তায় এবং জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক কেএফডব্লিউর মাধ্যমে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠিত ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ডের অর্থায়নে ৩৬ মাস মেয়াদি প্রকল্পটি সাতক্ষীরা পৌরসভার জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি কলোনিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাওসার আজিজ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শেখ মইনুল ইসলাম মইন এবং সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। টেরে দেস হোমস ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক সুরজিৎ কুণ্ডু সভায় সভাপতিত্ব করেন।

স্বাগত বক্তব্যে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের ম্যানেজার, প্রোগ্রাম ও ডিস্ট্রিক্ট ইনচার্জ মো. শরিফুল ইসলাম প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন কৌশল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রকল্পের কার্যক্রম সফল করতে সরকারি দপ্তর, পৌর কর্তৃপক্ষ, উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি।

ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী এ এস কে আশরাফুল মাশরুদ ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ডের কার্যক্রম তুলে ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রকল্পটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাচিত তিনটি কলোনিতে কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পের প্রেক্ষাপট, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, প্রধান কার্যক্রম, প্রত্যাশিত ফলাফল ও বছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বেজলাইন সমীক্ষার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকল্প এলাকার বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়। ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ড, কারিগরি সহায়তাকারী সংস্থা টেরে দেস হোমস এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের ভূমিকা ও কার্যক্রম সম্পর্কেও জানানো হয়।

প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত তিনটি কলোনিতে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও যুবসমাজের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য পরিবেশগত সংকটের কারণে সাতক্ষীরার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাইজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মৌলিক সেবা প্রাপ্তি, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও টেকসই জীবিকার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও মালিকানাবোধ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিরাপদ আবাসনে সাতক্ষীরায় উত্তরণের উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিরাপদ আবাসনে সাতক্ষীরায় উত্তরণের উদ্যোগ

মিলন বিশ্বাস: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ, ঘর মেরামত, জলবায়ু সহনশীল ঘর নির্মাণ, স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা উন্নয়নের ফলে উপকারভোগীদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এসব কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকল্পের সমাপনী ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল চৌধুরীপাড়ায় সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় সেতুসংলগ্ন রয়েল প্লাস কনভেনশন হলে সকাল ১০টায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অর্থায়নে উত্তরণ বাস্তবায়িত ‘জলবায়ু অভিবাসী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত জলবায়ু অভিযোজনের মাধ্যমে সহনশীল ভবিষ্যৎ গঠন’ প্রকল্পের আওতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উত্তরণের প্রকল্প সমন্বয়কারী ফাতেমা হালিমা আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টর অব প্রোগ্রামস মিয়া মারিনা ও ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাহফুজুর রহমান।

প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরা পৌরসভার ছয়টি কমিউনিটিতে দুটি জলবায়ু সহনশীল ঘর নির্মাণ, ১০টি বসতঘর মেরামত, ২৮৬ ফুট ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ, দুটি গোসলখানা তৈরি এবং ৩০টি পরিবারে শৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৫ জন রাজমিস্ত্রি ও কাঠমিস্ত্রিকে প্রশিক্ষণ, একটি ক্ষুদ্র পাইপভিত্তিক পানি সরবরাহব্যবস্থা স্থাপন, ১০ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং ৪০টি বসতবাড়িতে সবজি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সভার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা জানান, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণের ফলে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কমেছে। আগে পানি জমে থাকায় বাড়ি থেকে বের হওয়া কঠিন ছিল; অনেক সময় দিনে একবারের বেশি বাইরে যাওয়া সম্ভব হতো না। বর্তমানে চলাচল অনেক সহজ হয়েছে। ঘর নির্মাণ ও মেরামতের ফলে দুর্যোগের সময় অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজনও কমেছে। পাশাপাশি স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির সুবিধা তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে।

প্রধান অতিথি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার নিম্নআয়ের মানুষের উন্নয়নে উত্তরণের কার্যক্রম প্রশংসনীয়। পৌরসভার উন্নয়নে ভবিষ্যতে উত্তরণের বিভিন্ন উদ্যোগে সহযোগিতা করা হবে।

বিশেষ অতিথি মিয়া মারিনা বলেন, হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ নিম্নআয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সাতক্ষীরায় এ ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

সংস্থাটির ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, উত্তরণের সঙ্গে যৌথভাবে সাতক্ষীরার উন্নয়নে কাজ করছে হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা হিসেবে কমিউনিটির চাহিদা পূরণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

সভাপতির বক্তব্যে ফাতেমা হালিমা আহমেদ বলেন, উত্তরণ ১৯৮৫ সাল থেকে সাতক্ষীরায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভূমিহীন, জলবায়ু অভিবাসী ও পিছিয়ে পড়া নারীদের উন্নয়নে সংস্থাটি কাজ করছে। হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের মাধ্যমে সাতক্ষীরা পৌর এলাকার জলবায়ু অভিবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তরণের অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমেও পৌর এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিদুল ইসলাম ও সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান। তাঁরা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উত্তরণকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, এনজিও ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (এসএইচজি) প্রতিনিধি এবং প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন উত্তরণের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উত্তরণের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল হোসেন।

পাইকগাছা ইউসিসিএর ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা ইউসিসিএর ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের (ইউসিসিএ) ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ইউসিসিএর সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদ মুরাদ স্বাগত বক্তব্য দেন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পার্থ প্রতিম রায় ও সমবায় কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির।

অনুষ্ঠানে নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সফল সমবায়ীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন অতিথিরা।

সভায় বক্তব্য দেন ইউসিসিএর কার্যকরী কমিটির সহসভাপতি প্রভাষক আবু সালেহ মো. ইকবাল, পরিচালক দীপক চন্দ্র সরকার, সমবায়ী আব্দুল আলীম, বৈদ্যনাথ মণ্ডল, পরিদর্শক নিলুফার ইয়াসমিন, মো. মাসুম বিল্লাহ, দিলীপ নারায়ণ রায় ও আফজাল হোসেন।

এ সময় বিআরডিবির এআরডিও চিন্ময় কুমার মণ্ডল ও সঞ্জয় কুমার মণ্ডল, ইউসিসিএর পরিচালক সুধীর চন্দ্র দাশ, মো. লুৎফর রহমান, মো. রেজাউল করিম, দীপংকর রায়, প্রকাশ চন্দ্র মণ্ডল, সুমন চৌধুরী ও মো. আনিছুর রহমানসহ সমবায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।