পাইকগাছায় বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন, ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা
পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার দীর্ঘদিনের পরিচিত কেন্দ্র ২৩ নম্বর পাইকগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মেয়ে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় কেন্দ্রটি পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে নীতিমালায় এ ধরনের পরিস্থিতিতে কেন্দ্র পরিবর্তনের পরিবর্তে কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আসন্ন পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মেয়ে অংশ নেওয়ায় কেন্দ্রটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কেন্দ্রটি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিভাবকদের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, যে প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, সাধারণত সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে তাঁর সন্তান বা পোষ্য পরীক্ষার্থী হলে তাঁকে কেন্দ্র সচিব করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে অন্য উপযুক্ত কাউকে কেন্দ্র সচিব নিয়োগের বিধান রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, নীতিমালায় বিকল্প কেন্দ্র সচিব নিয়োগের সুযোগ থাকার পরও কেন পুরো কেন্দ্র পরিবর্তন করা হলো, তা বোধগম্য নয়। প্রধান শিক্ষককে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিলেই নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মেয়ে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। তাই পরীক্ষার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে বিদ্যালয়টি থেকে কেন্দ্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের বিধান থাকা সত্ত্বেও কেন পুরো কেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
অভিভাবকদের মতে, কোনো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সন্তান পরীক্ষার্থী হলেই সেখানে পরীক্ষা গ্রহণের পরিবেশ অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে না। নীতিমালা অনুসরণ করে বিকল্প কেন্দ্র সচিব নিয়োগের মাধ্যমেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সম্ভব। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের পরিচিত কেন্দ্র পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।












