শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

তালার ক্ষিতিশ মণ্ডল হত্যা: ২১ দিনেও গ্রেপ্তার নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
তালার ক্ষিতিশ মণ্ডল হত্যা: ২১ দিনেও গ্রেপ্তার নেই

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা সদর ইউনিয়নের জেয়ালা পূর্বপাড়ার ঘেরমালিক ক্ষিতিশ মণ্ডলকে ঘেরের বাসা থেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২১ দিনেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় উৎকণ্ঠায় রয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।

তালা উপজেলার জেয়ালা গ্রামের প্রকাশ মণ্ডল ও পার্থ মণ্ডল তাঁদের চাচাতো ভাই ক্ষিতিশ মণ্ডলের মৃত্যুকালীন জবানবন্দির বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদককে জানান, খুলনার ডুমুরিয়া থানার চণ্ডীপুর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ইব্রাহীম হোসেন (২৮) গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে একটি গাছ থেকে চুরি করে নারকেল পাড়ার সময় ক্ষিতিশের হাতে ধরা পড়েন। এ সময় ইব্রাহীম তাঁকে জীবননাশের হুমকি দেন।

ইব্রাহীমের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং একই গ্রামের আব্বাস শেখের ছেলে ঘেরমালিক শেখ হাবিবুর রহমান ক্ষিতিশকে গত ১০ অক্টোবর একটি কাজ করে দেওয়ার কথা বলেন। সে অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে ফোন করে ক্ষিতিশকে তাঁর ঘেরের বাসা থেকে হাবিবুরের ঘেরে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে পাশের কানা বিশ্বনাথ ঘোষের ঘের থেকে জাল দিয়ে মাছ ধরে হাবিবুরের ঘেরে ছেড়ে দিতে বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিতিশকে মারধর করে কানা বিশ্বনাথের ঘেরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করা হয়।

তাঁদের অভিযোগ, ক্ষিতিশ পানিতে ডুব দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ইব্রাহীম হোসেন নৌকার বৈঠা দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। পরে পানি থেকে তুলে ডাঙায় এনে ইব্রাহীম, তাঁর সহযোগী গফফার শেখ, রবিউল ও মাজেদ লোহার রড দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন। এরপর তাঁকে জেয়ালা ঘোষপাড়া মহাশ্মশানে নিয়ে একটি আমগাছের সঙ্গে পেছনমোড়া করে বেঁধে দুই পা ও বুকের পাঁজর ইট, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্ষিতিশের মৃত্যু হয়।

নিহতের স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল জানান, তাঁর স্বামীকে নৃশংসভাবে নির্যাতনের সময় স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি দেওয়ার বিনিময়েও তাঁর স্বামীর জীবন রক্ষা করা যায়নি। এমনকি তাঁকে পুলিশের কাছে দেওয়ার আগে কয়েকটি অলিখিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ইব্রাহীম, হাবিবুরসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। অথচ ঘটনার তিন সপ্তাহ পার হলেও পুলিশ তাঁর স্বামী হত্যা মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

সুলেখার অভিযোগ, মূল আসামি ইব্রাহীম ও হাবিবুরকে পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলেও পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। উপরন্তু একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের আশ্রয়ে থেকে কয়েকজন আসামি নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে তাঁকে, তাঁর ছেলে উৎপল মণ্ডল ও মামলার সাক্ষীদের মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এজাহারভুক্ত বিশ্বনাথ ঘোষ ও তাঁর ভাই শিমুল ঘোষ গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন।

Ads small one

পাইকগাছায় মেডিকেল ক্যাম্পে বিনা মূল্যে চিকিৎসা পেলেন ৬০০ রোগী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় মেডিকেল ক্যাম্পে বিনা মূল্যে চিকিৎসা পেলেন ৬০০ রোগী

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় দিনব্যাপী বিনা মূল্যের মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ৬০০ দুস্থ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার গড়ইখালীর বগুলার চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জিএম আব্দুর রবের উদ্যোগ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের খুলনা শাখা পরিচালিত বিনোদিনী হাসপাতাল এ ক্যাম্পের আয়োজন করে। এতে মেডিসিন, অর্থোপেডিকস ও গাইনি বিভাগসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো. হারুনর রশীদ, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম গোলাম আজম, স ম রেজাউল করিম, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুবদল নেতা ওবায়দুল্লাহ সরদার, নজরুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার মণ্ডল, সাবেক শিক্ষক গাজী আব্দুস সাত্তার ও শিক্ষক হাফিজুর রহমান।

ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা দেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শেখ বাহারুল আলম, অধ্যাপক ডা. পরিতোষ কুমার চৌধুরী, ডা. রুবাইয়া ইয়াসমিন, ডা. ইতি রাণী ঘোষ, ডা. প্রমা সাহা ও ডা. চুমকি মহান্ত।

তালায় বিচালির গাদায় আগুন, নিরাপত্তাহীনতায় কাঠ ব্যবসায়ী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
তালায় বিচালির গাদায় আগুন, নিরাপত্তাহীনতায় কাঠ ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা সদর ইউনিয়নের ডাংগানলতা গ্রামে এক কাঠ ব্যবসায়ীকে মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পরদিন তাঁর বিচালির গাদায় আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নূর ইসলাম সরদার। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি তালা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নূর ইসলাম সরদার এসব অভিযোগ করেন। তিনি ডাংগানলতা গ্রামের আবুল হোসেন সরদারের ছেলে।

লিখিত বক্তব্যে নূর ইসলাম জানান, গত ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উত্তর ডাংগানলতা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের চায়ের দোকানে তিনি ও ওমর আলী হালদারসহ কয়েকজন বসে চা পান করছিলেন। এ সময় একই গ্রামের মৃত শহিদুল মোড়লের ছেলে ইসতাপ মোড়ল, মৃত হোসেন মালীর ছেলে জিহাদ মালী এবং সহর আলী হালদারের ছেলে মোসলেম হালদার তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পাশাপাশি তাঁর ব্যবহৃত হিরো হোন্ডা মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নূর ইসলামের অভিযোগ, হুমকির পরদিন সকালে একই গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক সরদারের স্ত্রী আলেকজান বেগম তাঁকে ঘুম থেকে ডেকে বিচালির গাদায় আগুন লাগার খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি আগুন দেখতে পান। আগের দিনের হুমকির সঙ্গে এ অগ্নিকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে তাঁর সন্দেহ।

নূর ইসলাম বলেন, একদিকে মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, অন্যদিকে বিচালির গাদায় আগুনের ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সাতক্ষীরা সীমান্তে প্রায় ৫ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ, আটক ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে প্রায় ৫ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ, আটক ১

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় একজনকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ও শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) অধীন মাদরা, ভোমরা, বৈকারী ও কাকডাঙ্গা বিওপির টহল দল এসব অভিযান পরিচালনা করে।

বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাদরা বিওপির অভিযানে ভাদিয়ালি ও বরালি এলাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি এবং ৯ হাজার টাকা মূল্যের মদ জব্দ করা হয়। ভোমরা বিওপির অভিযানে মন্দির মোড় এলাকা থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পুরোনো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

বৈকারী বিওপির অভিযানে বৈকারীপাড়া মোড় থেকে একজনকে আটক করা হয়। এ সময় ৭ হাজার ৪৫ টাকা ৫০ পয়সা মূল্যের ভারতীয় গাঁজা, একটি বাইসাইকেল এবং একটি গ্রামীণ সিমকার্ডসহ মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া কাকডাঙ্গা বিওপির অভিযানে কেড়াগাছি এলাকা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানায়, চারটি অভিযানে জব্দ করা মালামালের মোট মূল্য ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪৫ টাকা ৫০ পয়সা। শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে এসব পণ্য বাংলাদেশে আনার অভিযোগে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।