রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্ব দত্তক গ্রহণ দিবস: রক্তের সম্পর্ক নয়, ভালোবাসাই গড়ে পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
বিশ্ব দত্তক গ্রহণ দিবস: রক্তের সম্পর্ক নয়, ভালোবাসাই গড়ে পরিবার

সাকিবুর রহমান বাবলা

একটি শিশুর জীবনে সবচেয়ে বড় আশ্রয় পরিবার। সেখানে সে পায় নিরাপত্তা, ভালোবাসা, স্নেহ, যত্ন ও বেড়ে ওঠার নিশ্চয়তা। কিন্তু পৃথিবীতে অসংখ্য শিশু রয়েছে, যারা নানা কারণে জন্মপরিবারের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত। তাদের অনেকেই অপেক্ষায় থাকে একটি নিরাপদ আশ্রয় ও স্থায়ী পরিবারের। অন্যদিকে, অনেক পরিবারও একটি শিশুকে ভালোবাসা দিয়ে বড় করে তোলার স্বপ্ন দেখে। এই দুই বাস্তবতার মধ্যে মানবিক সেতুবন্ধ তৈরি করে দত্তক গ্রহণ। পরিবার গঠন, দত্তক নেওয়া শিশুর অধিকার ও কল্যাণ এবং দত্তক পরিবারের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে ৯ নভেম্বর পালিত হয় বিশ্ব দত্তক গ্রহণ দিবস।

২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সমাজকর্মী হ্যাঙ্ক ফোর্টেনার ও তাঁর কয়েকজন বন্ধুর উদ্যোগে দিবসটির সূচনা হয়। তিনি ‘অ্যাডপ্ট টুগেদার’ নামের দত্তক গ্রহণে আর্থিক সহায়তাবিষয়ক একটি ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নিজের পরিবার বিভিন্ন দেশ থেকে আটটি শিশুকে দত্তক নিয়েছিল এবং ৩৬টি শিশুকে পালক পরিচর্যায় (ফস্টার কেয়ার) লালন-পালন করেছিল। এ অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি দত্তক গ্রহণ বিষয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেন। দিবসটির মূল দর্শন—একটি শিশুও যেন পরিবারহীন না থাকে; প্রতিটি শিশুর জন্য নিশ্চিত হোক একটি নিরাপদ পরিবার।

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ২১ অনুচ্ছেদে দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দত্তক প্রক্রিয়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, প্রয়োজনীয় সম্মতি ও আইনগত সুরক্ষার ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়া জরুরি। ১৯৯৩ সালের হেগ দত্তক কনভেনশন আন্তর্জাতিক দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে শিশুপাচার, অবৈধ লেনদেন ও অনিয়ম প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ এ কনভেনশনের সদস্য নয়। আন্তর্জাতিক নীতিতে অন্য দেশে দত্তক দেওয়ার আগে শিশুকে নিজ দেশেই উপযুক্ত পরিবারে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশে দত্তক গ্রহণের আইনি বিষয়টি কিছুটা জটিল। এখানে সব ধর্মের মানুষের জন্য অভিন্ন পূর্ণাঙ্গ দত্তক আইন নেই। ১৮৯০ সালের অভিভাবকত্ব ও প্রতিপালন আইন (গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট) এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগত আইনের আলোকে শিশুর অভিভাবকত্বের বিষয়টি বিবেচিত হয়। মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে প্রচলিত অর্থে পূর্ণাঙ্গ দত্তক স্বীকৃত নয়; তবে আইনগত অভিভাবকত্বের মাধ্যমে শিশুর দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিশুর জন্মপরিচয় ও উত্তরাধিকারসংক্রান্ত অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয় না। হিন্দু ব্যক্তিগত আইনে প্রথাগত দত্তক গ্রহণের বিধান থাকলেও তা সবার জন্য প্রযোজ্য অভিন্ন আইনি কাঠামো নয়। শিশুর অভিভাবকত্ব নির্ধারণে আদালত তার কল্যাণ, অভিভাবকের সক্ষমতা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে। শিশুর ভবিষ্যৎ সম্পত্তির নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বৈধ দান বা উইলের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

আইনি সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি বাংলাদেশের সমাজে দত্তক গ্রহণ নিয়ে রয়েছে নানা সংকোচ ও কুসংস্কার। অনেক পরিবার আত্মীয়স্বজনের কাছে বিষয়টি গোপন রাখতে চান। রক্তের সম্পর্ক ও বংশপরিচয়কে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কারণে পালিত শিশুকে কখনো কখনো অবহেলা বা কটূক্তির শিকার হতে হয়। নবজাতক শিশু গ্রহণের প্রতি আগ্রহ, ছেলে-মেয়ে নির্বাচনে সামাজিক ও ধর্মীয় প্রথার প্রভাব এবং হাসপাতাল বা পরিচিতজনের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিকভাবে শিশু নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। অথচ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও নথিপত্র ছাড়া শিশুর জন্মনিবন্ধন, পরিচয়, নাগরিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

দত্তক গ্রহণ শিশুর জীবনে নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আত্মবিশ্বাসের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর সঙ্গে পরিচয়সংকট, জন্মপরিচয় জানার আকাঙ্ক্ষা কিংবা আবার পরিত্যক্ত হওয়ার আশঙ্কার মতো অনুভূতিও যুক্ত হতে পারে। তাই শিশুর বয়স ও মানসিক পরিপক্বতা অনুযায়ী ছোটবেলা থেকেই সহজ, সত্যনিষ্ঠ ও ভালোবাসাপূর্ণ ভাষায় তাকে তার দত্তক পরিচয় জানানো উচিত। বিষয়টি গোপন রাখা বা হঠাৎ করে প্রকাশ করা ঠিক নয়। শিশুর জন্মপরিচয়, অনুভূতি ও প্রশ্নকে সম্মান করতে হবে। প্রয়োজনে শিশু মনোবিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

দত্তক মা-বাবার ক্ষেত্রেও নতুন পরিবেশে শিশুকে মানিয়ে নেওয়া, আইনি অনিশ্চয়তা ও সামাজিক চাপ মোকাবিলার প্রয়োজন হয়। জন্মদাত্রী মায়ের জীবনেও সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বেদনা, অপরাধবোধ কিংবা সন্তান নিরাপদে আছে জেনে স্বস্তির মতো নানা অনুভূতি কাজ করতে পারে। তাই দত্তক গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার মানসিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাপী দত্তক গ্রহণের চিত্রেও পরিবর্তন ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র একসময় আন্তর্জাতিক দত্তক গ্রহণের অন্যতম প্রধান দেশ ছিল। তবে ২০০৪ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে দেশটিতে আন্তর্জাতিক দত্তক গ্রহণের সংখ্যা প্রায় ৯৪ শতাংশ কমেছে। চীন, ভারত, কলম্বিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ আন্তর্জাতিক দত্তক গ্রহণের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। তবে উৎস ও গ্রহণকারী দেশের অবস্থান বছর, আইন এবং পরিসংখ্যানের সংজ্ঞাভেদে পরিবর্তিত হয়। শিশুপাচার প্রতিরোধ, কঠোর যাচাই-বাছাই এবং নিজ দেশেই শিশুর পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক দত্তক গ্রহণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

দত্তক গ্রহণ কোনো দয়া বা করুণার বিষয় নয়; এটি একটি শিশুর অধিকার, নিরাপত্তা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্বশীল মানবিক সিদ্ধান্ত। সন্তানহীনতার সামাজিক চাপ থেকে মুক্তি কিংবা মাতৃত্ব-পিতৃত্বের আনন্দ পাওয়ার পাশাপাশি দত্তক গ্রহণের কেন্দ্রে থাকতে হবে শিশুর প্রয়োজন ও কল্যাণকে। এ জন্য বাংলাদেশে সুস্পষ্ট ও শিশুবান্ধব আইনগত কাঠামো, সহজ ও স্বচ্ছ অভিভাবকত্ব প্রক্রিয়া, সামাজিক সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিবার কেবল রক্তের বন্ধনে তৈরি হয় না; ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, মমতা ও নির্ভরতার মধ্য দিয়েও গড়ে ওঠে আজীবনের আত্মিক সম্পর্ক। প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবার নিশ্চিত করাই হোক বিশ্ব দত্তক গ্রহণ দিবসের অঙ্গীকার।

Ads small one

পাটকেলঘাটায় এলপিজির গাড়ি আটকে নির্ধারিত দামে বিক্রি করলো বিএনপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় এলপিজির গাড়ি আটকে নির্ধারিত দামে বিক্রি করলো বিএনপি

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: পাটকেলঘাটায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪৪০ টাকা বেশি দরে ১২ কেজির বসুন্ধরা এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা গ্যাসবাহী পিকআপ আটকে অতিরিক্ত দামে বিক্রি প্রতিহত করেন। পরে পিকআপে থাকা ১১০টি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত ২ হাজার ৬০ টাকা দরে বিক্রি করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

গত শনিবার দুপুরে পাটকেলঘাটা বাজারের দিনবন্ধু সাধুর দোকানে বসুন্ধরা এলপিজির পাঁচটি সিলিন্ডার বিক্রি করতে যান কলারোয়ার শিমুল স্টোরের বিক্রয় প্রতিনিধি রাজিব হোসেন। দোকানদারের কাছে প্রতি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।

খবর পেয়ে সরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশিদুল হক রাজু, সাধারণ সম্পাদক রকিব সরদার এবং পাটকেলঘাটা বাজার বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মকবুল ইসলামসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হন। তাঁরা সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাসবাহী পিকআপটি আটকে দেন। পরে পিকআপে থাকা সিলিন্ডারগুলো নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়।

দোকানদার দিনবন্ধু সাধু বলেন, ডিলারের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় গ্যাস কিনলে খুচরা পর্যায়ে কত দামে বিক্রি করবেন, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। বেশি দামে কিনে ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করতে চাননি বলেও জানান তিনি।

বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মকবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বসুন্ধরা গ্রুপের ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, শিমুল স্টোরের শহিদুল ইসলাম বলেন, চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। সম্প্রতি কিছু সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও সেগুলো বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এ কারণে তাঁদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

সরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশিদুল হক রাজু বলেন, কয়েক দিন ধরে বাজারে গ্যাসের সংকট ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। গত শনিবার দুপুরে বসুন্ধরা গ্যাসের একটি গাড়ি বাজারে আসার পর সিলিন্ডারপ্রতি ৫০০ টাকা বেশি নেওয়ার খবর পেয়ে তাঁরা সেখানে যান। পরে ১১০টি সিলিন্ডার নির্ধারিত দামে বিক্রির ব্যবস্থা করেন। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগও করেন তিনি।

আশাশুনিতে দুটি মাতিবিল খাল পুনঃখননের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে দুটি মাতিবিল খাল পুনঃখননের দাবি

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে খনন করা দুটি মাতিবিল খাল পুনঃখননের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক সমাজের সাতক্ষীরা জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নাজিরুল ইসলাম।

আবেদনে নাজিরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, শোভনালী ইউনিয়নের ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশখালী ও বালিয়াপুর গ্রামের মাতিবিল নামের খাল দুটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এর মধ্যে ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক বাঁশখালী গ্রামের মাতিবিল খালটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে খনন করা হয়েছিল। অপর খালটি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়াপুর গ্রাম হয়ে ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মরিচ্চাপ নদীর সুইচগেটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খাল দুটি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। এগুলো দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করা হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়বে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে এলাকাবাসীকে ব্যাপক দুর্ভোগ ও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

আবেদনকারীর দাবি, খাল দুটি পুনঃখনন করা হলে প্রায় ১০ হাজার বিঘা জমি মাছ চাষ ও ধান আবাদের উপযোগী হবে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে শোভনালী ইউনিয়নসহ আশপাশের চারটির বেশি ইউনিয়নে সৃষ্ট বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হবে। এ অবস্থায় খাল দুটি পুনঃখননে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বণ্টনের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বণ্টনের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে সরকারি খাসজমি বণ্টন, বেদখল জমি উদ্ধার এবং উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিতে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা করেছে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন জেলা শাখা।

গত শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম গাজী। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা অ্যাডভোকেট খগেন্দ্রনাথ ঘোষ এবং উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মো. আহম্মদ আলী।

সভায় বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা পৌর শাখার সভাপতি আনোয়ার হোসেন খোকন, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লাভলু, দপ্তর সম্পাদক মো. লাভলু, আব্দুল জব্বার, মনিরুজ্জামান মনি, মো. রাজু হোসেন, মো. রেজাউল ইসলাম ও মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহারসহ জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা।

বক্তারা বলেন, সরকারি উদ্যোগে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য খাসজমি বরাদ্দ এবং ব্যারাক নির্মাণের কার্যক্রম চললেও অনেক প্রকৃত ভূমিহীন পরিবার এখনো এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাঁচ বিঘার বেশি খাসজমির নামে যেসব ডিসিআর দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বণ্টনের দাবি জানান তাঁরা।

সভায় বেদখলে থাকা সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত ভূমিহীনদের ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, এতে ভূমিহীনদের আবাসনের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সরকারি রাজস্বও বাড়বে।

এ ছাড়া খুলনা থেকে সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজ সরকারি পরিকল্পনা ও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুত শেষ করার দাবি জানানো হয়। সড়কের দুই পাশে বসবাসকারী ভূমিহীন ও সাধারণ মানুষকে যথাযথ পুনর্বাসন, উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর নিরাপদ আশ্রয় এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প বাজারের ব্যবস্থা করারও দাবি তোলেন বক্তারা।