খালের ওপর জরাজীর্ণ ঘর: ১৭ বছর পত্রিকা বেচেই কাটছে আলাউদ্দিনের জীবন
Oplus_131072
কেএম রেজাউল করিম, দেবহাটা: ভোর হওয়ার আগেই ঘুম ভাঙে আলাউদ্দিনের। সাইকেলের টুংটাং শব্দে দেবহাটা উপজেলার মোড়ে মোড়ে পৌঁছে দেন দিনের খবর। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মানুষের হাতে পত্রিকা তুলে দিলেও, তার নিজের জীবনের খবর নেওয়া হয় না কারও। সামান্য আয়ে অভাব-অনটন আর অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করে একটি জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন এই সংবাদপত্র হকার।
দেবহাটা উপজেলার এই প্রবীণ পত্রিকা বিক্রেতার নেই কোনো নিজস্ব মাথা গোঁজার ঠাঁই। খালের ওপর নির্মিত একটি ছোট্ট ঝুঁকিপূর্ণ ঘরেই স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও নাতিসহ পুরো পরিবার নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করেন তিনি। বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বাড়লে কিংবা ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে পরিবারটিকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। ঘরটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কায় সবসময় এক আতঙ্ক কাজ করে তাদের মনে।
একসময় কাগজের পত্রিকার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির দাপট ও অনলাইনের প্রসারের কারণে পত্রিকা বিক্রির হার অনেক কমেছে। ফলে আলাউদ্দিনের দৈনিক আয়ও এখন নামমাত্র। পরিবার নিয়ে তিন বেলা খাবার জোটানোই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু জীবন সংগ্রামের এই কঠিন পথেও তিনি সৎ থেকে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
আলাউদ্দিনের ভাষ্যমতেÑ “পত্রিকা বিক্রি করেই সারাজীবন চললাম। এখন অনলাইনের জামানা, লোকে আগের মতো কাগজ কেনে না। আয় একদম কমে গেছে। কিন্তু এই পেট তো আর কথা শোনে না। ছেলে-মেয়ে আর নাতিদের মুখের দিকে তাকালে সব কষ্ট ভুলে কাজে বের হই।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আলাউদ্দিন একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও অমায়িক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি উপজেলায় পত্রিকা বিলি করছেন। কিন্তু বয়সের ভারে এখন আর আগের মতো পরিশ্রম করতে পারেন না। তার এই মানবেতর জীবনযাপন দেখে স্থানীয়রা প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
অভাবের সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করা আলাউদ্দিনের আশা, হয়তো কোনো একদিন সরকারি বা ব্যক্তিগত সহায়তায় একটি নিরাপদ ঘর পাবেন তিনি। সেই প্রতীক্ষাতেই ঝুলি ভর্তি খবরের কাগজ নিয়ে প্রতিদিন পথে নামেন এই সংগ্রামী মানুষটি।












