বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

বাগআঁচড়ায় মার্সেল ফুটবল: জেকাঠি একাদশ চ্যাম্পিয়ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ
বাগআঁচড়ায় মার্সেল ফুটবল: জেকাঠি একাদশ চ্যাম্পিয়ন

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ায় ১৬ দলীয় ‘মার্সেল ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনালে সাতমাইল আনাস ফুটবল একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জেকাঠি বাঁকুড়া ফুটবল একাদশ। শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে বাগআঁচড়া হাইস্কুল মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা ও মার্সেল-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর আমিন খান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “খেলাধুলা যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখে। সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার বিকল্প নেই।”

মার্সেল ডিলার নাজমা ইলেকট্রনিক্সের আয়োজনে এই টুর্নামেন্ট ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। সকালে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বাগআঁচড়ার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

ফাইনালে জেকাঠি ফুটবল একাদশ ও সাতমাইল আনাস ফুটবল একাদশ মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত সময়ে ১-০ গোলে জয় নিশ্চিত করে জেকাঠি একাদশ। শার্শা, ঝিকরগাছা ও কলারোয়া এলাকা থেকে আসা হাজার হাজার দর্শক করতালি আর উল্লাসে পুরো মাঠ মাতিয়ে রাখেন।

অনুষ্ঠানে মার্সেল কোম্পানির হেড অব বিজনেস হোসেন মোহাম্মদ রইন সাব্বির, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আলী বিশ্বাস, বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান মিঠুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

 

Ads small one

দেবহাটার দুই বিদ্যালয়কে ‘সবুজ ও সহনশীল গ্রিন স্কুল’ ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
দেবহাটার দুই বিদ্যালয়কে ‘সবুজ ও সহনশীল গ্রিন স্কুল’ ঘোষণা

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: পরিবেশবান্ধব ও সবুজ বিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার দেবহাটায় দুটি বিদ্যালয়কে ‘সবুজ ও সহনশীল গ্রিন স্কুল’ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের বসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের আমবাগান চত্বরে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সুশীলনের আয়োজনে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অর্থায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভাতশালা সম্মিলনী উচ্চবিদ্যালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গ্রিন স্কুল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর কে বাপ্পা, ওয়ার্ল্ড ভিশনের স্পনসরশিপ ও চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার পল্টন বিশ্বাস, টাউনশ্রীপুর শরচ্চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আফছার আলী এবং দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউশন হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষক গৌর চন্দ্র ঘোষ।

সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ইউপি সদস্য কামাল হোসেন, সিভিএ সভাপতি ফিরোজ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিকল্প নেই। বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

এর আগে বসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি সবজি বাগানের উদ্বোধন করা হয়। পরে দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল দুটি বিদ্যালয়কে গ্রিন স্কুল ঘোষণা করেন।

এ সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ সুন্দর রাখতে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সরকারের আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান বক্তারা।

শ্যামনগরে দুর্যোগ বিষয়ক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে দুর্যোগ বিষয়ক কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে এবং দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের বাস্তবায়নে গ্রিন ভয়েসেসের উদ্যোগে ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের জন্য ‘পকেট বুক’ প্রস্তুতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

গত বুধবার বেলা ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শ্যামনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন।

 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিয়ারাজ খান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি আনিসুর রহমান সুমন, উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি গাজী আল ইমরান এবং ৮ নম্বর ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি ও সুধীজন। বক্তারা দুর্যোগকালীন করণীয় বিষয়ে নানা পরামর্শমূলক দিক তুলে ধরেন।

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস: নীরবতা ভেঙে সহমর্মিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস: নীরবতা ভেঙে সহমর্মিতা

সাকিবুর রহমান বাবলা

আত্মহত্যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে দিবসটির সূচনা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো আত্মহত্যা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক কুসংস্কার দূর করা এবং এই বার্তা পৌঁছে দেয়া যে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। ২০২৪-২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আত্মহত্যা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার পরিবর্তন’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭ লাখ ২৭ হাজার মানুষ আত্মহত্যার মাধ্যমে প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ ছিল আত্মহত্যা। জনসংখ্যার অনুপাতে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে প্রতি লাখে প্রায় ৭৫ জন। তবে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশগুলোর মধ্যে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে লেসোথো, সুরিনাম প্রতি লাখে ২৮ জন, দক্ষিণ কোরিয়া প্রতি লাখে ২৮ জন এবং গায়ানা প্রতি লাখে ২৫ জন। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিশ্বের মোট আত্মহত্যার প্রায় ৭৩ শতাংশই ঘটে নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই সংকটকে আরও বেশি ঘনীভূত ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বে আত্মহত্যার প্রবণতা একেবারে শূন্য এমন কোনো দেশ না থাকলেও বার্বাডোস ও অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডার মতো ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে এই হার সবচেয়ে কম, প্রতি লাখে ১ জনেরও কম। মূলত জোরালো ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক বন্ধন এই হার কম রাখতে সাহায্য করে, যদিও সামাজিক কুসংস্কার বা আইনি জটিলতার কারণে অনেক দেশের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ না পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

আত্মহত্যা কেবল মানসিক রোগের ফল নয়; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, পারিবারিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত নানা কারণের সম্মিলিত প্রভাব। বিষণ্নতা, মানসিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, আর্থিক সংকট, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, সহিংসতা, বৈষম্য, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং হঠাৎ সৃষ্ট সংকটময় পরিস্থিতি অনেক মানুষকে আত্মঘাতী আচরণের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অনেক আত্মহত্যা তাৎক্ষণিক আবেগ ও সংকটময় মুহূর্তের ফল, যখন ব্যক্তি জীবনের চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় আত্মহত্যার হার হ্রাসকে মানসিক স্বাস্থ্য ও কল্যাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘কমপ্রিহেনসিভ মেন্টাল হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান ২০১৩–২০৩০’ এবং ‘লাইভ লাইফ’ উদ্যোগ আত্মহত্যা প্রতিরোধে সমন্বিত ও প্রমাণভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তাদের কৌশলে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়Ñআত্মহত্যার উপায়ের সহজলভ্যতা সীমিত করা, দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চর্চা নিশ্চিত করা, তরুণদের জীবনদক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে সহায়তা প্রদান করা। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, বহুখাতভিত্তিক সহযোগিতা, গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নকে আত্মহত্যা প্রতিরোধের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ১৩,৪৯১ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪১ জন। এ তথ্য আত্মহত্যা বিষয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে অজ্ঞতা, সামাজিক কুসংস্কার, পারিবারিক বিরোধ, শিক্ষাগত চাপ, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, পরীক্ষা ও প্রেমে ব্যর্থতা, অপরাধী মন এবং সহজলভ্য ক্ষতিকর উপকরণ আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে মানসিক চাপ, বুলিং, সাইবার ও যৌন হয়রানি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাইÑমাত্র তিন মাসে ৬৫ জনের আত্মহত্যা অন্যান্য অপমৃত্যু ছাড়া এক বড় আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের দেখা যায়, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অভাব, পারিবারিক অশান্তি ও চাহিদা পূরণে ব্যর্থ, বাল্যবিবাহ, সামাজিক অপমান, বুলিং, পরীক্ষা ও প্রেমে ব্যর্থতা, জুয়ায় অর্থ হারানো ও কীটনাশকের সহজলভ্যতার পাশাপাশি জলবায়ু সংকট এর মূল কারণ। বিশেষ করে বারবার ঘূর্ণিঝড়, নদীর বাঁধ ভাঙ্গন, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং কৃষি বা অন্য খাতে ক্ষতির ফলে সৃষ্ট ঋণের চাপ উপকূলীয় পরিবারগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী হতাশায় ফেলছে, যেখানে অর্থনৈতিক দুর্দশা ও মানসিক স্বাস্থ্য সংকট একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে কেবল বর্তমান উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; শিক্ষা, পরিবার, স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যম, আইন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং সেবা চালু করা, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান, বুলিং ও সাইবার হয়রানি প্রতিরোধ এবং সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের জন্য সহজলভ্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সেবা দেওয়ার পাশাপাশি ‘কান পেতে রই’-এর মতো বেসরকারি সংগঠনগুলো মানসিক সহায়তায় কাজ করছে। এ ছাড়া যেকোনো সংকটে জাতীয় হেল্পলাইন ৯৯৯, নারী ও শিশু সহায়তায় ১০৯ এবং শিশু সুরক্ষায় ১০৯৮ নম্বর যুক্ত রয়েছে।

পৃথিবীর প্রধান ধর্মসমূহ এবং বিশিষ্ট দার্শনিক চিন্তাধারা একযোগে জীবনকে পরম পবিত্র, উদ্দেশ্যপূর্ণ ও অমূল্য আমানত হিসেবে তুলে ধরে আত্মহত্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মহনন হলো ঐশ্বরিক নিয়ম, কর্মফল ও আমানতের চরম লঙ্ঘন; অন্যদিকে দার্শনিক বিচারে এটি নৈতিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি অন্যায় এবং জীবনের বাস্তবতার সামনে এক ধরনের আত্মসমর্পণ। সব মতবাদই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে ধৈর্য, সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে জীবনের সংকট মোকাবিলা করে জীবনকে রক্ষা করাকেই মানব অস্তিত্বের মূল সার্থকতা ও পরম কর্তব্য বলে সাব্যস্ত করে।

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আত্মহত্যা কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; এটি একটি জটিল জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যা, যার সমাধানও হতে হবে সমন্বিত ও মানবিক। সহমর্মিতা, সচেতনতা, প্রমাণভিত্তিক নীতি এবং সময়োপযোগী সহায়তার মাধ্যমে অসংখ্য জীবন রক্ষা করা সম্ভব। তাই আসুন, নীরবতা ভেঙে সংলাপ শুরু করি, মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিই এবং এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি যেখানে সংকটের মুহূর্তে প্রত্যেক মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা ও আশার আলো খুঁজে পায়।