সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কৃষিখাতের সংকট ও সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
কৃষিখাতের সংকট ও সম্ভাবনা

মোহাম্মদ মুজাহিদ
কৃষি পণ্য পরিবহন সংকটে চাষীর কাঁধে ক্ষতির বোঝা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অথচ এই কৃষিখাতের প্রাণ চাষীরা আজও নানা সংকটে জর্জরিত। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়েছে, বাজারে ন্যায্য মূল্য পাওয়া কঠিন হয়েছে এসবের সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে কৃষি পণ্য পরিবহন সংকট। আর এই সংকটের ভার গিয়ে পড়ছে সরাসরি কৃষকের কাঁধে।
একজন কৃষক যখন মাঠে ফসল ফলান, তখন তার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা থাকে সঠিক সময়ে সেই পণ্য বাজারে পৌঁছানো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গ্রামীণ সড়কের বেহাল অবস্থা, পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাব, অতিরিক্ত ভাড়া এবং মাঝেমধ্যে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই পণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে পারে না। ফলে নষ্ট হয় ফসল, কমে যায় মান, আর পড়ে যায় দাম।
বিশেষ করে পচনশীল কৃষি পণ্য যেমন শাকসবজি, ফলমূল, দুধ বা মাছ পরিবহনে সামান্য দেরিই বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে চাষী উৎপাদনে সর্বোচ্চ শ্রম ও খরচ বিনিয়োগ করেন, অন্যদিকে বাজারে পৌঁছানোর আগেই যদি পণ্য নষ্ট হয়ে যায়, তবে সেই ক্ষতির দায়ভার তাকে একাই বহন করতে হয়। এতে করে কৃষকের আগ্রহ কমে যাচ্ছে, অনেকেই কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন যা ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ সংকেত।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। পরিবহন সংকটের সুযোগ নিয়ে তারা কৃষকের কাছ থেকে কম দামে পণ্য কিনে নেয়। কৃষক বাধ্য হয়ে লোকসানে বিক্রি করেন, কারণ তার কাছে পণ্য ধরে রাখার বা নিজে বাজারে নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়লেও, কৃষক তার ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত থাকেন।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিছু কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, গ্রামীণ সড়কব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে, যাতে সহজে ও দ্রুত পণ্য পরিবহন সম্ভব হয়। দ্বিতীয়ত, কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য বিশেষায়িত যানবাহন ও কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থা বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, কৃষকদের জন্য পরিবহন খাতে ভর্তুকি বা সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে, যাতে তারা ন্যায্য খরচে পণ্য বাজারে নিতে পারেন।
এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে কৃষক সমবায় গড়ে তুলে যৌথভাবে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যেতে পারে। এতে খরচ কমবে এবং কৃষকরা শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড়াতে পারবেন। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা গেলে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবও কমে আসবে।
কৃষি খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে কৃষকদের টিকিয়ে রাখা জরুরি। আর কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে হলে তাদের উৎপাদিত পণ্য সঠিকভাবে বাজারে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে। নতুবা “ফসল আছে, কিন্তু লাভ নেই” এই দুঃখজনক বাস্তবতা আরও গভীর হবে।
সময়ের দাবি কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসল যেন ন্যায্য মূল্য পায়, আর সেই পথের সবচেয়ে বড় বাধা পরিবহন সংকট দূর করতে হবে এখনই। না হলে কৃষকের কাঁধে ক্ষতির বোঝা আরও ভারী হতে থাকবে, যার প্রভাব পড়বে পুরো দেশের অর্থনীতির ওপর।

Ads small one

গাবুরা-বুড়িগোয়ালিনী সংযোগ খেয়াঘাট ভাঙনের মুখে, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
গাবুরা-বুড়িগোয়ালিনী সংযোগ খেয়াঘাট ভাঙনের মুখে, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম ডুমুরিয়া খেয়াঘাট বর্তমানে ভাঙনের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘাটের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেওয়ায় প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, ২০০৯ সালে বুড়িগোয়ালিনী অংশের খেয়াঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

 

দীর্ঘদিন পার হলেও সেই ঘাটটি এখনো স্থায়ীভাবে পুননির্মাণ করা হয়নি। ফলে দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে ডুমুরিয়া ঘাটেও একই ধরনের ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গাবুরা ইউনিয়ন যুব বিভাগের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, “ডুমুরিয়া খেয়াঘাটটি গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৯ সালে বুড়িগোয়ালিনী পাশের ঘাট ভেঙে যাওয়ার পরও সেটির স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এখন ডুমুরিয়া ঘাটটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।” স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ প্লান বাংলাদেশ এর বিভাগীয় সমন্বয়কারী ইমাম হোসেন বলেন, “প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করেন। ভাঙনের কারণে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সংস্কার ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

এলাকাবাসীর দাবি, ঘাটটি দ্রুত সংস্কার ও নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

 

 

শ্যামনগরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালিত

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: “জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা” প্রতিপাদ্য বিশেষ সামনে রেখে নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮ জুন সকাল ১০ টা থেকে দিনব্যাপী বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে মানুষসহ সকল প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ প্রসাদ দেবনাথ।
বিশেষ অতিথি ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং সিএরআরএন-বিফোআরএল প্রকল্পের সরোয়ার হোসেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ আন্দোলনের সহায়ক হিসেবে ১৩ জন ছাত্রী ও ১২ জন ছাত্রের সমন্বয়ে ২৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিবেশ ক্লাব গঠন করা হয়। শিক্ষার্থীরা দলভিত্তিকভাবে বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের বৈশিষ্ট্য, উপকারিতা এবং লবণাক্ত মাটিতে এসব গাছের অভিযোজন কৌশল নিয়ে আলোচনা ও উপস্থাপনা করে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। রোপিত গাছ ও বিদ্যালয়ের নার্সারির নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব পরিবেশ ক্লাবের সদস্যদের প্রদান করা হয়।

 

 

 

তালায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী সফট স্কিল প্রশিক্ষণ শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
তালায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী সফট স্কিল প্রশিক্ষণ শুরু

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০ দিনব্যাপী পেশাভিত্তিক সফট স্কিল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে ও অর্থায়নে সমাজসেবা অধিদপ্তরের “বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেইজ)” প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এস এম রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন খুলনা বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক রতন কুমার হালদার।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাহাত খান।

প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান, জয়পুরহাট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক হারুন উর রশিদ, খুলনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাসুদুর রহমান, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু এবং ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম ফারুক।

এ সময় বক্তব্য দেন তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সেলিম হায়দার, সাংবাদিক বি.এম. জুলফিকার রায়হান, কামরুজ্জামান মিঠু, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সমন্বয়কারী তৌফিক ইমরান, সহকারী অসিত রায় ও ইমদাদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।

প্রশিক্ষণে তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করছেন। দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে আয়োজকরা জানান।