মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

কৃষিখাতের সংকট ও সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
কৃষিখাতের সংকট ও সম্ভাবনা

মোহাম্মদ মুজাহিদ
কৃষি পণ্য পরিবহন সংকটে চাষীর কাঁধে ক্ষতির বোঝা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অথচ এই কৃষিখাতের প্রাণ চাষীরা আজও নানা সংকটে জর্জরিত। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়েছে, বাজারে ন্যায্য মূল্য পাওয়া কঠিন হয়েছে এসবের সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে কৃষি পণ্য পরিবহন সংকট। আর এই সংকটের ভার গিয়ে পড়ছে সরাসরি কৃষকের কাঁধে।
একজন কৃষক যখন মাঠে ফসল ফলান, তখন তার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা থাকে সঠিক সময়ে সেই পণ্য বাজারে পৌঁছানো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গ্রামীণ সড়কের বেহাল অবস্থা, পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাব, অতিরিক্ত ভাড়া এবং মাঝেমধ্যে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই পণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে পারে না। ফলে নষ্ট হয় ফসল, কমে যায় মান, আর পড়ে যায় দাম।
বিশেষ করে পচনশীল কৃষি পণ্য যেমন শাকসবজি, ফলমূল, দুধ বা মাছ পরিবহনে সামান্য দেরিই বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে চাষী উৎপাদনে সর্বোচ্চ শ্রম ও খরচ বিনিয়োগ করেন, অন্যদিকে বাজারে পৌঁছানোর আগেই যদি পণ্য নষ্ট হয়ে যায়, তবে সেই ক্ষতির দায়ভার তাকে একাই বহন করতে হয়। এতে করে কৃষকের আগ্রহ কমে যাচ্ছে, অনেকেই কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন যা ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ সংকেত।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। পরিবহন সংকটের সুযোগ নিয়ে তারা কৃষকের কাছ থেকে কম দামে পণ্য কিনে নেয়। কৃষক বাধ্য হয়ে লোকসানে বিক্রি করেন, কারণ তার কাছে পণ্য ধরে রাখার বা নিজে বাজারে নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়লেও, কৃষক তার ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত থাকেন।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিছু কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, গ্রামীণ সড়কব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে, যাতে সহজে ও দ্রুত পণ্য পরিবহন সম্ভব হয়। দ্বিতীয়ত, কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য বিশেষায়িত যানবাহন ও কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থা বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, কৃষকদের জন্য পরিবহন খাতে ভর্তুকি বা সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে, যাতে তারা ন্যায্য খরচে পণ্য বাজারে নিতে পারেন।
এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে কৃষক সমবায় গড়ে তুলে যৌথভাবে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যেতে পারে। এতে খরচ কমবে এবং কৃষকরা শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড়াতে পারবেন। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা গেলে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবও কমে আসবে।
কৃষি খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে কৃষকদের টিকিয়ে রাখা জরুরি। আর কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে হলে তাদের উৎপাদিত পণ্য সঠিকভাবে বাজারে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে। নতুবা “ফসল আছে, কিন্তু লাভ নেই” এই দুঃখজনক বাস্তবতা আরও গভীর হবে।
সময়ের দাবি কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসল যেন ন্যায্য মূল্য পায়, আর সেই পথের সবচেয়ে বড় বাধা পরিবহন সংকট দূর করতে হবে এখনই। না হলে কৃষকের কাঁধে ক্ষতির বোঝা আরও ভারী হতে থাকবে, যার প্রভাব পড়বে পুরো দেশের অর্থনীতির ওপর।

Ads small one

জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, অন্যায়ের কাছে সাতক্ষীরার মানুষ কখনো মাথা নত করেনি এবং ভয় দেখিয়েও তাঁদের দমানো যাবে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা মোড়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল্লাহ মোনার সভাপতিত্বে ও ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মো. জিয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম ও পৌর জামায়াতের আমির মো. জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। সম্প্রতি সংসদে সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু, পৌরসভার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক কাঠামোর উন্নয়নের দাবি তুলে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দত্তনগর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে যায়। বিষয়টি গত শুক্রবার উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মো. মিয়াজান আলীকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যশোর জেলা কমান্ড্যান্ট মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়াকে অবহিত করেন। জেলা কমান্ড্যান্টের পরামর্শে আনসার সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দলনেতা তালিব হোসাইন ও ২ নম্বর সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের দলনেতা আলী হোসেন প্লাটুনভুক্ত ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তা মেরামত ও পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।
এ সময় উপস্থিত থেকে সাধুবাদ জানান সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা। আনসার-ভিডিপির এই স্বেচ্ছাশ্রম ও সামাজিক কাজের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মিয়াজান আলী জানান, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে তাঁর দল ও সদস্যরা সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন।

প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার সামাজিক সংগঠন ‘প্রান্তিক যুব সংঘ’-এর জুলাই মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায় সাতক্ষীরার প্রাণনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি হৃদয় ম-লের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সাতক্ষীরা ইউনিটের লাইব্রেরি ইনচার্জ মো. আতিকুজ্জামান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নূরজাহান খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া আফরিন, বোর্ড সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা।
সভার শুরুতে সংগঠনের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে তরুণদের সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভায় সাতক্ষীরা জেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা জানান, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা স্থানীয় জনজীবন, কৃষি, শিক্ষা ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে শিগগিরই একটি মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবির পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং অনলাইন নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।