বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত কামার পাড়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত কামার পাড়া

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত হচ্ছে কামার পাড়া। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাইকগাছার কামার পাড়া। চললে হাঁপর, পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। হাতুড়ি দিয়ে লোহা পিটিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। সারাদিন তপ্ত লোহা ও ইস্পাত গলিয়ে চলছে, দা, চাপাতি, বটি, ছুরি তৈরির কাজ।

বর্তমানে আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে কামার শিল্পে। বৈদ্যুতিক সান দিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম সান দেওয়া হয় ও হাফর বা জাতা দিয়ে বাতাস দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে মটর। কাঁকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কর্মকান্ড। মূল কারিগরের সাথে একজন ভারী হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন আগুনরাঙ্গা লোহার দন্ড। কেউ পোড়া দা ও ছুরিতে দিচ্ছেন শান। ম্যাশিনের সাহায্যে কেউ বা হাঁপর টেনে বাতাস দিচ্ছেন। দিন-রাত সমান তালে লোহার টুং-টাং শব্দ আর হাফরের ফুঁসফাঁস শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার প্রতিটি কামারশালা। হারিয়ে যেতে বসা বাংলার প্রাচীন কামারশিল্প যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

আর কয়েক দিন পর ঈদুল-আযহা। কর্মব্যস্ত সময় পার করছে কামার শিল্পীরা। উপজেলা পৌর সদর, নতুন বাজার, গদাইপুর, আগড়ঘাটা, কপিলমুনি বাঁকা, চাঁদখালী, কাটিপাড়া, বোয়ালিয়ার মোড়সহ বিভিন্ন হাট বাজার এবং কামার শালায় কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের ছোরা, চাপাতি, চাকু, দা, বটি, কুড়াল সহ বিভিন্ন সরজ্ঞাম তৈরি করছে কামাররা। সারা বছর টুক-টাক কাজ থাকলেও কুরবানির ঈদের সময় কামার শিল্প মুখরিত হয়ে ওঠে।

নতুন বাজারে বিশ্ব কর্মকার জানান, এ সময় দোকানে পুরাতন ও নতুন ধারালো অস্ত্র বানানো ও মেরামত করার ভীড় শুরু হয়। ঈদের আগের দিন র্পযন্ত এই ব্যস্ততা থাকে। উপজলার গদাইপুর গ্রামের সন্তোস কর্মকার, রজ্ঞন কর্মকার জানান, কোরবানি ঈদে তারা প্রতিবছর দা, ছুরি, চাপাতিসহ কোরবানি বিভিন্ন উপকরণ তৈরি ও মেরামত করেন। বোয়ালিয়া মোড়ে অবস্থিত কামারশালার বিমল র্কমকার ও সুপম কর্মকার বলেন, লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে গেছে।

 

সাধারণ লোহা ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা ও গাড়ীর পাতি ৯০ টাকা দরে প্রতি কেজি ক্রয় করতে হয়। পশু জবাই করার ছোট-বড় বিভিন্ন সরজ্ঞাম সাইজের উপর দাম নির্ভর করে। গদাইপুরের রজ্ঞন কর্মকার বলেন, অর্ডার দিয়ে তৈরী করা নতুন চাপাতি তৈরীর মুজুরী ৫শ টাকা থেকে ৭শ টাকা, জবাই করা ছোরা ৩শ টাকা। আর তৈরী করা ছোট চাপাতি ৫শত টাকা, বড় চাপাতি ৭ শত থেকে ৮ শত, বড় ছোরা ৩ শত থেকে সাড়ে ৩ শত টাকা, চাকু ৫০ টাকা থেকে দেড় শত টাকা, বটি আড়াই শত থেকে ৩ শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকগাছার হরি গোপাল কর্মকার জানান, এই পেশায় আমরা খুব অবহেলিত। বর্তমান দ্রব্যমূল্য বেশী হলেও সেই অনুযায়ী দাম পাই না। ফলে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। সারা বছর তেমন কাজ না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে পৈতৃক এই পেশা পরিবর্তন করছে বলে জানান। উপজেলার বিভিন্ন কামারের দোকান ঘুরে দেখা যায়, দা, ছুরি, চাপাতি, চাকু ও বটির বেচাকেনা বেড়েছে। পৌর বাজারে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কিনতে আসা ক্রেতা আব্দুর রহিম জানান, ছুরি, চাকু, বটির দাম একটু বেশি। কোরবানি ঈদের কয়েক দিন বাকি। তাই একটু আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার জন্য এসেছি।

লোহা ও কয়লার দাম অনেক বেড়েছে। সে তুলনায় কামার শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি। কামার শিল্পীরা আশা করেন, সরকারি বা এনজিও এর পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

 

 

 

Ads small one

সুন্দরবনে ‘বনরক্ষীদের গুলিতে’ জেলের মৃত্যু ঘিরে পাল্টাপাল্টি মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে ‘বনরক্ষীদের গুলিতে’ জেলের মৃত্যু ঘিরে পাল্টাপাল্টি মামলা

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলাসংলগ্ন পশ্চিম সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে আমিনুর রহমান (৪৫) নামের এক জেলের গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপকূলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত জেলের পরিবারের অভিযোগ, বন বিভাগের টহল দলের ছোড়া গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে বন বিভাগ বলছে, বনরক্ষীদের সঙ্গে জেলেদের ধস্তাধস্তির সময় ‘মিসফায়ার’ হয়ে গুলি বেরিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বন বিভাগের দুই কর্মকর্তাসহ অজ্ঞাতনামা ৯ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে নিহত জেলের পরিবার। অন্যদিকে বনরক্ষীদের ওপর হামলার অভিযোগে বন বিভাগের পক্ষ থেকেও একটি মামলা করা হয়েছে। তবে আসামিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

নিহত আমিনুর রহমান সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সোরা গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার তাঁর ভাতিজা অলিউল্যাহ বাদী হয়ে কয়রা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় বন বিভাগের নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন, পশ্চিম বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শামীম রেজাসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ঘটনাস্থল কয়রা থানা এলাকায় হওয়ায় নিহত জেলের স্বজনেরা কয়রায় এসে মামলা করেছেন। পাশাপাশি বন বিভাগের পক্ষ থেকেও একটি মামলা করা হয়েছে। বন বিভাগের শরবতখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোক্তাদির রহমান মামলাটি করেন।

আমিনুর রহমানের ভাতিজার করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আমিনুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বৈধ পাস নিয়ে সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া ধরেন। বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও তাঁদের সহযোগীরা জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করেন। প্রায় ১৫ দিন আগেও আমিনুরের থেকেও টাকা নেওয়া হয়। এ নিয়ে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিত-া হয়। তখন তাঁকে ‘সুযোগ পেলে দেখে নেওয়া হবে’ বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এজাহারে বলা হয়, ১৩ মে নিজের ভাতিজা অলিউল্যাহসহ কয়েকজনকে নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান আমিনুর। ১৮ মে সকাল সাতটার দিকে কয়রার আওতাধীন সুন্দরবনের পাতকোষ্টা এলাকার বেশো খালে মাছ ধরার সময় বন বিভাগের একটি টহল দল সেখানে পৌঁছায়। বন বিভাগের নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোবারক হোসেন আমিনুরের কাছে টাকা চান। কিন্তু তিনি রাজি না হলে তাঁকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের একজন রাইফেল দিয়ে গুলি করেন। গুলিটি তাঁর শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এতে তিনি নৌকার ওপর লুটিয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণ পর মারা যান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন বিভাগের নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং তাঁর বিরুদ্ধে গুলি করার অভিযোগও সঠিক নয়। ঘটনাস্থলটি ছিল সুন্দরবনের প্রবেশ নিষিদ্ধ অভয়ারণ্য এলাকা। সেখানে বন বিভাগের স্মার্ট টহল টিম দায়িত্ব পালন করছিল। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে টহল চালিয়ে ওই এলাকার ১১টি নৌকা জব্দ করা হয়, অধিকাংশই শ্যামনগরের সোরা গ্রামের। তাঁর অভিযোগ, ওই এলাকার কিছু লোক সংঘবদ্ধভাবে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করা এবং বনরক্ষীদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা আগেও ঘটেছে।

বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২২ মে পর্যন্ত সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের আওতায় একটি ‘স্মার্ট টহল টিম’ গঠন করা হয়। খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলামের সই করা আদেশে দাকোপ ও কয়রা উপজেলার আওতাধীন বনাঞ্চলে টহলের নির্দেশ দেওয়া হয়। দলের নেতৃত্বে ছিলেন শরবতখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোক্তাদির রহমান। সহকারী টিম লিডার ছিলেন কালাবগী ফরেস্ট স্টেশনের ফরেস্টার মো. আতিয়ার রহমান। এ ছাড়া কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের ফরেস্টার মো. আছাদুজ্জামানসহ মোট আটজন সদস্য ওই টহল দলে ছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন বিভাগের এক সদস্য বলেন, প্রবেশ নিষিদ্ধ পাটকোষ্টা এলাকার ঝালিয়া শতমুখী খালে জেলেদের নৌকা দেখতে পেয়ে টহল দল সেখানে যায়। এ সময় জেলেরা দা, কুড়াল ও বৈঠা নিয়ে বনরক্ষীদের দিকে তেড়ে আসেন। ধস্তাধস্তির সময় এক বনরক্ষীর হাতে থাকা রাইফেল ভেঙে যায় এবং আরেকজনের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। একপর্যায়ে অনাকাক্সিক্ষতভাবে একটি গুলি বের হয়ে যায়। ওই গুলিই আমিনুর রহমানের শরীরে লাগে।

স্মার্ট টহল টিমের নেতা মোক্তাদির রহমান বলেন, বনরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে আসামিদের পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

এদিকে জেলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গত সোমবার সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্যামনগরের গাবুরা এলাকার ডুমুরিয়া, দৃষ্টিনন্দন ও চাঁদনীমুখা পয়েন্টে লোকজন জড়ো হতে থাকেন। পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ১০ থেকে ১২টি ট্রলারে করে পাঁচ শতাধিক গ্রামবাসী ওই জেলের লাশ নিয়ে নীলডুমুর খেয়াঘাটে পৌঁছান। এ সময় দাতিনাখালী ও বুড়িগোয়ালিনী এলাকা থেকে আরও কয়েক শ লোক তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে লাশ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে রেঞ্জ কার্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। হামলাকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরা, জানালা, গ্রিল, ফটকসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করেন। বন বিভাগের দাবি, হামলাকারীরা রান্নাঘরে ঢুকে প্লেট, পিরিচ, গামলাসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুরের পাশাপাশি চাল, ডালসহ কিছু খাদ্যসামগ্রীও নিয়ে যান।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান বলেন, হামলাকারীরা যাকে সামনে পেয়েছে, তাকেই মারধর করেছে। এতে তাঁদের পাঁচজন কর্মচারী আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, জেলের মৃত্যুর ঘটনাটি খুলনা রেঞ্জ এলাকায় হলেও হামলা চালানো হয়েছে সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে। তাঁর ভাষ্য, পুরো ঘটনার পেছনে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, বনরক্ষীদের সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরেকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি কমিটিতে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ও অন্যটিতে খুলনা জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা আছেন।

উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, উপকূলে জীবিকার সংকট ও সুন্দরবনের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে বন বিভাগ ও জেলেদের মধ্যে তৈরি হওয়া অবিশ্বাসের সম্পর্ক পরিস্থিতিকে দিন দিন জটিল করে তুলেছে। জেলে নিহতের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা আর না ঘটে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বিআরটিএ’র রোড শো ও মনিটরিং

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বিআরটিএ’র রোড শো ও মনিটরিং

নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও ঘরমুখী মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাতক্ষীরায় পরিবহণ কাউন্টার মনিটরিং ও রোড শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের সংগীতার মোড়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেল ও জেলা ট্রাফিক পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এই কার্যক্রম চালানো হয়।

 

বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. জিয়াউর রহমানের নির্দেশনায় ঢাকাগামী বিভিন্ন পরিবহণ কাউন্টারে এই তদারকি করা হয়। এ সময় দূরপাল্লার চালক, যাত্রী ও পথচারীদের মাঝে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

কর্মসূচি সঞ্চালনা ও সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) উসমান সরওয়ার আলম। কাউন্টার তদারকির সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক মো. ওমর ফারুক, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. ওবায়দুল রহমান, উচ্চমান সহকারী মো. নাসির উদ্দিনসহ ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহণ শ্রমিক নেতারা। ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে বিআরটিএ’র এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সাধারণ যাত্রীরা।

 

 

৫৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প: অর্ধযুগেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়কের কাজ, ভোগান্তি চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
৫৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প: অর্ধযুগেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়কের কাজ, ভোগান্তি চরমে

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগুরুত্বপূর্ণ সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার পাইকগাছা হয়ে কয়রা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অর্ধযুগেও শেষ হয়নি। তিন দফা মেয়াদ ও ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর পরও কাজের গতি ধীর হওয়ায় ওই অঞ্চলের লাখো মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে সর্বশেষ সংশোধিত মেয়াদ অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো অর্ধেকের বেশি কাজ বাকি রয়ে গেছে।

 

খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি ‘তালা-কয়রা ভায়া পাইকগাছা সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হয়। এরপর ৩৩৯ কোটি ৫৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোজাহার এন্টারপ্রাইজ’কে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

 

২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তিন দফায় সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। সময় বাড়ার সাথে সাথে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে দফায় দফায়। মূল ব্যয়ের সাথে প্রথমে ৪০ কোটি, এরপর তিন কিলোমিটার অংশের জন্য আরও ৫৫ কোটি এবং সর্বশেষ তালা থেকে পাইকগাছা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করার জন্য আরও ১০০ কোটি টাকা যুক্ত করা হয়েছে। ফলে মূল ৩৩৯ কোটি টাকার এই প্রকল্প ব্যয় এখন দাঁড়িয়েছে ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

খুলনা সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেনÑ “ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমার কারণে সময় বেশি লেগেছে। গত নভেম্বর থেকে আবারও কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে।”

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কাজের গতি অত্যন্ত মন্থর। সড়কের ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সোজা করার কাজ ৮০ ভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ ভাগ; অনেক এলাকায় ১০ ভাগ কাজও শেষ হয়নি। সড়কের এই বেহাল দশার কারণে শুকনো মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষায় কাদাপানিতে নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও হাসপাতালে যাতায়াতকারী রোগীরা তীব্র ঝুঁকিতে পড়েছেন।
মাইক্রোবাস চালক মনজুরুল ইসলাম জানান, আগে তালা থেকে কয়রা যেতে যেখানে দেড় ঘণ্টা সময় লাগত, এখন সড়কের বেহাল দশার কারণে চার ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। এতে জ্বালানি খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি যাত্রীদের ভাড়াও বেশি দিতে হচ্ছে।

মোবারকপুর এলাকার ভ্যানচালক হাসেম আলী সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এক রাস্তা সংস্কার করতে আর কত বছর লাগবে? তিন বছর ধরে শুকনোয় ধুলা আর বৃষ্টিতে কাদার মধ্যে নাকানিচুবানি খাচ্ছি। আমরা মহা বিপদে আছি।”

জানতে চাইলে তালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সড়কের উন্নয়ন। সড়কটি প্রশস্ত ও বাঁক সোজা হলে মানুষের অর্থ ও সময় দুই-ই সাশ্রয় হবে। তবে কাজে ধীরগতির বিষয়টি সত্য, আমরাও দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।”

কাজে ধীরগতির বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, “কাজের তদারকির জন্য আমি নিয়মিত এলাকা পরিদর্শন করছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যেন কাজটি শেষ হয়, সে জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।”