সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রওশন আরা খাঁ (অন্নপূর্ণা)

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
রওশন আরা খাঁ (অন্নপূর্ণা)

গুলশানুল হক সুমন
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর অপ্রস্ফুটিত ফুল।
ভারত সরকারের পদ্মভূষণ সম্মাননা পাওয়া সংগীত সাধিকা যার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার শেকড়ের বন্ধন, সেই মহীয়সী নারীর সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর পরিচয় সামান্যই। আমরা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁকে চিনি, ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ (পদ্মভূষন) ও পন্ডিত রবিশঙ্করকে (ভারতরতœ) জানি। কিন্তু রওশন আরা খাঁ (অন্নপূর্ণা) সব সময়ই ছিলেন আড়ালে।
সঙ্গীত সাধনা ও জীবনচর্চায় নিবৃত্তচারী রওশন আরা খাঁ আত্মকেন্দ্রিক অভিমানে সমসাময়িকদের তুলনায় অতি দ্রুত চলে যান পাদপ্রদীপের আলোর অন্তরালে। বাবার রাখা নাম রওশন আরা হলেও ভারতীয় সঙ্গীতাঙ্গনে মা অন্নপূর্ণা নামে তিনি ব্যাপক পরিচিত। তিনি ছিলেন সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সর্ব কনিষ্ঠ কন্যা, ওস্তাদ আলী আকবর খাঁর কনিষ্ঠ বোন এবং পন্ডিত রবিশঙ্করের সহধর্মিণী। ভারতবর্ষ তথা সারা বিশ্বের সংগীত প্রেমীদের জন্য এটি দুর্ভাগ্য যে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের এই মহারতœ টির সম্পূর্ণ প্রতিভা ভারত নিতে পারেনি। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথেই এই অমূল্য প্রতিভারও সমাধি রচিত হয়েছে।
পূর্নিমাতে জন্মনিয়েছিলেন বলে মাইহার রাজ্যের (রামপুর, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবের কর্মস্থল) মহারাজা ব্রিজনাথ হিন্দু ধর্মের দেবী অন্নপূর্ণেশ্বরী বা অন্নপূর্ণা’র নামের অনুকরণে তাঁর নাম রেখেছিলেন অন্নপূর্ণা দেবী। পরবর্তীতে ভারতীয় সংগীত জগতের সবাই তাঁকে “মা অন্নপূর্ণা দেবী” নামে ডাকতেন। অথচ বড় মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে সংগীত সংশ্লিষ্ট অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার কারণে রওশন আরা খা কে আলাউদ্দিন খাঁ সংগীত শিখাতে অনিচ্ছুক ছিলেন। ছেলে আলী আকবরের রেওয়াজের সময় ঘটনাচক্রে উনার প্রতিভার প্রকাশ পায়। আলাউদ্দিন খাঁ একদিন ছেলেকে একটা গান (রাগ) শিখতে দিয়ে বলেছিলেন আমি বাজার থেকে আসি, (খাঁসাহেব নিজ হাতে বাজার করতে পছন্দ করতেন) এসে তোমার পড়া নিব। অন্নপূর্ণার বয়স তখন ৮/১০ হবে। ভাই রেওয়াজ করার সময় বার বার স্বরলিপি ভুল করছিলেন, তখন অন্নপূর্ণা এসে বড় ভাইকে স্বরলিপির ভুল সংশোধন করে দিয়ে বললেন তুমিতো ভুল করছ, বাবাত তোমাকে এই ভাবে করতে বলে গেছেন অথচ অন্নপূর্ণা তখনও সংগীতের সাথে জড়িতই হননি।
এদিকে খাঁ সাহেব আড়ালে দাঁড়িয়ে ভাই ও বোনের কথা শুনছিলেন, তিনি আবিষ্কার করলেন মেয়ে তার অত্যন্ত প্রতিভাময়ী এবং নিখুঁত। স্বরলিপি মনে রাখার অসাধ্য সক্ষমতা তাঁর, অথচ যে এখনো শিখা শুরুই করে নাই। মেয়ের প্রতিভা দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়ে মেয়েকে জরিয়ে ধরে বললেন মা আমার ভুল হয়ে গেছে, আমি তোমার সাথে অবিচার করেছি। আজ থেকে আমি তোমাকেও শিখাব। আর সেই ঘটনার পরে সেই দিন থেকেই শুরু হলো অন্নপূর্ণার সংগীতের পথচলা। তারপর রবিশঙ্কর আসলেন আলাউদ্দিনের ছাত্র হয়ে। রবি শংকরের মা হেমাঙ্গিনী দেবী আলাউদ্দিনকে বলেছিলেন, “দেখবেন আমার এই ছেলেটিকে, কিছুদিন আগে তার পিতা পন্ডিত শ্যামশঙ্কর চৌধুরী গত হয়েছেন। আজ থেকে আপনিই তার বাবা, আপনার হাতে তার অভিভাবকত্ব ছেড়ে দিলাম, ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।” আবেগি মানুষ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সাহেব ক্রন্দনরত অবস্থায় রবির দায়িত্ব নিলেন এবং বললেন, “আজ থেকে আপনার ছেলে আমার ছেলে হল। আমার একটি ছেলে ছিল এখন দুটো হল, সে আমার বড় ছেলে হল।” তার পরেরটা সব ইতিহাস। খাঁ সাহেব শত শত ছাত্রদের মাঝে এই তিন মহারথীর তুলনায় বলেছিলেন প্রতিভার বিচারে আলী আকবর ও রবিশঙ্করকে এক পাল্লায় ও অন্নপূর্ণাকে অন্য পাল্লায় দিলে অন্নপূর্ণার পাল্লাই ভারী হবে।
শিক্ষা শেষে পারিবারিক সম্মতিতে ১৯৪১ সালের ১৫ মে খাঁ সাহেব রবিশঙ্কর ও অন্নপূর্ণার বিয়ে দেন, বিয়ের সময় রবিশঙ্করের বয়স ছিল ২১ এবং অন্নপূর্ণার মাত্র ১৫ পেরিয়েছে। রবিশঙ্কর ছিলেন খুবই উচ্চাভিলাষি। বিয়ের কিছুদিন পরে তাঁরা বোম্বে চলে আসেন, শুরু হয় তাদের জয়জয়কার। নিজ গুরুর কাছথেকে শেখা আলাউদ্দিন খাঁর স্পেশাল আইটেম ছিল সুরবাহার যা তিনি শুধুমাত্র অন্নপূর্ণাকেই শিখিয়েছিলেন। আর এই সুরবাহারের কল্যাণে অন্নপূর্ণা রাতারাতি রবিশঙ্করের চেয়ে বেশী জনপ্রিয় ও উপার্জনশীল হতে থাকেন, যা রবিশঙ্করের মর্ম পিড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একদিন অন্নপূর্ণা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করলেন রবিশঙ্কর গোপনে নৃত্যশিল্পী কমলা শাস্ত্রীর সঙ্গে প্রেম এবং বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। কমলার সঙ্গে রবিশঙ্করের সম্পর্কের জেরে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে যায়।
রবিশঙ্করের ছাত্র এবং ‘দ্য নবভারত টাইমস’ এর সংগীত সমালোচক মদন লাল ব্যাস বলেন, কনসার্ট শেষে লোকজন অন্নপূর্ণা কে ছেঁকে ধরতো যা পন্ডিত জির পক্ষে সহ্য করা ছিল দুরূহ। তিনি বলেন অন্নপূর্ণা ছিলেন অসামান্যা এক প্রতিভা। এমনকি তাঁর আপসহীন, শিক্ষার সময় ক্ষমাহীন গুরুবাবা আলাউদ্দিন খাঁ তাঁকে মূর্তিমতী সরস্বতী বলে সম্বোধন করতেন। এর চেয়ে বড় প্রশংসা আর কি হতে পারে?
অন্নপূর্ণা ও রবিশঙ্করের ব্যক্তিগত জীবনের কাহিনী নিয়ে বোম্বেতে ১৯৭৩ সালে একটি খুবই জনপ্রিয় ছবি নির্মিত হয়, নাম অভিমান। অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চন প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিতে যদিও অভিনেতা-অভিনেত্রীর সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল কিন্তু প্রকৃত জীবনে সংসার ধরে রাখতে জনসমক্ষে পরিবেশনা ছেড়ে দেওয়ার মত বিশাল আত্মত্যাগের পরও অন্নপূর্ণা নিজের সংসার টিকাতে পারেননি। তারপরেই তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেন,আর কোন দিন প্রকাশ্যে আসেননি। ভারতবর্ষ হারায় এক অমূল্য রত্মকে। যদিও রবিশঙ্কর পরবর্তীতে নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছিলেন।
রবিশঙ্কর ও অন্নপূর্ণার বৈবাহিক জীবনের একমাত্র সাক্ষী তাঁদের একমাত্র ছেলে শুভেন্দ্র শঙ্কর যিনি পরবর্তীতে আমেরিকাতে মারা যান। রবিশঙ্কর ষাটের দশকের প্রথম দিকে প্রেমিকা কমলা শাস্ত্রীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষ ত্যাগ করেন। কমলা শাস্ত্রীর সঙ্গে লিভ টুগেদার এবং তাকে বিয়ে করতে না পারার প্রসঙ্গে রবিশঙ্কর তাঁর আত্মজীবনী “রাগ অনুরাগে” বলেছেন, “কি জানি, নিজের বিয়ে এবং অন্য অনেকের বিয়ে দেখে বিয়ের উপর থেকে আমার সমস্ত শ্রদ্ধা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে ভালো স্ত্রী বা সঙ্গীরা একজন পুরুষকে সফল হতে অনুপ্রেরণা দেয়।” দীর্ঘদিন পর ১৯৮২ সালে অন্নপূর্ণা ও রবিশঙ্করের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
উনার রেওয়াজের ঘরে কারোই যাওয়ার অনুমতি ছিল না। রবিশঙ্করের কাছে তাঁর প্রতিভার কথা জেনে ১৯৭০ সালে আমেরিকার বিশ্ব বিখ্যাত রক সংগীতের দল ঞযব ইবধঃষবং এবং পৃথিবী বিখ্যাত বেহালা বাদক ণবযঁফর গবহঁযরহ তাঁর রেওয়াজ দেখার জন্য ভারতে আসেন কিন্তু অনুমতি পাননি, পরবর্তীতে ভারতের ততকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিশেষ অনুরোধে তাঁদেরকে অনানুষ্ঠানিক ভাবে পাশের রুম থেকে রেওয়াজ দেখার অনুমতি দিয়েছিলেন। যদিও তিনি ইতিপূর্বে তাঁর পারফমেন্স সরাসরি দেখার ব্যাপারে ইন্দিরা গান্ধীর নিজের অনুরোধকেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
উনার অনেক বিখ্যাত শিষ্য আছেন যারা এখন সারা বিশ্ব মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁর শিষ্যত্ব নেওয়াটাও ছিল দুরূহ। পাঁচ থেকে দশ বৎসরও অপেক্ষা করতে হয়েছে। তাঁর বিখ্যাত ছাত্রদের অন্যতম কয়েকজন হলেন ১। ওস্তাদ আশীষ খাঁ সরোদ ২। পন্ডিত অমিত ভট্টাচার্য সরোদ ৩। ওস্তাদ বাহাদুর খাঁ সরোদ ৪। পন্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া বাসুরী ৫। পন্ডিত নিত্যানন্দ হলদিপুর বাসুরী ৬। পন্ডিত বসন্ত বাবরা সরোদ ৭।পন্ডিত জতীন ভট্টাচার্য সরোদ ৮। পিটার কল্ট সেতার।
ভারতীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী একানব্বই বৎসর বয়সে চলে গেলেন বটে,তবে এ যাওয়া দেবী অন্নপূর্ণার মতই বারবার ফিরে আসার জন্য যাওয়া। তাঁর বিস্ময়কর প্রতিভার যে অমরত্ব ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত কে ছেয়ে আছে, সেই অমরত্তেই বসবাস করবেন এই সংগীতের দেবী চিরকাল।” পদ্মভূষণ” ছাড়াও তিনি “সংগীত নাটক একাদেমি” পুরষ্কার এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “দেশিকোত্তম” পুরস্কারে ভূষিত হোন। শেষ জীবনে মুম্বাইয়ের আকাশগঙ্গা অ্যাপার্টমেন্টে তাঁর ছাত্ররাই সন্তান রূপে আবির্ভূত হয়ে মাতৃসমা মমত্বে তাঁকে দেখাশোনা করতেন। তাদের অন্যতম ছিলেন পন্ডিত নিত্যানন্দ হলদিপুর।

Ads small one

কালশীর বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
কালশীর বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানী মিরপুরের কালশী এলাকার বস্তিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৫ ইউনিটের দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের প্রচেষ্টার পর সোমবার (২৫ মে) রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে, আজ সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। তবে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্যমতে, আজ সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে কালশীর একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় তারা। ৭টা ৩২ মিনিটে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। পরবর্তীতে ১৫টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের প্রচেষ্টার পর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

গাজায় টানা তৃতীয় বছরেও ফিলিস্তিনিদের ‘ঈদ নেই’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
গাজায় টানা তৃতীয় বছরেও ফিলিস্তিনিদের ‘ঈদ নেই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বছরের এই সময়টাতে সাধারণত পবিত্র ঈদুল আজহার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন মাজেন আল-জেরজাউই। কোরবানির পশুর খোঁজে গাজাবাসী যখন এদিক-ওদিক ছুটতেন, তখন তিনি নিজের খামারে লালন-পালন করা শত শত ভেড়া ও ছাগল বিক্রি করতেন।

তবে সেই দিন এখন শুধুই অতীত। গাজার অন্যতম শীর্ষ পশু খামারি হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি এখন কেবল একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালান। যেখানে ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় আসা হিমায়িত মাংসের ওপর নির্ভর করতে হয় তাকে।

গাজা সিটির বাসিন্দা জেরজাউই বলেন, ‘বছরের এই সময়ে আমি প্রায় ২০০টি ভেড়া ও গরু বিক্রি করতাম। আজ আমার কাছে একটিও পশু নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় কোনও জীবন্ত পশু একেবারেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ইসরায়েল গাজার মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করছে যেন তারা এখানে সাময়িকভাবে বসবাস করছে এবং যা কিছু অনুমতি দেওয়া হচ্ছে তা কেবল ন্যূনতম স্তরে কোনও রকমে টিকিয়ে রাখার জন্য।’

ঈদুল আজহা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। এই উৎসবে সামর্থ্যবান মুসলমানরা ঈদের নামাজের পর ভেড়া, ছাগল, গরু বা উট কোরবানি দেন এবং সেই মাংস পরিবার, প্রতিবেশী ও অভাবীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে, কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে গাজা প্রতি বছর ঈদের আগে ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার ভেড়া ও বাছুর আমদানি করত। কিন্তু ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা ও অবরোধের কারণে গাজার ফিলিস্তিনিরা টানা তৃতীয় বছরের মতো এই উৎসবের প্রধান ঐতিহ্য পালন করতে পারছে না।

বিলুপ্তির পথে গাজার গবাদিপশু

গাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলা এবং পণ্য ও কৃষি সরঞ্জাম চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের কারণে গাজার গবাদিপশু খাতের ৯০ শতাংশের বেশি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় পশু উৎপাদন ধ্বংসের পাশাপাশি গাজায় জীবন্ত পশুর প্রবেশও বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল, যা এই ভঙ্গুর সাপ্লাই চেইনকে আরও সংকটে ফেলেছে।

এর ফলে পশুর দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে গাজায় একটি ভেড়ার দাম ছিল সাধারণত ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার। এখন হাতেগোনা যে কয়েকটি পশু অবশিষ্ট রয়েছে, তার একেকটির দাম ৭ হাজার ডলার পর্যন্ত উঠছে।

জেরজাউই বলেন, ‘আমি ভেড়া বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি কারণ গাজায় গবাদিপশু অত্যন্ত দুর্লভ হয়ে পড়েছে।’ তিনি জানান, প্রবাসে থাকা ফিলিস্তিনিরা এখনও গাজায় তাদের আত্মীয়দের পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়ার জন্য পশু কিনতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, কিন্তু তিনি তাদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেন।

জেরজাউই বলেন, ‘আমি তাদের বলি যে, একটি ভেড়ার পেছনে এত টাকা খরচ না করে ৫০ কেজি হিমায়িত মাংস কেনা অনেক ভালো। একটি ভেড়ার জন্য ২০ হাজার শেকেল (৭ হাজার ডলার) খরচ করার চেয়ে এই টাকা দিয়ে একটি দম্পতির বিয়ের খরচ চালানো সম্ভব।’

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসের মধ্যেই গাজার অন্তত ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল যুদ্ধের কারণে মারা গেছে বা হত্যা করা হয়েছে। একসময় যা ছিল গাজার তাজা মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের শেষ নির্ভরযোগ্য উৎস, সেই গবাদিপশু খাত এখন কার্যত নিশ্চিহ্ন। এর ফলে গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হয়েছে।

এই ধ্বংসযজ্ঞ শুধু পশুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। খামার, গোয়ালঘর, পশুখাদ্যের গুদাম ও পশু চিকিৎসা ক্লিনিকগুলো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। পশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি এই খাতকে সম্পূর্ণ ধসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

জেরজাউই বলেন, ‘পশুগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা পাস্তা এবং যা পেয়েছি তা-ই খাইয়েছি। কিন্তু পাশের একটি বাড়িতে বোমা হামলার পর আমার অনেকগুলো ভেড়া মারা যায়। গাজার বেশির ভাগ পশু মালিকের ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটেছে; বিমান হামলার কারণে আমরা আমাদের পশু হারিয়েছি।’

তিনি জানান, বারবার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনাটি এই খাতের ওপর শেষ আঘাত হেনেছে। বোমাবর্ষণ থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারগুলো তাদের পশুর যত্ন নিতে পারেনি এবং অনেক সময় বাধ্য হয়ে যে দামে পাওয়া যায় সেই দামেই পশু জবাই বা বিক্রি করে দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি উচ্ছেদ আদেশের সঙ্গে সঙ্গে গাজায় গবাদিপশুর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। আমি যখন বাস্তুচ্যুত হই, তখন বোমার আঘাতে যেন মারা না যায় সেজন্য তড়িঘড়ি করে পশুগুলো জবাই করতে বা বিক্রি করতে বাধ্য হই। একসময় আমার মালিকানাধীন সব পশু এভাবেই বিক্রি হয়ে যায়। অত্যন্ত চড়া দামে আটা ও মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য আমি যে দামে পেরেছি এগুলো বিক্রি করেছি। শেষ পর্যন্ত, একজন মানুষ নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের রক্ষা করার চেষ্টা করার পাশাপাশি কীভাবে গবাদিপশুর যত্ন নেবে?’

‘নেই কোনও ঈদ’

গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ভেড়া ও ছাগলের সংখ্যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের প্রায় ৬০ হাজার থেকে কমে আজ মাত্র ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। আর বাছুর ও গরু তো প্রায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাফাত আসালিয়া বলেন, ‘এখনও যে অল্পসংখ্যক ভেড়া ও ছাগল বেঁচে আছে, তা যাযাবর রাখালদের কাছে রয়েছে এবং সেগুলো ঈদের মৌসুমে বিক্রির জন্য পাওয়া যাচ্ছে না।’ তিনি আরও জানান, পানির কূপগুলো সচল করতে না পারায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে, যার ফলে এই খাতের পুনরুদ্ধারের আর কোনও বাস্তব উপায় বা সম্ভাবনা অবশিষ্ট নেই।

আসালিয়া বলেন, ‘এটি এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা হাজার হাজার পরিবারকে ঈদের কোরবানি দেওয়া থেকে বঞ্চিত করছে।’

গাজার অনেক ফিলিস্তিনির কাছে এই উৎসবটি এখন প্রায় অচেনা হয়ে পড়েছে। গাজা সিটির একজন স্কুলশিক্ষক মুহাম্মদ আবু রিয়ালা আগে প্রতি বছর কোরবানি দিতেন। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমরা তিন বছর ধরে ঈদ উদযাপন করি না। কোরবানির সেই আচার এবং অন্যের সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ বিলীন হয়ে গেছে। কোরবানি ও ভাগ করে নেওয়ার সামর্থ্য না থাকলে সেখানে কোনও ঈদ নেই।’

আবু রিয়ালা জানান, জীবন্ত পশুর অনুপস্থিতি সংকটের একটি অংশ মাত্র, অনেক পরিবার এখন মৌলিক খাদ্য জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কোনও জীবন্ত পশু নেই, আর বেশির ভাগ পরিবারের কোনও কিছু ভাগ করে নেওয়ার সামর্থ্যও নেই। অনেকে কোনও রকমে দৈনিক খাবার জোগাড় করছে এবং কেউ কেউ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত মাংসও খায়নি। গাজায় যা প্রবেশ করে তা সীমিত এবং তা সম্পূর্ণভাবে সীমান্ত ক্রসিং বা পারাপারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে, যার অর্থ দাম অত্যন্ত চড়া থাকে।’

জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ নাগাদ গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৭৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৬ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি ছিল। যুদ্ধবিরতি হওয়া সত্ত্বেও মানবিক সহায়তা এবং বাণিজ্যিক পণ্যের ওপর ইসরায়েলের কঠোর ও প্রায়শই অননুমেয় বিধিনিষেধ এবং বারবার সীমান্ত বন্ধের কারণে এই সংকট আরও খারাপের দিকে গেছে। এর ফলে মৌলিক খাদ্যসামগ্রী প্রায়শই বাজার থেকে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যায় এবং গাজায় কী পণ্য ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে দামের তীব্র ওঠানামা ঘটে।

আবু রিয়ালা বলেন, গবাদিপশুর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা গাজার হাজার হাজার পরিবারকে টিকিয়ে রাখা একটি সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘যদি গাজায় গবাদিপশু প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো, তবে এটি অনেক পেশাকে বাঁচিয়ে রাখত, যেমন- পশু চিকিৎসক, পশু খামারি, গোবর বা জৈব সারের ওপর নির্ভরশীল কৃষক, কসাই এবং রেস্তোরাঁ মালিকরা এর সুবিধা পেতেন। কিন্তু ইসরায়েল তা চায় না। তারা সমাজকে পঙ্গু করে দিতে চায় এবং একে স্বাবলম্বী হওয়া থেকে বিরত রাখতে চায়।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আমার বিশ্বাস ছিল, আমি মাসুদ রানা হবো: রাসেল রানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আমার বিশ্বাস ছিল, আমি মাসুদ রানা হবো: রাসেল রানা

বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে রোমাঞ্চের ঝড় তোলা সেবা প্রকাশনীর কালজয়ী স্পাই চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ এবার আসছে রূপালী পর্দায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নানামুখী অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আগামী ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এই সিনেমাটি।

গতকাল (২৪ মে) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিনেমাটির প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশ ও আনুষ্ঠানিক প্রচারণার ঘোষণা দেওয়া হয়। জমকালো এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে নিজের দীর্ঘ জার্নি ও অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সিনেমার মূল চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ অর্থাৎ অভিনেতা রাসেল রানা।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আপনারা সবাই জানেন যে মাসুদ রানা সবাই লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তো এবং মুরুব্বিদের সাথে এখানে কিছু ঝামেলা ছিল। তো, আমার বাবাও আমাকে পড়তে দিত না। আমার বাবা মাসুদ রানার অনেক বড় ফ্যান ছিল। উনি মাসুদ রানার বই পড়তেন এবং আমাদের বাসায়ও মাসুদ রানার বই ছিল। আমি দেখতাম ওই বইগুলো, বাট আমি ওইভাবে পড়তাম না কারণ আমি ফ্যান ছিলাম হচ্ছে ঐ কিশোর উপন্যাস বা টিন উপন্যাসের।”

 

জেমস বন্ডের প্রতি নিজের ভালোলাগার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “জেমস বন্ডের আমি অনেক বড় ফ্যান ছিলাম এবং জেমস বন্ডের মুভিগুলো দেখেই আমি বড় হয়েছি—পিয়ার্স ব্রসনান থেকে শুরু করে ড্যানিয়েল ক্রেইগ পর্যন্ত। ওনাদের মুভিগুলো দেখার পর আমি যখন জানতে পারলাম যে আমাদের বাংলাদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স, বিসিআই-এর একজন এজেন্ট হচ্ছে এই মাসুদ রানা ক্যারেক্টার এবং সে হচ্ছে বাংলাদেশের বলতে গেলে জেমস বন্ড, তো তখন আমার আগ্রহটা তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যায় যে না, আমার মাসুদ রানার সবগুলো বই পড়তে হবে।”

‘কে হবে মাসুদ রানা’ রিয়েলিটি শো-র মাধ্যমে এই পথচলার শুরুটা মনে করিয়ে দিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আমি বেশ কিছু বই পড়ি। পড়ার পর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়। হঠাৎ একদিন দেখলাম ‘কে হবে মাসুদ রানা?’। এটা দেখার পর আমি টোটালি অ্যামেজড—ও মাই গড! মানে, আমি মাসুদ রানার এত বড় ফ্যান, আর এই রিয়েলিটি শোটা হচ্ছে মাসুদ রানাকে খোঁজার জন্য! সো, আই থিংক দিস ইজ দ্য টাইম।”

 

সব প্রতিকূলতা জয় করার গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, “সবকিছু শেষ করে, প্রতিকূলতা পার করে, ফাইনালি আমি সিলেক্ট হই। তো, আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি মাসুদ রানা হব। এরপর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়, আমরা মুভিটা শুরু করি এবং ফাইনালি আমরা মাসুদ রানা কমপ্লিট করতে পারি।”

নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্নের মঞ্চে দাঁড়ানোর অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সবসময় আয়নার সামনে দাঁড়াই এবং নিজেকে বলি যে তোমাকে করতে হবে, তুমি পারবে। এই জিনিসটা আমি সবসময় নিজেকে বলি। তো, আজকেও আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এই কথাটাই বলেছি যে এই মঞ্চে, এই পোডিয়ামের সামনে দাঁড়াতে পারাটা অনেক দিনের একটা স্বপ্ন ছিল। আজকে আমি এখানে দাঁড়াতে পারছি, এজন্য আসলে আমি অনেক ইমোশনালি ওভারহোয়েল্মড এবং ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না যে কী বলবো। যা মুখে আসছে, যতটুকু কথা বলতে পারছি, আমি বলছি। আর যেহেতু এটা আমার ফার্স্ট মুভি, সো আমার মনে হয় যে কথাগুলো গুছিয়ে বলতে পারছি না।”

 

পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে রাসেল রানা বলেন, “আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে আমার যেটা স্বপ্ন ছিল, এই পোস্টারের মাধ্যমে আমার স্বপ্নটা আমার সামনে দেখতে পাচ্ছি। এবং ইনশাল্লাহ আগামী ঈদে এই মুভিটা রিলিজ হতে যাচ্ছে। আশা করি মুভিটা আপনাদের সবার ভালো লাগবে।”

প্রসঙ্গত, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সৈকত নাসির। সিনেমাটিতে নামভূমিকায় রাসেল রানা ছাড়াও ‘সোহানা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি এবং ‘অবনিতা’ চরিত্রে দেখা যাবে সৈয়দা তিথি অমনিকে।

উল্লেখ্য, সিনেমাটির প্রথম অফিশিয়াল পোস্টারটি তৈরি করা হয়েছে সেবা প্রকাশনীর সেই চেনা ক্লাসিক বইয়ের প্রচ্ছদের আদলে, যা পাঠকদের মাঝে নতুন করে নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ছবিটি আগামী ঈদুল আজহায় দেশের বড় বড় প্রেক্ষাগৃহ ও মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে একযোগে মুক্তি পাবে।