বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে রোমাঞ্চের ঝড় তোলা সেবা প্রকাশনীর কালজয়ী স্পাই চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ এবার আসছে রূপালী পর্দায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নানামুখী অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আগামী ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এই সিনেমাটি।
গতকাল (২৪ মে) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিনেমাটির প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশ ও আনুষ্ঠানিক প্রচারণার ঘোষণা দেওয়া হয়। জমকালো এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে নিজের দীর্ঘ জার্নি ও অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সিনেমার মূল চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ অর্থাৎ অভিনেতা রাসেল রানা।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আপনারা সবাই জানেন যে মাসুদ রানা সবাই লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তো এবং মুরুব্বিদের সাথে এখানে কিছু ঝামেলা ছিল। তো, আমার বাবাও আমাকে পড়তে দিত না। আমার বাবা মাসুদ রানার অনেক বড় ফ্যান ছিল। উনি মাসুদ রানার বই পড়তেন এবং আমাদের বাসায়ও মাসুদ রানার বই ছিল। আমি দেখতাম ওই বইগুলো, বাট আমি ওইভাবে পড়তাম না কারণ আমি ফ্যান ছিলাম হচ্ছে ঐ কিশোর উপন্যাস বা টিন উপন্যাসের।”
জেমস বন্ডের প্রতি নিজের ভালোলাগার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “জেমস বন্ডের আমি অনেক বড় ফ্যান ছিলাম এবং জেমস বন্ডের মুভিগুলো দেখেই আমি বড় হয়েছি—পিয়ার্স ব্রসনান থেকে শুরু করে ড্যানিয়েল ক্রেইগ পর্যন্ত। ওনাদের মুভিগুলো দেখার পর আমি যখন জানতে পারলাম যে আমাদের বাংলাদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স, বিসিআই-এর একজন এজেন্ট হচ্ছে এই মাসুদ রানা ক্যারেক্টার এবং সে হচ্ছে বাংলাদেশের বলতে গেলে জেমস বন্ড, তো তখন আমার আগ্রহটা তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যায় যে না, আমার মাসুদ রানার সবগুলো বই পড়তে হবে।”
‘কে হবে মাসুদ রানা’ রিয়েলিটি শো-র মাধ্যমে এই পথচলার শুরুটা মনে করিয়ে দিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আমি বেশ কিছু বই পড়ি। পড়ার পর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়। হঠাৎ একদিন দেখলাম ‘কে হবে মাসুদ রানা?’। এটা দেখার পর আমি টোটালি অ্যামেজড—ও মাই গড! মানে, আমি মাসুদ রানার এত বড় ফ্যান, আর এই রিয়েলিটি শোটা হচ্ছে মাসুদ রানাকে খোঁজার জন্য! সো, আই থিংক দিস ইজ দ্য টাইম।”
সব প্রতিকূলতা জয় করার গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, “সবকিছু শেষ করে, প্রতিকূলতা পার করে, ফাইনালি আমি সিলেক্ট হই। তো, আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি মাসুদ রানা হব। এরপর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়, আমরা মুভিটা শুরু করি এবং ফাইনালি আমরা মাসুদ রানা কমপ্লিট করতে পারি।”
নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্নের মঞ্চে দাঁড়ানোর অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সবসময় আয়নার সামনে দাঁড়াই এবং নিজেকে বলি যে তোমাকে করতে হবে, তুমি পারবে। এই জিনিসটা আমি সবসময় নিজেকে বলি। তো, আজকেও আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এই কথাটাই বলেছি যে এই মঞ্চে, এই পোডিয়ামের সামনে দাঁড়াতে পারাটা অনেক দিনের একটা স্বপ্ন ছিল। আজকে আমি এখানে দাঁড়াতে পারছি, এজন্য আসলে আমি অনেক ইমোশনালি ওভারহোয়েল্মড এবং ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না যে কী বলবো। যা মুখে আসছে, যতটুকু কথা বলতে পারছি, আমি বলছি। আর যেহেতু এটা আমার ফার্স্ট মুভি, সো আমার মনে হয় যে কথাগুলো গুছিয়ে বলতে পারছি না।”
পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে রাসেল রানা বলেন, “আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে আমার যেটা স্বপ্ন ছিল, এই পোস্টারের মাধ্যমে আমার স্বপ্নটা আমার সামনে দেখতে পাচ্ছি। এবং ইনশাল্লাহ আগামী ঈদে এই মুভিটা রিলিজ হতে যাচ্ছে। আশা করি মুভিটা আপনাদের সবার ভালো লাগবে।”
প্রসঙ্গত, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সৈকত নাসির। সিনেমাটিতে নামভূমিকায় রাসেল রানা ছাড়াও ‘সোহানা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি এবং ‘অবনিতা’ চরিত্রে দেখা যাবে সৈয়দা তিথি অমনিকে।
উল্লেখ্য, সিনেমাটির প্রথম অফিশিয়াল পোস্টারটি তৈরি করা হয়েছে সেবা প্রকাশনীর সেই চেনা ক্লাসিক বইয়ের প্রচ্ছদের আদলে, যা পাঠকদের মাঝে নতুন করে নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ছবিটি আগামী ঈদুল আজহায় দেশের বড় বড় প্রেক্ষাগৃহ ও মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে একযোগে মুক্তি পাবে।