বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহ’র উপর হামলায় রিপোর্টার্স ক্লাবের নিন্দা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহ’র উপর হামলায় রিপোর্টার্স ক্লাবের নিন্দা

তালা প্রতিনিধি: ‎তালা সদর ইউনিয়নের জেয়ালা কোলাচ বিলে একটি মৎস্য ঘেরে লুটপাট এবং হামলার সংবাদ সংগ্রহকালে তালার সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহ’র  উপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় তিনি আহত হন এবং তাঁর মোটরসাইকেল ভেঙ্গে গুড়ি দেয়া হয়।

‎এঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিবৃতি প্রদান করেছে তালা রিপোর্টার্স ক্লাব। বিবৃতি প্রদানকারীরা হলেন, তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের আহবায়ক নারায়ণ মজুমদার, সিনিয়র সদস্য মীর জাকির হোসেন, ইন্দ্রজীৎ দাস বাপ্পী, জুলফিকার রায়হান, গোলাম মোস্তফা, প্রভাষক এস.আর. আওয়াল, মিজানুর রহমান, বাবলুর রহমান, মো. বায়জীত হোসেন, শাহিনুর রহমান, সাইদ সম্রাট, তাপস ঘোষ, এহসানুল হক, ফারুক সাগর, গোলাম রাব্বানী, শেখ সিদ্দিক, রিপন হুসেইন, বাহারুল ইসলাম, রেশমা খাতুন ও শেখ বাবলুর রহমান প্রমুখ। বিবৃতিদাতারা অবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন।

একইসাথে সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহ’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

Ads small one

আল্লাহর কাছে শুকরিয়া: ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
আল্লাহর কাছে শুকরিয়া: ট্রাম্প

ইরানের ওপর চলমান মার্কিন নৌ অবরোধের ব্যাপক প্রশংসা করে দেশটির তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক নতুন পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান এখন দ্রুত একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।

চলতি এই অবরোধকে নৌযুদ্ধের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে সফল অবরোধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, আমরা না চাইলে কোনও কিছুই এর ভেতর দিয়ে পার হতে পারে না। এটি একটি ইস্পাতের দেয়াল!

ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে: ট্রাম্পের হুঙ্কার
ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ‘ইরানের ব্যবসা-বাণিজ্য এখন একেবারে শূন্যের কোঠায়। তারা তাদের সামরিক বাহিনীকে বেতন দিতে পারছে না, এমনকি নিজেদের কোনও বিলও পরিশোধ করতে পারছে না। তারা দ্রুত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে! তবে প্রচুর তেল বাইরে বেরিয়ে আসছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া!’

একই সঙ্গে চলমান এই মার্কিন অবরোধ কতটা কার্যকর, তা প্রচার না করার জন্য তিনি ‘ভুয়া গণমাধ্যমগুলোর’ প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই পোস্টের বাইরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তেহরান যদি শেষ পর্যন্ত নতুন কোনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে রাজি না হয়, তবে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সেতুগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

সুন্দরবনের জলদস্যু জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের জলদস্যু জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য আটক

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আজিবার গাজী (৪৭), রবিউল গাজী (৪৪) ও ফারুক হোসেন (৩৬) নামে তিন জলদস্যুকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কালিঞ্চি স্লুইসগেট এলাকা থেকে কৈখালী বিসিজি স্টেশন সদস্যরা তাদের আটক করে। এসময় আটককৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের হরিণটানা খালসংলগ্ন এলাকা থেকে একটি একনলা বন্দুকসহ দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের কালিঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা।

কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় পরিচালিত অভিযানে তিন জলদস্যুকে মঙ্গলবার রাতে আটক করা হয়েছে। তারা সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর সক্রিয় সদস্য। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবন থেকে একটি অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল তারা।

এদিকে শরীফ উদ্দীন ও জামির আলীসহ স্থানীয়রা জানিয়েছে রবিউল ইসলাম ওরফে চেঙ্গিজ রবিউল সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু মঞ্জু বাহিনীর সেকেন্ড-ইন কমান্ড হিসেবে ২০১৭ সালে আত্মসমর্পণ করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর আবারও সুন্দরবনে দস্যুতায় সক্রিয় হয়ে জোনাব বাহিনী নামে কাজ শুরু করে। শ্যামনগর পৌরসদরের প্রভাবশালী দুই রাজনীতিকের প্রকাশ্য সহায়তায় সাম্প্রতিক সময়ে সামীন্তের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণসহ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে দস্যুতা চালিয়ে আসছিল তার বাহিনী। চেঙ্গিজ রবিউলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে গডফাদারের নাম পরিচয় প্রকাশসহ অস্ত্র ভান্ডারের বিষয়ে গুরুত্বপুর্ন তথ্য মিলবে বলবে।

শ্যামনগর থানার থফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান আটককৃতদের বিরুদ্ধে কোস্টগার্ড সদস্যরা বাদি হয়ে মামলা দিয়েছে। অস্ত্র আইনের মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

বর্ষার শুভ্র দূত: অনন্য রূপের চালতা ফুল/ ‎তারিক ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
বর্ষার শুভ্র দূত: অনন্য রূপের চালতা ফুল/ ‎তারিক ইসলাম

‎তারিক ইসলাম

‎প্রকৃতিতে আষাঢ়ের আগমন মানেই রিমঝিম বৃষ্টির গান আর চারপাশের সবুজের সমারোহ। বর্ষার এই চিরচেনা রূপের মাঝে অবহেলিত অথচ দারুণ এক সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে বসে চালতা গাছ। আমাদের গ্রামীণ জনপদে চালতা অত্যন্ত পরিচিত একটি ফল হলেও, এর ফুলের রূপ-মাধুর্য নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না। অথচ বর্ষার শুরুতে যখন চালতা ফুল ফোটে, তখন তার শুভ্রতা আর গঠনশৈলী যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমীকে মুগ্ধ করতে বাধ্য।
‎চালতা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Dillenia indica|. এটি মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের একটি আদি বৃক্ষ। বর্ষার প্রথম বৃষ্টি স্পর্শ করার পর থেকেই চালতা গাছের ডালে ডালে গোল গোল সবুজ কুঁড়ি দেখা দিতে শুরু করে। আর সেই কুঁড়ি ফেটে যখন ফুলটি আত্মপ্রকাশ করে, তখন চারপাশ যেন এক স্নিগ্ধ আলোয় ভরে ওঠে।

 

‎চালতা ফুলের এই স্নিগ্ধ ও বিষণ্ন রূপ সবচেয়ে সুন্দরভাবে ধরা দিয়েছিল রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের চোখে। প্রকৃতির নশ্বরতা আর শাশ্বত সুন্দরের মেলবন্ধন বোঝাতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন-
‎“আমি চলে যাবো বলে, চালতা ফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে, নরম গন্ধের ঢেউয়ে?”‎মানুষ চলে যায়, কিন্তু প্রকৃতি তার নিয়মেই রূপের পসরা সাজিয়ে রাখে। কবির এই আক্ষেপ মিশ্রিত জিজ্ঞাসা মনে করিয়ে দেয়, চালতা ফুল আর তার মিষ্টি সুবাস আমাদের যান্ত্রিক জীবনের আড়ালেও কতটা নীরবে জড়িয়ে আছে প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্যের সাথে।

‎চালতা ফুলের গঠন অন্য দশটা ফুল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ফুলগুলো বেশ বড় আকৃতির এবং নিচের দিকে মুখ করে ঝুলে থাকে। এর পাঁচটি বড়, পুরু ও সাদা রঙের পাপড়ি থাকে, যা দেখতে অনেকটা চামচের মতো বাঁকানো। ফুলের ঠিক মাঝখানে থাকে হলদে-সবুজ রঙের পরাগধানী এবং তার উপরে চাকার স্পোকের মতো ছড়িয়ে থাকে সাদা রঙের গর্ভকেশর। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজ পাতার ক্যানভাসে কেউ যেন পরম যতেœ সাদা শ্বেতপাথরের কোনো শিল্পকর্ম ঝুলিয়ে রেখেছে।

‎চালতা ফুলের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর আয়ুষ্কাল। ফুলটি ফোটে মূলত ভোরের আলো ফোটার আগে, আর দুপুরের কড়া রোদ পড়ার আগেই এর পাপড়িগুলো ঝরে পড়ে। এই স্বল্পস্থায়ী মায়াবী সৌন্দর্যের কারণেই হয়তো এটি কবি-হৃদয়কে এতটা আলোড়িত করেছিল।

‎একসময় বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে, পুকুরপাড়ে বা ঝোপঝাড়ে প্রচুর চালতা গাছ দেখা যেত। বর্ষার সকালে ঝরে পড়া চালতা ফুলের পাপড়ি কুড়ানোর আনন্দ জড়িয়ে ছিল আমাদের শৈশবের স্মৃতিতে। কিন্তু নগরায়ণ আর নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে আজ আমাদের চারপাশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এই দেশীয় ঐতিহ্যবাহী গাছটি।

‎চালতা গাছ কেবল সৌন্দর্য ছড়ায় না, এটি আমাদের বাস্তুতন্ত্রের (ঊপড়ংুংঃবস) জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফুল মৌমাছি ও প্রজাপতিকে আকৃষ্ট করে পরাগায়নে সাহায্য করে, আর টক-মিষ্টি ফল কাঠবিড়ালি, পাখি ও বন্য প্রাণীদের অন্যতম প্রধান খাদ্য।

‎প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং আমাদের নিজস্ব উদ্ভিদ বৈচিত্র্যকে টিকিয়ে রাখতে চালতা গাছের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কংক্রিটের এই নগরীতে বা গ্রামীণ বনায়নে আমরা যদি এই দেশীয় গাছগুলোকে ফিরিয়ে না আনি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো শুধু জীবনানন্দের কবিতার লাইনেই ‘রূপসী বাংলার’ এই শুভ্র দূতকে খুঁজে বেড়াবে। বর্ষার এই মায়াবী রূপকে বাঁচাতে আমাদের বাড়ির আনাচে-কানাচে ও পতিত জমিতে চালতার মতো দেশীয় গাছ রোপণের এখনই সময়।

লেখক: তারিক ইসলাম, সভাপতি সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।