শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপির নানা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপির নানা কর্মসূচি

অনলাইন ডেস্ক: সাবেক রাষ্ট্রপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠাতা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আগামীকাল শনিবার। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য তাকে হত্যা করে। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি গত ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

 

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী— ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হচ্ছে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করছেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

 

আগামীকাল ৩০ মে শনিবার ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সকল স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিন সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

 

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় এবং দেশের অন্যান্য ইউনিটে অসচ্ছল ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে কাপড়, চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। একইভাবে দেশের সব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য ইউনিটেও ৩০ মে ভোর ৬টায় দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিও পালন করা হবে।

 

পরদিন ৩১ মে রোববার বেলা ২টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

 

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। এজন্য তাকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক বলা হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ নিয়ে গঠিত সার্ক প্রতিষ্ঠারও স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনি। জাতীয়তাবাদভিত্তিক একটি কালজয়ী রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

 

তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। শহীদ জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান এবং নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

দেশের মানুষের বিপুল আস্থা ও সমর্থন নিয়ে এবারসহ বিএনপি এ পর্যন্ত পাঁচবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। প্রতি বছর দিনটি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী হিসেবে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পালন করে আসছে।

Ads small one

সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে বৃহৎ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে বৃহৎ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে বনদস্যুদের নির্যাতন, জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং বনজীবীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোরায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বনদস্যুদের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন লিটন।

বক্তারা বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবলম্বন। এ বনের ওপর নির্ভর করে হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বনদস্যুদের ভয় ও নির্যাতনের কারণে তাঁদের জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সুন্দরবনে কাজ করতে গিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বনজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

তাঁরা আরও বলেন, সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে শুধু প্রতিবাদ সভা নয়, সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

সভায় বনজীবীদের নিরাপত্তা ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধে বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা সুন্দরবননির্ভর মানুষের জীবিকা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ নুরুল হক আর নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ নুরুল হক আর নেই

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শেখ নুরুল হক নুরু (৭৮) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুলতানপুর এলাকার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি মরহুম শেখ আনোয়ারুল হকের বড় পুত্র এবং দুই ছেলে, ভাইসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে সাতক্ষীরার ব্যবসায়ী সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

মরহুমের নামাজের জানাজা রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ২টায় সুলতানপুর ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

 

সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিতে গাবুরার দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, সুপেয় পানির সংকটে হাজারো পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিতে গাবুরার দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, সুপেয় পানির সংকটে হাজারো পরিবার

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোরায় খোলপেটুয়া নদীর চরে অবস্থিত সরকারি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থাপনাটির খাবার পানির পুকুর, চারপাশের সরকারি খাল, গাছপালা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও মহিলা মাদ্রাসা নদীভাঙন এবং লবণাক্ত পানির ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির অন্যতম উৎসটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

২০০৩ সালে চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের সময় গাবুরা এলাকার খাবার পানির সংকট নিরসন ও সবুজ বনায়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইকোপার্কের আদলে ‘দৃষ্টিনন্দন’ প্রকল্পের আওতায় স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়। সময়ের ব্যবধানে এটি দক্ষিণ উপকূলের একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও স্থাপনাটিতে উল্লেখযোগ্য সংস্কারকাজ হয়নি।

গাবুরার বিভিন্ন এলাকায় মেগা প্রকল্পের আওতায় উন্নত সড়ক নির্মিত হলেও খোলপেটুয়া নদীর চরে অবস্থিত এ স্থাপনাটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চারপাশের মাটির বাঁধ ক্ষয়ে যাওয়ায় নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। জোয়ারের লবণাক্ত পানি স্থাপনার ভেতরে প্রবেশের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে খাবার পানির পুকুরের পাড় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পুকুরটি প্লাবিত হয়। এতে পুকুরের পানি দূষিত হয়ে পান করার অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় সমগ্র গাবুরা প্লাবিত হলে এলাকার অধিকাংশ খাবার পানির পুকুর নষ্ট হয়ে যায়। সে সময় দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার পুকুরটি এলাকার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন বহু পরিবার এ পুকুরের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও লবণাক্ত পানি প্রবেশের ঝুঁকিতে সেই পানির উৎসও সংকটের মুখে পড়েছে।

উপকূলীয় জনপদ গাবুরায় সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখানকার মানুষের নিরাপদ পানির ব্যবস্থা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটির পুকুর ও আশপাশের অবকাঠামো রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এটি নষ্ট হয়ে গেলে কয়েক হাজার মানুষ নিরাপদ খাবার পানি সংগ্রহে আরও দুর্ভোগের মুখে পড়তে পারেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থাপনাটির চারপাশের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও পুকুরের পাড় সংস্কার, লবণাক্ত পানি প্রবেশ রোধ, সরকারি খাল পুনঃখনন এবং গাছপালা ও অন্যান্য অবকাঠামো সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থাপনাটিকে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে শুধু একটি দৃষ্টিনন্দন সরকারি স্থাপনাই নয়, উপকূলের কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎসও হারিয়ে যেতে পারে। তাই নদীভাঙন ও লবণাক্ততার ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।