ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে হামলা, এসপির হস্তক্ষেপ কামনা
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বয়ারবাতান গ্রামে এক প্রবাসীর ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহর রাত একটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আক্তারুল ইসলাম ঢাকায় পুরাতন গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ব্যবসা করেন। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি কাটাতে তিনি সম্প্রতি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।
আক্তারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির দেওয়াল ও গেট লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় তিনি ছাদ থেকে ঘটনার ভিডিও ও ছবি ধারণের চেষ্টা করেন। তিনি জানান, হামলাকারীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে হত্যা করা এবং গ্যারেজে থাকা তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িটি ভাঙচুর করা। কিছুদিন আগে তাঁর একটি মৎস্যঘেরও অভিযুক্তরা দখল করে নেয় বলে তিনি দাবি করেন।
আক্তারুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তবে এই ঘটনার পর থেকে তিনি ও তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মাসহ পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই বিষয়ে অতীতেও একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ী আক্তারুল ইসলাম এ ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) জরুরি হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান অভিযুক্ত শাহারুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে তাঁর সহযোগী জিয়ারুল ইসলাম হামলার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেন, জমিটি তাঁদের এবং আক্তারুল তা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। জমি নিজেদের দখলে নিতেই তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন।
ব্রহ্মরাজপুর ভূমি অফিসের নায়েব মোস্তফা মনিরুজ্জামান জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালতের নির্দেশে সাড়ে ১০ শতক জমির বিষয়ে একটি সরেজমিন তদন্তে গিয়েছিলেন তিনি। তবে সেখানে কেবল এক পক্ষ উপস্থিত ছিল। গভীর রাতে দলবল নিয়ে কারও বাড়িতে প্রবেশ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।









