শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক রিটেইনার দিবস: সুন্দর হাসির স্থায়ী অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক রিটেইনার দিবস: সুন্দর হাসির স্থায়ী অঙ্গীকার

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর ১৯ জুলাই পালিত হয় আন্তর্জাতিক রিটেইনার দিবস (International Retainer Day)। দাঁত সোজা করার দীর্ঘ ও শ্রমসাধ্য অর্থোডন্টিক চিকিৎসার পর সেই অর্জিত সুন্দর হাসি ও দাঁতের সুবিন্যস্ত অবস্থান ধরে রাখতে রিটেইনারের গুরুত্ব অপরিসীম। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি কেবল নান্দনিকতার বিষয় নয়, বরং মৌখিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক সুস্থতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আমাদের মুখগহ্বর হলো শরীরের প্রবেশদ্বার। মানুষের ৩২টি স্থায়ী দাঁত-ইনসিসর, ক্যানাইন, প্রিমোলার ও মোলার-প্রতিটিই নিজস্ব গঠন ও কাজের মাধ্যমে আমাদের খাদ্য গ্রহণ, স্পষ্ট উচ্চারণ এবং সুন্দর হাসির ভিত্তি তৈরি করে। দাঁতের সঠিক বিন্যাস কেবল আত্মবিশ্বাসই বাড়ায় না, বরং এটি খাবার চিবানোর কার্যকারিতা বাড়িয়ে হজম প্রক্রিয়াকেও সহায়তা করে। যখন কোনো ব্যক্তি ব্রেস বা অ্যালাইনারের মাধ্যমে আঁকাবাঁকা দাঁত সোজা করেন, তখন মূলত তিনি নিজের মুখের গঠন ও স্বাস্থ্যের পুনর্বিন্যাস করেন।

অর্থোডন্টিক চিকিৎসার পর দাঁত যখন নতুন অবস্থানে আসে, তখন তার চারপাশের হাড় ও লিগামেন্টগুলোকে সেই অবস্থানের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সময়ের প্রয়োজন হয়। রিটেইনার ছাড়া দাঁত পুনরায় তার আগের এলোমেলো অবস্থানে ফিরে যেতে চায়, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘রিল্যাপস’ নামে পরিচিত। এই রিল্যাপস রোধে রিটেইনারের ভূমিকা অপরিসীম—তা রিমুভেবল হোক বা স্থায়ী। দাঁতকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে স্থায়ীভাবে স্থিতিশীল রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত এর ব্যবহার অপরিহার্য।

সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী হাসি ধরে রাখতে রিটেইনারের সঠিক যতœ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত রিটেইনার ব্যবহার করুন। খাবার বা পানীয় গ্রহণের সময় (পানি ছাড়া) এটি খুলে রাখা উচিত। প্রতিদিন নরম ব্রাশ ও ঠান্ডা পানি দিয়ে এটি পরিষ্কার করতে হবে, তবে গরম পানি পরিহার করতে হবে যেন রিটেইনারের গঠন বিকৃত না হয়। রিটেইনার ব্যবহারের বাইরে এটি বক্সে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

আন্তর্জাতিক রিটেইনার দিবস দাঁতের চিকিৎসার ফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে। বাংলাদেশে ব্রেসেস, রুট ক্যানেল ও ইমপ্লান্টের মতো আধুনিক দন্তচিকিৎসা জনপ্রিয় হলেও অনেক মানুষ এখনও নিয়মিত চেক-আপের বদলে ব্যথা হলে চিকিৎসকের কাছে যান। দাঁত সোজা করার পর রিটেইনারের নিয়মিত ব্যবহার এবং দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। পাশাপাশি পান-সুপারি, জর্দা ও ধূমপান বর্জন করলে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ দাঁত ও সুন্দর হাসি বজায় রাখা সম্ভব। তাই দিবসটি চিকিৎসার পাশাপাশি দন্তস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

১৯ জুলাই আন্তর্জাতিক রিটেইনার দিবস; অর্থোডন্টিক চিকিৎসার সাফল্য কেবল চিকিৎসকের দক্ষতায় নয়, বরং আপনার নিয়মিত সচেতনতা ও যতেœর ওপরই নির্ভর করে। নিজের হাসির বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখতে এবং ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন বজায় রাখতে রিটেইনার ব্যবহারের আগ্রহী হউন-কেননা “আজকের সচেতনতা ও নিয়মিত যতœই আগামী দিনের সুন্দর ও সুস্থ হাসির ভিত্তি গড়ে তোলে।”

 

Ads small one

কলারোয়ায় শিশুকে কুপিয়ে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে হত্যাচেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় শিশুকে কুপিয়ে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে হত্যাচেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার

মো. সিরাজুল ইসলাম: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ১২ বছরের এক শিশুকে মাছ ধরার কথা বলে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে জখম করার পর সেপটিক ট্যাংকে ফেলে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের সিংগা গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত ওই শিশুর নাম মো. অরিদ হাসান। সে সিংগা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র এবং সিংগা গ্রামের খায়রুল জামানের ছেলে। বর্তমানে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আবু হুরায়রা ওরফে রাসেল বাবু (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাসেল বাবু একই গ্রামের রকিবুজ্জামান লাল্টুর ছেলে। পুলিশ তাঁর বাড়ি থেকে রক্তমাখা লুঙ্গি ও গেঞ্জি আলামত হিসেবে উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাসেল বাবু মাছ ধরার কথা বলে অরিদকে বাড়ি থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায়। বিকেল গড়িয়ে রাত হলেও অরিদ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অরিদের চাচা মুনছুর আলী জানান, দুপুর দেড়টার দিকে তিনি অরিদকে গ্রামের ইজাজুল ডাক্তারের নির্মাণাধীন ভবনের পাশে দেখেছিলেন।
এই তথ্যের সূত্র ধরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অরিদের বাবা ও চাচাসহ স্বজনেরা ওই নির্মাণাধীন ভবনের পেছনে যান। সেখানে থাকা একটি অব্যবহৃত সেপটিক ট্যাংকের সামনে গিয়ে অরিদের নাম ধরে ডাকতে থাকলে ভেতর থেকে ক্ষীণ স্বরে অরিদের সাড়া পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ট্যাংকের ঢাকনা সরিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় অরিদকে উদ্ধার করা হয়।
স্বজনেরা প্রথমে অরিদকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অরিদ কিছুটা সুস্থ হয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাসেল বাবু তাকে ওই নির্মাণাধীন ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং প্লেসে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা, কান ও ঘাড়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে অরিদ মারা গেছে ভেবে অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করতে তাকে ভবনের পেছনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর ফেলে ঢাকনা বন্ধ করে পালিয়ে যায় রাসেল বাবু।
এই ঘটনায় অরিদের বাবা মো. খায়রুল জামান বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
কলারোয়া থানা-পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর শনিবার (১৮ জুলাই) আসামি রাসেল বাবুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আশাশুনিতে পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে পুলিশি অভিযানে মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত এক আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁর নাম মহব্বত ঢালী (৫৪)। তিনি বড়দল গ্রামের মৃত আমজেদ ঢালীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আশাশুনি থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া মহব্বত ঢালীর বিরুদ্ধে ১৫০/২৫ নম্বর মামলার পরোয়ানা ছিল। শনিবার দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কয়রায় বিদ্যালয় ভবন ধস: পাঠদান নিয়ে অনিশ্চয়তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
কয়রায় বিদ্যালয় ভবন ধস: পাঠদান নিয়ে অনিশ্চয়তা

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রা ও মহারাজপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখার একটি পুরোনো ভবন ধসে পড়েছে। শুক্রবার বিকেলে ভবনটির দ্বিতীয় তলার ছাদসহ সামনের অংশ ধসে পড়ে। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেলেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার জানান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০০০ সালে দুইতলা একাডেমিক ভবনটি নির্মিত হয়েছিল। আইলা, ইয়াস ও রিমালের মতো ঘূর্ণিঝড়ের লবণাক্ত পানির কারণে ভবনটির কাঠামো আগেই দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে সেখানে ক্লাস নিতে হচ্ছিল। মাধ্যমিক শাখায় বর্তমানে ২৩০ জন শিক্ষার্থী ও ১৯ জন শিক্ষক রয়েছেন।
খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ধনঞ্জয় মিস্ত্রী জানান, প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে চারতলা ভিত্তির ওপর নতুন একতলা ভবন এবং পাঠদান সচল রাখতে অস্থায়ী দুটি টিনশেড ভবন নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই নির্মাণকাজ শুরু হবে।