রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেকটাই হুটহাট সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং উপদেষ্টাদের পরামর্শ এড়িয়ে চলছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে তিনি যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে ট্রাম্প মূলত ইরানের কতগুলো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হয়েছে, সেসব কৌশলগত হিসাব নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ইরানের অভ্যন্তরে বড় কোনও বিস্ফোরণের ফুটেজ দেখতে তিনি পছন্দ করতেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইরানের আকাশসীমায় দুটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর জানার পর ট্রাম্প কয়েক ঘণ্টা ধরে তার সহযোগীদের ওপর চিৎকার করেছেন। একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টকে সিচুয়েশন রুম থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। কারণ তার অস্থিরতা পরিস্থিতির উন্নয়নে কোনও কাজে আসবে না বলে মনে করতেন তারা।

দ্বিতীয় বিমানচালক উদ্ধার হওয়ার পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে ধারাবাহিক হুমকি দিতে শুরু করেন। ইস্টার সানডের সকালে অশ্রাব্য ভাষায় তিনি হুমকি দিয়েছিলেন। ওই পোস্টের শেষে তিনি লিখেছিলেন, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইস্টার ডে-র দিনে প্রেসিডেন্টের মুখে অশ্লীল ভাষা এবং মুসলিম শব্দবন্ধ ব্যবহারের কারণে রিপাবলিকান সিনেটর ও খ্রিস্টান নেতারা হোয়াইট হাউসে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তবে ট্রাম্প এক উপদেষ্টাকে বলেছিলেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে তিনি নিজেই এই ‘আল্লাহ’ লাইনটি লিখেছিলেন, যাতে তাকে অস্থির ও অনিশ্চিত মনে হয়। কয়েক দিন পর ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’ বলে তিনি যে হুমকি দিয়েছিলেন, সেটিও উপদেষ্টাদের সঙ্গে কোনও সমন্বয় ছাড়াই হুট করে দেওয়া হয়েছিল। ইরানকে ভয় পাইয়ে দিয়ে চুক্তিতে রাজি করানোর জন্যই এটি করা হয়েছিল বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান।

ট্রাম্পের চুক্তি করার আগ্রহের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হলো হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা অবাক হয়েছিলেন যে, ইরান কত দ্রুত ও সহজে এই জলপথটি বন্ধ করে দিতে পেরেছে। ট্রাম্প নিজেও অবাক হয়ে বলেছেন, ‘ড্রোন হাতে একজন মানুষ কত সহজে হরমুজ বন্ধ করে দিতে পারে!’। জ্বালানি কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীরা জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা ট্রাম্পকে মাঝেমধ্যে চাপে রাখলেও, কখনও কখনও তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহও দেখিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘন ঘন ফোন সাক্ষাৎকার তার প্রেস টিমের সঙ্গে সমন্বয় করা ছিল না। প্রেস টিম তাকে মিডিয়াতে কথা কমানোর পরামর্শ দিলেও তিনি তা শোনেননি। তার উপদেষ্টারা তাকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, ‘তিনি কী বলবেন? তিনি তো জয় ঘোষণা করতে পারছিলেন না। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিজেও জানতেন না।’ শেষ পর্যন্ত ১ এপ্রিল তিনি ভাষণ দিলেও যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে বা জনসমর্থন বাড়াতে খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি।

ইরানকে আলোচনায় আসার সময়সীমা দেওয়ার পরও ট্রাম্পের মনোযোগ ছিল ইন্ডিয়ানার নির্বাচন, মধ্যবর্তী নির্বাচন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকে। দূত স্টিভ উইটকফসহ শীর্ষ উপদেষ্টাদের তিনি কেবল ইরানকে চুক্তিতে রাজি করানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া হোয়াইট হাউসের বলরুম সংস্কার এবং আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের মতো বিষয়গুলোতে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

Ads small one

বাল্যবিবাহমুক্ত কালীগঞ্জে স্কুলছাত্রীর বিয়ে, মুচলেকা ও নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
বাল্যবিবাহমুক্ত কালীগঞ্জে স্কুলছাত্রীর বিয়ে, মুচলেকা ও নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের খাঁরহাট গ্রামে ১৫ বছর বয়সী ওই ছাত্রীর বিয়ে হয়। এ ঘটনায় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ২৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

ছাত্রীটি বড়শিমলা কারবালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী, তার জন্মতারিখ ১৭ নভেম্বর ২০১০। সে হিসাবে বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ১৫ বছর ১১ মাস। তার বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী মারকা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ২৭ বছর বয়সী ছেলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা জানান, ২০১৫ সালে কালীগঞ্জকে বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তদন্ত ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নজরদারি জোরদারের দাবি জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তারের নির্দেশে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আর্ণা চক্রবর্তী ছাত্রীর পরিবারকে ডেকে বাল্যবিবাহবিরোধী আইন সম্পর্কে অবহিত করেন। পরে ছাত্রীর বাবা শেখ ইমান আলী মুচলেকা দেন। একই সঙ্গে বিয়ের উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

সাতক্ষীরা সদরে তিন শিশুবিবাহে নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সদরে তিন শিশুবিবাহে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় তিনটি শিশুবিবাহের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত। সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা শিশুবিবাহের বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটানোর মুচলেকা দিয়েছেন।

ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিংড়ী ইউনিয়নের বালিথা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর বিয়ে। কয়েক দিন আগে ওই বিয়ে সম্পন্ন হয়। বরের বয়স ১৭ বছর। অন্যদিকে, ধুলিহর ইউনিয়নের নাথপাড়ায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার। ওই কিশোরী ধুলিহর ব্রহ্মরাজপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

শিশুবিবাহ প্রতিরোধকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনেন। পরে নারী বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রকল্প কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা ও কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সচেতন করেন।

রোববার সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের প্রশাসনের কার্যালয়ে হাজির করা হলে তাঁরা ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে শিশুবিবাহ না দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। পরে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অর্ণব দত্ত তিনটি শিশুবিবাহের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে অপপ্রচার, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা ও কুল্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল হাসান বাবলু।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে আশাশুনি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটির বুধহাটা শাখায় তিনি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে তাঁর নিজের নামে ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় আড়াই কোটি টাকা জমা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাবলু অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান এম তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২২ সালে হাইকোর্টে মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান। মামলা নিষ্পত্তি হলে গ্রাহকেরা তাঁদের পাওনা ফেরত পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বাবলু। এ ঘটনায় কিছু গ্রাহককে ভুল বুঝিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।