বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

কলমের দায়, সমাজের আয়না ও সাংবাদিকতার সংস্কার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
কলমের দায়, সমাজের আয়না ও সাংবাদিকতার সংস্কার

শেখ সিদ্দিকুর রহমান

সভ্য সমাজে সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের বিবেকের প্রতিচ্ছবি। একটি দেশের প্রশাসন, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি কিংবা সামাজিক বাস্তবতার প্রকৃত চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন সংবাদকর্মীরা। তাই সাংবাদিকদের বলা হয় সমাজের দর্পণ, রাষ্ট্রের অনানুষ্ঠানিক প্রহরী এবং গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। একজন প্রকৃত সাংবাদিক নিজের স্বার্থের চেয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে বড় করে দেখেন।

 

কোথাও দুর্নীতি, অন্যায়, অবহেলা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার হলে একজন সংবাদকর্মী তার কলম ও ক্যামেরা দিয়ে সেই চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেন। আবার কোনো অসহায় মানুষের কান্না, কৃষকের কষ্ট, শ্রমিকের অধিকার, শিক্ষার সংকট কিংবা জনদুর্ভোগের চিত্রও সাংবাদিকতার মাধ্যমেই রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে যায়। “নিউজ” শব্দটি নিয়ে একটি জনপ্রিয় ব্যাখ্যা রয়েছে যে এটি উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম—এই চার দিকের আদ্যক্ষর নিয়ে গঠিত। অর্থাৎ চারদিকের ঘটনা মানুষের সামনে তুলে ধরাই সংবাদ। সংবাদ মানে শুধু তথ্য নয়; সংবাদ মানে সত্য, দায়িত্ব ও জনস্বার্থ। একসময় সাংবাদিকতা ছিল সমাজসেবামূলক ও আদর্শভিত্তিক একটি মহান পেশা। তখন সংবাদকর্মীরা আর্থিক লাভের চেয়ে সত্য প্রকাশকে বড় করে দেখতেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি ঢুকে পড়েছে কিছু অপসংস্কৃতিও।

 

বর্তমানে দেশে “হলুদ সাংবাদিকতা” ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছে। টাকার বিনিময়ে অনেকে বিভিন্ন নামধারী অনলাইন পোর্টাল বা অখ্যাত প্রতিষ্ঠানের কার্ড সংগ্রহ করে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন, যাদের অনেকেরই সংবাদ লেখার ন্যূনতম দক্ষতা কিংবা পেশাগত নৈতিকতা নেই। কেউ কেউ সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছেন, যা প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য বিব্রতকর এবং গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

পূর্বের ধারণা ছিল যে লিখতে পড়তে জানলেই সাংবাদিক হওয়া যায়, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এটি একটি গভীর দক্ষতা ও জবাবদিহিতার পেশা। একজন সংবাদকর্মীর মধ্যে সত্যনিষ্ঠা, ভাষাজ্ঞান, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও আইনি জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাই সাংবাদিকতা পেশার জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা এখন সময়ের দাবি। ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র প্রদান বন্ধ করা এবং জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমে কাজের ক্ষেত্রে স্নাতক ডিগ্রিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

 

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে যাতে প্রকৃত সংবাদকর্মী ও অপসাংবাদিকদের পার্থক্য করা সহজ হয়। একটি জাতীয় সাংবাদিক নিবন্ধন বোর্ড গঠন করা এখন সময়ের প্রয়োজন। একজন সাংবাদিককে কেবল মানবসৃষ্ট প্রতিকূলতা নয়, বরং ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে কাজ করতে হয়।

 

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা কিংবা মহামারীর মতো সংকটে যখন সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটে, তখন সংবাদকর্মীরা জীবন বাজি রেখে দুর্যোগকবলিত এলাকায় ছুটে যান। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ কিংবা উপকূলের বিধ্বংসী বাতাসের মধ্যেও তারা সংবাদ সংগ্রহ করেন যাতে মানুষ আগাম সতর্কবার্তা পায় এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস পায়। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সংবাদ প্রচার করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক শারীরিক জখম ও সম্পদ হারানোসহ নানা বিপদের সম্মুখীন হন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকিও কম নয়। দুর্নীতি, মাদক বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে বহু সাংবাদিক হামলা ও মামলার শিকার হচ্ছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১,০৭৩ জন সংবাদকর্মী বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু এক বছরেই প্রায় ৫০০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা ঘটেছে।

 

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সাংবাদিকতা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হওয়া সত্ত্বেও প্রকৃত সংবাদকর্মীদের জন্য কার্যকর নিরাপত্তা কাঠামো বা ঝুঁকি ভাতার কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। একজন সাংবাদিক যখন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন, তিনি পুরো সমাজের পক্ষ হয়েই সেই ঝুঁকি গ্রহণ করেন। তাই রাষ্ট্রের উচিত প্রকৃত ও নিবন্ধিত সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকি ভাতা, জীবনবীমা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা। সাংবাদিকতা কোনো ভয় প্রদর্শনের অস্ত্র নয়, এটি মানুষের অধিকার রক্ষার মাধ্যম।

 

কলমের পবিত্রতা রক্ষায় কঠোর নীতিমালা এবং পেশাগত শুদ্ধি অভিযান এখন অপরিহার্য। কারণ একটি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই পারে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে। প্রকৃত সংবাদকর্মীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, তবেই কলমের শক্তি সমাজকে সত্য ও ন্যায়ের আলোয় আলোকিত করতে পারবে।

তথ্যসূত্র:
১. ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রতিবেদন।
২. আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন ২০২৫।
৩. মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএসএস মাসিক প্রতিবেদন।
৪. দ্য ডেইলি স্টার অনলাইন ও প্রিন্ট আর্কাইভ।
৫. বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও গণমাধ্যম গবেষণা রিপোর্ট।

Ads small one

প্রকৃতির লেখক তারিক ইসলামের জন্মদিনে শুভেচ্ছা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
প্রকৃতির লেখক তারিক ইসলামের জন্মদিনে শুভেচ্ছা

“মানুষ, বৃক্ষের মতো আনত হও, হও সবুজ”Ñ প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম মমতায় এই স্লোগানটি যিনি হৃদয়ে ধারণ করেন এবং ছড়িয়ে দেন সাতক্ষীরার প্রান্তিক জনপদে, তিনি তারিক ইসলাম। আজ ৭ মে, সাতক্ষীরার এই তরুণ লেখক, গবেষক ও প্রকৃতিপ্রেমীর জন্মদিন।
২০০১ সালের এই দিনে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার আজিজপুর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা মো. জামসেদ আলী ও মাতা মমতাজ বেগমের সন্তান তারিক শৈশব থেকেই জগত ও জীবনকে এক অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে দেখতে অভ্যস্ত। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গ-ি ছাপিয়ে তাঁর ধ্যান-জ্ঞান জুড়ে রয়েছে সাহিত্য আর প্রকৃতি।
সাহিত্যের বন্ধুর পথে কবিতার হাত ধরে তারিকের পথচলা শুরু হলেও সময়ের আবর্তে তাতে যুক্ত হয়েছে অনুগল্প, নিবন্ধ ও জীবনবোধের নানা রচনা। তাঁর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্ম ও সাহিত্য। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক বিকাশ ও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ভাবনা অত্যন্ত গভীর।
“তারিক ইসলামের বিশ্বাসÑ বই পড়া এবং বাগান করা, এই দুটি অভ্যাসই মানুষকে প্রকৃত অর্থে সুন্দর ও বুদ্ধিমান করে তোলে।”
তারিক ইসলাম কেবল একজন লেখক বা কবিই নন, তিনি প্রকৃতির একনিষ্ঠ সেবক। সাতক্ষীরার স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও দুর্লভ ভেষজ উদ্ভিদ সংরক্ষণে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি’। যখন তিনি লেখার টেবিলে থাকেন না, তখন তাঁকে দেখা যায় নতুন গাছের চারা রোপণ করতে কিংবা কোনো বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের সন্ধানে প্রকৃতির অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতে।
তারিকের স্বপ্নের পৃথিবীটা একটু ভিন্ন। তিনি এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন যেখানে প্রতিটি শিশু হবে আত্মবিশ্বাসী, সবুজ মনের অধিকারী এবং দেশপ্রেমিক।
আজকের এই বিশেষ দিনে তাঁর গুণমুগ্ধ পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় সিক্ত করছেন। শুভ জন্মদিন, তারিক ইসলাম! প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: সুন্দরবনে দস্যুতা এবং আমাদের নিরাপত্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: সুন্দরবনে দস্যুতা এবং আমাদের নিরাপত্তা

দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর সুন্দরবন আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে জলদস্যু ‘আলিম’ ও ‘নানাভাই’ বাহিনীর হাতে অন্তত ২২ জন জেলের অপহরণ এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনা উপকূলীয় জনপদে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একই সময়ে দাকোপের ইকো রিসোর্টে পর্যটকদের ওপর হামলা এবং সরকারি এক কর্মীকে অপহরণের ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সুন্দরবনের গহিন অরণ্য ও পার্শ্ববর্তী লোকালয়ে দস্যুরা আবারও শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করছে।
২০১৮ সালে সুন্দরবনকে ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ছিল সরকারের এক অনন্য সাফল্য। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, সেই অর্জন এখন হুমকির মুখে। উদ্বেগের বিষয় হলো, লোকালয় থেকে মাত্র ১০-১২ মিনিটের দূরত্বে থাকা নদী বা খাল থেকেও জেলেদের অনায়াসে তুলে নিয়ে যাচ্ছে দস্যুরা। এটি বন ও লোকালয় সংলগ্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও সক্রিয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। ফিরে আসা জেলেদের ভাষ্যমতে, বন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ’ নিচ্ছে দস্যুরা। যখন বনজীবীরা বৈধ পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে বনে গিয়েও জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তখন তা কেবল তাদের জীবিকাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং দেশের সুনীল অর্থনীতির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অত্যন্ত আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, মুক্তিপণের দাবিতে প্রজনন কর্মীকে অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে আটককৃতদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যারা ২০১৭ সালে ‘আত্মসমর্পণকারী’ জলদস্যু। এটি একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। এর অর্থ হলো, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় হয়তো কোনো ফাঁক রয়ে গেছে অথবা তাদের কর্মকা-ের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি পর্যাপ্ত ছিল না। যদি আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা আবারও পুরনো পথে ফিরে আসে, তবে তা সাধারণ বনজীবীদের জন্য আরও ভয়াবহ বার্তা বহন করে।
তবে অন্ধকারের মধ্যেও আশার আলো দেখিয়েছে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ। দাকোপে পর্যটকদের ওপর হামলায় জড়িতদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার এবং পুলিশের তৎপরতায় প্রজনন কর্মীর উদ্ধার দস্যুদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা। কিন্তু কেবল বিচ্ছিন্ন উদ্ধার অভিযানই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান।
সুন্দরবনকে পুনরায় দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ করতে হলে সমন্বিত টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে কদমতলা, কৈখালী ও হরিনগর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও বন বিভাগের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সাথে, সুন্দরবনের ভেতরে থাকা ছোট ছোট খালগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে যাতে দস্যুরা কোনো স্থায়ী আস্তানা গড়তে না পারে।
উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকা সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। তাদের এই নির্ভীক চলাচল নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা আশা করি, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমান পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং দস্যুদের শিকড় উৎপাটনে পুনরায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে সুন্দরবনের শান্তি ফিরিয়ে আনবে।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: তিন ইভেন্টে জেলা চ্যাম্পিয়ন শ্যামনগরের মেয়েরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: তিন ইভেন্টে জেলা চ্যাম্পিয়ন শ্যামনগরের মেয়েরা

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস টুর্নামেন্টে’ দাপট দেখিয়েছে শ্যামনগর উপজেলার মেয়েরা। ফুটবল, ব্যাডমিন্টন ও তায়কোয়ান্দোÑতিনটি ইভেন্টেই জেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা। মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনালে কালিগঞ্জ উপজেলা দলকে ২-০ গোলে পরাজিত করে শ্যামনগর বালিকা ফুটবল দল। দলের হয়ে জয়সূচক গোল দুটি করেন অধিনায়ক উজ্জ্বলনী জোয়ারদ্দার। পুরো ম্যাচে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি। তায়কোয়ান্দো ইভেন্টে জি এম রাজগুল আহমেদ রাজুর নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে শ্যামনগর দল। একই সঙ্গে এই উপজেলার কারাতে দলটি রানার্সআপ হওয়ার সাফল্য পেয়েছে।
অন্যদিকে, ব্যাডমিন্টন কোর্টেও শ্যামনগরের জয়জয়কার দেখা গেছে। বালিকাদের একক ও দ্বৈত—উভয় বিভাগেই তারা জেলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিপুল এই বিজয়ে চ্যাম্পিয়ন দল ও খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়েছেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক। এছাড়া জেলার বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তরুণ এই ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আয়োজকেরা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে এবং শ্যামনগরের এই সাফল্য অন্য উপজেলাগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।