জনগণের টাকায় উন্নয়ন, কৃতিত্বের মালা কার গলায়?
মুক্তমত
গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
সাতক্ষীরায় বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব প্রকল্পের অর্থায়ন হচ্ছে জনগণের করের টাকায় এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন বাজেট থেকে। কিন্তু বাস্তবে এসব কার্যক্রমের উপস্থাপন ও তদারকি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি উন্নয়ন কর্মকা-ের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে। এমনকি কোথাও কোথাও ভবিষ্যৎ পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থী বা দলীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রচার-প্রচারণা চালানোর অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে এটি কি রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রম, নাকি রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার একটি কৌশল?
সরকারি প্রকল্পের অর্থ জনগণের। সেই অর্থে বাস্তবায়িত কোনো কাজকে যদি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে জনগণের কাছে এটি কোনো রাজনৈতিক দলের বিশেষ অবদান বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ভূমিকা ও স্বায়ত্তশাসনের স্বীকৃতি দেয়। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু যদি সরকারি উন্নয়নের কৃতিত্ব ধীরে ধীরে দলীয় পরিচয়ের আড়ালে চলে যায়, তাহলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মর্যাদা ও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে জনগণের ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নের প্রশ্নটি আড়ালে পড়ে যেতে পারে। উন্নয়ন তখন নাগরিক সেবার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রচারণার উপকরণে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
আমি কাউকে অভিযুক্ত করছি না; তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন তুলছি জনগণের টাকায় পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকৃত মালিকানা কি জনগণের কাছেই থাকবে, নাকি তা রাজনৈতিক কৃতিত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতায় ব্যবহৃত হবে?
সাতক্ষীরার মানুষ উন্নয়ন চায়, কিন্তু সেই উন্নয়নের সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাও দেখতে চায়। কারণ জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিটি প্রকল্পের জবাবদিহিতা শেষ পর্যন্ত জনগণের কাছেই।












