বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

জাতীয় স্কুল ক্রিকেট: সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ১১০ রানে জয়ী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
জাতীয় স্কুল ক্রিকেট: সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ১১০ রানে জয়ী

রবিবার (১২ এপ্রিল) সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজনে ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় এবং প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৫-২৬ এর উদ্বোধনী খেলা সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় বনাম সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এর মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।

 

খেলায় সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ২৮.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান করে। দলের ফাহিম ৬০ ও আবিষ্কার ২৮ রান কওে, টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এর আহাদ ৪টি উইকেট লাভ করে।

 

জবাবে সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ ব্যাট করতে নেমে ২৭.৯ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৭০ রান করে। ফলে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ১১০ রানে জয়লাভ করে। খেলায় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন ওয়াহিদুজ্জামান শামীম ও ফিরোজ রহমান এবং স্কোরার এর দায়িত্ব পালন করেন জিএম সাইফুল ইসলাম বাপ্পি।

আগামী কাল ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বনাম সাতক্ষীরা কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২য় খেলা অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

Ads small one

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস: হারানো খেলার পুনর্জাগরণ ও ক্রীড়া সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ

সাকিবুর রহমান বাবলা

সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে খেলাধুলা মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। খেলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির পরিচয়, সংস্কৃতির ধারক, সামাজিক সংহতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রীতির প্রতীক। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। তাদের এই অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই প্রতি বছর ২ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস’।

এই দিবসের পেছনে রয়েছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। ১৯২৪ সালের জুলাই মাসে ফ্রান্সের প্যারিসে অলিম্পিক গেমস চলাকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত হয় ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’। সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষা, সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এই সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর ২ জুলাই এই দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে।

বর্তমানে এআইপিএস বিশ্বের অন্যতম বড় পেশাজীবী সাংবাদিক সংগঠন। এতে ১৬০টিরও বেশি দেশের প্রায় ৯,৫০০-এর অধিক ক্রীড়া সাংবাদিক যুক্ত আছেন। পাঁচটি মহাদেশীয় অঞ্চলের মাধ্যমে পরিচালিত এই সংস্থার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের ‘অলিম্পিক রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত লুসান শহরে অবস্থিত।

বাংলাদেশেও ১৯৯৫ সাল থেকে দিবসটি বিশেষ গুরুত্বের সাথে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি এই আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য হিসেবে প্রতি বছর নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করে। এদিন বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা বিশ্বের সাংবাদিকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং পেশাগত দায়বদ্ধতা ও ক্রীড়া সংস্কৃতির বিকাশে নিজেদের নতুন করে শপথ নেন।

ক্রীড়াঙ্গনের দিকে তাকালে দেখা যায়, যুগে যুগে হাজার হাজার খেলার জন্ম হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে কয়েক হাজার খেলার প্রচলন রয়েছে। অলিম্পিক আন্দোলনের আওতায় ৩০টিরও বেশি প্রধান ক্রীড়া শাখা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ফেডারেশনভুক্ত খেলার সংখ্যাও শতাধিক। কিন্তু এর বাইরেও রয়ে গেছে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী অসংখ্য লোকজ ও আঞ্চলিক খেলা। কালের বিবর্তনে এসব খেলার অনেকগুলোই আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।

এই সংকটময় মুহূর্তে ক্রীড়া সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা কেবল ম্যাচের স্কোর বা পদক জয়ের খবর পরিবেশন করেন না, বরং তারা ইতিহাসের ধারক এবং ঐতিহ্য সংরক্ষক। হারিয়ে যেতে থাকা কোনো খেলা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসবের ওপর প্রামাণ্যচিত্র বা ঐতিহ্যবাহী খেলার সামাজিক গুরুত্ব নিয়ে ধারাবাহিক লেখনী জনমত গঠন ও নীতিনির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

আধুনিক ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পডকাস্ট এবং অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে এখন খুব সহজেই স্থানীয় কোনো খেলাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তাই আজকের ক্রীড়া সাংবাদিক কেবল সংবাদকর্মী নন; তিনি একাধারে গবেষক, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দূত, তিনি হতে পারেন ক্রীড়াসামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর।

পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও ক্রীড়া সাংবাদিকদের একটি বড় দায়িত্ব। ম্যাচ ফিক্সিং, ডোপিং, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে সাহসী লেখনী ক্রীড়াঙ্গনকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে তারা খেলাধুলার ইতিবাচক সেই শক্তিকে সামনে নিয়ে আসেন, যা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে।

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস কেবল পেশাজীবীদের একটি দিন নয়; এটি খেলাধুলার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে এক সুতায় গাঁথার একটি অঙ্গীকার। মাঠে খেলোয়াড়রা ইতিহাস সৃষ্টি করেন, আর সাংবাদিকরা সেই ইতিহাসকে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে দেন। তারা বিজয়ের আনন্দ, পরাজয়ের বেদনা এবং সংগ্রামের গল্পগুলো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন।

আজ যখন অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে, তখন ক্রীড়া সাংবাদিকদের কলম ও ক্যামেরাই হতে পারে সেই খেলার পুনর্জাগরণের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। খেলাধুলার বৈচিত্র্য রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে ক্রীড়া সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই।

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবসে সকল ক্রীড়া সাংবাদিকের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। তাদের নিরলস পরিশ্রম এবং সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা কেবল ক্রীড়াজগতকেই সমৃদ্ধ করে না, বরং বিশ্বশান্তি ও সংস্কৃতির সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার সমাধান কি ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার সমাধান কি ?

এম. এম হায়দার আলী

বাংলাদেশের কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি ধান। কৃষকের ঘাম, শ্রম ও ত্যাগের ফসল এই ধান। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বাজারে ধানের দাম কমে গেলেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না চালের বাজারে। বরং চালের দাম কমার পরিবর্তে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এতে একদিকে কৃষক তার ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত মূল্য। লাভবান হচ্ছে কেবল মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি অংশ।

বর্তমান বাজারে এক মণ ২৮ জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১,১০০ থেকে ১,১৫০ টাকায় এবং এক মণ মোটা ধানের দাম ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকার মধ্যে। হিসাব করলে দেখা যায়, ধান সিদ্ধ, শুকানো, মিলিং ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়েও প্রতি কেজি চিকন চালের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৪১ টাকা এবং মোটা চালের ক্ষেত্রে প্রায় ৩৫ টাকার কাছাকাছি দাঁড়ায়। অথচ একই চাল পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে চিকন চালের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং মোটা চাল ৩৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

এই বিশাল মূল্য ব্যবধানের যৌক্তিক ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের কাছে নেই। প্রশ্ন উঠছে, ধানের দাম কমলে চালের দাম কেন কমে না ? বাজার ব্যবস্থাপনার কোথায় এই অসামঞ্জস্য ? উৎপাদন খরচের তুলনায় অতিরিক্ত মুনাফা কারা করছে ? বাস্তবতা হলো, কৃষক তার উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অপরদিকে ভোক্তারা বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে চাল কিনছেন। অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উৎপাদক ও ভোক্তা উভয় পক্ষই।

মাঝখানে লাভের বড় অংশ চলে যাচ্ছে কিছু মিল মালিক, মজুতদার ও অসাধু ব্যবসায়ীর হাতে। বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাব, অস্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার প্রবণতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। শুধু কি চাল ? প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হাজারো মানুষ ছুটে যান কাঁচা বাজারে। উদ্দেশ্য একটাই,পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী কেনা। কিন্তু বাজারে ঢুকেই যেন তাদের মুখে নেমে আসে হতাশার ছাপ। গত সপ্তাহে যে দামে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ কিংবা সবজি কেনা গেছে, এক সপ্তাহ পরই সেই একই পণ্যের দাম আরও বেড়ে গেছে। যেন নিত্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দামের কোনো শেষ নেই।

 

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সীমিত আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে অনেক পরিবার এখন প্রয়োজনীয় খাবারের তালিকা ছোট করতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ মাছ-মাংস বাদ দিচ্ছেন, কেউ ডিম কেনাও কমিয়ে দিয়েছেন। অনেকের কাছে তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করাও এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। বাজারে প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না মানুষের আয়। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বৈষম্য।

 

তবে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। যেমন আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তন,এসব বাস্তব কারণের পাশাপাশি রয়েছে বাজারে অসাধু সিন্ডিকেট, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং দুর্বল বাজার তদারকি। এসব কারণে অনেক সময় প্রকৃত চাহিদার তুলনায় অযৌক্তিক ভাবে দাম বেড়ে যায়। কৃষকরাও এই পরিস্থিতিতে স্বস্তিতে নেই।

 

ধান, সবজি কিংবা অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে তাদের খরচ বাড়ছে। কিন্তু ফসল বিক্রির সময় তারা অনেক ক্ষেত্রেই ন্যায্য মূল্য পান না। অন্যদিকে সেই একই পণ্য একাধিক হাত ঘুরে শহরের বাজারে পৌঁছাতে পৌঁছাতে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। ফলে কৃষক যেমন বঞ্চিত হন, তেমনি ভোক্তাকেও অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন নিশ্চিত করা, মজুতদারি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করা ছাড়া এই সংকট থেকে সহজে উত্তরণ সম্ভব নয়। পাশাপাশি সরকারের খাদ্য মজুত শক্তিশালী করা, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ বৃদ্ধি, প্রয়োজন অনুযায়ী সময় মতো আমদানি এবং ন্যায্য মূল্যের বিক্রয় কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা জরুরি।

 

একই সঙ্গে দরিদ্র ও নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোও সময়ের দাবি। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী বাজার শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়; এটি একটি সামাজিক ও মানবিক সংকটও। যখন একজন বাবা সন্তানের পছন্দের খাবার কিনে দিতে পারেন না, একজন মা সংসারের ব্যয় মেটাতে নিজের প্রয়োজন বিসর্জন দেন, তখন মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকে না,তা ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটি পরিবারের জীবনে।

 

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা তখনই অর্থবহ হবে, যখন সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে বাজার করতে পারবেন, কৃষক তার উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং প্রতিটি পরিবার ন্যূনতম খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে। নিত্যপণ্যের বাজারকে স্থিতিশীল রাখা তাই শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; ব্যবসায়ী, উৎপাদক, বাজার তদারকি সংস্থা এবং সচেতন ভোক্তা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। কারণ, একটি দেশের উন্নয়নের প্রকৃত মানদ- নির্ধারিত হয় সাধারণ মানুষের ভাতের থালা কতটা নিরাপদ ও পরিপূর্ণ, তার ওপরই…।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

সাতক্ষীরার দিগন্তজোড়া ঘেরে রূপালী জয়গাঁথা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার দিগন্তজোড়া ঘেরে রূপালী জয়গাঁথা

দীপঙ্কর বিশ্বাস

জানালার বাইরে তাকালে যেখানেই চোখ যায়, শুধু জল আর জল। তবে এ কোনো বন্যার জল নয়, এ হলো সাতক্ষীরার মানুষের ভাগ্য বদলের ‘তরল সোনা’। দিগন্ত বিস্তৃত এই জলরাশি আসলে একেকটি মৎস্য ঘের। সাতক্ষীরা জেলা আজ শুধু বাংলাদেশের মানচিত্রেই নয়, বরং বিশ্ব দরবারে পরিচিতি পেয়েছে মৎস্য চাষের এক অনন্য রাজধানী হিসেবে। গলদা, বাগদা আর সাদা মাছের এই ত্রিমুখী বিপ্লব জেলার অর্থনীতিকে বদলে দিয়েছে আমূল।

একসময় যেসব জমিতে বছরে কেবল এক ফসল হতো, কিংবা নোনা জলের আগ্রাসনে যে জমিগুলো পড়ে থাকত, আজ সেখানে ঢেউ খেলছে রূপালী মাছের স্বপ্ন। স্থানীয় চাষিদের অক্লান্ত পরিশ্রম, মেধা আর আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সাতক্ষীরায় ঘটেছে এক নীরব মৎস্য বিপ্লব।

সাতক্ষীরার এই মৎস্য বিপ্লব কেবল মাছ উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি তৈরি করেছে এক বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ।

১. ঘের প্রস্তুত করা, পোনা ছাড়া, খাবার দেওয়া থেকে শুরু করে মাছ ধরা, বাজারজাতকরণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ সব মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এই খাতে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের জন্য এটি আয়ের বড় একটি উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২. এখানকার বাগদা ও গলদা চিংড়ি ‘হোয়াইট গোল্ড’ বা সাদা সোনা হিসেবে খ্যাত। ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাতক্ষীরার চিংড়ি রপ্তানি হয়ে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বয়ে আনছে।

৩. চিংড়ির পাশাপাশি রুই, কাতলা, মৃগেল, ভেটকি, পারশে ও ভাঙন মাছের মতো সাদা মাছের চাষও বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণে। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রোটিনের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করছে এই জেলা।

ঐতিহ্যবাহী সনাতন পদ্ধতি ছেড়ে সাতক্ষীরার চাষিরা এখন অনেক বেশি বিজ্ঞানমনস্ক। সরকারের মৎস্য বিভাগ এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় তারা শিখছেন আধুনিক চাষ পদ্ধতি।

ঘেরে আধুনিক ‘এয়ারেটর’ ব্যবহার করে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখা, মানসম্মত ভাইরাসমুক্ত পোনা নির্বাচন এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে ঘের ব্যবস্থাপনা চাষিদের লোকসানের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে দিয়েছে।

পাশাপাশি, একই ঘেরে মাছের সাথে ধান এবং ঘেরের বেড়িতে সবজি চাষের যে ‘সমন্বিত মডেল’ সাতক্ষীরায় জনপ্রিয় হয়েছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। একই জমি থেকে একই সাথে মাছ, ধান আর বিষমুক্ত সবজি উৎপাদিত হচ্ছে যা কৃষিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।

অবশ্য এই রূপালী বিপ্লবের পথটা সবসময় মসৃণ নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা, আকস্মিক জলোচ্ছ্বাস, অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি এবং মাঝে মাঝে ভাইরাসের আক্রমণ চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে। রপ্তানি বাজারের নানা কঠোর নিয়মকানুন মেনে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে সাতক্ষীরার মানুষ লড়াকু। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তারা দমে যাননি। ঘেরের আইল মেরামত করে, নতুন উদ্যমে পোনা ছেড়ে তারা আবার ঘুরে দাঁড়ান।

সাতক্ষীরার দিগন্তজোড়া ঘেরগুলো আজ শুধু মাছ চাষের স্থান নয়, এগুলো একেকটি সম্ভাবনার ক্যানভাস। এই বিপ্লবকে আরও টেকসই করতে প্রয়োজন সরকারি পর্যায়ে আরও বেশি হিমাগার স্থাপন, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি রপ্তানির স্থায়ী ব্যবস্থা করা।

বিকেলের সোনালী রোদে যখন ঘেরের জলে হাজার হাজার মাছের চালি একযোগে লাফিয়ে ওঠে, তখন মনে হয় এ যেন শুধু মাছ নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জয়ধ্বনি। সাতক্ষীরার এই রূপালী বিপ্লব আগামী দিনে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।