শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

তালায় খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে ৪৪ লাখ টাকার মালামাল লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
তালায় খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে ৪৪ লাখ টাকার মালামাল লুট

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার তালায় খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে একটি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সদস্যরা চেতনানাশকের প্রভাবে অচেতন হয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা বাড়ি থেকে ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৪৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ২টার দিকে তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অচেতন ও অসুস্থ অবস্থায় গৃহকর্তা সবুজ সরদার ও তাঁর বাবা মতলেব সরদারকে সাতক্ষীরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে সবুজ সরদারের বাড়িতে খাবারের সঙ্গে কৌশলে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা ওই খাবার খেয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪ লাখ টাকাসহ অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

শুক্রবার সকালে বাড়ির লোকজনের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে তাঁদের অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা ব্লিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার ও এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

Ads small one

যশোরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী অভিযুক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ
যশোরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী অভিযুক্ত

পত্রদূত ডেস্ক: যশোর সদর উপজেলার শানতলা এলাকায় শাহানারা খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক কলহ ও স্বামীর মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

নিহত শাহানারা খাতুন শানতলা এলাকার আতিয়ার রহমানের স্ত্রী।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আতিয়ার রহমান মাদকাসক্ত। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন ভোরে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহানারাকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

দিনেও মশারি টাঙিয়ে থাকতে হচ্ছে, ডেঙ্গুর আশঙ্কায় রাজারবাগানবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
দিনেও মশারি টাঙিয়ে থাকতে হচ্ছে, ডেঙ্গুর আশঙ্কায় রাজারবাগানবাসী

আসাদুজ্জামান সরদার: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের পেছনে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজারবাগান উত্তরপাড়া এলাকায় মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। ড্রেনের জমে থাকা নোংরা পানিতে মশার লার্ভা জন্মাচ্ছে। দীর্ঘদিন ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং মশা নিধনের ওষুধ না ছিটানোর কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকার বিভিন্ন গলির ড্রেনে ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে জমে রয়েছে পচা পানি। এসব স্থানে মশার লার্ভা দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কার না করায় সেগুলো মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, মশার উপদ্রবে দিনের বেলাতেও ঘরে কিংবা বাইরে কোথাও স্বস্তিতে থাকা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেককে দিনের বেলাতেও মশারি টাঙিয়ে থাকতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াদ হোসেন বলেন, ড্রেনে মশার পরিমাণ এত বেশি যে দিনের বেলাতেও ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভা থেকে মশার ওষুধ ছিটানো বা স্প্রে করার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে এলাকার মানুষ ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

আরেক বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, মশার কামড়ে শিশুদের নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এলাকায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী জানান, পৌরসভার পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে সব ওয়ার্ডে মশার ওষুধ ছিটানো ও ড্রেন পরিষ্কারের কার্যক্রম চলছে। রাজারবাগান এলাকায় দ্রুত ফগার মেশিন ও লার্ভিসাইড স্প্রে পাঠানোর জন্য পরিচ্ছন্নতা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার এবং মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটায় সংস্কার, ফিরছে পুরোনো রূপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটায় সংস্কার, ফিরছে পুরোনো রূপ

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ পৈতৃক বাড়ি সংস্কারের কাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক বাড়িটির আংশিক সংস্কারের পর নতুন রূপ ফুটে উঠতে শুরু করেছে। তবে বিজ্ঞানীর স্মৃতি ও অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণে পুরো স্থাপনাটির সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও গবেষকেরা।

বাঙালি রসায়নচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ এবং বেঙ্গল কেমিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্মভিটাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাড়িটির মূল ভবনের কিছু অংশ সংস্কার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সদর মহল বা প্রধান ভবনের কয়েকটি অংশের ভগ্নদশা দূর করার কাজ চলছে। তবে অন্দরমহল, মন্দির ও সীমানাপ্রাচীরসহ অন্যান্য স্থাপনা এখনো পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে।

খুলনা আঞ্চলিক প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটির সংস্কারকাজের জন্য ৩৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডোমেইন এন্টারপ্রাইজ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। চলতি বছর উত্তর পাশের দোতলা ভবনের পাঁচটি কক্ষ ও দুটি বারান্দা সংস্কার, বাইরের পলেস্তারা মেরামত এবং ভবনের চারপাশে রং করার কাজ করা হবে। তবে দরজা-জানালা এ পর্যায়ের সংস্কারকাজের আওতায় নেই। পরবর্তী সময়ে বাড়ির ভেতরের ভবন ও মন্দির সংস্কার করা হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে চলমান সংস্কারকাজ শেষ হতে পারে।

খুলনা আঞ্চলিক প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, রসায়নশাস্ত্রের পথিকৃৎ আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। বাড়িটির মূল নকশা ও স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পুরো বাড়ি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও একটি প্রদর্শনী কক্ষ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে এসব কাজ শুরু করা হবে।

১৮৬১ সালের ২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তিনি উপমহাদেশে আধুনিক রসায়ন গবেষণার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মার্কিউরাস নাইট্রেট আবিষ্কার এবং বেঙ্গল কেমিক্যালস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিজ্ঞান ও শিল্পায়নে অসামান্য অবদান রাখেন তিনি। তাঁর জন্মভিটা বাঙালির বিজ্ঞানচর্চা ও জাতীয় গৌরবের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

স্থানীয়দের মতে, বাড়িটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও সংরক্ষণ করা গেলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। সুন্দরবনগামী অনেক পর্যটক যাতায়াতের পথে বাড়িটি পরিদর্শন করেন। যথাযথ অবকাঠামো ও পর্যটনসুবিধা গড়ে তোলা হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ ঐতিহাসিক স্থানকে আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞান ঐতিহ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবিও উঠেছে। এ জন্য বিজ্ঞান জাদুঘর, গবেষণাগার, ডিজিটাল প্রদর্শনী গ্যালারি ও মিলনায়তন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের স্মৃতি ও অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে তাঁর জন্মভিটার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার, সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।