মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

তালায় ২৩ বিঘা সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ড করার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
তালায় ২৩ বিঘা সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ড করার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নে অর্থের বিনিময়ে ৭.৫৬ একর (প্রায় ২৩ বিঘা) সরকারি খাস সম্পত্তি খন্দকার রেজোয়ান হোসেন নামের এক ব্যক্তির নামে রেকর্ড করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তালা উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসার মো. আব্দুর রশিদ ও খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের কিছু কর্মচারীর যোগসাজশে এই জালিয়াতি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরঘাটা মৌজার ১৫ নম্বর জেএল-এর ৩৩৪২ (বিআরএস) খতিয়ানের ১০টি দাগে মোট ৭.৫৬ একর সরকারি খাস জমি রয়েছে। লস্করপাড়ার মৃত খন্দকার ইয়াকুব আলীর ছেলে খন্দকার রেজোয়ান হোসেন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে চলতি বিআরএস জরিপে এই বিশাল সম্পত্তি নিজ নামে করিয়ে নিয়েছেন। আগামী ১৭ জুন এই খতিয়ানের চূড়ান্ত প্রিন্ট পর্চা প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের রেজিস্টার-২ ও ভলিউম বই পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিআরএস ১৩০৪১, ১২৫১৪ ও ১৩১৩৫ দাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্য দাগগুলোর মূল এসএ রেকর্ড স্পষ্টত সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।
জালিয়াতির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হলে অভিযুক্ত খন্দকার রেজোয়ান হোসেন স্থানীয় এক নেতার মাধ্যমে এই প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অর্থের প্রস্তাব দেন।

এদিকে তালা উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসার মো. আব্দুর রশিদ জালিয়াতির অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেন, তাঁর আগের কর্মকর্তা এই কাজ করে গেছেন। তবে আগের কর্মকর্তার কাজ হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন পুনরায় নোটিশ দিয়ে রেজোয়ান হোসেনকে ডেকেছিলেন এবং কোন নথির ভিত্তিতে সরকারি জমি ব্যক্তিনামে বহাল রাখলেন—এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। এ ছাড়া সপ্তাহে একদিন তালায় অফিস করার নিয়ম থাকলেও গত ছয় মাস ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে নিজেই স্বীকার করেছেন।

নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সুরাইয়া পারভীন জানান, এক ব্যক্তি বিআরএস খতিয়ানের একটি কপি তদন্তের জন্য তাঁর কাছে দিয়ে গেছেন। জমিটি যেহেতু সরকারের, তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান জানান, জমির প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ হাতে পেলে এবং সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিনামে রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে মামলা করে জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে।
খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের চার্জ অফিসার (সিনিয়র সহকারী সচিব) শুভ্রা দাস জানান, চূড়ান্ত প্রকাশনা বের হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

Ads small one

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

পত্রদূত ডেস্ক: মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ঔষধ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার কেড়াগাছি হতে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

আশাশুনির নাকতাড়া কালীমন্দিরের পুকুরঘাটে নবনির্মিত ঘর ভাংচুর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনির নাকতাড়া কালীমন্দিরের পুকুরঘাটে নবনির্মিত ঘর ভাংচুর

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার নাকতাড়া কালীমন্দিরের পুকুরঘাটে নবনির্মিত একটি ঘর ভাংচুর করা হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীউলা গ্রামের চা ব্যবসায়ি ইমরানের নেতৃত্বে এ হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়।

নাকতাড়া কালীবাড়ি এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, নাকতাড়া কালী মন্দিরের নামে ১৪ শতক দেবত্ব সম্পত্তি ছাড়াও স্থানীয়দের দেওয়া পুকুরের ৫৯ শতক ও ৫৫ শতক ডাঙা জমি মন্দিরের নামে বর্তমানে রেকর্ড রয়েছে। শ্রীউলার আবুল হোসেন ঘোলা-আশাশুনি সড়কের কালীমন্দির সংলগ্ন কিছু জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করে ইমরান হোসেন ও মনিকে ভাড়া দেন। ইমরান চায়ের দোকান ও মনি মোবাইল সার্ভিসিং এর দোকান পরিচালনা করে আসছে।

আশাশুনির নাকতাড়া কালীমন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বজল কুমার মিত্র জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী কালীমন্দিরের প্রধান ফটক ও পুকুর ঘাট ভাংচুর করে একটি বিশেষ মহল। স্থানীয় বিএনপি নেতা অ্যাড. নুুরুল আমিন ও সরকারী কৌশুলী অসীম কুমার ম-লের সহযোগিতায় ওই পুকুরঘাট আবারো সংস্কার করা হয়। গত চৈত্র মাসে ওই পুকুর এসকেবেটর মেশিন দিয়ে খনন করার সময় পুকরঘাটটি আবারো ভেঙে যায়। নারীদের ¯œানের সুবিধার্থে সোমবার বিকেলে একটি নতুন ঘর নির্মাণ কাজ শেষ করে তারা যার যার মত বাড়ি চলে যান। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চায়ের দোকানদার ইমরান দোকান মালিক দাবিদার আবুল হোসেনের নির্দেশে ৮/১০জন লোক নিয়ে নবনির্মিত ওই ঘরের এসবেস্টার্স ও প্রাচীর ভাংচুর চালায়।

 

বিষয়টি নাকতাড়া বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি ও শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পুলিশকে অবহিত করা হয়। সন্ধ্যায় আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক সেলিমসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য মন্দিরে এলে ইমরান পালিয়ে যায়। পুলিশের নির্দেশনায় আব্দুল্লাহ আল মামুন মঙ্গলবারের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ^াস দেওয়ায় তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। মঙ্গলবারের মধ্যে সমস্যা সমাধান না হলে বুধবার তারা থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন।

এ ব্যাপারে আবুল হোসেনের সঙ্গে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাড়াটিয়া ইমরান সাংবাদিকদের জানান, পুকুরঘাটে যেখানে নতুন ঘর বানানো হয়েছে তা মন্দিরের রেকডীয় হলেও মালিক আবুল হোসেনের দখলে ছিল। তাই আবুল হোসেনের নির্দেশে তিনি লোকজন নিয়ে ঘর ভেঙে দিয়েছেন।

শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও নাকতাড়া কালীবাড়ি বাজার পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা চলছে।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদ খান মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে এ প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ও লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

কলারোয়ার দুই সাংবাদিক সংগঠনকে এমপি ইজ্জত উল্লাহর আর্থিক অনুদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
কলারোয়ার দুই সাংবাদিক সংগঠনকে এমপি ইজ্জত উল্লাহর আর্থিক অনুদান

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহর পক্ষ থেকে কলারোয়ার দুই সাংবাদিক সংগঠন-কলারোয়া প্রেসক্লাব ও কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেওয়া হয়। সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহর পক্ষে অনুদান প্রদান করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান।

এ সময় তিনি বলেন, সমাজে সত্য, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব অপরিসীম। গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তিনি সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহর পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রতি শুভেচ্ছা ও সহযোগিতার বার্তা পৌঁছে দেন।

কলারোয়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের আহ্বায়ক তৌফিকুর রহমান সঞ্জু, যুগ্ম আহ্বায়ক এম. এ. সাজেদ, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু এবং প্রধান শিক্ষক রাশিদুল হাসান কামরুলসহ অন্যান্য সদস্যরা।

অন্যদিকে কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সহ-সভাপতি এস. এম. জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এম. এ. আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান ফারুকী, দপ্তর সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদ রিপন, প্রচার সম্পাদক ফারুক হোসেন রাজ এবং নির্বাহী সদস্য মোর্তুজা হাসানসহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকরা এ সহযোগিতার জন্য সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কল্যাণ ও পেশাগত উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।