রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নবনিযুক্ত নারী-শিশু বিচারককে ফুলেল শুভেচ্ছা সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
নবনিযুক্ত নারী-শিশু বিচারককে ফুলেল শুভেচ্ছা সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের

বদিউজ্জামান: দীর্ঘ প্রায় এক বছর বিচারকশূন্য থাকার পর অবশেষে বিচারক পেল সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে যোগদান করেছেন। যোগদানের দিনই তিনি আদালতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এরপর বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম তাঁর খাস কামরায় নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিন পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক যোগদান করায় সাতক্ষীরার বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনকে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে পদায়ন করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর আইন ও বিচার বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনের সঙ্গে সাতক্ষীরার রয়েছে বিশেষ সম্পর্ক। তাঁর বিচার বিভাগীয় কর্মজীবনের শুরুই হয়েছিল সাতক্ষীরা থেকে। ২০০৬ সালের ১৫ মার্চ সহকারী জজ হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দিয়ে তিনি সাতক্ষীরায় দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ২৪ নভেম্বর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও সাতক্ষীরায় দায়িত্ব পালন করেন।

 

কর্মজীবনের শুরুতে যে সাতক্ষীরায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর এবার সেখানেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে ফিরলেন তিনি।

রবিবার বিচারিক কার্যক্রমের ফাঁকে এজলাসে উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন দীর্ঘ বিচারক জীবনে দেশের বিভিন্ন জেলাতে চাকরির সুবাদে যেতে হয়েছে। কিন্তু সাতক্ষীরার মানুষের প্রতি আমার ভালোবাসাটা অনেক বেশি। এ জেলার মানুষ অনেক সহজ সরল উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন আমার কোর্টে প্রায় সাড়ে চার হাজার মামলা বিচারাধীন। আপনাদের সহযোগিতা পেলে বিচার প্রার্থী মানুষের দ্রুত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা সহজ হবে। আশা করি আপনারা আগের মতই আমাকে সে সহযোগিতা টুকু করবেন।

প্রায় এক বছর বিচারক না থাকায় সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছিল। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার পাশাপাশি শিশু আদালত ও মানব পাচারসংক্রান্ত মামলার দায়িত্বও এ ট্রাইব্যুনাল পালন করে।

বিচারক নিয়োগের দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকে দীর্ঘদিন ধরে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। গত ৩০ আগস্ট ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক, সাতক্ষীরার উদ্যোগে এবং মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বিচারকশূন্য আদালতে দ্রুত বিচারক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়া গত ২৩ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিত আবেদন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচারক পদায়নের দাবি জানানো হয়।

এরপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাতক্ষীরা সফর করেন। এ সময় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিচারকশূন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। মতবিনিময় শেষে আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এর মাত্র চার দিনের মাথায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারক পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এরপর রোববার নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন সাতক্ষীরায় যোগ দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।
জানা যায়, মো. জাকারিয়া হোসেন ২০০৬ সালের ১৫ মার্চ সহকারী জজ হিসেবে বিচার বিভাগীয় চাকরিতে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ ও যুগ্ম জেলা জজসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

 

সর্বশেষ তিনি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দীর্ঘদিন পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক যোগদান করায় বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নিয়মিত বিচার কার্যক্রমের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের মামলাজট ধীরে ধীরে কমবে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

Ads small one

তুয়াডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদ আর নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
তুয়াডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদ আর নেই

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার তুয়াডাঙ্গা এইচএফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ গাজী আর নেই। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভোগার পর রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলে তাঁর কন্যা অ্যাডভোকেট সালমা খাতুনের বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষকতা পেশায় নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুম আব্দুর রশিদ গাজীর জানাজা শেষে আগামীকাল সোমবার তাঁর গ্রামের বাড়ি আশাশুনি উপজেলার তুয়াডাঙ্গা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।

তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় শিক্ষক সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

ভৈরব নদী থেকে মস্তকবিহীন অজ্ঞাত ব্যাক্তির মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
ভৈরব নদী থেকে মস্তকবিহীন অজ্ঞাত ব্যাক্তির মরদেহ উদ্ধার

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ফকিরহাটে ভৈরব নদী থেকে মস্তকবিহীন ভাসমান অজ্ঞাতনামা পরিচয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহের আনুমানিক বয়স হবে ৪০বছর। উপজেলা মানসা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানান, রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে পথচারীরা ভৈরব নদীতে মস্তকবিহীন মরদেহটি ভাসমান অবস্থায় দেখে পান। পরে থানা পুলিশকে খবর দেয়। ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহটি রূপসা এলাকা থেকে জোয়ারের পানিতে ভাসতে ভাসতে ফকিরহাট এলাকায় আসে। ভাসমান মরদেহের খবর পেয়ে আশ-পাশের এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ ভৈরব নদীর দু’পাড়ে ভিড় করে।

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রজিউল্লাহ খান বলেন, ভৈরব নদী থেকে মস্তশবিহিীন অজ্ঞাতনামা পরিচয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি ৩/৪ দিন পূর্বের বলে ধারনা করছেন। শরীরে পচন ধরেছে। নৌ পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডিকে অবগত করা হয়েছে। তারা আসলে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এছাড়াও প্রাথমিক সুরোতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়না তদন্তের জন্য বাগেহরহাট সদর হাসপাতালে পাঠনো হবে।

নিরাপদ গর্ভপাত অধিকার দিবস: প্রজননগত ন্যায়বিচার ও স্বাস্থ্যসেবার প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
নিরাপদ গর্ভপাত অধিকার দিবস: প্রজননগত ন্যায়বিচার ও স্বাস্থ্যসেবার প্রশ্ন

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক নিরাপদ গর্ভপাত দিবস। দিনটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট মত প্রকাশের উপলক্ষ নয়; বরং অনিরাপদ গর্ভপাতজনিত মৃত্যু প্রতিরোধ, নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা এবং মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যাধিকার ও মর্যাদা রক্ষার বৈশ্বিক আহ্বান। ২০২৬ সালের দিবসটির মূল সুর-‘একতাবদ্ধ কর্মপন্থা: প্রজননগত ন্যায়বিচার এগিয়ে নেওয়া এবং সামগ্রিক গর্ভপাত সেবায় স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জরুরিভাবে শক্তিশালী করা।’

প্রজননগত ন্যায়বিচার বলতে কেবল কোনো বিশেষ চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগকে বোঝায় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানসম্মত সেবা, সঠিক তথ্য, বৈষম্যহীনতা, গোপনীয়তা রক্ষা এবং স্বায়ত্তশাসনের অধিকার। আর্থিক বা সামাজিক অবস্থানের কারণে কেউ যেন সেবাবঞ্চিত না হন-তা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে এই দিবসের ঐতিহাসিক প্রতীকী সূত্র ছিল ১৮৭১ সালে ব্রাজিলে পাস হওয়া ‘ল অব ফ্রি বার্থ’ (রিও ব্রাঙ্কো ল), যা দাসী নারীদের সন্তানকে আইনি মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়ার একটি অংশ ছিল। পরবর্তীতে লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু হয়ে ২০১১ সালে আন্দোলনটি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ প্ররোচিত গর্ভপাত ঘটে, যার ৪৫ শতাংশই অনিরাপদ। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ নারী অনিরাপদ গর্ভপাতজনিত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। বৈশ্বিক মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রতিরোধযোগ্য কারণটির সঙ্গে সম্পর্কিত। উপযুক্ত সময়সীমা, অনুমোদিত পদ্ধতি এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সেবা নিশ্চিত করা গেলে এ ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অন্যদিকে, অদক্ষ ব্যক্তি বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অপচিকিৎসা গুরুতর রক্তক্ষরণ ও অঙ্গহানির মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে।

বাংলাদেশের আইনগত প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বুঝতে ১৮৬০ সালের দন্ডবিধির (ধারা ৩১২-৩১৬) পাশাপাশি ‘মেনস্ট্রুয়াল রেগুলেশন’ বা এমআর ব্যবস্থার পার্থক্য জানা প্রয়োজন। জীবন রক্ষা ব্যতীত স্বেচ্ছায় গর্ভপাত শাস্তিমূলক অপরাধ হলেও, ১৯৭৯ সাল থেকে জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির অধীনে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও নিয়মে এমআর সেবা চালু রয়েছে। তাই সংবাদ বা সচেতনতামূলক নিবন্ধে এমআর ও প্ররোচিত গর্ভপাতকে এক করে না দেখে সঠিক পরিভাষা ব্যবহার করা দরকার।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটি ও নারী বৈষম্য বিলোপ সনদ-এ নারীর জীবন, স্বাস্থ্য ও সমতার অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোতে বিষয়টিকে ঢালাও অধিকার হিসেবে না দেখে ব্যক্তির স্বাস্থ্যাধিকার ও রাষ্ট্রের আইনি ব্যবস্থার সমন্বয়ে মূল্যায়ন করা হয়।

এটি শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞান বা আইনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে ধর্ম, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ যুক্ত। ইসলাম, খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের চিন্তাবিদদের মধ্যে পরিস্থিতি ও গর্ভকালের ভিন্নতার ভিত্তিতে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। মায়ের জীবন রক্ষা ও জটিল পরিস্থিতিতে ধর্মীয় নীতিমালায় শিথিলতার আলোচনা পাওয়া যায়। তাই কোনো একক দৃষ্টিভঙ্গিকে পুরো ধর্মের একমাত্র অবস্থান হিসেবে তুলে না ধরে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি অনুধাবন করা প্রয়োজন।

শহরের সচ্ছল মানুষের তুলনায় গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থ, দূরত্ব, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধার কারণে মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বেশি বঞ্চিত হন। বাংলাদেশে অনিরাপদ গর্ভপাত রোধে কয়েকটি বিষয় জরুরি: পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচার, স্বীকৃত এমআর সেবা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া, প্রজননস্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জটিলতায় দ্রুত পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করা।

নিরাপদ গর্ভপাত অধিকারের মধ্যদিয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে, চিকিৎসা নিতে এসে কোনো নারী যেন অপমান, ভয় বা সামাজিক বিচারের শিকার না হন। গর্ভপাত নিয়ে সমাজে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সচেতনতার অভাবে বা ভুল পদ্ধতিতে যেন কোনো জীবন অকালে ঝরে না পড়ে-এই মানবিক জায়গায় পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতার সুযোগ রয়েছে। বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রচার, কুসংস্কার দূরীকরণ এবং সম্মানজনক প্রজননস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আন্তর্জাতিক নিরাপদ গর্ভপাত দিবসের মূল বার্তা।