নবনিযুক্ত নারী-শিশু বিচারককে ফুলেল শুভেচ্ছা সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের
বদিউজ্জামান: দীর্ঘ প্রায় এক বছর বিচারকশূন্য থাকার পর অবশেষে বিচারক পেল সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে যোগদান করেছেন। যোগদানের দিনই তিনি আদালতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এরপর বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম তাঁর খাস কামরায় নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক যোগদান করায় সাতক্ষীরার বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনকে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে পদায়ন করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর আইন ও বিচার বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে।
নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনের সঙ্গে সাতক্ষীরার রয়েছে বিশেষ সম্পর্ক। তাঁর বিচার বিভাগীয় কর্মজীবনের শুরুই হয়েছিল সাতক্ষীরা থেকে। ২০০৬ সালের ১৫ মার্চ সহকারী জজ হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দিয়ে তিনি সাতক্ষীরায় দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ২৪ নভেম্বর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও সাতক্ষীরায় দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে যে সাতক্ষীরায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর এবার সেখানেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে ফিরলেন তিনি।
রবিবার বিচারিক কার্যক্রমের ফাঁকে এজলাসে উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন দীর্ঘ বিচারক জীবনে দেশের বিভিন্ন জেলাতে চাকরির সুবাদে যেতে হয়েছে। কিন্তু সাতক্ষীরার মানুষের প্রতি আমার ভালোবাসাটা অনেক বেশি। এ জেলার মানুষ অনেক সহজ সরল উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন আমার কোর্টে প্রায় সাড়ে চার হাজার মামলা বিচারাধীন। আপনাদের সহযোগিতা পেলে বিচার প্রার্থী মানুষের দ্রুত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা সহজ হবে। আশা করি আপনারা আগের মতই আমাকে সে সহযোগিতা টুকু করবেন।
প্রায় এক বছর বিচারক না থাকায় সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছিল। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার পাশাপাশি শিশু আদালত ও মানব পাচারসংক্রান্ত মামলার দায়িত্বও এ ট্রাইব্যুনাল পালন করে।
বিচারক নিয়োগের দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকে দীর্ঘদিন ধরে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। গত ৩০ আগস্ট ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক, সাতক্ষীরার উদ্যোগে এবং মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বিচারকশূন্য আদালতে দ্রুত বিচারক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া গত ২৩ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিত আবেদন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচারক পদায়নের দাবি জানানো হয়।
এরপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাতক্ষীরা সফর করেন। এ সময় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিচারকশূন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। মতবিনিময় শেষে আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এর মাত্র চার দিনের মাথায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারক পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এরপর রোববার নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন সাতক্ষীরায় যোগ দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।
জানা যায়, মো. জাকারিয়া হোসেন ২০০৬ সালের ১৫ মার্চ সহকারী জজ হিসেবে বিচার বিভাগীয় চাকরিতে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ ও যুগ্ম জেলা জজসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।
সর্বশেষ তিনি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দীর্ঘদিন পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক যোগদান করায় বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নিয়মিত বিচার কার্যক্রমের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের মামলাজট ধীরে ধীরে কমবে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।












