পাইকগাছায় বিশ্বজিৎ হত্যা রহস্যে নতুন মোড়, ২৮ দিন পর সন্দেহভাজন নিপুন গ্রেপ্তার
পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছায় আরএফএল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ দেউড়ী হত্যাকান্ডের ২৮ দিন পর এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। দীর্ঘ সময় পর নিপুন সানা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে পাইকগাছা পৌরসদর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকান্ডের রহস্য, ঘটনার পেছনের কারণ এবং এতে আরও কেউ জড়িত কি না এসব তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার নিপুন সানা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের সোলাদানা গ্রামের পঞ্চানন সানার ছেলে।
পুলিশ ও মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্বজিৎ দেউড়ী আরএফএল কোম্পানির ভিগো গ্রুপের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে পাইকগাছায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার বেত্রা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম ধীরালাল দেউড়ী।
গত ২০ জুলাই গভীর রাতে পাইকগাছা পৌরসভার হাসপাতাল মোড় এলাকায় রামপ্রসাদ মন্ডলের ভাড়া বাসা থেকে বিশ্বজিৎ দেউড়ীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ঘটনার পর তাঁর এক সহকর্মীও নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা গেছে।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় নিহত বিশ্বজিৎ দেউড়ীর মামা বিপুল সরকার বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ, তথ্য যাচাইসহ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে নিপুন সানাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাইকগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুর আলম বলেন, হত্যা মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় নিপুন সানা নামে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আওয়াল কবির বলেন, বিশ্বজিৎ দেউড়ী হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর রিমান্ড চাওয়া হবে।









