মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রতি রাতে ঘুম একই সময় ভেঙে যায়, জেনে নিন কারণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
প্রতি রাতে ঘুম একই সময় ভেঙে যায়, জেনে নিন কারণ

অনেক মানুষ লক্ষ্য করেন যে তারা প্রায় প্রতিদিন রাতে নির্দিষ্ট একটি সময়ে ঘুম ভেঙে যায়। কখনো সেটি মাঝরাতে, কখনো ভোরের দিকে। বিষয়টি অদ্ভুত মনে হলেও এর পেছনে শরীরের ভেতরের জৈবিক ঘড়ি, ঘুমের অভ্যাস, মানসিক চাপ এবং কিছু শারীরিক সমস্যাও কাজ করতে পারে।

ঘুমের এই পুনরাবৃত্তি সবসময়ই বড় কোনো রোগের ইঙ্গিত নাও হতে পারে, তবে কারণগুলো বুঝতে পারলে ঘুমের মান উন্নত করা সহজ হয়।

শরীরের প্রাকৃতিক ঘুমের ছন্দ
মানুষের শরীরের একটি নিজস্ব সময়সূচি থাকে, যাকে বলা হয় সার্কাডিয়ান রিদম। এটি প্রায় ২৪ ঘণ্টার একটি চক্র, যা মস্তিষ্কের একটি অংশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

এই জৈবিক ঘড়ি ঠিক করে দেয় কখন ঘুম আসবে, কখন শরীর জেগে উঠবে, এমনকি শরীরের তাপমাত্রা এবং হরমোন নিঃসরণের সময়ও নিয়ন্ত্রণ করে।

যদি কেউ প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যায়, তাহলে শরীর সেই সময় অনুযায়ী একটি অভ্যাস তৈরি করে নেয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি কেউ প্রতিদিন রাত ১০টায় ঘুমিয়ে পড়েন এবং শরীরের ঘুমের চক্র ছয় ঘণ্টার হয়, তাহলে ভোর ৪টার দিকে ঘুম ভেঙে যাওয়া স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।

অনেক সময় মানুষ এই জেগে ওঠা টেরও পান না, কারণ ঘুম এবং জাগরণের মাঝামাঝি একটি হালকা অবস্থায় তারা আবার ঘুমিয়ে পড়েন।

ঘুমের ধাপগুলো যেভাবে কাজ করে
ঘুম একটানা এক অবস্থায় থাকে না। এটি কয়েকটি ধাপে বিভক্ত থাকে।

প্রথমে থাকে হালকা ঘুম, এরপর গভীর ঘুম, এবং পরে আসে স্বপ্নের ধাপ। এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি চক্রের মতো চলতে থাকে।

প্রতি ৯০ থেকে ১২০ মিনিট পর ঘুমের একটি পূর্ণ চক্র শেষ হয়। তখন সামান্য সময়ের জন্য ঘুম ভেঙে যেতে পারে। অনেক সময় এটি এত দ্রুত ঘটে যে আমরা তা মনে রাখি না।

প্রতি রাতে একই সময় ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণ-

পরিবেশগত কারণ
ঘুম ভাঙার পেছনে আশপাশের পরিবেশ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

রাতের শব্দ, যেমন যানবাহন, ট্রেন বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রের শব্দ ঘুমের মধ্যে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ঘরের এসি বা হিটার চালু এবং বন্ধ হওয়াও ঘুম ভেঙে দিতে পারে।

তাপমাত্রার পরিবর্তনও একটি কারণ। শীতকালে রাতে তাপমাত্রা কমে গেলে বা গরমে বেশি গরম লাগলে শরীর ঘুমের মধ্যে সাড়া দিতে পারে।

ডিজিটাল ডিভাইসের প্রভাব
মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট বা টেলিভিশনের মতো ডিভাইস ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এসব যন্ত্র থেকে আসা আলো বা শব্দ মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে রাখতে পারে।

ঘুমের সময় হালকা শব্দ বা আলোও ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দিতে পারে, ফলে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
চাপ এবং দুশ্চিন্তা ঘুমের বড় শত্রু। দীর্ঘ সময় মানসিক চাপ থাকলে শরীরের রক্তচাপ এবং হরমোনের ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে।

এর ফলে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা বা অস্থির অনুভূতি হতে পারে। উদ্বেগজনিত সমস্যায় এই পরিস্থিতি আরও বেশি দেখা যায়।

ঘুমের ব্যাধি
কিছু শারীরিক সমস্যাও নিয়মিত ঘুম ভাঙার কারণ হতে পারে।

ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এতে শরীর অক্সিজেনের ঘাটতি অনুভব করে এবং হঠাৎ ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

আরেকটি সমস্যা হলো ঘুমের সময় শরীর চলতে না পারা, যা অনেককে ভয় পেয়ে জাগিয়ে তোলে।

চোখেই মিলতে পারে ফ্যাটি লিভারের ইঙ্গিত, বুঝবেন যেসব লক্ষণে
রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন
রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হলে ঘুম নিয়মিতভাবে ভেঙে যেতে পারে। এটি ডায়াবেটিস, প্রোস্টেট সমস্যা, ব্লাডার সমস্যা বা অতিরিক্ত পানি পান করার কারণে হতে পারে।

কখনো কখনো ঘুমের শ্বাসকষ্টের সমস্যাও এই অবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকে।

হজমজনিত সমস্যা
অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে শোয়ার পর বুক জ্বালা বা অস্বস্তি হতে পারে।

বিশেষ করে সমতলভাবে শুয়ে থাকলে পেটের অ্যাসিড ওপরে উঠে এসে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, যা ঘুম ভেঙে দেয়।

হরমোনের পরিবর্তন
নারীদের ক্ষেত্রে বয়স বা শারীরিক পরিবর্তনের কারণে হরমোনের ওঠানামা ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে রাতের ঘাম, হঠাৎ গরম লাগা বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

গর্ভাবস্থায়ও শরীরের পরিবর্তনের কারণে ঘুম ভাঙা সাধারণ একটি বিষয়।

বয়স বাড়ার প্রভাব
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমের মান পরিবর্তিত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে গভীর ঘুম কমে যায় এবং ঘুম ভাঙার প্রবণতা বেড়ে যায়।

এ ছাড়া বয়সজনিত নানা রোগ যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্টও ঘুমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

ওষুধের প্রভাব
কিছু ওষুধ ঘুমের স্বাভাবিক চক্রকে প্রভাবিত করতে পারে। কিছু ওষুধ শরীরকে উত্তেজিত রাখে, আবার কিছু ওষুধ বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন বাড়িয়ে দেয়।

এ ছাড়া ক্যাফেইন বা উদ্দীপক জাতীয় উপাদানও ঘুম ভাঙার কারণ হতে পারে।

প্রতি রাতে একই সময়ে ঘুম ভেঙে যাওয়া সবসময় গুরুতর সমস্যা নাও হতে পারে। অনেক সময় এটি শরীরের স্বাভাবিক অভ্যাস বা জীবনযাত্রার ফল। তবে যদি এটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এবং ক্লান্তি বা অস্বস্তি বাড়ায়, তাহলে ঘুমের অভ্যাস, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

সঠিক অভ্যাস এবং সচেতনতার মাধ্যমে ঘুমের মান উন্নত করা সম্ভব এবং রাতে গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম পাওয়া সহজ হয়ে যায়।

সূত্র: ভেরি ওয়েল হেল্থ

Ads small one

নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা যেসব সুবিধা পাবেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা যেসব সুবিধা পাবেন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরে সন্ধ্যায় সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বনিম্ন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে প্রায় পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি এখনও সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছে।

সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের আওতায় আনলে তাদের বেতন-ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। কারণ এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তাদের অনুমোদিত গ্রেডের মূল বেতনের শতভাগ এমপিও হিসেবে পেয়ে থাকেন।

বাড়বে মূল বেতন

নতুন পে-স্কেলের আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আনা হলে সবচেয়ে বড় সরাসরি সুবিধা হবে মূল বেতন বৃদ্ধি। তাদের যে গ্রেডে এমপিও রয়েছে, সেই গ্রেডের নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন কার্যকর হলে বর্তমানের তুলনায় বেতন বাড়বে।

এমপিওভুক্ত নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি বেতন কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত গ্রেডের মূল বেতনের শতভাগ পেয়ে থাকেন। ফলে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদ্যমান গ্রেড অনুযায়ী নতুন বেতন নির্ধারণ করা হলে, প্রচলিত এই নিয়মেই তারা নতুন স্কেলের বর্ধিত মূল বেতনের সুবিধা পাবেন।

নতুন কাঠামোয় প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। অন্যদিকে নিম্ন গ্রেডগুলোতে তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ।

ফলে কোনও এমপিওভুক্ত শিক্ষককে তার বিদ্যমান গ্রেডের নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হলে তার মূল বেতনও সংশ্লিষ্ট নতুন হারে নির্ধারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বাড়বে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট

মূল বেতন বাড়ার ফলে পরবর্তী সময়ে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের অংকও বাড়বে। অর্থাৎ নতুন পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণের পর পরবর্তী ইনক্রিমেন্ট তুলনামূলক বেশি মূল বেতনের ভিত্তিতে হিসাব হবে।

বাড়বে উৎসব ও বৈশাখী ভাতা

মূল বেতনের সঙ্গে সম্পর্কিত উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতার অংকও নতুন মূল বেতন অনুযায়ী বাড়তে পারে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এসব সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন বা পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হবে।

বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতায় সুবিধার সুযোগ

নতুন পে-স্কেলে মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতার কাঠামোও পরিবর্তন করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এসব ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তাদের ক্ষেত্রেও এসব সুবিধা প্রযোজ্য হবে কি না, তা আলাদা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।

অবসর সুবিধাতেও প্রভাব পড়তে পারে

মূল বেতন বাড়লে বেতননির্ভর অবসরকালীন ও কল্যাণ সুবিধার হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার নির্দিষ্ট কাঠামো অনুযায়ী এ সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, সেটি পরবর্তী সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হবে।

মূল বিষয় এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত

নতুন পে-স্কেল অনুমোদন হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন পে-স্কেলের অংশ হয়ে যাচ্ছেন না। তাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সরকারকে আলাদা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, উৎসব ও বৈশাখী ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি তাদের নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

অর্থাৎ, নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে তাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে গ্রেড অনুযায়ী নতুন ও বর্ধিত মূল বেতন পাওয়া। এর সঙ্গে মূল বেতননির্ভর অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তিন মাস পর সুন্দরবন উন্মুক্ত, বৈরী আবহাওয়ায় বাধাগ্রস্ত পর্যটক ও জেলেদের যাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
তিন মাস পর সুন্দরবন উন্মুক্ত, বৈরী আবহাওয়ায় বাধাগ্রস্ত পর্যটক ও জেলেদের যাত্রা

পত্রদূত ডেস্ক: টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে সুন্দরবন। সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি (পাস) পেয়ে উচ্ছ্বসিত জেলে-বাওয়ালিরা। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের আনাগোনা কম এবং বনে যাওয়ার যাত্রাও কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারি বনসংরক্ষক মশিয়ুর রহমান জানান, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে এ মৌসুমে মাছ ধরা ও ইকোট্যুরিজমের জন্য ২৯৩৮ টি বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) নবায়ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৫৯টি পাস ইস্যু করা হয়েছে। এসব পাসের মাধ্যমে চার শতাধিক জেলে-বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন। এ ছাড়া পর্যটকদের জন্য কলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তবে সকাল থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পর্যটকদের তেমন দেখা যায়নি। পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা জেলে ও পর্যটন নৌকার মাঝিদেরও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইকোট্যুরিজমের জন্য কলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। তবে আবহাওয়া বৈরী থাকায় এখনো পর্যটকদের তেমন আনাগোনা দেখা যায়নি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।

তিন মাস পর পাস পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে জেলে-বাওয়ালিদের মধ্যেও। শ্যামনগরের জেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, এতদিন পাস বন্ধ থাকায় তাদের কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। এখন পাস দেওয়া শুরু হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি থাকলেও সুন্দরবনে যেতে হবে। বনে মাছ ধরে সংসার চালাতে হবে।

তবে আনন্দের পাশাপাশি তাদের মনে রয়েছে জলদস্যু ও বনদস্যুর ভয়। আরেক জেলে বলেন, তিন মাস পর পাস পেয়ে তারা খুশি হয়ে বনে মাছ ধরতে যাচ্ছেন। কিন্তু বনে জলদস্যুর ভয়ও কাজ করছে। জেলে-বাওয়ালি হিসেবে সুন্দরবনে না গেলে তাদের সংসার চলে না। তাই ভয় থাকলেও জীবিকার তাগিদে বনে যেতে হচ্ছে। তবে বিএলসি নবায়নে বনকর্মকর্তারা সরকারি খরচের চেয়ে দালাল মারফত অতিরিক্ত টাকা আদায় করায় তাদের বিপাকে পড়তে হয়েছে।

পর্যটক নৌকার মাঝি আমিনুর রহমান বলেন, তিন মাস পর আজ পাস পেয়েছেন তারা। এতে খুবই খুশি। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নৌকা নিয়ে আপাতত অপেক্ষা করছেন। আবহাওয়া কিছুটা ভালো হলে পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করবেন।

পর্যটক ইমরান হোসেন বলেন, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনভূমির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে তাঁরা এসেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কাছাকাছি এসে আটকে যেতে হয়েছে। বৃষ্টি থামলে আবার সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশাপাশি পর্যটকদের প্রবেশের পথও আজ থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিন পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল কম। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে।

সুন্দরবনে জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়ে মশিউর রহমান বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকার সময়ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথ দল কাজ করেছে। এখনো যৌথ টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দস্যুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন বিভাগের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

প্রতি বছর মাছের প্রজনন মৌসুম ও বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পহেলা জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের প্রবেশ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ এই নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ থেকে আবার খুলে দেওয়া হলো সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার। ফলে জীবিকার আশায় বনে ফিরছেন উপকূলের হাজারো বনজীবী। একই সঙ্গে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগে পর্যটকদের জন্যও খুলে গেল সুন্দরবনের দরজা।

 

সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর আনারুল দুলাভাই ও আফতাব বাহিনীর ৫২ সদস্যের র‌্যাবের কাছে আত্মসমার্পণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর আনারুল দুলাভাই ও আফতাব বাহিনীর ৫২ সদস্যের র‌্যাবের কাছে আত্মসমার্পণ

পত্রদূত ডেস্ক: সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত এবং নিরাপদ রাখতে র‌্যাবের ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে একযোগে চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। গত ৩১ আগস্ট সুন্দরবনে সক্রিয় এসব বাহিনীর সদস্যরা র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ জন রয়েছেন। সব মিলিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন ৫২ জন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) র‌্যাব-৬ সদর দপ্তর, খুলনা থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ওপর জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ হাজার হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড বনজীবী ও স্থানীয় মানুষের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে এর আগে সুন্দরবনের বিভিন্ন জলদস্যু ও বনদস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণকারীদের কয়েকজনের পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়।

একই সঙ্গে জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনাও সামনে আসে।
এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করে। র‌্যাব-৬সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা, সুন্দরবনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধমূলক জীবনের অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।