বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

বনলতা এক্সপ্রেস: জীবনের পথে এক ধ্যানমগ্ন যাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
বনলতা এক্সপ্রেস: জীবনের পথে এক ধ্যানমগ্ন যাত্রা

বিনোদন ডেস্ক; নিজের দেশ থেকে অনেক দূরে বসে একটা সিনেমা দেখলাম – ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এই যে বাংলাদেশ থেকে দূরে বসে বাংলা সিনেমা দেখা- এই দূরত্বই যেন পুরো বিষয়টাকে আরও গভীর করে তুলেছিল। তানিম নূর পরিচালিত সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ হুমায়ূন আহমেদের দার্শনিক ভাবনা থেকে খানিক অনুপ্রাণিত। কেবল গল্পভিত্তিক সিনেমা বানাননি তানিম নুর।

বনলতা এক্সপ্রেস এক বিশেষ অনুভব; যা মৌন আর বহুস্তরের ভাবনা জাগানিয়া। সিনেমার সেই ট্রেনযাত্রার মতোই এগিয়ে চলে এই মগ্ন ঘোরের আবেশ। এই যাত্রা ধীর, অনিবার্য, এবং জীবনের বিচিত্র দুর্বোধ্য মোড় অতিক্রম করে চলে।

সিনেমায় দেখানো এই ট্রেনটি শুধু একটি বাহন নয়। এ যেন জীবনেরই আয়না।

ট্রেনের একেকটি কামরার ভেতর বাস করে এক জীবন্ত বাংলাদেশ—খণ্ড খণ্ড হলেও সব যেন একসূত্রে গাঁথা। ট্রেনে আছে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা এক মন্ত্রী। আছে শোকগ্রস্ত এক বাবা, যিনি হারানোর স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। আছে যন্ত্রণা আর আশার মাঝখানে আটকে থাকা এক গর্ভবতী নারী। আরও আছে একজন চিকিৎসক, যিনি নিজের ভেতরে বয়ে বেড়াচ্ছেন এক ট্র্যাজেডি।

প্রতিটি চরিত্রের আছে নিজের মতো দুঃখ; নিজের মত ভীষণ নীরবতা। এরপরও যখন তাদের গল্পগুলো একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়, তখন এক অসাধারণ সত্য উন্মোচিত হয়—এখানে কেউই আসলে একা নয়।

এক সুতায় অনেক গল্প বুনে নেওয়ার কৌশল জানেন নূর। তাতে এই নিমার্ণ কোনো সরলরৈখিক কাহিনিতে আটকে থাকেনি। ছোট ছোট মুহূর্ত মিলে চোখে সামনে ধরা দেয় বিশাল একটি অর্থপূর্ণ চিত্র। ব্যক্তিগত শোক রূপ নেয় সামষ্টিক গাথায়।

এই সিনেমা উপলব্ধি করায়- জীবনে আনন্দের চেয়ে দুঃখই বেশি। অথচ সেই ক্ষণিকের আনন্দই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।

‘বনলতা এক্সপ্রেস’সিনেমার শক্তি এখানেই—এর উপলব্ধি এককভাবে কোনো শ্রেণি, কণ্ঠ বা দৃষ্টিভঙ্গিতে নিজেকে সীমিত করে রাখে না। বরং প্রান্তিক, অবহেলিত, সাধারণ মানুষের জীবনকে তুলে ধরে সম্মান ও গভীরতার সঙ্গে।

তাই কখনো কখনো মনে হবে, আমরা কোনো সিনেমা দেখছি না—বরং এমন কিছু স্মৃতির ভেতর দিয়ে যাত্রা করছি যা আমরা আগে কখনো নিজেরা নেড়েচেড়ে দেখে উপলব্ধি করতে সক্ষম হইনি।

 

সিনেমা কিছু মুহূর্ত মনের গভীরে দাগ কেটে যায়। একজন বাবা, যিনি নিজের সন্তানের সঙ্গে স্মৃতিগুলো মাটি চাপা দেন। এক মৃত্যুপথযাত্রী নারী, যাকে বাঁচাতে সময়ের বিরুদ্ধেও লড়াই চলে। ওদিকে এক মন্ত্রী, যিনি ক্ষমতার গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের জগতে ফিরে আসেন। এগুলো শুধু দৃশ্য নয়—এগুলো জাতির প্রতিচ্ছবি। এখানে শোক নিজের পথ খুঁজে নেয় সহনশীলতা আর আশার মধ্যে দিয়ে।

এবার সিনেমার গানের কথা বলি। শেষের দিকে আয়ুব বাচ্চুর পরিচিত কণ্ঠ শোনা গেল। তখন আর বিষয়টা শুধুই সিনেমার সমাপ্তি হয়ে থাকে না। বরং অনুভূতিকে বিমূর্ত করে তোলে। পর্দা নিভে যায়,অনুভূতি থেকে যায়—নিজের ভেতরে প্রতিধ্বনি তুলে।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবন কখনো একরৈখিক নয়। জীবন হলো ভাঁজে ভাঁজে দুঃখ দিয়ে গড়া, স্মৃতির সেলাইয়ে বাঁধা, আর সম্পর্কের টানে এগিয়ে চলা যাত্রা।

এই সিনেমার সফলতা এখানেই—বনলতা এক্সপ্রেস এই যাত্রাকে পরিণত করে এক যৌথ অস্তিত্বে।

বনলতা এক্সপ্রেস নামের একটি ট্রেন সামনে এগিয়ে চলেছে। ঠিক আমাদের জীবনের মতোই।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, গোপালগঞ্জ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি; এবং পিএইচডি গবেষক, কার্টিন ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়া।

Ads small one

পাটকেলঘাটায় ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে সোনালী ব্যাংকের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে সোনালী ব্যাংকের মানববন্ধন

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে লেনদেন সম্প্রসারণ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে পাটকেলঘাটার খলিশখালী সোনালী ব্যাংক শাখা পিএলসির উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) দুপুর ১২টায় খলিশখালী সোনালী ব্যাংক শাখার সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক দেবব্রত কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে আয়োজিত মানববন্ধনে কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
জেনারেল ম্যানেজার দেবব্রত কুমার বিশ্বাস জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সনাতন পদ্ধতির নগদ লেনদেনের পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। মোবাইল ফোন ও অনলাইনের মাধ্যমেই এখন থেকে বেশিরভাগ লেনদেন সম্পন্ন হবে।

মণিরামপুরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
মণিরামপুরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুরে খরিপ-২ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চফলনশীল (উফশী ও হাইব্রিড) শাকসবজির বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দেওয়ান আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার, উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হক, মণিরামপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মজনুর রহমান ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের হাতে সবজি বীজ ও সার তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এ সহায়তা পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

আশাশুনির শ্রীউলায় ১২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, চরমে দুর্ভোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনির শ্রীউলায় ১২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, চরমে দুর্ভোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের বাঁশতলা ব্রিজ-ঘোলা খেয়াঘাট-ওয়াপদা হয়ে কাকড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা বছরের পর বছর সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে চলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পাঁচ গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে।
শ্রীউলা ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ওপর এলাকার কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের দৈনন্দিন যাতায়াত নির্ভর করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা জমে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকা- স্থবির হয়ে পড়ে।
শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা লুৎফর রহমান ও ইউপি চেয়ারম্যান দীপঙ্কর বাছাড় জানান, রাস্তাটির পাশে ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি ফাজিল মাদ্রাসা, ৮টি মসজিদ, ৩টি খেয়াঘাট ও অর্ধশতাধিক মুরগির খামার রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাকা করার জন্য তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কাঁচা রাস্তাটি পাকা হলে শ্রীউলা ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের যোগাযোগসংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।