মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

বাংলাদেশের উন্নয়ন: সমস্যার চেয়ে সমাধানই বড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের উন্নয়ন: সমস্যার চেয়ে সমাধানই বড়

হক মো. ইমদাদুল, জাপান

প্রায় চার যুগ দেশের বাইরে কাটিয়েও বাংলাদেশের কথা ভাবা থেকে নিজেকে কখনো দূরে রাখতে পারিনি। বরং দূরত্ব যত বেড়েছে, দেশের প্রতি ভাবনাটা তত গভীর হয়েছে। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে দূর থেকে দেখার সুযোগ যেমন হয়েছে, তেমনি অন্য অনেক দেশের সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনও কাছ থেকে দেখেছি। তাই আজও একটি প্রশ্ন আমাকে ভাবায়Ñবাংলাদেশের মানুষের মেধা, পরিশ্রম ও সম্ভাবনার তুলনায় আমাদের উন্নয়নের গতি কি আরও দ্রুত হতে পারত না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে, আমাদের সমস্যার বড় অংশ অর্থ বা সম্পদের অভাবে নয়। বরং আমরা কীভাবে চিন্তা করি, কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিই এবং উন্নয়নকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করিÑতার মধ্যেও আমাদের অনেক সমস্যার শিকড় লুকিয়ে আছে।

বাংলাদেশে উন্নয়ন হয়েছে, পরিবর্তনও হয়েছেÑএ কথা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য যে উন্নয়নের সুফল সর্বস্তরের মানুষের জীবনে সমানভাবে পৌঁছায়নি এবং বহু পুরোনো সমস্যা এখনো আমাদের পথ আটকে আছে। ফলে এখন প্রশ্ন হওয়া উচিত শুধু ‘আর কত উন্নয়ন হয়েছে’ নয়; বরং ‘যে উন্নয়ন হয়েছে, তার প্রতিটি বিনিয়োগ ও উদ্যোগ থেকে আমরা আরও বেশি ফল পেতে পারতাম কি না’। সীমিত সম্পদ, সীমিত সময় এবং বিপুল জনসংখ্যার একটি দেশে এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা অনেক সময় উন্নয়নকে বড় প্রকল্পের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। নতুন সেতু, মহাসড়ক, ভবন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান কিংবা নগর অবকাঠামো নিঃসন্দেহে উন্নয়নের প্রয়োজনীয় অংশ। কিন্তু উন্নয়নের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য স্থাপনা তৈরি করা নয়; মানুষের জীবনকে সহজ, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় করা। একজন কৃষক তার উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন কি না, একজন শ্রমিক নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাচ্ছেন কি না, একজন তরুণ নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পাচ্ছেন কি না, একটি পরিবার সন্তানকে ভালো শিক্ষা ও চিকিৎসা দিতে পারছে কি নাÑএই বাস্তব প্রশ্নগুলোর উত্তরেই উন্নয়নের প্রকৃত সাফল্য নিহিত। এই জায়গায় এসে আমাদের চিন্তার একটি বড় পরিবর্তন প্রয়োজন। আমরা সমস্যার কথা বলতে পারি, ব্যর্থতার কথা বলতে পারি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারিÑএগুলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু সমস্যা চিহ্নিত করার পর আমাদের আলোচনা কতটা দ্রুত সমাধানের দিকে যায়, সেটিও একটি জাতির পরিণত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। কোনো সমস্যাকে দীর্ঘদিন ধরে শুধু সমস্যা হিসেবে আলোচনা করতে থাকলে মানুষের মধ্যে একসময় হতাশা তৈরি হয়; কিন্তু একই সমস্যার কারণ, সম্ভাব্য সমাধান এবং কোথাও কার্যকর কোনো উদাহরণ নিয়ে আলোচনা হলে সেই সমস্যাই পরিবর্তনের সুযোগে পরিণত হতে পারে।

এখানেই সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বের কথা আসে। একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের কাজ কখনোই অন্যায় বা অপরাধ আড়াল করা নয়। চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা সামাজিক অনিয়মÑএসবের অনুসন্ধান ও প্রকাশ সংবাদপত্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। কিন্তু সংবাদমাধ্যম যদি সমাজের অন্ধকারের ওপর এত বেশি আলো ফেলে যে সমাজের সম্ভাবনা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের জায়গাগুলো প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়, তাহলে পাঠকের সামনে দেশের একটি অসম্পূর্ণ চিত্র তৈরি হয়।

একজন সম্পাদককে তাই শুধু ‘কোন খবরটি বেশি মানুষ পড়বে’Ñএই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেই চলবে না; তাকে এটিও ভাবতে হবে, ‘কোন খবরটি মানুষের চিন্তাকে সমৃদ্ধ করবে এবং সমাজকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে’। কোনো এলাকায় অপরাধ বেড়েছেÑতার খবর অবশ্যই হবে। কিন্তু কেন বেড়েছে, এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ কী, অন্য কোথাও কীভাবে একই সমস্যা কমানো হয়েছে এবং সেই অভিজ্ঞতা আমাদের দেশে কাজে লাগানো যায় কি নাÑএসব প্রশ্নও সংবাদে আসা দরকার। একইভাবে কোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান খারাপ হলে সেটি যেমন সংবাদ, তেমনি সীমিত সম্পদের মধ্যেও কোনো বিদ্যালয় অসাধারণ ফল করলে তার সাফল্যের কারণ খুঁজে বের করাও সংবাদ। কৃষিতে কোনো সংকট দেখা দিলে ক্ষতির হিসাব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কোনো কৃষক বা প্রতিষ্ঠান কীভাবে সেই সংকট মোকাবিলা করেছে, সেটিও জানা দরকার।

এই ধরনের সাংবাদিকতা সমস্যাকে ছোট করে না; বরং সমস্যার গভীরে নিয়ে যায়। কারণ শুধু ‘কী ঘটেছে’ জানা আর ‘কেন ঘটেছে এবং কীভাবে পরিবর্তন সম্ভব’ জানা এক বিষয় নয়। একটি পরিণত সংবাদমাধ্যম মানুষের কৌতূহল মেটানোর পাশাপাশি মানুষের বিচারবোধ ও চিন্তাশক্তিকেও সমৃদ্ধ করে। সংবাদপত্র তখন শুধু সংবাদপত্র থাকে না; সমাজের চিন্তা গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে।

তবে সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তনের কথা বলতে গিয়ে পাঠকের ভূমিকাও ভুলে গেলে চলবে না। আমরা যে খবরকে বেশি পড়ি, আলোচনা করি এবং ছড়িয়ে দিই, প্রকাশকের বাণিজ্যিক বাস্তবতা অনেক সময় সেই চাহিদার প্রতিফলন ঘটায়। তাই পাঠকেরও নিজের সংবাদ-রুচি নিয়ে ভাবতে হবে। আমরা কি শুধু চাঞ্চল্যকর ঘটনা জানতে চাই, নাকি সেই ঘটনার পেছনের কারণ ও সমাধানও জানতে চাই? আমরা কি শুধু কার ব্যর্থতা হয়েছে তা জানতে চাই, নাকি কে ভালো কাজ করছে এবং তার কাছ থেকে কী শেখা যায় সেটিও জানতে চাই? পাঠকের এই পরিবর্তন সংবাদমাধ্যমের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবচেয়ে বড়Ñএ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আইন, বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরির প্রধান দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু রাষ্ট্র একা উন্নত সমাজ তৈরি করতে পারে না। নাগরিকের আচরণ, ব্যবসায়িক নৈতিকতা, প্রশাসনিক সংস্কৃতি, শিক্ষার মান, সামাজিক মূল্যবোধ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিÑসবকিছু মিলেই একটি দেশের উন্নয়নের ভিত তৈরি হয়।

আমরা যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলি, কিন্তু নিজের সুবিধার জন্য নিয়ম ভাঙাকে স্বাভাবিক মনে করি, তাহলে পরিবর্তন অসম্পূর্ণ থাকবে। আমরা যদি পরিচ্ছন্ন শহর চাই, কিন্তু নিজের ময়লা যেখানে-সেখানে ফেলি, তাহলে শুধু পৌরসভাকে দায়ী করে লাভ নেই। আমরা যদি ন্যায়বিচার চাই, কিন্তু নিজের স্বার্থে অন্যের অধিকারকে উপেক্ষা করি, তাহলে আমাদের দাবি ও আচরণের মধ্যে একটি মৌলিক অসঙ্গতি থেকে যায়। উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে আমাদের যে শিক্ষা নেওয়া সবচেয়ে জরুরি, তার একটি হলোÑআইন ও প্রতিষ্ঠান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দৈনন্দিন জীবনে দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণও উন্নয়নের ভিত্তি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মানুষ। আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠী, কৃষকের শ্রম, উদ্যোক্তার সাহস, প্রবাসীদের দক্ষতা, গবেষকদের মেধা এবং সাধারণ মানুষের প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতাÑএসবকে বিচ্ছিন্ন শক্তি হিসেবে রেখে দিলে তার পূর্ণ মূল্য পাওয়া যাবে না। প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে শিক্ষা মানুষকে শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত করবে না, দক্ষতা ও উদ্ভাবনের জন্য প্রস্তুত করবে; যেখানে ব্যবসা শুধু মুনাফা নয়, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার কথাও ভাববে; যেখানে প্রবাসীদের অবদান শুধু অর্থ পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাও দেশের কাজে লাগবে।

আমাদের উন্নয়নের হিসাবেও তাই একটি পরিবর্তন প্রয়োজন। একটি প্রকল্পে কত টাকা খরচ হলো, কত বড় স্থাপনা তৈরি হলোÑএসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কিন্তু এর সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হওয়া উচিত: মানুষের জীবন কতটা বদলেছে? কতজনের কর্মসংস্থান হয়েছে? সেবার মান কতটা বেড়েছে? অপচয় কতটা কমেছে? প্রকল্পটি কতটা টেকসই? অর্থাৎ উন্নয়নের মূল্যায়ন শুধু ব্যয়ের অঙ্কে নয়, মানুষের জীবনে তৈরি হওয়া পরিবর্তনের অঙ্কে হওয়া উচিত।

আমার মনে হয়, বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজগুলোর একটি হলো জাতীয় আলোচনার ভাষা বদলানো। আমরা যেন শুধু ‘কে দোষী’ প্রশ্নে আটকে না থেকে ‘কীভাবে ঠিক করা যায়’ প্রশ্নটিকেও সমান গুরুত্ব দিই। শুধু ব্যর্থতার উদাহরণ খুঁজে না বেড়িয়ে সফলতার কারণ অনুসন্ধান করি। শুধু অধিকার নিয়ে কথা না বলে দায়িত্বের কথাও বলি। শুধু সরকারের কাছে প্রত্যাশা না রেখে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কী করা যায়, সেটিও বিবেচনা করি। একটি জাতির অগ্রগতি শুরু হয় তখনই, যখন তার মানুষ সমস্যাকে শুধু অভিযোগের বিষয় হিসেবে নয়, সমাধানের দায়িত্ব হিসেবেও দেখতে শেখে।

প্রায় চার যুগ দেশের বাইরে থেকেও তাই দেশের উন্নয়নের প্রশ্নটি আমার কাছে শেষ হয়ে যায়নি। বরং সময় যত গেছে, প্রশ্নটি আরও স্পষ্ট হয়েছেÑআমরা কি আমাদের সীমিত সম্পদকে সর্বোচ্চ দক্ষতায় ব্যবহার করছি? আমরা কি মানুষের মেধা ও শ্রমের যথাযথ মূল্য দিচ্ছি? আমরা কি আমাদের সন্তানদের শুধু পরীক্ষায় সফল হওয়ার শিক্ষা দিচ্ছি, নাকি জীবন ও সমাজের সমস্যা সমাধানের শিক্ষা দিচ্ছি? আমাদের সংবাদমাধ্যম কি শুধু সমাজের ক্ষত দেখাচ্ছে, নাকি সুস্থতার পথও দেখাচ্ছে? আমাদের জাতীয় আলোচনায় কি সমস্যার পাশাপাশি সমাধানের যথেষ্ট জায়গা আছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একদিনে পাওয়া যাবে না। কিন্তু প্রশ্নগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবা শুরু করাই পরিবর্তনের শুরু হতে পারে। বাংলাদেশের উন্নয়ন থেমে নেই; বরং আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই উন্নয়নের গতি, মান ও সুফলকে আরও বহুগুণ বাড়ানো। তার জন্য অর্থনীতি যেমন বদলাতে হবে, প্রতিষ্ঠান যেমন শক্তিশালী করতে হবে, তেমনি আমাদের চিন্তার ধরনও বদলাতে হবে।
আমরা যদি সত্যিই দ্রুত উন্নত বাংলাদেশ চাই, তাহলে শুধু আরও বেশি সম্পদ নয়Ñসম্পদের আরও ভালো ব্যবহার, শুধু আরও বেশি প্রকল্প নয়Ñআরও ভালো অগ্রাধিকার, শুধু আরও বেশি সংবাদ নয়Ñআরও দায়িত্বশীল সংবাদ এবং শুধু অন্যের পরিবর্তনের দাবি নয়Ñনিজেদের পরিবর্তনের সাহস প্রয়োজন।

কারণ শেষ পর্যন্ত কোনো দেশ বাইরে থেকে এসে বদলে দিয়ে যায় না।
একটি দেশ বদলায় তার নিজের মানুষ যখন সিদ্ধান্ত নেয়Ñসমস্যার কাছে আমরা আর শুধু অভিযোগকারী হয়ে থাকব না; আমরা তার সমাধানের অংশ হব। বাংলাদেশের সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই।

হক মো. ইমদাদুল, জাপান: লেখক, সংগ্রাহক ও গবেষক

Ads small one

আশাশুনিতে ৭৫৫ জন নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে ৭৫৫ জন নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য প্রদান

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটিতে ৭৫৫ জন নি¤œআয়ের মানুষের মাঝে সরকার অনুমোদিত স্বল্পমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দরগাপুর ইউনিয়নের খরিয়াটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ পণ্য বিতরণ করা হয়। ‘প্রাণের আলো ফাউন্ডেশন’ ও ‘ডেইলী সেবা বাংলাদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের ডিলার রিলেশন অফিসার রাসালে আহমেদ, দরগাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক মোহাম্মাদ হাফিজুল ইসলাম, খরিয়াটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বিতরণকৃত প্যাকেজে সয়াবিন তেল, ডাল, আটা, লবণ, সরিষার তেল, ডিটারজেন্ট, সাবান ও ডিশ ওয়াশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রতিটি প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৬৩০ টাকা। পর্যায়ক্রমে জেলার সব ইউনিয়নে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

কালিগঞ্জে ছাত্রীকে বিয়ের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে, প্রশাসনিক ব্যবস্থার ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
কালিগঞ্জে ছাত্রীকে বিয়ের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে, প্রশাসনিক ব্যবস্থার ঘোষণা

কৃষ্ণনগর (কালিগঞ্জ) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে আরবি শিক্ষক মো. মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে। বালিয়াডাঙ্গা মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার বহিষ্কৃত এই সহকারী মৌলভীর বিরুদ্ধে এখন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অর্ণা চক্রবর্তী জানান, ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে গিয়ে জানা যায়, তাঁদের পৌঁছানোর আগেই বিয়ে সম্পন্ন করে বর-কনে কেটে পড়েছেন।
কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে করার অভিযোগে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত ২৫ আগস্ট শিক্ষার্থীকে নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাহবুব আলমকে বহিষ্কার করেছিল। অপহরণের অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান।

জিপিএস প্রযুক্তিতে ইজিবাইক উদ্ধার, অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
জিপিএস প্রযুক্তিতে ইজিবাইক উদ্ধার, অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে চুরি হওয়া একটি ইজিবাইক জিপিএস ট্র্যাকার প্রযুক্তির সাহায্যে শনাক্ত করে উদ্ধার করা হয়েছে। ৩১ আগস্ট দিবাগত রাতে ভুরুলিয়া ইউনিয়নের জাহাজঘাটা এলাকার রাশিদুল ইসলামের বাড়ির সামনে থেকে ইজিবাইকটি চুরি হয়। পরদিন সকালে জিপিএস অবস্থানের সূত্র ধরে চালকেরা আশাশুনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুজাহিদ (৩৫) নামের এক যুবককে ইজিবাইকসহ আটক করেন।
পরে তাঁর দেওয়া তথ্যে মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের নির্দেশে শেখ উজ্জ্বল হোসেন (৪৫) নামের অপর এক সহযোগীকে আটক করা হয়। তবে পুলিশি প্রক্রিয়ায় মামলা না করে ইউপি চেয়ারম্যান তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৌতলা ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়ল জানান, পুলিশকে জানিয়ে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, চোর আটকের বিষয়ে তিনি অবগত নন।