শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বাইনতলায় জামায়াতের অফিস উদ্বোধন: সংখ্যালঘুদের পাশে থাকার বার্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
বাইনতলায় জামায়াতের অফিস উদ্বোধন: সংখ্যালঘুদের পাশে থাকার বার্তা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাইনতলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে।

অফিস উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও আশাশুনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আইনজীবী আব্দুস সুবহান মুকুল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকার রয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সামাজিক দায়িত্ব। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে যেন কেউ বৈষম্য বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। রাজনীতিকে জনসেবার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে সৎ ও নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বড়দল ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল ওয়াজেদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি সেকেন্দার আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক শাহজাহান হোসেন, উপজেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি মাওলানা আতাউর রহমান, বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল গফুর সানা, অধ্যাপক দীপ্র কুমার ম-ল, শ্রমিক কল্যাণ নেতা হাবিবুর রহমান, ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি জিয়ারুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাসুম বিল্লাহ, শাহীন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী স্থানীয় প্রতিনিধি অরবিন্দু ও উজ্জ্বল।

 

মিলাদ ও কার্যালয় উদ্বোধন শেষে জামায়াত নেতারা বাইনতলার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের সঙ্গে গণসংযোগ ও মতবিনিময় করেন।

Ads small one

শ্যামনগরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

দুই ভাইকে লাইসেন্স প্রদানসহ অর্থ লেনদেনের দাবি

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি সার ডিলারের লাইসেন্স বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি, নিয়ম লঙ্ঘন ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় পদে থাকা আপন দুই ভাইয়ের একই সঙ্গে ডিলারশিপ পাওয়া এবং মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেনের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশ ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত তালিকায় শ্যামনগর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের জন্য মোট ১২ জন ডিলারের নাম চূড়ান্ত করা হয়। তালিকা প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় নেতাকর্মী ও বঞ্চিত আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মনোনীত ডিলারদের মধ্যে শ্যামনগর পৌরসভার জন্য ‘মেসার্স ফাহাদ এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক শামসুদ্দোহা টুটুল এবং তাঁর বড় ভাই আবু এহিয়া মোর্তজার মালিকানাধীন ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’ লাইসেন্স পেয়েছে। তাঁদের মধ্যে শামসুদ্দোহা টুটুল পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব এবং আবু এহিয়া মোর্তজা জামায়াতের রোকন। ভিন্ন মেরুর রাজনীতি করলেও একই পরিবার থেকে দুজনকে ডিলারশিপ না দেওয়ার বিধান লঙ্ঘন করে ব্যবসায়িক স্বার্থে দুটি লাইসেন্স বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, আবেদনের নির্ধারিত সময়সীমা (১০ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটা) পার হওয়ার পরদিন প্রভাব খাটিয়ে আবেদনপত্র জমা দেন শামসুদ্দোহা টুটুল। কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তালিকার এক নম্বরে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করান তিনি। নকিপুর গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান জানান, নির্দিষ্ট সময়ে আবেদন জমা নেওয়ার পর কর্মকর্তা রেজিস্টারের ছবি তুলে রাখলেও পরদিন অনৈতিক উপায়ে শামসুদ্দোহার আবেদন গ্রহণ করে রাজনৈতিক সুপারিশ নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে বাদঘাটার বাসিন্দা রানা অভিযোগ করেন, কায়িক শ্রম ও সব শর্ত পূরণ সত্ত্বেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে দুই ভাইকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে কথা বলতে ফোন করা হলে দুই ভাইয়ের কেউই সাড়া দেননি।

এদিকে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের একাংশের দাবি, উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সুপারিশ এবং জেলা কমিটির অনুমোদনে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যক্তিদের চূড়ান্ত তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও পদধারীদের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, শ্যামনগর পৌরসভায় সামছুজ্জোহা টুটুল, পদ্মপুকুরে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব এস এম কামরুজ্জামান, গাবুরায় জেলা কৃষক দলের সভাপতি সালাউদ্দীন লিটন এবং ঈশ্বরীপুরে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম মনোনীত হয়েছেন। তবে ভুরুলিয়া ইউনিয়নে মনোনীত হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়সাল হোসেন আলভি। কৈখালী ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নেও ডিলারশিপের বিনিময়ে তিন লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসিফ মাহমুদ রিপন ও শ্যামনগর উপজেলা জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন হোসেন। রিপন জানান, একাধিক মামলায় কারাবরণ করার পরও অনৈতিক সুবিধা দিতে না পারায় তাঁকে বাদ দিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে মনিরুল ইসলাম নামের একজনকে সুপারিশ করা হয়েছে। আল আমিন জানান, সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করলেও শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে ফয়সাল হোসেনকে মনোনীত করা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিএম লিয়াকত আলী বলেন, ডিলারশিপের ক্ষেত্রে নূন্যতম প্রাধান্য না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে ও স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে, যা ত্যাগী কর্মীরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। ভুরুলিয়া ইউনিয়ন থেকে ১৪ জন আবেদন করলেও বিএনপি নেতারা তালিকার ১ নম্বরে এবং তাঁর বোনকে ৩ নম্বরে রেখে সুপারিশ পাঠান।

জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন ইসলাম জানান, আংশিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জেলা প্রশাসক চূড়ান্ত সুপারিশ অনুমোদন করে থাকতে পারেন। অনিয়মের মাধ্যমে তালিকায় স্থান পাওয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে দ্রুত নতুন তালিকা তৈরি করা না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলায়মান কবির। তিনি দাবি করেন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় ডিলারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। টাকা লেনদেন বা অর্থের বিনিময়ে সুপারিশ করার দাবি পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

 

 

উমার কাছে প্রার্থনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
উমার কাছে প্রার্থনা

সুশান্ত কুমার দে
নীল আকাশে সাদা মেঘে খবর এসেছে
কাশফুলের দেশে হঠাৎই’ উমা এসেছে।”
ঘোড়া ছুটিয়ে টগবগিয়ে কখন এলে মা?
আমরা সব ষষ্ঠী তলায় করছি অপেক্ষা!

অত্যাচারী মহিষাশুরের ভাঙতে অহঙ্কার
দশভুজা মায়ের দশহস্তে, অস্ত্রের সম্ভার!
উমা তোমার সিংহরাজ, যায় যদি ক্ষেপে
মর্ত্যে সব অসুরদের মারতে পারে চেপে।

বছর বছর আসে উমা? অসুর তবু বাড়ে
এক অসুর বধ করো, অন্য অসুর ছাড়ে?
উমার সেবায় সারা গাঁয়ের পড়ে যায় ধুম
ঘাপটি মেরে তবুও উমা, পড়ো তুমি ঘুম?

নিরাকার মূর্তি তোমার, সাকার দিই রূপ
তবু কেন ভক্তের ডাকে, থাকো নিশ্চুপ?
তোর মাগো, পূজা দিই ধুপ -দীপ জ্বেলে
তবুও তোর সন্তানদের দূরে দিস ঠেলে?

গুড়পুকুর মেলায় ঢল: শরতের ছুটির বিকেলে উৎসবের আমেজ, ভিড়ের চাপে বিশৃঙ্খলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
গুড়পুকুর মেলায় ঢল: শরতের ছুটির বিকেলে উৎসবের আমেজ, ভিড়ের চাপে বিশৃঙ্খলা

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস: আশ্বিনের মেঘ কাটিয়ে সোনালি রোদের দিন শেষে ছুটির বিকেলে জমে উঠেছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা। আগের দিনের বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ার ধকল কাটিয়ে শুক্রবার পহেলা শরতের আমেজে ঢল নেমেছিল দর্শনার্থীদের। নবম দিনে শহরের শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্ক প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে এক আনন্দমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়।

দুপুর গড়িয়ে গোধূলির আলো ফোটার আগেই পরিবার-পরিজন নিয়ে কেনাকাটা আর বিনোদনের খোঁজে প্রাঙ্গণে হাজির হন হাজারো মানুষ। তৈরি পোশাক, প্রসাধনী, শিশুদের খেলনা ও নানা গৃহস্থালি সামগ্রীর পশরা সাজিয়ে বসা দোকানগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়ে। ছুটির দিনের এমন উপচে পড়া ভিড়ে শেষ পর্যন্ত মেলার কেনাবেচায় হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ীদের মুখে।

তবে মেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান ‘নৌকা নাগরদোলা’ চত্বরে অতিরিক্ত জনস্রোতের কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে বখাটেদের অশালীন আচরণ এবং হাতাহাতির মতো ঘটনার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নারী দর্শনার্থী। তা ছাড়া অসাবধানতার সুযোগে একাধিক মানুষের মুঠোফোন চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে খবর পাওয়া যায়।

মেলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পিকেট-১-এর উপপরিদর্শক (এসআই) মিন্টু জানান, মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। নৌকার স্থানে সাময়িক ভিড়ের কারণে কিছু সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেও পুলিশ গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে চুরি সম্পর্কিত আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি বলে জানান তিনি।

দর্শনার্থীদের বাড়তি চাপ সামলাতে ও উৎসবে বাড়তি আনন্দ যোগাতে মেলা পরিচালনা কমিটি মেলার সময় দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত নির্ধারণ করে। পরিচালনা কমিটির সদস্য সাগর শিকদার জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিনের বিপুল উপস্থিতি বিবেচনায় রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তী দিনগুলোতেও এ ব্যবস্থা থাকবে কি না, তা সমন্বয় করে শনিবার জানানো হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে মেলা প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত থাকবে।

দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর তিন শ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা এবার পুনরায় ফিরে এসেছে। জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে গত ১ অক্টোবর শুরু হওয়া এই গুড়পুকুর মেলা আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।