শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

গুড়পুকুর মেলায় ঢল: শরতের ছুটির বিকেলে উৎসবের আমেজ, ভিড়ের চাপে বিশৃঙ্খলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
গুড়পুকুর মেলায় ঢল: শরতের ছুটির বিকেলে উৎসবের আমেজ, ভিড়ের চাপে বিশৃঙ্খলা

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস: আশ্বিনের মেঘ কাটিয়ে সোনালি রোদের দিন শেষে ছুটির বিকেলে জমে উঠেছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা। আগের দিনের বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ার ধকল কাটিয়ে শুক্রবার পহেলা শরতের আমেজে ঢল নেমেছিল দর্শনার্থীদের। নবম দিনে শহরের শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্ক প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে এক আনন্দমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়।

দুপুর গড়িয়ে গোধূলির আলো ফোটার আগেই পরিবার-পরিজন নিয়ে কেনাকাটা আর বিনোদনের খোঁজে প্রাঙ্গণে হাজির হন হাজারো মানুষ। তৈরি পোশাক, প্রসাধনী, শিশুদের খেলনা ও নানা গৃহস্থালি সামগ্রীর পশরা সাজিয়ে বসা দোকানগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়ে। ছুটির দিনের এমন উপচে পড়া ভিড়ে শেষ পর্যন্ত মেলার কেনাবেচায় হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ীদের মুখে।

তবে মেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান ‘নৌকা নাগরদোলা’ চত্বরে অতিরিক্ত জনস্রোতের কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে বখাটেদের অশালীন আচরণ এবং হাতাহাতির মতো ঘটনার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নারী দর্শনার্থী। তা ছাড়া অসাবধানতার সুযোগে একাধিক মানুষের মুঠোফোন চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে খবর পাওয়া যায়।

মেলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পিকেট-১-এর উপপরিদর্শক (এসআই) মিন্টু জানান, মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। নৌকার স্থানে সাময়িক ভিড়ের কারণে কিছু সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেও পুলিশ গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে চুরি সম্পর্কিত আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি বলে জানান তিনি।

দর্শনার্থীদের বাড়তি চাপ সামলাতে ও উৎসবে বাড়তি আনন্দ যোগাতে মেলা পরিচালনা কমিটি মেলার সময় দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত নির্ধারণ করে। পরিচালনা কমিটির সদস্য সাগর শিকদার জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিনের বিপুল উপস্থিতি বিবেচনায় রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তী দিনগুলোতেও এ ব্যবস্থা থাকবে কি না, তা সমন্বয় করে শনিবার জানানো হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে মেলা প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত থাকবে।

দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর তিন শ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা এবার পুনরায় ফিরে এসেছে। জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে গত ১ অক্টোবর শুরু হওয়া এই গুড়পুকুর মেলা আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

Ads small one

গ্রেফতার এড়াতে লিঙ্গ পরিবর্তন, ৮ বছর পর ধরা পড়লেন পলাতক আসামি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
গ্রেফতার এড়াতে লিঙ্গ পরিবর্তন, ৮ বছর পর ধরা পড়লেন পলাতক আসামি

আইনের চোখকে ফাঁকি দিতে মানুষ কত কৌশলই না অবলম্বন করে! কিন্তু কারাদণ্ড এড়াতে নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করে বোন সেজে থাকার মতো ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ২০১৮ সাল থেকে পলাতক তোঘরুল বাশার নামের এক ব্যক্তি ঠিক এই অবিশ্বাস্য কাণ্ডটিই ঘটিয়েছেন। অবশেষে দীর্ঘ আট বছর পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

২০১০ সালে সরকারি কর্মকর্তা সেজে তিনটি চুরির ঘটনায় তোঘরুল বাশারকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। কিন্তু ২০১৮ সালে সাজা এড়াতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। সম্প্রতি ইস্তাম্বুলের কাদিকোয় জেলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের ধরতে এক বিশেষ অভিযান শুরু হলে পুলিশ বাশারের সন্ধান পায়।

তবে পুলিশকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে বাশারের আত্মগোপনের অদ্ভুত কৌশল। তিনি হুবহু তার বোনের রূপ ধারণ করেছিলেন এবং নিজের চেহারা এতটাই বদলে ফেলেছিলেন যে তাকে চেনার কোনও উপায় ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে তিনি একজন রূপান্তরকামী নারী হিসেবে বাস করছিলেন।

পুলিশ বাশারের পরিবার ও পরিচিতদের ওপর প্রযুক্তিগত নজরদারি চালিয়ে এই জট খোলে। তদন্তে দেখা যায়, তার বোনের বাড়িতে দুজন তরুণী বসবাস করছেন এবং ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময় তারা দুজনেই একই পরিচয়পত্র ব্যবহার করছেন। পুরোনো ছবির সঙ্গে চেহারার কোনও মিল না থাকায় পুলিশ ওই রহস্যময় নারীকে অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেয়। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর বাশারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তার কাছে তার বোনের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়, তবে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনিই পলাতক বাশার। কিছু সূত্রে তার ছদ্মবেশ ধারণের কথা বলা হলেও অন্য বেশ কিছু সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে তিনি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করেছিলেন। অবশ্য এসবের কোনোটিই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

তবে দৈহিক পরিবর্তন বা নিজস্ব পরিচয় যাই হোক না কেন, তুরস্কের আইন অনুযায়ী বাশারকে পুরুষদের কারাগারেই সাজা ভোগ করতে হবে। কারণ তুরস্কের সরকারি সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমে তিনি কখনোই নিজের নাম বা লিঙ্গ পরিবর্তন করেননি। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা লিঙ্গ অনুযায়ী তাকে পুরুষদের কারাগারেই পাঠানো হচ্ছে।

সূত্র: ওডিটি সেন্ট্রাল

স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস আজ

দেশে নারীদের বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হচ্ছে স্তন ক্যানসার। সঠিক সময়ে শনাক্ত না হওয়ায় এবং সচেতনতার অভাবে প্রতি বছর বহু নারীর মৃত্যু হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই জাতীয় পর্যায়ে স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ যৌথভাবে সংলাপ ও গোলাপি শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে।

শনিবার সকাল ১০টায় বিএমইউ’র ডা. মিলন হলে ‘স্তন ক্যানসারের বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। পরে বেলা ১১টায় শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত গোলাপি শোভাযাত্রা ও লিফলেট বিতরণ করা হবে।

সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। তিনি জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের ক্যানসার ইপিডেমিওলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং বর্তমানে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী।

সংলাপে অংশ নেবেন বিএমইউ’র ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতারসহ ফোরামের নেতারা। অনুষ্ঠানে ফোরামের তিন সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বেসরকারিভাবে স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস পালন করে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে অক্টোবর মাসজুড়ে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়।

এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে আলোচনা সভা, এলাকাভিত্তিক পথসভা ও গোলাপি শোভাযাত্রা। এ ছাড়া গোলাপি রঙে সাজানো বাস নিয়ে বিভিন্ন সড়কে প্রচার কার্যক্রম চালানো হয়।

বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী এবং গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ‘‘প্রাথমিক পর্যায়ে যদি শনাক্ত করা হয়, তবে স্তন ক্যানসারের ৯০ শতাংশ রোগীর সঠিক এবং সম্পূর্ণ চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘প্রাথমিক পর্যায়ে যদি স্তন ক্যানসার ধরা পড়ে তবে এটি নিরাময়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে, যা নারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনে।

আইএআরসি রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১২,৭৬৪ জন নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং ৬৮৪৪ জন মারা যান। তিনি সবসময় জোর দেন, বাংলাদেশের মতো স্বল্প সম্পদের দেশে দামি মেশিনের চেয়ে সচেতনতা, নিয়মিত সেলফ এক্সামিনেশন, মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানো এবং তৃণমূল পর্যায়ে কম খরচে স্ক্রিনিং ক্যাম্পই পারে মৃত্যুহার কমাতে।

কবি হতে আসেনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
কবি হতে আসেনি

ফারুক আহম্মেদ জীবন
আমি তো তোমাদের মাঝে
কবি হতে আসেনি
কেনো তোমরা আমাকে কবি বলো?
আমি তো রবি হয়ে তিমির অমানিশা দূর করতে
আলোক শিখা বিলাতে এসেছি,
বৃষ্টি হয়ে ঝরবো বলে মেঘ হয়ে ভেসেছি।
আমি নিরর্থক আসেনি
আমি তো এসেছি একজন স্বার্থক প্রেমিক হতে
কারোর প্রেমে পড়তে,
কারোর ভগ্ন হৃদয় গড়তে।
এসেছি প্রেম দিতে এসেছি প্রেম নিতে
এসেছি মন উজাড় করে সবাইকে ভালোবাসতে
ভালোবাসা পেতে ভালোবাসা দিতে,
এসেছি ঝা-া হাতে প্রতিবাদের মশাল জ্বালাতে
জালেম শোষকের মসনদ টলাতে
অন্যায় জুলুম অবিচার থামাতে
মুক্তির বিপ্লব ঘটাতে।
তবে, কেনো তোমরা আমাকে কবি বলো?
আমি তো তোমাদের মাঝে
কবি হতে আসেনি
তবে হ্যাঁ, আমি নিরর্থক আসেনি
আমি তো এসেছি একজন স্বার্থক প্রেমিক হতে
কিন্তু দ্যাখো কারোর চোখে
তেমন ভালো প্রেমিকটাও সেটাও হতে পারলাম না
অবশেষে চেয়েছিলাম ধর্মের ছায়াতলে থেকে
একজন ভালো ধার্মিক হব
যাতে রবের ভালোবাসা সুদৃষ্টি পাবো
কিন্তু আমি তেমন ধার্মিকও হতে পারলাম না
চাওয়া-পাওয়া অনর্থক হলো।
আমি তো এসেছি আজ আমাতে যা-কিছু আছে
তোমাদের দিয়ে যেতে সবি,
যেদিন রবো না আর এই ভূমত্ত্ব কুল মাঝে
মানব কায়াতে এই ধরাধামে
সেদিন সমাদরে স্মরণটুকু করো আজকের নামে
আমি হব যেদিন ছবি।