বায়নাপত্রের শর্ত ভেঙে জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
নিজস্ব প্রতিনিধি: জমির পুরো মূল্য পরিশোধ কিংবা রেজিস্ট্রি না করেই চুক্তিপত্রের (বায়নাপত্র) সুযোগ নিয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই করে, জমির মালিকের অনুপস্থিতিতে জোরপূর্বক ঘরবাড়ি নির্মাণ শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা ও সুলতান বড় বাজারের ব্যবসায়ী মো. জবেদ আলী এই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর মৌজায় জবেদ আলীর ১৪৭ শতক জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই জমি প্লট আকারে বিক্রি করছেন। এই জমি থেকে একটি প্লট কেনার জন্য পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার আব্দুল শাহীন চুক্তি করেছিলেন। ৯ লাখ টাকা মূল্যের ওই প্লটের বিপরীতে ৩ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি অনিবন্ধিত বায়নাপত্র করা হয়। শর্ত ছিল, গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ বাকি ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করে সাফ-কবালা দলিল রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও আব্দুল শাহীন বাকি টাকা দেননি। কোনো প্রকার রেজিস্ট্রি ছাড়াই তিনি ওই জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন।
অনুরূপভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানান জবেদ আলী। একই মৌজার আরেকটি ৩ শতকের প্লট কেনার জন্য পুরাতন সাতক্ষীরার ভাঙাড়িপাড়া এলাকার আব্দুল হক চুক্তি করেছিলেন। ১০ লাখ টাকা মূল্যের জমির বিপরীতে গত বছরের ১২ মে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে ৬ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে বায়নাপত্র করেন তিনি। শর্ত অনুযায়ী, গত বছরের ১১ নভেম্বরের মধ্যে বাকি ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করে জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আব্দুল হকও বাকি টাকা না দিয়ে ক্ষমতার দাপটে জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করেছেন।
ভুক্তভোগী জবেদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তিনি কিছুদিন ঢাকায় ছিলেন। এই অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো বৈধ নকশা বা অনুমোদন ছাড়াই জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। ঢাকা থেকে ফিরে এর প্রতিবাদ জানালে এবং কাজে বাধা দিতে গেলে উল্টো নানা রকম ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
জবেদ আলী আরও উল্লেখ করেন, ১০০ টাকার সাধারণ নন-জুডিশিয়াল বায়নাপত্র কোনোভাবেই জমির মালিকানা বা স্থাপনা নির্মাণের অধিকার দেয় না। আইনগত ভিত্তি ছাড়া এবং শর্ত লঙ্ঘন করে এই জমি দখল সম্পূর্ণ অবৈধ। ভূমিদস্যুতা রোধ ও নিজের সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেতে তিনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।









