বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে অনাবাদী জমি এখন তরমুজের ক্ষেত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে অনাবাদী জমি এখন তরমুজের ক্ষেত

নাজমুল শাহাদাৎ (জাকির): সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে এক সময় আমন পরবর্তী সময়ে শতশত হেক্টর জমি অনাবাদী পড়ে থাকত। কিন্তু সেই চিত্র এখন বদলে দিয়েছে পাঁচ শতকের ‘মিনি পুকুর’ প্রযুক্তি। বর্ষার বৃষ্টির পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তরমুজ খেতে সেচ দেওয়ার এই কৌশলটিই এখন আশাশুনি ও শ্যামনগরের প্রান্তিক চাষিদের ভাগ্য বদলের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে লোনা জমিতে তরমুজ চাষে সফল হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরা জেলায় ৪৭১ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলায়। লোনা পানির প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ‘ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন’ প্রকল্পের আওতায় খনন করা মিনি পুকুরগুলোই এখন এসব উপজেলায় সেচের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে।

উপকূলের কৃষকদের কাছে এই মিনি পুকুর মূলত একটি ‘মিষ্টি পানির প্রাকৃতিক ব্যাংক’। এটি সাধারণত চাষযোগ্য জমির এক কোণে নিদিষ্ট একটি জায়গাজুড়ে খনন করা গভীর একটি বিশেষ জলাধার। বর্ষা মৌসুমে যখন উপকূলে বৃষ্টিপাত হয়, তখন সেই পানি প্রাকৃতিকভাবেই নিচু এই পুকুরগুলোতে গিয়ে জমা হয় এবং পুকুরগুলো মিষ্টি পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। পরে শুষ্ক মৌসুমে এই জমানো মিষ্টি পানিই হয়ে ওঠে চাষিদের একমাত্র সম্বল। কৃষকরা পুকুরের এক কোণে ছোট সোলার পাম্প অথবা ডিজেল চালিত পাম্প বসিয়ে ফিতা পাইপের মাধ্যমে পানি ক্ষেতে নিয়ে যান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপকূলের লোনা জমিতে এখন সারি সারি তরমুজের খেত। অথচ স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আগে এসব অঞ্চলের বিলগুলোতে আমন ধান কাটার পর বছরের লম্বা একটি সময় জমিগুলো পতিত পড়ে থাকত। মাটির ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার কারণে যেখানে পানির সেচ সংকট বেশি সেখানকার চাষিরা এই সময়ে বোরো আবাদে সাহস পান না। মূলত বোরো ধানের জন্য যে বিপুল পরিমাণ মিষ্টি পানির প্রয়োজন হয়, শুষ্ক মৌসুমে তা পাওয়া দুষ্কর। অন্যদিকে, তরমুজ একটি লবণসহিষ্ণু ফসল এবং এতে বোরোর তুলনায় পানির প্রয়োজন অনেক কম। ফলে মিনি পুকুরে জমানো সামান্য বৃষ্টির পানি ব্যবহার করে বোরোর ঝুঁকি না নিয়ে চাষিরা এখন তরমুজকেই লাভজনক বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, তরমুজ স্বল্পমেয়াদী ফসল হওয়ায় এটি তোলার পর জমি ফেলে না রেখে আরও একটি ফসল ফলানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। চৈত্র বা বৈশাখের শুরুতে তরমুজ বাজারজাত করার পর চাষিরা সেই জমিতে আউশ ধান, পাট বা গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদের প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এতে করে উপকূলের এক ফসলি জমিগুলো এখন নিবিড় চাষাবাদের আওতায় আসছে।

বড়দল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সত্যরঞ্জন বৈরাগী জানান, গত বছর তরমুজে কৃষকদের ব্যাপক লাভ হতে দেখে এবার তিনি নিজেও ১০ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, গত বছর আমাদের এলাকার অনেক কৃষক বিঘা প্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করেছিলেন। সেই আগ্রহ থেকেই এবার বড়দলের বিলগুলোতে তরমুজের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এবার মজুরি, সার ও বীজের দাম কিছুটা বেশি, তবুও ফলন ভালো হওয়াতে আমরা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।

আর্থিক লাভের ক্ষেত্রে জামালনগর গ্রামের আফছার গাজীর গল্পটি এখন এলাকার কৃষকদের মুখে মুখে। গত মৌসুমে তিনি ১৬ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন। তার মোট খরচ হয়েছিল ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা এবং তিনি প্রায় ১২ লক্ষ টাকার বেশি তরমুজ বিক্রি করেন। এক মৌসুমে ৮ লক্ষাধিক টাকা মুনাফা করায় তাকে দেখে এলাকার অনেক চাষি এখন নিজ উদ্যোগে মিনি পুকুর খনন করছেন।

আফছার গাজী বলেন, লবণাক্ততার কারণে আগে এসব জমিতে কিছুই হতো না। কিন্তু মিষ্টি পানির ব্যবস্থা হওয়ায় এখন লোনা মাটিতেও সোনা ফলছে।

বড়দল ইউনিয়নের আরেক বড় চাষি মাসুম সরদার এবার ৭০ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। তিনি জানান, বিঘা প্রতি তরমুজের গড় উৎপাদন ৭০০ থেকে ৮০০টি। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ফলন ও বাজার দর ভালো থাকলে প্রতি বিঘা তরমুজ ৭০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়। এ থেকে একজন কৃষক বিঘা প্রতি প্রায় ৪০ হাজার টাকা লাভ করতে পারেন।

তরমুজ চাষের এই কর্মযজ্ঞ উপকূলীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি করেছে। প্রতিদিন কয়েকশ নারী ৪০০ টাকা মজুরিতে চারা পরিচর্যার কাজ করছেন।

ঝর্ণা রানী নামের এক নারী শ্রমিক জানান, তরমুজ চাষ শুরু হলে এলাকার ৩ থেকে ৪ শত নারী প্রায় দুই মাস কাজের সুযোগ পান। তিনি বলেন, আগে এই সময়ে আমাদের কোনো কাজ থাকত না সে অর্থে। এখন তরমুজের খেতে কাজ করে আমরা সংসারে বাড়তি টাকা দিতে পারছি।

শ্যামনগর উপজেলার চিত্রও একই রকম। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে শ্যামনগরে ১৫২ হেক্টর জমি তরমুজ চাষের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে কৈখালী ইউনিয়নে ১০৫ হেক্টর, কাশিমাড়ীতে ২০ হেক্টর এবং ঈশ্বরীপুরে ২১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে শ্যামনগরে চাষ হয়েছিল ১০০ হেক্টর জমিতে। জাম্বু গ্লোরি, ড্রাগন, পাকিজা ও ওয়ার্ল্ড কুইনের মতো উচ্চফলনশীল জাতের তরমুজ এখন উপকূলের মাঠে দেখা যাচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের চাষি আব্দুল মজিদ জানান, লোনা পানির কারণে এই সময়ে আগে তাদের হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হতো। তিনি বলেন, আগে আমন কাটার পর আমরা বোরো আবাদ করতে পারতাম না, কারণ নদী-খালের পানি তখন বিষের মতো লোনা হয়ে যায়। এখন ছোট পুকুরগুলোতে বৃষ্টির পানি জমিয়ে রেখে আমরা তরমুজ চাষ করছি। এই ফসলটি লোনা মাটি সহ্য করতে পারে এবং ধানের চেয়ে তিনগুণ বেশি লাভ দেয়। তরমুজ তোলার পর আমরা আবার সেই জমিতে আউশ বা সবজি লাগানোর সুযোগ পাচ্ছি।

কাশিমাড়ী এলাকার কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, বোরো ধানে যে পরিমাণ সেচ আর সময় লাগে, তাতে আমাদের উপকূলে লাভ করা খুব কঠিন। কিন্তু তরমুজ লবণসহিষ্ণু হওয়ায় এবার ১৫ বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। বাজার ভালো থাকলে বোরোর চেয়ে অনেক বেশি টাকা ঘরে আসবে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার লোনা মাটি তরমুজের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনা তৈরি করেছে। মাটির লবণাক্ততা সত্ত্বেও ‘ক্লাইমেট স্মার্ট’ প্রযুক্তির মাধ্যমে মিষ্টি পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা লোনা মাটিকেও চাষোপযোগী করে তুলেছে। বিশেষ করে রবি মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে খনন করা মিনি পুকুরগুলোই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি।

তিনি আরও জানান,বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলায় আবাদের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় অনেকাংশে বেড়েছে। প্রকল্পের আওতায় আমরা চাষিদের প্রশিক্ষণ, সোলার পাম্প ও সেচ সরঞ্জাম সরবরাহ করছি। সরকারি পর্যায়ে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ এবং পচনশীল ফসল সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন করা গেলে তরমুজ চাষ এই অঞ্চলের স্থায়ী অর্থনৈতিক ভিত্তি হতে পারে।

Ads small one

যশোরে ৯০০ গ্রাম স্বর্ণের পেস্টসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
যশোরে ৯০০ গ্রাম স্বর্ণের পেস্টসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোর সদরের তারাগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯০০ গ্রাম স্বর্ণের পেস্টসহ ওয়াজিদ আলী আমিন আহমেদ (৩১) নামে এক ভারতীয় পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটক ওয়াজিদ ভারতের মুম্বাইয়ের থানে শহরের আমিন আহম্মেদ আনসারীর ছেলে।

 

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর একটি বিশেষ দল যশোর-নড়াইল মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে স্বর্ণের পেস্ট ছাড়াও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত স্বর্ণের বাজার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক ব্যক্তি ২০২৪ সাল থেকে ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও মিশর হয়ে নিয়মিত যাতায়াত করছেন। গত ২০ এপ্রিল তিনি মুম্বাই থেকে বিমানে দুবাই যান। পরবর্তীতে দুবাই থেকে ঢাকা হয়ে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পরিকল্পনা ছিল তার।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, আটক ব্যক্তিকে যশোর কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা ট্রেজারিতে জমা দেওয়া হয়েছে।

 

মৃত্যুফাঁদে সাতক্ষীরা সরকারি নার্সিং কলেজ: আতঙ্কেও দিতে হচ্ছে ‘দায়মুক্তি’ স্বাক্ষর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
মৃত্যুফাঁদে সাতক্ষীরা সরকারি নার্সিং কলেজ: আতঙ্কেও দিতে হচ্ছে ‘দায়মুক্তি’ স্বাক্ষর

filter: 0; jpegRotation: 0; fileterIntensity: 0.000000; filterMask: 0;

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের একাডেমিক ভবন ও হোস্টেলের প্রতিটি কোণ এখন যেন একেকটি মৃত্যুফাঁদ। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে পড়ার টেবিলে, বিম থেকে বেরিয়ে এসেছে মরিচা ধরা রড, আর দেয়ালে দেখা দিয়েছে বিশাল সব ফাটল। এমন ‘অতিঝুঁকিপূর্ণ’ ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবস্থান করছে প্রায় চারশ শিক্ষার্থী। চরম উৎকণ্ঠার বিষয় হলো, দুর্ঘটনার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উল্টো ‘দায়মুক্তি’ স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছে।

চারতলা বিশিষ্ট এই কলেজ ও হোস্টেল ভবনের অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। বইখাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাঁচাতে শিক্ষার্থীদের পলিথিন মুড়িয়ে থাকতে হয়।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শিউলি বলেন, “৪০০ জন ছাত্র-ছাত্রী মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে পড়ালেখাও দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিউলিসহ একাধিক ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কখন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে তার ঠিক নেই। কখনো খাওয়ার সময়, কখনো পড়ার সময় পলেস্তারা খসে পড়ছে। আমরা রীতিমতো আতঙ্ক নিয়ে এখানে দিন কাটাচ্ছি।”

সাতক্ষীরা গণপূর্ত অধিদপ্তর গত ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে এক প্রতিবেদনে ভবনটিকে ‘অতিঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘সংস্কারের অযোগ্য’ বলে ঘোষণা করেছে। গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার আব্দুল ওয়াহিদ জানান, ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল সরেজমিন পরিদর্শন করে নতুন ভবন নির্মাণের সুপারিশ করেছেন।

তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এখনো ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে ক্লাস ও আবাসন। কলেজের ইনস্ট্রাক্টর মোছা. সুরাইয়া ইয়াসমিন জানান, ১৯৮৩ সালে কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে কোনো টেকসই সংস্কার হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও গণপূর্তকে বারবার লিখিতভাবে জানিয়েছি। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লিখিত দায়মুক্তি নিতে বাধ্য হয়েছি।”

সাতক্ষীরা সরকারী নার্সিং কলেজ ও হোস্টেল ভবন মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ। জীবনের ঝুকি নিয়ে ক্লাস করছে প্রায় ৪০০ ছাত্র-ছাত্রী। ভবনটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ায় ইতিমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী হোস্টেল ছেড়ে দিয়েছেন। তারা এখন কলেজের আশেপাশে বিভিন্ন মেসে বা ভাড়া বাসায় থাকছেন। এতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপের সৃষ্টি হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সংকট। যারা এখনো হোস্টেলে আছেন, তারা প্রতিমুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন।

জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছেÑ নতুন বহুতল একাডেমিক ভবন ও আধুনিক হোস্টেল কমপ্লেক্সের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় নতুন ভবনের জন্য জায়গা নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। আগামী জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা না থাকা এবং শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করে বা অস্থায়ী শেডে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যবহারিক শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, , কোনো বড় ধরনের প্রাণহানির অপেক্ষা না করে অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ বিকল্প আবাসন ও নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা জরুরি। অন্যথায়, জেলা তথা দেশের নার্সিং শিক্ষা ব্যবস্থা এক বড় সংকটের মুখে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, ভবনটি যে ‘অতিঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘বসবাসের অযোগ্য’, এই কারিগরি মূল্যায়নটি এসেছে সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীদের পক্ষ থেকে। তারা নিয়মিত পরিদর্শনের পর ভবনটিকে সংস্কারের অযোগ্য বলে মতামত দিয়েছেন, যা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচিত হয়েছে। অথচ ভবনটি সংস্কারে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ আজও গ্রহণ করা হয়নি। তবে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকারি এই দপ্তরের প্রশাসনিক নথিপত্র এবং বাজেটের খসড়া তালিকা থেকে প্রকল্পের অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়।

উৎসবের আমেজে আজ সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির নির্বাচন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
উৎসবের আমেজে আজ সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিনিধি: উৎসবের আমেজে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির (২০২৬-২০২৭ মেয়াদের) দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে আদালতপাড়াজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের কাছে ভোটারদের কদরও বেড়েছে, চলছে ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৩টি পদের বিপরীতে ২৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে কোষাধ্যক্ষ পদে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় নরেশ মল্লিককে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বাকি ১২টি পদের বিপরীতে ২৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আব্দুল মান্নান বাবলু ও গোলাম নবী। সহ-সভাপতি (২টি পদ) পদে প্রার্থী হয়েছেন আব্দুর রহমান, এসএম ইয়াহিয়া আলম, কাজী শাহাদাত হোসেন মাসুম ও মো. এনায়েত করিম।

সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন সাইফুল ইসলাম বাবু, মো. কামরুল ইসলাম ও এম. শফিকুল ইসলাম। যুগ্ম সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দেবাশীষ সরকার ও আবু সাঈদ। সহ-সম্পাদক পদে রয়েছেন বিধান চন্দ্র ম-ল ও মেহেদী হাসান।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আব্দুস সাত্তার ও ইসমাইল হোসেন। এছাড়া সদস্য পদে ৫টি আসনের বিপরীতে ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন মো. আবু রায়হান, মো. খুরশিদুজ্জামান লাবু, আরাফাত হোসেন, রবিউল ইসলাম, গোলাম হোসেন লিমন, রেজাউল করিম, হারুন অর রশিদ ও মনিরুল ইসলাম।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো. আব্দুস সবুর জানান, ২৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সমিতির দ্বিতীয় তলায় বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে আইনজীবী সহকারীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।