মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ভারতীয ভিসা: কেন্দ্র, স্লট সংকট ও অদৃশ্য প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
ভারতীয ভিসা: কেন্দ্র, স্লট সংকট ও অদৃশ্য প্রশ্ন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শুধু সীমান্তের ভৌগোলিক বাস্তবতা নয়; এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, আত্মীয়তা, অর্থনীতি ও মানবিক যোগাযোগের এক দীর্ঘ পথ। চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী, শিক্ষা বা ব্যবসার প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষ, কিংবা ধর্মীয় তীর্থযাত্রীÑসব মিলিয়ে ভারতের ভিসা বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সেবা।কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই ভিসা ব্যবস্থা ঘিরে যে চিত্র তৈরি হয়েছে, তা অনেকের কাছেই স্বস্তির নয়। আবেদন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট পাওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিই যেন এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক যুদ্ধ।

 

প্রশ্ন উঠছেÑএই সেবা কি সত্যিই সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত, নাকি এটি ধীরে ধীরে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে? ভিসা কোনো বিলাসিতা নয়। বাংলাদেশের অনেক মানুষের জন্য এটি জীবনরক্ষাকারী একটি মাধ্যম। বিশেষ করে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা এখনো উল্লেখযোগ্য। ঢাকায় বা দেশের ভেতরে চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীই সীমান্ত পেরিয়ে চিকিৎসা নিতে যান। এই বাস্তবতায় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, এই প্রক্রিয়া অনেকের জন্যই এখন দীর্ঘসূত্রতা, অনিশ্চয়তা এবং অতিরিক্ত খরচের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

একজন সাধারণ মানুষ যখন দিনের পর দিন অনলাইনে চেষ্টা করেও স্লট পান না, তখন তার মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগেÑসেবা কি সত্যিই সবার জন্য উন্মুক্ত? বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রবণতা স্পষ্টÑসেবা রাজধানী কেন্দ্রিক। ভিসা আবেদন জমা কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রেও সেই চিত্র ব্যতিক্রম নয়।ফলে দেশের বিভিন্ন জেলাÑবিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার মানুষকে ভিসা আবেদন জমা দিতে বড় শহরে যেতে হয়। এতে যে ভোগান্তি তৈরি হয় তা শুধু আর্থিক নয়; এটি সময়, শ্রম এবং মানসিক চাপেরও বিষয়।

 

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাতক্ষীরার আশাশুনির মতো এলাকার একজন আবেদনকারীকে অনেক সময় ভোরে রওনা দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। একদিনে কাজ শেষ না হলে থাকতে হয় অতিরিক্ত দিন। এতে বাড়ে খরচ, নষ্ট হয় কর্মদিবস, ক্ষতিগ্রস্ত হয় দৈনন্দিন জীবিকা। এ প্রশ্ন তাই স্বাভাবিকভাবেই ওঠেÑরাষ্ট্রীয় সেবা কি ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে? সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল কিংবা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। অনেক পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

 

চিকিৎসা, আত্মীয়তা কিংবা ব্যবসায়িক কারণে এসব অঞ্চলের মানুষ নিয়মিত ভারতে যান। অথচ ভিসা আবেদন কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা তাদের জন্য এক ধরনের কাঠামোগত বাধা তৈরি করে। যেখানে চাহিদা বেশি, সেখানে সেবা সহজ হওয়ার কথা; কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় উল্টোÑযেখানে চাহিদা বেশি, সেখানেই সেবা পাওয়া কঠিন। বর্তমান ভিসা ব্যবস্থার সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয় হলো অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট সংকট। অনলাইনে স্লট উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা শেষ হয়ে যায়Ñএমন অভিযোগ বহুদিনের। সাধারণ আবেদনকারীরা বলেন, তারা দিনের পর দিন চেষ্টা করেও স্লট পান না। অথচ একই সময়ে কিছু নির্দিষ্ট এজেন্ট বা দালাল চক্রের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে স্লট পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এখানেই প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেÑস্লট কি সত্যিই মুহূর্তে শেষ হয়ে যায়, নাকি একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে শেষ করে দেওয়া হয়? যদি প্রথমটি সত্য হয়, তবে এটি চাহিদা ও সরবরাহের সমস্যা। কিন্তু যদি দ্বিতীয়টি সত্য হয়, তবে এটি কেবল প্রশাসনিক নয়Ñএকটি নৈতিক ও কাঠামোগত সংকট। স্লট সংকটকে কেন্দ্র করে যে অভিযোগ সবচেয়ে বেশি শোনা যায়, তা হলো “স্লট বাণিজ্য”। এখানে একটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র সক্রিয় বলে ধারণা করা হয়, যারা সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে।

 

একদিকে সাধারণ আবেদনকারী, যারা নিয়ম মেনে চেষ্টা করেও স্লট পান নাঅন্যদিকে আর্থিকভাবে সক্ষম বা সংযোগসম্পন্ন গোষ্ঠী, যারা দ্রুত সেবা পানএই বিভাজন শুধু অর্থনৈতিক বৈষম্য নয়; এটি একটি সেবাব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করে। যেখানে নাগরিক মনে করেন, “নিয়ম মেনে চেষ্টা করলে পাওয়া যাবে না, কিন্তু টাকা দিলে পাওয়া যাবে”Ñসেখানে রাষ্ট্রীয় সেবার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া এখন ডিজিটাল হলেও বাস্তবে সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিই নতুন জটিলতা তৈরি করেছে।

 

স্লট বুকিং সিস্টেম, সার্ভার লোড, বট ব্যবহার, অটোমেটেড স্ক্রিপ্টÑএসব মিলিয়ে একটি জটিল কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রযুক্তি তখনই কার্যকর, যখন তা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু যদি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিছু গোষ্ঠী সুবিধা পায় এবং সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়, তবে সেটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়Ñবরং প্রযুক্তিনির্ভর বৈষম্য। যেখানে সেবা সীমিত এবং জটিল, সেখানে দালালচক্র সক্রিয় হয়Ñএটি নতুন কিছু নয়। ভিসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, তারা নিজেরা চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর দালালের শরণাপন্ন হন। কারণ দালালরা “নিশ্চিত স্লট” দেওয়ার দাবি করে, যদিও তার জন্য দিতে হয় অতিরিক্ত অর্থ।

 

এই অবস্থায় প্রশ্ন ওঠেÑএই চক্র কি কেবল স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে সেবার বিকেন্দ্রীকরণ। যদি বিভাগীয় শহর ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে ভিসা আবেদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়, তাহলেÑআবেদনকারীর চাপ কমবে, যাতায়াত ব্যয় হ্রাস পাবে, দালালচক্রের সুযোগ কমবে, সেবা আরও স্বচ্ছ হবে, স্লট ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে সাধারণ মানুষ।

 

যেকোনো সেবা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা। ভিসা সেবার ক্ষেত্রেও এই দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্লট বণ্টন, আবেদন গ্রহণ এবং প্রক্রিয়াকরণে স্বচ্ছতা না থাকে, তবে সেখানে আস্থার সংকট তৈরি হবেই। নিয়মিত প্রযুক্তিগত অডিট, স্বাধীন পর্যবেক্ষণ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান কঠিন। ভিসা সমস্যা শুধু প্রশাসনিক জটিলতা নয়; এটি মানবিকও। একজন অসুস্থ রোগী, একজন বৃদ্ধ পিতা-মাতা, কিংবা জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে যাত্রা করতে চাওয়া মানুষÑতাদের জন্য প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ।

 

এই অবস্থায় ভিসা প্রক্রিয়ার বিলম্ব বা অনিশ্চয়তা অনেক সময় ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। নীতিগতভাবে বলা হয়Ñসেবা সবার জন্য সমান। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেক সময় সেই ঘোষণার সঙ্গে মেলে না। যখন একজন নাগরিক নিয়ম মেনে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন, আর অন্য কেউ অর্থের বিনিময়ে সফল হন, তখন নীতির চেয়ে বাস্তবতার প্রভাব বেশি হয়ে ওঠে। এই পার্থক্যই শেষ পর্যন্ত আস্থার সংকট তৈরি করে। ভিসা সেবা এখন শুধু একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি সামাজিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

 

এখানে প্রশ্ন শুধু কেন্দ্র কতটি বা স্লট কতটিÑতা নয়; প্রশ্ন হলো, সেবা কি সত্যিই সবার জন্য সমান? যদি সেবা কেবল নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে সহজলভ্য হয়, তবে সেটি আর সেবা থাকে নাÑতা হয়ে ওঠে নিয়ন্ত্রিত সুযোগ। আজ প্রয়োজনÑসেবার বিকেন্দ্রীকরণ, স্লট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা,দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার। কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুব মৌলিকÑএকই দেশের নাগরিক হয়ে কেন কেউ সেবা পাবে সহজে, আর কেউ পাবে না?

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

মাসুদ রানা

নদী, প্রকৃতি, ইতিহাস আর সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা দক্ষিণ-পশ্চিমের ঐতিহ্যবাহী জেলা সাতক্ষীরা। আর এই জেলার শিক্ষার আলো ছড়াতে যে প্রতিষ্ঠানটি গত আট দশক ধরে বাতিঘর হিসেবে কাজ করছে, তা হলো সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ। ‘জ্ঞানী শক্তি’-এই মহৎ বাণীকে বুকে ধারণ করে ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই বিদ্যাপীঠটি আজ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও জাতীয়করণ:সাতক্ষীরা জেলার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৪৬ সালে এই কলেজের যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন শিক্ষানুরাগীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই বিদ্যাপীঠটি পরবর্তীতে ১ মার্চ ১৯৮০ সালে জাতীয়করণ করা হয়। জেলা শহরের রাজারবাগান এলাকায় অবস্থিত ৩০ একরের বিশাল এই ক্যাম্পাসটি সাতক্ষীরার শিক্ষার ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

চোখ জুড়ানো সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস: ৩০ একরের এই বিশাল ক্যাম্পাসে পা রাখলেই মন জুড়িয়ে যায়। কলেজের মূল ফটক বা প্রবেশদ্বার রয়েছে দুটি। প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই ডান পাশে চোখে পড়বে এক বিশাল আকৃতির শিশু গাছ, যা মূল ভবনের সামনের বিস্তৃত খালি জায়গাকে সবসময় মায়াবী ছায়ায় আবৃত করে রাখে। এছাড়া পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে রয়েছে অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছপালা।

ক্যাম্পাসের ভেতরে রয়েছে: মনোরম লেক ও মিঠা পানির পুকুর,যা ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শহীদ মিনার: কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ের ঠিক সামনেই বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনারটি অবস্থিত।
আরসিসি ঢালাই রাস্তা: কলেজের মসজিদের পাশ এবং বিজ্ঞান ভবনের সামনে দিয়ে একটি দীর্ঘ ও আঁকাবাঁকা আরসিসি ঢালাই রাস্তা চলে গেছে সরাসরি ছাত্রী হোস্টেলের সামনে।

অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শুধুমাত্র পড়াশোনাতেই নয়, শিক্ষার্থীদের আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ। ছাত্রদের আবাসিক হোস্টেল ২টি, ছাত্রীদের আবাসিক হোস্টেল ১টি, লাইব্রেরী ও ১টি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ, বিস্তৃত ও উন্মুক্ত মাঠ, সুপরিসর সাইকেল ও মোটরসাইকেল শেড।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে কলেজ অনুমোদিত ডিজিটাল আইডি কার্ড প্রদান করা হয়।

শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী সংখ্যা: বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৫,০০০ (পনের হাজার) শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন। উচ্চশিক্ষার বিস্তারে এখানে রয়েছে, অনার্স (স্নাতক) কোর্স ১৬টি বিষয়ে,মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) কোর্স ১৫টি বিষয়ে
সহ-শিক্ষা কার্যক্রম ও সংস্কৃতি চর্চা: লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে কলেজটিতে নিয়মিত সহ-শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং রোভার স্কাউট-এর সক্রিয় ইউনিট।

এছাড়াও প্রতি বছর ক্যাম্পাসে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ’ বা বাংলা নববর্ষ বরণ
যুগের পর যুগ ধরে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ এই অঞ্চলের মেধা ও মননশীলতা গঠনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। জ্ঞানালোক ছড়ানোর পাশাপাশি একটি আদর্শ ও আধুনিক ক্যাম্পাস হিসেবে এই কলেজটি সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের গর্বের প্রতীক হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

 

 

 

ইছামতির বাঁকে বাঁকে: জল ও জীবনের লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
ইছামতির বাঁকে বাঁকে: জল ও জীবনের লড়াই

দীপঙ্কর বিশ্বাস

নদীমাতৃক বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক চিরচেনা ও ঐতিহাসিক নদী ইছামতি। এই নদীকে ঘিরেই যুগ যুগ ধরে গড়ে উঠেছে কতশত জনপদ, সভ্যতার বিকাশ আর হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা। বিশেষ করে ইছামতির দুই পাড়ে বসবাসকারী মৎস্যজীবীদের কাছে এই নদী কেবলই একটি জলধারা নয়; এটি তাদের অন্নদাতা, তাদের সুখ-দুঃখের পরম সঙ্গী। কিন্তু সময়ের আবর্তে আজ কেমন আছে ইছামতির সেই মৎস্যজীবীরা? তাদের জীবন-জীবিকার হালচালই বা কী?

ভোর হওয়ার আগেই যখন চারপাশ কুয়াশায় বা মৃদু অন্ধকারে ঢাকা থাকে, তখনই ইছামতির বুকে শোনা যায় বৈঠার শব্দ। ছৈওয়ালা নৌকায় বসে জাল গোছাতে গোছাতে মৎস্যজীবীরা জপতে থাকেন এক অজানা প্রার্থনা-আজ যেন নদীর বুক থেকে কিছু রূপালি ফসল ঘরে তোলা যায়।

বংশপরম্পরায় এই পেশায় টিকে থাকা জলদাস বা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবন ইছামতির জোয়ার-ভাটার মতোই চঞ্চল। খেপলা জাল, কারেন্ট জাল কিংবা ঝাঁকি জাল ছুঁড়ে দিয়ে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। মাছ বলতে কখনো চিংড়ি, আবার কখনো বেলে, ট্যাংরা বা পারশে। এই মাছ বিক্রি করেই চলে তাদের সংসারের চাল-ডাল কেনা, সন্তানের স্কুলের খরচ আর বুড়ো মা-বাবার ওষুধের টাকা।

সংকটের চোরাবালি: বিপন্ন ইছামতি, বিপন্ন জীবন
সোনালী অতীতের গল্প এখন রূপকথা মনে হয়। বর্তমান সময়ে ইছামতির মৎস্যজীবীরা নানামুখী সংকটের মুখোমুখি। সাংবাদিক হিসেবে মাঠপর্যায়ে তাকালে কয়েকটি বড় ধাক্কা স্পষ্ট চোখে পড়ে,

১. নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে আগের মতো গভীরতা নেই, ২.কমে গেছে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র। ৩. কৃষিজমিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত কীটনাশক ধুয়ে এসে পড়ছে ইছামতিতে। ফলে মাছের মড়ক এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। ৪. ইছামতির একটি বড় অংশ বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা নির্ধারণ করে। সীমানা জটিলতা ও কড়া নজরদারির কারণে মৎস্যজীবীরা অনেক সময় স্বাধীনভাবে মাছ ধরতে পারেন না। অনিচ্ছাকৃত সীমান্ত লঙ্ঘনের ভয়ে আতঙ্কে কাটে তাদের দিন।

যখন নিষেধাজ্ঞার মেঘ নামে
মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে সরকারিভাবে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ইলিশের প্রজনন মৌসুম বা জাটকা রক্ষার এই উদ্যোগ পরিবেশের জন্য দারুণ হলেও, বিকল্প কর্মসংস্থানহীন মৎস্যজীবীদের পেটে তখন চড়া চাবুক পড়ে। সরকারের দেওয়া চালের বরাদ্দ অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল কিংবা পৌঁছাতে দেরি হয়। ফলে দাদন ব্যবসায়ী বা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হন তারা। এই ঋণের জাল থেকে তারা আর সহজে বের হতে পারেন না।
“নদী আমাদের মা। মা কি কখনো সন্তানকে না খেয়ে মারে? নদী ঠিকই মাছ দিত, কিন্তু মানুষই তো নদীটারে মেরে ফেলল।” -একজন প্রবীণ মৎস্যজীবীর আক্ষেপ।

বাঁচিয়ে রাখার দায় আমাদেরই
ইছামতি নদী এবং এর ওপর নির্ভরশীল মৎস্যজীবীদের জীবন বাঁচাতে হলে এখনই সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

১. শিল্পবর্জ্য নদীতে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

২. মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে মৎস্যজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত ও সঠিক সময়ে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিকল্প আয়ের (যেমন- হাঁস-মুরগি পালন, কুটির শিল্প) প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।

৩. মহাজদের কবল থেকে বাঁচাতে সরকারি ব্যাংক বা সমবায় সমিতির মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের স্বল্প সুদে বা সুদহীন ঋণের ব্যবস্থা করা উচিত।

ইছামতি নদী শুধু এক ফালি জলরেখা নয়, এটি হাজার হাজার মৎস্যজীবী পরিবারের ধমনী। এই ধমনী শুকিয়ে গেলে কিংবা দূষিত হলে থমকে যাবে একটি আস্ত জনপদের জীবনস্পন্দন। ইছামতির রূপালি মাছ আর মৎস্যজীবীদের মুখের অমলিন হাসি টিকিয়ে রাখতে হলে নদীকে ভালোবাসতে হবে, নদীকে বাঁচাতে হবে। কারণ, ইছামতি বাঁচলে, বাঁচবে মৎস্যজীবী; আর মৎস্যজীবী বাঁচলে টিকে থাকবে আমাদের চিরন্তন বাংলার রূপ।

 

 

পাটকেলঘাটায় জামিয়া আরাবিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া মাদ্রাসার নতুন উপদেষ্টা ও কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় জামিয়া আরাবিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া মাদ্রাসার নতুন উপদেষ্টা ও কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া আরাবিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া মাদ্রাসার ২০২৬ সালের জন্য নতুন উপদেষ্টা মন্ডলী ও কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নবগঠিত কমিটিতে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সেক্রেটারি হয়েছেন মাদ্রাসার মুহতামিম আলহাজ্ব মুফতি মনিরুল হক। সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ব্যবসায়ী আলহাজ্ব সালাউদ্দীন এবং সহ-সেক্রেটারি হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন আলহাজ্ব আওলাদ হোসেন। শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা মোশাররফ হুসাইন।

সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলহাজ্ব আকবর হোসেন, আলহাজ্ব মীর আসাদুজ্জামান, আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান সরদার, আসাদুজ্জামান আসাদ এবং মো. বাবলুর রহমান।

চার সদস্যের উপদেষ্টা মন্ডলীতে রয়েছেন আলহাজ্ব আব্দুল আলীম মাহমুদ (মদনপুর), আলহাজ্ব আব্দুল কালাম বাবলা (সাতক্ষীরা), আলহাজ্ব আবুল ইফতেখার (ঈমান গ্লাস স্টোর, সাতক্ষীরা) এবং আলহাজ্ব মীর শাহিন হোসেন (পাটকেলঘাটা)।
এছাড়া কমিটিতে সিনিয়র সদস্য হিসেবে আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, মুশফিকুল আলম বিশ্বাস, শেখ অহিলুর রহমান, আলহাজ্ব রেজাউল ইসলাম (বাবু), আলহাজ্ব শেখ মাহমুদুল ইসলাম, আলহাজ্ব নাজিম উদ্দীন, মকবুল হোসেন এবং মাস্টার আব্দুর রব পলাশ-সহ মোট ১৪ জন স্থান পেয়েছেন। সাধারণ সদস্য হিসেবে আলহাজ্ব লুৎফর রহমান, প্রিন্সিপাল রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক আব্দুল মোমিন ও ডা. মামুনুর রশিদ-সহ মোট ২৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবনির্বাচিত সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, “পাটকেলঘাটার জামিয়া আরাবিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া মাদ্রাসা সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম প্রাচীন ও স্বনামধন্য দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন কওমিয়া মাদ্রাসাসহ নানা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। নবগঠিত কমিটি মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়ন এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবে বলে আমি আশাবাদী।” প্রেসবিজ্ঞপ্তি