রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দিনে আয় করছে ১৬ লাখ টাকা, কীভাবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:২২ পূর্বাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দিনে আয় করছে ১৬ লাখ টাকা, কীভাবে?

দীর্ঘ দুই মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বন্দরে আটকে আছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। যেখানে আছেন ৩১ জন নাবিক। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় পার হতে পারছে না জাহাজটি। তবে আটকে পড়া জাহাজের ৩১ নাবিক সুস্থ আছেন। জাহাজে পর্যাপ্ত মজুত আছে খাদ্য পানিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

তবে জাহাজটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকলেও নেই লোকসানে। বরং প্রতিদিন আয় করছে ১৬ লাখ টাকা করে। এমন তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক।

তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৪২ নটিক্যাল মাইল দূরে ‘‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’’ জাহাজটি নোঙর করে আছে। হরমুজ প্রণালি যখন উন্মুক্ত করা হবে কিংবা জয়যাত্রা জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি পাবে তখন চলে আসবে। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা তৎপরতা চলছে। আশা করছি শিগগিরই পার হওয়ার অনুমতি মিলবে।’

বিএসসির পরিচালক বলেন, ‘জাহাজে থাকা ৩১ নাবিক সুস্থ আছেন। তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তবে জাহাজটিতে ৩৭ হাজার টন সার বহন করে আছে। হরমুজ প্রণালি পার হতে পারলে জাহাজটি লোড করা সার নিয়ে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। চুক্তি অনুযায়ী জাহাজে সার লোড করার কারণে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন বাংলাদেশি টাকায় ১৬ লাখ টাকা করে পাওয়া যাচ্ছে। জাহাজের ক্ষেত্রে এটাই নিয়ম। যতদিন আটকে থাকবে ততদিন এ টাকা পাওয়া যাবে। যে কারণে যুদ্ধের মধ্যেও জাহাজটির আয় বন্ধ হয়নি।’

এর আগে দুই দফা চেষ্টার পরও হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি জয়যাত্রা জাহাজ। এর মধ্যে গত ১৭ এপ্রিল ইরান হরমুজ প্রণালি সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণার পর রাতে নোঙর তুলেছিল শারজাহ বন্দরের কাছে থাকা জাহাজটি। পরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জাহাজটি আটকে দেয়।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল ভোরে যুদ্ধবিরতির পর আটকে থাকা জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য নোঙর তোলে। প্রায় ৪০ ঘণ্টা চলার পর ১০ এপ্রিল জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পায়নি।

জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয়। হরমুজ পার হওয়ার পর জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে নেওয়া হবে।’

বিএসসি সূত্র জানিয়েছে, ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইয়িদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে পৌঁছায়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পরদিন ওই বন্দরের ১০ নম্বর জেটিতে নোঙর করে সেটি। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়। পরে গত ১১ মার্চ জেবেল আলি বন্দরে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস শেষ হয়।

এর আগে, ২০২২ সালের ১ মার্চ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের কাছে আটকে পড়া বিএসসির জাহাজ এমভি ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এক বাংলাদেশি নাবিক নিহত হন। পরে জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিএসসি।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে বিএসসির বহরে যুক্ত হয় বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। ৩৯ হাজার টন ধারণক্ষমতার জাহাজটি নির্মাণ করে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। চীন সরকারের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে জাহাজটি কেনা হয়েছিল।

Ads small one

শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: উপকূলের সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি, বনায়ন কর্মসূচি, আলোচনাসভা সহ অন্যান্য কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (২৬ জুলাই) উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় নদীর চরে ১.৩ কিলোমিটার এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন ও রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশনের সহযোগিতায় উত্তরণ কর্তৃক বাস্তবায়িত জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রামের আওতায় দক্ষিণ কদমতলা গ্রামে মালঞ্চ নদীর তীরে প্রায় ১.৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ম্যানগ্রোভ ও রাস্তার পাশের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশনের থিমেটিক লিড তামান্না রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম ম্যানেজার পলাশ সরকার, ফিল্ড অপারেশন ম্যানেজার এ. জে. এম. শফিকুল ইসলাম, উত্তরণের প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর মো. আরিফুর রহমান এবং নাজমা আক্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

কর্মসূচির আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় ম্যানগ্রোভ বন একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যূহ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কার্বন শোষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই জলবায়ু সহনশীল উপকূল গড়ে তুলতে ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

বক্তারা আরও বলেন, রাস্তার পাশে ও উপকূলীয় এলাকায় পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে, অন্যদিকে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ উপকূল নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণ, পরিচর্যা ও নতুন করে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল উপকূল গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরে ম্যানগ্রোভ রক্ষায় শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবসের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

 

কেশবপুরে বাস দুর্ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে বাস দুর্ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী নিহত

এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী (৭৫) নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে (২৬-০৭-২৬) যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের কেশবপুর মাইকেল গেটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের সাবেক উপজেলা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী (৭৫) মোটরসাইকেল চালিয়ে মাইকেল গেট দিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরণ করেন। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ঘাতক বাসটি আটক করে।

 

মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীকে কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে কে মৃত্যু বলে ঘোষণা করেন। তার গ্রামের বাড়ি কেশবপুর উপজেলার পাত্তরপাড়া। তার মৃত্যুর খবর শুণে তৎক্ষণিকভাবে মজিদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হুমায়ুন কোবীর পলাশসহ বিভিন্ন লোকজন সেখানে হাজির হন।

ঢাকা-বেনাপোল ও খুলনা রুটে ট্রেনে হিজড়াদের দৌরাত্ম বাড়ছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
ঢাকা-বেনাপোল ও খুলনা রুটে ট্রেনে হিজড়াদের দৌরাত্ম বাড়ছে

Oplus_131072

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিরাপদ বাহন হিসাবে যাত্রীদের কাছে রেলের রয়েছে চাহিদা ও কদর, গ্রহণযোগ্যতা। অল্প সময়ে কম মুল্যে নিরাপদে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচল করতে পছন্দ করেন সব শ্রেণীর যাত্রীরা। বাড়ছে রেল সংযোগ ও ট্রেনসেবা। সরকারের আসছে বাড়তি আয়। তবে সম্প্রতি সময়ে আবারও ঢাকা-বেনাপোল-যশোর ও বেনাপোল-খুলনা-মোংলা রুটে চলাচলকারী ট্রেনে তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়া হকার ও ভিক্ষুকদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ট হয়ে উঠছে যাত্রী সাধারণ। ফলে ব্যাহত হচ্ছে রেল সেবা। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা জেগে ঘুমাচ্ছেন। নির্বাক যেন প্রশাসন ও যাত্রীরা।

প্রতিদিন ঢাকা টু বেনাপোল ও খুলনা রুটে ট্রেনে চলাচল করেন দেশি বিদেশী পর্যটকসহ ব্যবসায়ি শিক্ষার্থী রোগীসহ সব শ্রেণী পেশার মানুষ। রেল মানুষের আস্তা অর্জন করেছেন। তবে হিজড়াদের চাঁদাবাজি ও অশ্লীলতায় চরম ভোগান্তি ও অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। অপমানিত ও নির্গিত হচ্ছেন যাত্রীরা। অতিষ্ট হয়ে উঠছেন তারা। রেল কর্তৃপক্ষ রয়েছেন নিশ্চুপ। এক সময়ে রেলে চোরাচালানী পন্যের অবাধ বিচরণসহ যাত্রী সেবাই যশোর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে রেলে ভ্রাম্যমান অভিযান চালাতো প্রশাসন। বিজিবি, র‌্যাব. কাস্টম ও পুলিশসহ রেল সংশ্লিষ্টদের বিশেষ অভিযানে স্বস্তি ফেরে যাত্রীদের। অভিযান বন্ধ থাকায় আবারও রেলের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। রেলে অনেকটা জিস্মি ও অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা।

রেলের যাত্রী সাবিরা খাতুন, জামাল উদ্দিন ও মহাসিন হোসেন জানান, সব শ্রেণীর ও সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে টাকা আদায় করছের সংঘবদ্ধ হিজড়ারা। রয়েছে হেনস্তা করার বিস্তর অভিযোগ। রেলওয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে প্রতিনিয়ত এধরনের ঘটনা ঘটলেও নেওয়া হয়না ব্যাবস্থা। নিশ্চুপ থাকেন তারা।

এসব বিষয়ে বেনাপোল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হুসাইন জানান, ট্রেনে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জিআরপি পুলিশ চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যাত্রী সেবাই রেল পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, বেনাপোল-ঢাকা ও খুলনা রুটের ট্রেনে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ এবং ‘রুপসী বাংলা’ ও ‘বেতনা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে চোরাচালানি, হকার, ভিক্ষুক, হিজরা ও নেশাখোররা বিনা টিকিটে ওঠে বসে থাকায়। রেলের টিকিট কেটেও যাত্রীরা থাকেন দাঁড়িয়ে। রেলের নিরাপত্তা কর্মী পুলিশের প্রতিটি কামরায় থাকার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ সময়ে একটি বগিতে সিট নিয়ে ঘুমিয়ে পালন করেন দায়িত্ব। নিরাপত্তাহীনতাই ভোগেন যাত্রীরা। যাত্রীদের ব্যাগ, টাকা খোয়া গেলে বাধে বাকবিতন্ডা।

নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএসবি) সদস্যরা রেলস্টেশন ও রেলের সম্পদ দেখাশুনার সার্বিক দায়িত্বে থাকলেও তাদের চোখের সামনে চোরাচালানী, হিজরা, ভিক্ষুক, নেশাখোররা বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠছেন। দেখেও নির্বাক থাকছেন নিরাপত্তা কর্মীরা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে চোরাচালানীদের যোগসাজসে চোরাচালানীরা ট্রেনে ভারতীয় পণ্য পাচার করছে। সম্প্রতি আবির হোসেন ও মহাসিন হোসেন তারা পরিবারসহ ‘রূপসী বাংলা’ ট্রেনে যশোর যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি ছাড়তেই বগিতে হিজড়ারা উঠে যাত্রীদের কাছে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলেই ক্ষিপ্ত হয়ে আপত্তিকর ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি শুরু করে। প্রতিবাদ করলেই উগ্র রূপ ধারণ করে এবং পরিবারের সামনেই কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ ও হেনাস্তা করে। দেওয়া হয় হুমকি। ফলে প্রতিনীয়ত ট্রেনের ভেতর হিজড়াদের দৌরাত্বে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।

পাবলিক পরিবহনে পরিবার নিয়ে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থায়ী প্রতিকার চান ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
এসব ঘটনায় পরিত্রাণে ভুক্তভোগী যাত্রী মহাসিন হোসেন বেনাপোল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও স্টেশন মাস্টারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টিকিট বা অনুমতি ছাড়া ট্রেনে হিজড়া, হকার বা বহিরাগতদের প্রবেশ বেআইনি। ঘটনার পর স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ট্রেনে কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি যেন উঠতে না পারে, সেজন্য গার্ড ও নিরাপত্তা কর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থায়ী সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জিআরপি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হযেছে বলে জানান ষ্টেশন মাষ্টার আয়নাল হাসান।