রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

মা: জীবনের চিরন্তন আশ্রয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
মা: জীবনের চিরন্তন আশ্রয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বিশ্ব মাতৃ দিবস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ছবি, শুভেচ্ছা আর আবেগঘন কথায় ভরে উঠছে চারপাশ। কেউ মায়ের সঙ্গে পুরোনো ছবি প্রকাশ করবেন, কেউ লিখবেন স্মৃতির কথা, কেউবা হারিয়ে যাওয়া মায়ের জন্য অশ্রুসিক্ত হবেন নীরবে। কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকে যায়Ñমাকে স্মরণ করার জন্য কি সত্যিই একটি বিশেষ দিনের প্রয়োজন আছে? যে মানুষটি আমাদের জন্মের আগেই আমাদের জন্য স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন, যার নিঃস্বার্থ ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের পুরো জীবন, তাঁকে কি কেবল একটি দিনের ভেতর সীমাবদ্ধ রাখা যায়? ‘মা’ শব্দটি পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট অথচ সবচেয়ে গভীর শব্দগুলোর একটি।

 

এই একটি শব্দের ভেতরেই লুকিয়ে আছে নিরাপত্তা, ভালোবাসা, ত্যাগ, ক্ষমা, মায়া, শাসন, প্রার্থনা আর আশ্রয়ের এক বিশাল পৃথিবী। মানুষের জীবনে প্রথম যে মুখটি দেখা হয়, প্রথম যে কণ্ঠস্বর শোনা হয়, প্রথম যে স্পর্শে নিরাপত্তা অনুভূত হয়Ñসেটি মায়ের। পৃথিবীর সব সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে, কিন্তু মায়ের ভালোবাসা বদলায় না। সন্তান ব্যর্থ হোক কিংবা সফল, সুন্দর হোক কিংবা অসুন্দর, ধনী হোক কিংবা দরিদ্রÑমায়ের চোখে সন্তানের পরিচয় একটাই, সে তাঁর সন্তান।সভ্যতার ইতিহাসে যত বড় মানুষ এসেছেন, তাঁদের জীবনের ভেতরেও মায়ের অবদান গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

 

পৃথিবীর বহু দার্শনিক, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক কিংবা রাষ্ট্রনায়ক তাঁদের সাফল্যের পেছনে মায়ের প্রেরণার কথা স্বীকার করেছেন। কারণ একজন মা কেবল সন্তান জন্ম দেন না; তিনি একজন মানুষ গড়ে তোলেন। একটি সমাজ, একটি রাষ্ট্র কিংবা একটি সভ্যতার ভিত্তি নির্মাণ হয় মায়ের হাত ধরেই। আমাদের সমাজে মায়ের ভূমিকা নিয়ে কথা বলা হয় অনেক, কিন্তু বাস্তবতা প্রায়ই ভিন্ন। মা যেন একই সঙ্গে পরিবার, সংসার, সন্তান, সমাজÑসবকিছুর ভার বহনকারী এক নীরব যোদ্ধা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিবারের সবার প্রয়োজন পূরণ করতে করতে নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন কিংবা ক্লান্তির কথা তিনি ভুলে যান। অথচ সেই মায়ের কাজের কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই, নেই ছুটি, নেই বেতন, নেই অবসরকালীন সুবিধা।

 

সংসারের প্রতিটি কাজকে আমরা ‘দায়িত্ব’ বলে ধরে নিই, কিন্তু সেটি যে কত বড় শ্রম, তা খুব কম মানুষই উপলব্ধি করেন। গ্রামের এক কৃষক পরিবারের মায়ের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি শুধু রান্নাঘরের মানুষ নন। কখনো মাঠে কাজ করছেন, কখনো গরু-ছাগল সামলাচ্ছেন, কখনো সন্তানকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন, আবার কখনো সংসারের হিসাব কষছেন। শহরের কর্মজীবী মায়েদের জীবনও কম কঠিন নয়। অফিসের দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরে আবার সন্তান ও পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয়।

 

তাঁদের জন্য আলাদা কোনো বিশ্রামের জায়গা সমাজ তৈরি করেনি।সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, আমাদের সমাজে মায়ের ত্যাগকে এতটাই ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে দেখা হয় যে সেটি আর আলাদা করে মূল্যায়িত হয় না। একজন বাবা সংসারের জন্য অর্থ উপার্জন করলে তাঁকে সম্মান জানানো হয়, কিন্তু একজন মা সারাজীবন সংসার ও সন্তান সামলালেও সেটিকে ‘স্বাভাবিক দায়িত্ব’ হিসেবে দেখা হয়। এই মানসিকতা বদলানো জরুরি। কারণ পরিবার টিকিয়ে রাখার পেছনে মায়ের অবদান অর্থনৈতিক হিসাবের বাইরেও বিশাল সামাজিক মূল্য বহন করে। মাতৃত্ব কখনোই কেবল জৈবিক সম্পর্ক নয়; এটি একটি গভীর মানবিক অনুভূতি।

 

পৃথিবীতে এমন বহু নারী আছেন, যাঁরা জন্ম না দিয়েও মায়ের মতো ভালোবাসা দিয়ে সন্তান মানুষ করেন। এতিমখানার শিশুর প্রতি একজন সেবিকার মমতা, পথশিশুর মাথায় হাত রাখা একজন নারীর স্নেহ, কিংবা একজন শিক্ষিকার ছাত্রদের প্রতি যতœÑএসবও মাতৃত্বের বিস্তৃত রূপ। তাই মাতৃত্ব আসলে মানবতার সবচেয়ে কোমল ও মহৎ প্রকাশ। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও সমাজের কাঠামোও বদলাচ্ছে। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার বাড়ছে, ব্যস্ততা বাড়ছে, প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়ছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের ভেতর এক ধরনের মানসিক দূরত্বও তৈরি হচ্ছে। এখন অনেক সন্তান বৃদ্ধ বাবা-মাকে সময় দিতে পারেন না।

 

কেউ বিদেশে, কেউ কর্মব্যস্ততায়, কেউ নিজের জীবনের প্রতিযোগিতায় এতটাই ব্যস্ত যে মায়ের সঙ্গে বসে দুটো কথা বলার সময়টুকুও বের করতে পারেন না। বৃদ্ধাশ্রমের দিকে তাকালে এই বাস্তবতা আরও নির্মম হয়ে ওঠে। সেখানে অনেক মা আছেন, যাঁরা একসময় সন্তানের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, অথচ বার্ধক্যে এসে তাঁরা একাকিত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সন্তানকে বড় করতে গিয়ে যে মা নিজের খাবার, ঘুম, স্বপ্ন সবকিছু বিসর্জন দিয়েছিলেন, শেষ বয়সে সেই সন্তানদের কাছেই তিনি হয়ে উঠছেন ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’।

 

আধুনিক সভ্যতার এই নির্মমতা আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো। অথচ একজন মায়ের চাহিদা খুব সামান্য। তিনি সন্তানের কাছে বড় কোনো সম্পদ চান না; চান একটু সময়, একটু খোঁজখবর, একটু সম্মান আর ভালোবাসা। মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হলো সন্তানের আন্তরিকতা। মাতৃ দিবস আমাদের শুধু শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়; এটি আত্মসমালোচনারও দিন। আমরা কি সত্যিই আমাদের মায়েদের যথাযথ সম্মান দিচ্ছি?

 

তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভাবছি? তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছি? নাকি শুধু সামাজিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই দায়িত্ব শেষ করছি? আমাদের সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা, পারিবারিক নির্যাতন, অবহেলা কিংবা মানসিক চাপের বড় একটি অংশের শিকার হন মায়েরা। অনেক মা সংসারের শান্তির জন্য বছরের পর বছর নির্যাতন সহ্য করেন। কেউ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজের কষ্ট চেপে রাখেন। আবার কেউ অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হওয়ার কারণে নিজের অধিকার আদায় করতে পারেন না। ফলে মাতৃত্বকে সম্মান করার কথা বললেও বাস্তবে অনেক মা নিরাপত্তাহীন ও অবমূল্যায়িত জীবন কাটান।

মায়ের স্বাস্থ্য নিয়েও আমাদের উদাসীনতা স্পষ্ট। গ্রামীণ অঞ্চলে এখনো বহু মা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পান না। গর্ভকালীন সেবা, পুষ্টি, নিরাপদ প্রসব কিংবা প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যার অভাবে অসংখ্য নারী ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। দরিদ্র পরিবারের মায়েরা প্রায়ই নিজের চিকিৎসার আগে সন্তানের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেন। ফলে দীর্ঘদিন অবহেলায় তাঁদের শারীরিক জটিলতা বাড়তে থাকে। শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

 

একজন মা দিনের পর দিন মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ক্লান্তি কিংবা অবমূল্যায়নের শিকার হলেও তা নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়। সমাজ যেন ধরে নেয়Ñমা সব সহ্য করবেন। কিন্তু একজন মায়েরও ক্লান্তি আছে, স্বপ্ন আছে, ভেঙে পড়া আছে, কান্না আছে। তাঁকেও মানসিক সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের আবেগ প্রকাশের সহজ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কিন্তু অনেক সময় সেখানে মায়ের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ বাস্তব দায়িত্ববোধের জায়গাকে আড়াল করে দেয়।

 

ফেসবুকে মায়ের ছবি দিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়া সহজ, কিন্তু অসুস্থ মায়ের পাশে সময় নিয়ে বসা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ভালোবাসা যেন অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতার চেয়ে প্রদর্শনীতে বেশি সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাতেও মায়ের প্রতি সম্মান ও পারিবারিক মূল্যবোধের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পাওয়া দরকার। একটি শিশু যখন ছোটবেলা থেকেই পরিবারের শ্রম, ত্যাগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা পাবে, তখন সে বড় হয়ে আরও মানবিক নাগরিক হবে। কারণ মা শুধু একজন ব্যক্তির মা নন; তিনি একটি প্রজন্মের নির্মাতা।

 

আজকের পৃথিবীতে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা, লোভ ও বিভাজন বাড়ছে, তখন মাতৃত্বের মানবিক শিক্ষা আরও বেশি প্রয়োজন। একজন মা তাঁর সন্তানকে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ক্ষমার শিক্ষা দেন। এই মূল্যবোধগুলোই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের ভিত্তি। বিশ্বের বহু দেশে কর্মজীবী মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি, শিশুসেবা সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও কিছু অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু তা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

 

বিশেষ করে বেসরকারি খাত ও অনানুষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রে কর্মরত মায়েদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া গৃহিণীদের শ্রমের অর্থনৈতিক মূল্য নিয়েও এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। কারণ একজন গৃহিণী প্রতিদিন যে পরিমাণ কাজ করেন, তা অর্থনৈতিকভাবে হিসাব করলে বিশাল মূল্য দাঁড়ায়। অথচ সেই শ্রমকে এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। মাতৃ দিবস তাই শুধু আবেগের নয়; এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও দায়িত্ববোধের প্রশ্নও।

 

একজন মাকে সম্মান জানানো মানে কেবল ফুল দেওয়া নয়; তাঁর অধিকার, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জীবনেও মায়ের প্রতি আচরণ নিয়ে ভাবা দরকার। শেষ কবে আমরা মায়ের সঙ্গে নির্ভার হয়ে গল্প করেছি? শেষ কবে তাঁর ক্লান্তির কথা জানতে চেয়েছি? শেষ কবে তাঁকে বলেছিÑ‘মা, তোমাকে ভালোবাসি’? অনেক সময় আমরা ধরে নিই, মা তো আছেনই। কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই বুঝতে হয়, মা আর নেই। তখন হাজার অনুশোচনাও আর কোনো কাজে আসে না।মা হারানোর বেদনা পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর শূন্যতাগুলোর একটি। যে মানুষটি নিঃস্বার্থভাবে সারাজীবন পাশে ছিলেন, তাঁর অনুপস্থিতি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে অনুভূত হয়।

 

তাই মা বেঁচে থাকতে তাঁর মূল্য বোঝা জরুরি। একজন মা কখনো সন্তানের কাছে বড় কিছু প্রত্যাশা করেন না। সন্তানের সামান্য সাফল্যেই তিনি আনন্দিত হন, সামান্য কষ্টেই উদ্বিগ্ন হন। পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ প্রার্থনাগুলো সম্ভবত মায়েদের মুখ থেকেই আসে। আজ মাতৃ দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। সেই মায়ের প্রতিও, যিনি গ্রামে সন্তানকে মানুষ করতে অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন; সেই মায়ের প্রতিও, যিনি শহরে চাকরি ও সংসারের দ্বৈত চাপ সামলাচ্ছেন; সেই মায়ের প্রতিও, যিনি সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য বিদেশে একা সংগ্রাম করছেন; সেই মায়ের প্রতিও, যিনি সন্তানের জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন।

 

শ্রদ্ধা সেই মায়ের প্রতিও, যিনি সন্তান হারিয়েও বেঁচে থাকার শক্তি খুঁজে নিয়েছেন। শ্রদ্ধা সেই বৃদ্ধ মায়ের প্রতিও, যিনি এখনো সন্তানের ফোনের অপেক্ষায় থাকেন। শ্রদ্ধা সেই একক মায়ের প্রতিও, যিনি একাই পুরো পৃথিবীর বিরুদ্ধে লড়ে সন্তান মানুষ করছেন। মাতৃত্বের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। এটি ভালোবাসার সবচেয়ে বিশুদ্ধ রূপ। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মা শুধু পরিবারের দায়িত্ব বহনকারী মানুষ হবেন না; তিনি হবেন সম্মানিত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক।

 

যেখানে মায়ের ত্যাগকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হবে না; বরং তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। মাতৃ দিবসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটিইÑমাকে ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, এটি দায়িত্বও। সেই দায়িত্ব শুরু হয় পরিবারের ভেতর থেকে, আচরণ থেকে, সম্মান থেকে, সময় দেওয়া থেকে। প্রতিটি দিন হোক মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর দিন। কারণ পৃথিবীতে যতদিন ‘মা’ শব্দটি থাকবে, ততদিন মানবতা বেঁচে থাকবে।

লেখক: সাংবাদিক

 

Ads small one

পাইকগাছায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে খুলনার পাইকগাছায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১০ মে) সকালে উপজেলা পরিষদের সামনের প্রধান সড়কে ‘পাইকগাছা ফার্মাসিউটিক্যালস ম্যানেজার্স ফোরাম’-এর উদ্যোগে এই প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে ঔষধের সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এমনকি করোনা মহামারির সময়ও তারা সম্মুখসারিতে কাজ করেছেন। অথচ বিভিন্ন সময় তাদের ‘দালাল’ বলে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা মনে করিয়ে দেন, এই পেশার সঙ্গে জড়িতরা দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অংশ।

পাইকগাছা ফারিয়ার সভাপতি মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে পেশাজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। সভায় বক্তারা বলেন, “আমরা কোনো অনুগ্রহ চাই না, আমরা আমাদের কাজের স্বীকৃতি ও সম্মানজনক পরিবেশ চাই। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”

মো. আব্দুর রাজ্জাকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেনÑমো. ইকরামুল কবির, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মো. রইছ খান, মো. শাহ জালাল, মো. সায়েম সিদ্দিকী, মো. আরিফুর রহমান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পেশাগত নিরাপত্তা ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত মিছিল করা হয়।

 

গাবুরায় সুন্দরবন সুরক্ষায় শিক্ষার্থীদের ‘আর্থস্কাউট’ ক্যাম্পেইন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
গাবুরায় সুন্দরবন সুরক্ষায় শিক্ষার্থীদের ‘আর্থস্কাউট’ ক্যাম্পেইন

রনজিত বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘আর্থস্কাউট স্কুল ক্যাম্পেইন’। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রোববার (১০ মে) চাঁদনীমুখা পরিজান আলিম মাদ্রাসায় এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াইল্ডটিম।

জিআইজেড-এর অর্থায়নে এবং মাদ্রাসার আর্থস্কাউট সদস্যদের বাস্তবায়নে দিনভর এই ক্যাম্পেইন চলে। কর্মসূচির শুরুতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বন বিভাগের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।

 

এরপর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুন্দরবন বিষয়ক চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে সুন্দরবন সংরক্ষণের গুরুত্ব ও বন্যপ্রাণী রক্ষার ওপর বিশেষ ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বন বিভাগের কাটেশ্বর অফিসের ফরেস্টার মো. গোলাম কিবরিয়া। তিনি বলেন, “সুন্দরবন আমাদের প্রাকৃতিক ঢাল। এই বন বাঁচলে আমরা বাঁচব। তাই ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের বনের প্রতি মমত্ববোধ তৈরি করতে হবে।”

আর্থস্কাউট সদস্য ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মুনতাহিনা মিম্মার স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেনÑবন কর্মকর্তা মো. মাসুদ মোল্লা, সিনিয়র শিক্ষক এস কে আব্দুর রশিদ, ওয়াইল্ডটিম কর্মকর্তা আলী হোসেন মোহাম্মদ, মো. মুজিবুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা সুন্দরবনের বৃক্ষরাজি, বাঘসহ বন্যপ্রাণী ও মৎস্য সম্পদ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা স্থানীয় জনপদকে সুন্দরবন সুরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিনিয়র শিক্ষক মো. আবু তালেব ও মো. আলমগীর হোসেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও বিশেষ টি-শার্ট তুলে দেওয়া হয়।

 

কপিলমুনিতে এআই প্রযুক্তিতে কণ্ঠ নকল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে এআই প্রযুক্তিতে কণ্ঠ নকল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা): সন্তান পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেÑএমন খবরে কোন মা-বাবার বুক না কাঁপে? আর এই আবেগ ও আতঙ্ককেই পুঁজি করেছে এক ভয়ংকর প্রতারক চক্র। খুলনার কপিলমুনিতে সম্প্রতি সক্রিয় হয়ে ওঠা এই চক্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে কণ্ঠ নকল করে অভিভাবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চক্রটি অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করে। এদের প্রধান কৌশলগুলো হলোÑ এআই অ্যাপের মাধ্যমে সন্তানের হুবহু কান্নাজড়িত কণ্ঠ তৈরি করা। ফোনে সন্তান সেজে মা-বাবাকে বলা হয়, আব্বু/আম্মু, পুলিশ আমাকে ধরেছে, আমাকে বাঁচান। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে পুলিশের গাড়ির হুইসেল বা সাইরেনের শব্দ শোনানো হয়। চক্রের সদস্যরা নিজেদের ডিবি পুলিশ বা এসআই পরিচয় দেয় এবং সাথে ‘ম্যাজিস্ট্রেট’ আছে বলে ভয় দেখায়। মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে দ্রুত বিকাশের মাধ্যমে টাকা চাওয়া হয় এবং বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ দেওয়া হয়।

সম্প্রতি কপিলমুনির একজন স্কুল শিক্ষক এই প্রতারণার শিকার হয়ে ৩৫ হাজার টাকা হারিয়েছেন। তবে ভাগ্য ও উপস্থিত বুদ্ধির জোরে বেঁচে গেছেন সাংবাদিক শেখ আব্দুল গফুর। গত ৯ মে বিকেলে তাকে ডিবি অফিসার ‘ফারুক’ পরিচয় দিয়ে ফোন করা হয়। সন্তানের মাদকসহ ধরা পড়ার নাটক সাজিয়ে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করা হলে সন্দেহ হওয়ায় তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এরপর থেকেই ওই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ মজুমদার। তার ছোট ভাই পল্টু মজুমদারের কণ্ঠ হুবহু নকল করে ফোন করা হলেও তিনি বিষয়টি ধরে ফেলেন এবং প্রতারকদের ফাঁদে পা দেননি।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে কৌশলে শিক্ষার্থীদের নাম, ঠিকানা ও মা-বাবার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে এই তথ্যগুলো ব্যবহার করেই সাজানো হয় অপহরণ বা গ্রেপ্তারের নাটক।

প্রতারক চক্রের এমন তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ফোন এলে আতঙ্কিত না হয়ে আগে সন্তানের প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত করা উচিত। এ বিষয়ে সতর্কতা সংকেত দিয়ে পুলিশ আরও জানিয়েছেÑঅপরিচিত নম্বর থেকে সন্তানের বিপদ বা গ্রেফতারের খবর দিলে সাথে সাথে টাকা পাঠাবেন না। নিকটস্থ থানা বা সন্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করুন। এআই প্রযুক্তিতে কণ্ঠ নকল করা সম্ভব, তাই আবেগতাড়িত হওয়ার আগে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করুন।