মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

মূত্রনালীতে পাথর হতে পারে যেসব কারণে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
মূত্রনালীতে পাথর হতে পারে যেসব কারণে

হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, কখনও রক্ত—এমন উপসর্গ অনেক সময়ই হতে পারে শরীরে পাথর তৈরির লক্ষণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে যাকে বলা হয় কিডনি বা মূত্রনালীর পাথর।

এই পাথর মূলত শরীরের ভেতরে জমে থাকা খনিজ ও লবণের শক্ত কণা। ছোট হলে অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না, তবে বড় হলে তা তীব্র যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রশ্ন হচ্ছে—কেন তৈরি হয় এই পাথর?

শরীরে কীভাবে পাথর তৈরি হয়

মানুষের প্রস্রাবে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন খনিজ ও বর্জ্য পদার্থ থাকে, যা সাধারণত তরলের সঙ্গে বের হয়ে যায়। কিন্তু কোনও কারণে যদি এসব পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যায় বা প্রস্রাব কম তৈরি হয়, তাহলে সেগুলো একত্রিত হয়ে ধীরে ধীরে স্ফটিক তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে এই স্ফটিক বড় হয়ে পাথরে পরিণত হয়।

পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া

সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো কম পানি পান করা। শরীরে পানি কম থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, ফলে খনিজ পদার্থগুলো সহজে জমাট বাঁধে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া বা অতিরিক্ত ঘামের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে।

খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব

খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত লবণ, প্রাণিজ প্রোটিন (যেমন মাংস) বা অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার (যেমন পালং শাক, বাদাম) বেশি খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে বিষয়টি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন—সব খাবার সবার জন্য সমান ঝুঁকিপূর্ণ নয়।

জিনগত কারণ

পরিবারে কারও এ ধরনের সমস্যা থাকলে অন্যদের মধ্যেও ঝুঁকি বেশি থাকে। অর্থাৎ, বংশগত কারণও এখানে প্রভাব ফেলতে পারে।

কিছু রোগ ও শারীরিক অবস্থা

স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা হরমোনজনিত অসামঞ্জস্য পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা বা বিছানায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।

কিছু ওষুধের প্রভাব

নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে মূত্রে খনিজের ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে, যা পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

প্রস্রাব চেপে রাখা

দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখা মূত্রনালীর স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। এতে পাথর তৈরির ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।

লক্ষণগুলো কেমন

পাথর ছোট থাকলে অনেক সময় কোনও লক্ষণ থাকে না। তবে বড় হলে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, বমিভাব কিংবা প্রস্রাবে রক্ত দেখা যেতে পারে।

কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান করা, সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

শেষ কথা

মূত্রনালীর পাথর হঠাৎ তৈরি হয় না—এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। তাই নিয়মিত পানি পান, সঠিক খাদ্যাভ্যাসসহ ছোট ছোট অভ্যাসই এই সমস্যা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

শরীরের নীরব সংকেতগুলো সময়মতো বুঝতে পারলেই বড় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

Ads small one

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

সরকার গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।”

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সেক্রেটারি অ্যান্ডা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ আছে।

এ সময় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও হয়রানির বিষয়গুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন অ্যান্ডা ফিলিপ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বলে মনে করেন আইপিইউ সেক্রেটারি। সাক্ষাতে নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদসহ সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির

অবশেষে সেই ঘোষণা এলো যেটির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হচ্ছিল আর্জেন্টিনা ও ফুটবল বিশ্বকে। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানান আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা।

ইনস্টাগ্রামে হাতে লেখা নোটের ছবি প্রকাশ করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে মেসি লিখেছেন, ‘ফাইনালের পর সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে সবাইকে জানাতে চাই, আমি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি।’

‘এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা আমাকে কষ্ট দিয়েছে—এখনো ভেতর থেকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, সময় এসে গেছে।’

আর্জেন্টিনার হয়ে শুধু শেষ কয়েক বছরে নয়, পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মেসি, ‘আমি সবসময় আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শুধু সাম্প্রতিক কয়েক বছরে যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তখন নয়; তার আগেও। এই জার্সির জন্য সবসময় লড়েছি, মাঠে সবকিছু দিয়েছি—ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে এবং আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত করতে।’

মেসির এই ঘোষণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন এক ব্যক্তিগত অধ্যায়ও। তার বাবা হোর্হে মেসি গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত লেখার শেষে মেসি একটি বিশেষ নোটও যোগ করেছেন, ‘আমি এই কথাগুলো ২১ জুলাই লিখেছিলাম, ফাইনালের দুই দিন পর। আজ, আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার পর আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।’

অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি একদিনে নেওয়া নয়। বিশ্বকাপের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন মেসি। বাবার মৃত্যুর পর সেই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে।

আর্জেন্টিনার জার্সির সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মেসি লিখেছেন, ‘আমি জাতীয় দলের অংশ হতে ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সবসময় ভালোবাসবো। আমি আমার সবকিছু দিয়ে দিয়েছি। আমার আর কিছু দেওয়ার নেই। তাছাড়া দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা এখানে থাকার যোগ্য।’

দুই দশক ধরে সমর্থকদের ভালোবাসার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, ‘গত ২০ বছরের সব ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। মাঠ থেকে আপনাদের কণ্ঠ শুনতে আমি ভীষণ মিস করবো। এখন আমি আপনাদেরই একজন হয়ে বাইরে থেকে দলকে সমর্থন করবো—ভালো সময়েও, খারাপ সময়েও; বিশেষ করে খারাপ সময়গুলোতে।’

পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও দলের কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাদের সঙ্গে কাটানো সময়গুলোকে জীবনের ‘অবিস্মরণীয় স্মৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ক্যারিয়ার শেষ হচ্ছে একেবারে রূপকথার মতো। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জেতান তিনি। এটি ছিল আর্জেন্টিনার ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বকাপ। তার আগে দীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপা-খরা কাটিয়ে ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে ২০২৪ সালেও কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখে তারা।

তবে সেই সাফল্যের আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির পথচলা ছিল হতাশায় ভরা। ২০১৬ সালে টানা তিনটি ফাইনালে হারের পর একবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে ফিরে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসিই সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোল করা খেলোয়াড়। জাতীয় দলের হয়ে ২০৩ ম্যাচে তার গোল ১২৪টি।

দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ইতিহাসেও সর্বোচ্চ গোলদাতা পুরুষ খেলোয়াড় তিনি। দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি শুধু রেকর্ডই গড়েননি, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোরও অংশ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ হাতে তুলে ধরেই পূর্ণতা পেয়েছে তার স্বপ্ন।

দাপুটে জয়ে এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
দাপুটে জয়ে এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের

নারী এশিয়া কাপে দারুণ জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে নাহিদা আক্তারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা আক্রমণাত্মক করেছিল ইন্দোনেশিয়া। ওপেনার মারিয়া ও প্যাঙ্গেসতুতির ব্যাটিং কিছুটা শঙ্কাও জাগিয়েছিল বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে।

তবে মারুফা আক্তারের জোড়া আঘাতে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এরপর মেঘলা, নাহিদা ও ফাহিমাদের দারুণ বোলিংয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইন্দোনেশিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২ রান করেন ওপেনার মারিয়া।

বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং করেছেন নাহিদা আক্তার। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৫ ওভারে ৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়ার ইনিংস।

এর আগে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইন্দোনেশিয়া। দলীয় ১৬ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ফিরে গেলে জুটি গড়েন দিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি।

দুজনের ৪০ রানের জুটি ভাঙে ২৭ রান করা দিলারা ফিরলে। এরপর সোবহানা মোস্তারি দলীয় সর্বোচ্চ ৪০ রান করে ফেরেন। ৪২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় এই রান করেন তিনি।

শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ১০০ রান পেরোয় বাংলাদেশের স্কোর। ১৮ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ রানের ক্যামিও খেলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।