রিজিকে বরকত কমে যাওয়ার পেছনে যে ভুল আমরা প্রতিদিন করছি
গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা, রিজিকের প্রশস্ততা এবং জীবনে বরকত এ তিনটি বিষয়ই মানুষের চিরন্তন প্রত্যাশা। তবে ইসলাম স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয়, প্রকৃত সমৃদ্ধি কেবল অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং হালাল উপার্জন, আল্লাহভীতি, পিতা-মাতার সন্তুষ্টি এবং মানুষের অধিকার যথাযথভাবে আদায় করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে বরকতময় জীবনের প্রকৃত ভিত্তি।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, “তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।” (সূরা আল-ইসরা: ২৩)। গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আল্লাহ তাআলা তাঁর ইবাদতের নির্দেশের পরপরই পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের আদেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ইসলামে পিতা-মাতার মর্যাদা ও তাঁদের সন্তুষ্টির গুরুত্ব সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহর সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টির মধ্যে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টির মধ্যে।” (জামে তিরমিজি)।
তাই যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সঙ্গে পিতা-মাতার সেবা করে, তাঁদের সম্মান করে এবং তাঁদের দোয়া অর্জনের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাআলা তার জীবনে রহমত ও কল্যাণ দান করেন। অপরদিকে, মানুষের ওপর জুলুম করা, অন্যের অধিকার হরণ করা, লেনদেনে প্রতারণা করা কিংবা অসৎ উপায়ে সম্পদ অর্জন করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৮)।
রাসূলুল্লাহ কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সহিহ মুসলিম)। অর্থাৎ, যে সম্পদ অন্যায় ও অসততার মাধ্যমে অর্জিত হয়, তাতে বাহ্যিক প্রাচুর্য থাকতে পারে, কিন্তু প্রকৃত বরকত থাকে না। আজকের সমাজে অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক অশান্তি এবং জীবনে বরকতহীনতার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে।
অথচ আত্মসমালোচনা করলে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই আমরা মানুষের হক আদায়ে অবহেলা করি, লেনদেনে সততা বজায় রাখি না, অন্যের সম্পদের প্রতি অন্যায়ভাবে হাত বাড়াই কিংবা পিতা-মাতার যথাযথ খেদমতে শৈথিল্য প্রদর্শন করি। এসব অনৈতিক আচরণ ব্যক্তি ও সমাজ উভয়কেই আল্লাহর রহমত ও বরকত থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।
লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা









