মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

শাপলার ডাটা থেকে ঢ্যাপের ভাত : নিম্নবিত্তের স্মৃতিকাতরতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
শাপলার ডাটা থেকে ঢ্যাপের ভাত : নিম্নবিত্তের স্মৃতিকাতরতা

আখলাকুর রহমান

আমাদের সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ বিল, ঘের আর গ্রামীণ খালের দিকে তাকালে আজ বুকটা এক তীব্র হাহাকারে মোচড় দিয়ে ওঠে। যে জলমহালগুলো একসময় শরতের ভোরে হাজারো সাদা শাপলার শুভ্র চাদরে ঢেকে থাকত, যেখানে চোখ মেললেই মনে হতো আকাশের নক্ষত্রগুলো বুঝি মাটির বুকে নেমে এসেছে, আজ সেখানে শুধুই বাণিজ্যিক মৎস্য ঘেরের নিস্প্রাণ কড়া পাহারা আর কৃত্রিম রাসায়নিকের গন্ধ। আমাদের শৈশবের সেই চিরচেনা শুভ্রতার প্রতীক, জাতীয় ফুল সাদা শাপলা আজ সাতক্ষীরার বুক থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ইছামতী’ বা ‘আরণ্যক’ উপন্যাসের সেই প্রান্তিক চরিত্রগুলোর কথা মনে পড়ে, যারা প্রকৃতির এই অকৃপণ দানকে ভালোবেসে বুক পেতে নিত। ঠিক তেমনি আমাদের গ্রামের ডানপিটে ছেলেরাও সাতক্ষীরার মেঘলা দিনে বিলের জলে ডুব দিয়ে শাপলা তুলতে গিয়ে মায়ের কড়া বকুনি খেত। কিন্তু সেই বকুনিকে এক কান দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে, বুকসমান জল পেরিয়ে, কাঁপুনি ধরা শরীরে যখন একগুচ্ছ ভেজা শাপলা হাতে তারা মেঠোপথ ধরে বাড়ির পানে ছুটত, তখন তাদের চোখেমুখে থাকত এক স্বর্গীয় বিজয়ের আনন্দ। এই শাপলা তো কেবল ফুল ছিল না, ওটা ছিল আমাদের গ্রামীণ সাতক্ষীরার রূপের আসল অলংকার, আমাদের নিঃশ্বাসের সাথে জড়িয়ে থাকা এক অবিচ্ছেদ্য অস্তিত্ব।

আজ সেই চিরন্তন স্বপ্নিল দৃশ্যগুলো আমরা আর দেখি না, যার প্রধান কারণ হলো অপরিকল্পিত ও অতি-বাণিজ্যিক মৎস্য ঘেরের আগ্রাসন। ঘেরের মালিকরা নিজেদের ক্ষণস্থায়ী মুনাফার স্বার্থে পুকুর ও ঘেরের জলজ উদ্ভিদ সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে ফেলে, যার ফলে শাপলার কন্দ বা মূল মাটির নিচে অঙ্কুরিত হওয়ার সুযোগই পায় না। অথচ একটি পুকুর বা ঘেরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং তার চিরন্তন সৌন্দর্য ধরে রাখতে শাপলা ফুলের কোনো বিকল্প ছিল না। শুধু কি চোখের আরাম? আমাদের রসনাবিলাসেও এই ফুলটির ডাটা এক অনন্য জায়গা দখল করে ছিল। বর্ষার দিনে বিল থেকে তুলে আনা তাজা শাপলার ডাটা আঁশ ছাড়িয়ে, ছোট ছোট কুচি চিংড়ি মাছ দিয়ে যখন মা মাটির চুলোয় রান্না করতেন, তখন সেই তরকারির যে অমৃত স্বাদ হতো, তার সাথে আজকের কোনো দামি রেস্তোরাঁর খাবারের তুলনা চলে না। কত শত দিন যে ঘ্যানঘ্যান করে মায়ের কাছে এই শাপলা-চিংড়ির আবদার করেছি এবং তৃপ্তি ভরে খেয়েছি, তার কোনো ইয়ত্তা নেই।

শাপলা ফুলের এই মহাকাব্যে সবচেয়ে মধুর আর বেদনার অংশটি জুড়ে আছে তার ফল, যাকে আমাদের সাতক্ষীরার আঞ্চলিক ভাষায় আমরা ‘ঢ্যাপ’ বলে ডাকি। এই ঢ্যাপের ভেতরে থাকা ছোট ছোট কালো বীজগুলোকে রোদে শুকিয়ে, খড়খড়ে করে ভেজে যখন মুড়ির মতো ফোটানো হতো, তখন তাকে বলা হতো ‘ঢ্যাপের খৈ’। সেই খৈয়ের সুবাস আর নলেন গুড়ের মোয়া ছিল গ্রামীণ শৈশবের পরম বিলাসিতা। তবে এই ঢ্যাপের আরেকটি নির্মম পিঠও ছিল, যা আমাদের গ্রামীণ সমাজের চিরন্তন অভাব আর লড়াইয়ের অমোঘ সাক্ষী। এই সাতক্ষীরারই বহু নিম্নবিত্ত পরিবারে যখন চালের হাঁড়ি শূন্য থাকত, ঘরের কোণে এক ছটাক চালও জুটত না, তখন এই ঢ্যাপের বীজকে চালের মতো করে ফুটিয়ে ভাতের বিকল্প হিসেবে রান্না করা হতো। কত শত পরিবার যে এই ঢ্যাপের ভাত খেয়ে দিনের পর দিন, বেলার পর বেলা পার করে দিয়েছে, তার নীরব সাক্ষী হয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে আমাদের বিলের কালো মাটি।

দুর্ভাগ্যবশত, আজকের নতুন প্রজন্ম এই ঢ্যাপের স্বাদ তো দূরের কথা, এর নামটুকুও চেনে না। সাতক্ষীরার মানুষ আজ তাদের সেই অতি চেনা, অতি আবেগের সুদিনগুলোকে বড্ড বেশি মিস করে। একটি ফুল কীভাবে একটা গোটা প্রজন্মের শৈশব, তাদের আনন্দ, তাদের ক্ষুধা আর তাদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের ইতিহাসকে নিজের বুকে ধারণ করে রাখতে পারে, শাপলা ফুল তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এবং আমাদের সচেতন সমাজের কাছে আজ বিনীত অনুরোধ, কেবল বাণিজ্যের অন্ধ মোহে অন্ধ না হয়ে, আমাদের সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ও পুকুরগুলোর প্রাকৃতিক রূপ ফিরিয়ে দিন। ঘেরের এক কোণে হলেও শাপলা ফুটতে দিন, যেন আমাদের আগামী প্রজন্ম আবার খনার বচনের মতো প্রকৃতির সান্নিধ্যে বড় হতে পারে। এই স্থানীয় পত্রিকার পাতার মাধ্যমে সাতক্ষীরার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে এই সুপ্ত বিবেক জাগিয়ে তোলা আজ বড় বেশি প্রয়োজন, যাতে আমাদের ঘরের শাপলা আবার আমাদের বিলের চাদর হয়ে ফিরে আসে।

লেখা: আখলাকুর রহমান, উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা : আসিফা

 

 

Ads small one

দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

মাসুদ রানা

নদী, প্রকৃতি, ইতিহাস আর সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা দক্ষিণ-পশ্চিমের ঐতিহ্যবাহী জেলা সাতক্ষীরা। আর এই জেলার শিক্ষার আলো ছড়াতে যে প্রতিষ্ঠানটি গত আট দশক ধরে বাতিঘর হিসেবে কাজ করছে, তা হলো সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ। ‘জ্ঞানী শক্তি’-এই মহৎ বাণীকে বুকে ধারণ করে ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই বিদ্যাপীঠটি আজ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও জাতীয়করণ:সাতক্ষীরা জেলার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৪৬ সালে এই কলেজের যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন শিক্ষানুরাগীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই বিদ্যাপীঠটি পরবর্তীতে ১ মার্চ ১৯৮০ সালে জাতীয়করণ করা হয়। জেলা শহরের রাজারবাগান এলাকায় অবস্থিত ৩০ একরের বিশাল এই ক্যাম্পাসটি সাতক্ষীরার শিক্ষার ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

চোখ জুড়ানো সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস: ৩০ একরের এই বিশাল ক্যাম্পাসে পা রাখলেই মন জুড়িয়ে যায়। কলেজের মূল ফটক বা প্রবেশদ্বার রয়েছে দুটি। প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই ডান পাশে চোখে পড়বে এক বিশাল আকৃতির শিশু গাছ, যা মূল ভবনের সামনের বিস্তৃত খালি জায়গাকে সবসময় মায়াবী ছায়ায় আবৃত করে রাখে। এছাড়া পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে রয়েছে অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছপালা।

ক্যাম্পাসের ভেতরে রয়েছে: মনোরম লেক ও মিঠা পানির পুকুর,যা ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শহীদ মিনার: কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ের ঠিক সামনেই বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনারটি অবস্থিত।
আরসিসি ঢালাই রাস্তা: কলেজের মসজিদের পাশ এবং বিজ্ঞান ভবনের সামনে দিয়ে একটি দীর্ঘ ও আঁকাবাঁকা আরসিসি ঢালাই রাস্তা চলে গেছে সরাসরি ছাত্রী হোস্টেলের সামনে।

অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শুধুমাত্র পড়াশোনাতেই নয়, শিক্ষার্থীদের আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ। ছাত্রদের আবাসিক হোস্টেল ২টি, ছাত্রীদের আবাসিক হোস্টেল ১টি, লাইব্রেরী ও ১টি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ, বিস্তৃত ও উন্মুক্ত মাঠ, সুপরিসর সাইকেল ও মোটরসাইকেল শেড।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে কলেজ অনুমোদিত ডিজিটাল আইডি কার্ড প্রদান করা হয়।

শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী সংখ্যা: বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৫,০০০ (পনের হাজার) শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন। উচ্চশিক্ষার বিস্তারে এখানে রয়েছে, অনার্স (স্নাতক) কোর্স ১৬টি বিষয়ে,মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) কোর্স ১৫টি বিষয়ে
সহ-শিক্ষা কার্যক্রম ও সংস্কৃতি চর্চা: লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে কলেজটিতে নিয়মিত সহ-শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং রোভার স্কাউট-এর সক্রিয় ইউনিট।

এছাড়াও প্রতি বছর ক্যাম্পাসে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ’ বা বাংলা নববর্ষ বরণ
যুগের পর যুগ ধরে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ এই অঞ্চলের মেধা ও মননশীলতা গঠনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। জ্ঞানালোক ছড়ানোর পাশাপাশি একটি আদর্শ ও আধুনিক ক্যাম্পাস হিসেবে এই কলেজটি সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের গর্বের প্রতীক হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

 

 

 

ইছামতির বাঁকে বাঁকে: জল ও জীবনের লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
ইছামতির বাঁকে বাঁকে: জল ও জীবনের লড়াই

দীপঙ্কর বিশ্বাস

নদীমাতৃক বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক চিরচেনা ও ঐতিহাসিক নদী ইছামতি। এই নদীকে ঘিরেই যুগ যুগ ধরে গড়ে উঠেছে কতশত জনপদ, সভ্যতার বিকাশ আর হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা। বিশেষ করে ইছামতির দুই পাড়ে বসবাসকারী মৎস্যজীবীদের কাছে এই নদী কেবলই একটি জলধারা নয়; এটি তাদের অন্নদাতা, তাদের সুখ-দুঃখের পরম সঙ্গী। কিন্তু সময়ের আবর্তে আজ কেমন আছে ইছামতির সেই মৎস্যজীবীরা? তাদের জীবন-জীবিকার হালচালই বা কী?

ভোর হওয়ার আগেই যখন চারপাশ কুয়াশায় বা মৃদু অন্ধকারে ঢাকা থাকে, তখনই ইছামতির বুকে শোনা যায় বৈঠার শব্দ। ছৈওয়ালা নৌকায় বসে জাল গোছাতে গোছাতে মৎস্যজীবীরা জপতে থাকেন এক অজানা প্রার্থনা-আজ যেন নদীর বুক থেকে কিছু রূপালি ফসল ঘরে তোলা যায়।

বংশপরম্পরায় এই পেশায় টিকে থাকা জলদাস বা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবন ইছামতির জোয়ার-ভাটার মতোই চঞ্চল। খেপলা জাল, কারেন্ট জাল কিংবা ঝাঁকি জাল ছুঁড়ে দিয়ে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। মাছ বলতে কখনো চিংড়ি, আবার কখনো বেলে, ট্যাংরা বা পারশে। এই মাছ বিক্রি করেই চলে তাদের সংসারের চাল-ডাল কেনা, সন্তানের স্কুলের খরচ আর বুড়ো মা-বাবার ওষুধের টাকা।

সংকটের চোরাবালি: বিপন্ন ইছামতি, বিপন্ন জীবন
সোনালী অতীতের গল্প এখন রূপকথা মনে হয়। বর্তমান সময়ে ইছামতির মৎস্যজীবীরা নানামুখী সংকটের মুখোমুখি। সাংবাদিক হিসেবে মাঠপর্যায়ে তাকালে কয়েকটি বড় ধাক্কা স্পষ্ট চোখে পড়ে,

১. নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে আগের মতো গভীরতা নেই, ২.কমে গেছে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র। ৩. কৃষিজমিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত কীটনাশক ধুয়ে এসে পড়ছে ইছামতিতে। ফলে মাছের মড়ক এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। ৪. ইছামতির একটি বড় অংশ বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা নির্ধারণ করে। সীমানা জটিলতা ও কড়া নজরদারির কারণে মৎস্যজীবীরা অনেক সময় স্বাধীনভাবে মাছ ধরতে পারেন না। অনিচ্ছাকৃত সীমান্ত লঙ্ঘনের ভয়ে আতঙ্কে কাটে তাদের দিন।

যখন নিষেধাজ্ঞার মেঘ নামে
মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে সরকারিভাবে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ইলিশের প্রজনন মৌসুম বা জাটকা রক্ষার এই উদ্যোগ পরিবেশের জন্য দারুণ হলেও, বিকল্প কর্মসংস্থানহীন মৎস্যজীবীদের পেটে তখন চড়া চাবুক পড়ে। সরকারের দেওয়া চালের বরাদ্দ অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল কিংবা পৌঁছাতে দেরি হয়। ফলে দাদন ব্যবসায়ী বা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হন তারা। এই ঋণের জাল থেকে তারা আর সহজে বের হতে পারেন না।
“নদী আমাদের মা। মা কি কখনো সন্তানকে না খেয়ে মারে? নদী ঠিকই মাছ দিত, কিন্তু মানুষই তো নদীটারে মেরে ফেলল।” -একজন প্রবীণ মৎস্যজীবীর আক্ষেপ।

বাঁচিয়ে রাখার দায় আমাদেরই
ইছামতি নদী এবং এর ওপর নির্ভরশীল মৎস্যজীবীদের জীবন বাঁচাতে হলে এখনই সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

১. শিল্পবর্জ্য নদীতে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

২. মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে মৎস্যজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত ও সঠিক সময়ে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিকল্প আয়ের (যেমন- হাঁস-মুরগি পালন, কুটির শিল্প) প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।

৩. মহাজদের কবল থেকে বাঁচাতে সরকারি ব্যাংক বা সমবায় সমিতির মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের স্বল্প সুদে বা সুদহীন ঋণের ব্যবস্থা করা উচিত।

ইছামতি নদী শুধু এক ফালি জলরেখা নয়, এটি হাজার হাজার মৎস্যজীবী পরিবারের ধমনী। এই ধমনী শুকিয়ে গেলে কিংবা দূষিত হলে থমকে যাবে একটি আস্ত জনপদের জীবনস্পন্দন। ইছামতির রূপালি মাছ আর মৎস্যজীবীদের মুখের অমলিন হাসি টিকিয়ে রাখতে হলে নদীকে ভালোবাসতে হবে, নদীকে বাঁচাতে হবে। কারণ, ইছামতি বাঁচলে, বাঁচবে মৎস্যজীবী; আর মৎস্যজীবী বাঁচলে টিকে থাকবে আমাদের চিরন্তন বাংলার রূপ।

 

 

পাটকেলঘাটায় জামিয়া আরাবিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া মাদ্রাসার নতুন উপদেষ্টা ও কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় জামিয়া আরাবিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া মাদ্রাসার নতুন উপদেষ্টা ও কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া আরাবিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া মাদ্রাসার ২০২৬ সালের জন্য নতুন উপদেষ্টা মন্ডলী ও কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নবগঠিত কমিটিতে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সেক্রেটারি হয়েছেন মাদ্রাসার মুহতামিম আলহাজ্ব মুফতি মনিরুল হক। সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ব্যবসায়ী আলহাজ্ব সালাউদ্দীন এবং সহ-সেক্রেটারি হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন আলহাজ্ব আওলাদ হোসেন। শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা মোশাররফ হুসাইন।

সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলহাজ্ব আকবর হোসেন, আলহাজ্ব মীর আসাদুজ্জামান, আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান সরদার, আসাদুজ্জামান আসাদ এবং মো. বাবলুর রহমান।

চার সদস্যের উপদেষ্টা মন্ডলীতে রয়েছেন আলহাজ্ব আব্দুল আলীম মাহমুদ (মদনপুর), আলহাজ্ব আব্দুল কালাম বাবলা (সাতক্ষীরা), আলহাজ্ব আবুল ইফতেখার (ঈমান গ্লাস স্টোর, সাতক্ষীরা) এবং আলহাজ্ব মীর শাহিন হোসেন (পাটকেলঘাটা)।
এছাড়া কমিটিতে সিনিয়র সদস্য হিসেবে আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, মুশফিকুল আলম বিশ্বাস, শেখ অহিলুর রহমান, আলহাজ্ব রেজাউল ইসলাম (বাবু), আলহাজ্ব শেখ মাহমুদুল ইসলাম, আলহাজ্ব নাজিম উদ্দীন, মকবুল হোসেন এবং মাস্টার আব্দুর রব পলাশ-সহ মোট ১৪ জন স্থান পেয়েছেন। সাধারণ সদস্য হিসেবে আলহাজ্ব লুৎফর রহমান, প্রিন্সিপাল রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক আব্দুল মোমিন ও ডা. মামুনুর রশিদ-সহ মোট ২৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবনির্বাচিত সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, “পাটকেলঘাটার জামিয়া আরাবিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া মাদ্রাসা সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম প্রাচীন ও স্বনামধন্য দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন কওমিয়া মাদ্রাসাসহ নানা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। নবগঠিত কমিটি মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়ন এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবে বলে আমি আশাবাদী।” প্রেসবিজ্ঞপ্তি