বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব ও ভূ-রাজনীতি: আমাদের আবেগ ও বাস্তবতার টানাপোড়েন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব ও ভূ-রাজনীতি: আমাদের আবেগ ও বাস্তবতার টানাপোড়েন

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
ইসলামী বিশ্বের মানচিত্রে শিয়া-সুন্নি মতভেদ কোনো নতুন বিষয় নয়। কয়েক শতাব্দী ধরে এই দুই ধারার মধ্যে তাত্ত্বিক ও আদর্শিক লড়াই চলছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং বিশেষ করে ইরান বনাম ইসরায়েল-আমেরিকা দ্বন্দ্ব বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত মানসিক ও আদর্শিক বৈপরীত্য তৈরি করেছে। যে শিয়া মতবাদকে কট্টর সুন্নি আলেমগণ অনেক সময় ‘কাফের’ বা ‘ইসলামের গন্ডি বহির্ভূত’ বলে ফতোয়া দেন, সেই ইরানের পক্ষে আজ রাজপথে স্লোগান উঠছে। এই ধর্মীয় অনুভূতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যবচ্ছেদ করা এখন সময়ের দাবি।
আদর্শিক দেয়াল ও শিয়া-সুন্নি বিতর্ক : বাংলাদেশের মুসলিম সমাজের সিংহভাগ সুন্নি মতাদর্শের অনুসারী। কওমি ও সালাফি ঘরানার আলেমদের বড় একটি অংশ শিয়াদের আকিদাগত বিশ্বাসের কারণে তাদের ইসলামের মূল ধারা থেকে বিচ্যুত মনে করেন। বিশেষ করে সাহাবায়ে কেরামদের প্রতি শিয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সুন্নিদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিদ্যমান। অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় জলসাগুলোতে শিয়াদের ‘অমুসলিম’ হিসেবে অভিহিত করার নজিরও কম নয়। যদি আদর্শই শেষ কথা হয়, তবে একজন সুন্নি মুসলমানের কাছে শিয়া প্রধান ইরান কখনোই ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু অদ্ভুতভাবে যখন বৈশ্বিক রাজনীতির প্রসঙ্গ আসে, তখন এই ‘কাফের’ ফতোয়া যেন আলমারিতে বন্দি হয়ে যায়।
ইসরায়েল ভীতি বনাম ইরান প্রীতি: ইরানের প্রতি এই আকস্মিক সহমর্মিতার মূলে শিয়াদের প্রতি ভালোবাসা কাজ করছে না; বরং কাজ করছে ইসরায়েল ও আমেরিকার প্রতি চরম ঘৃণা। বাংলাদেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে ফিলিস্তিন ইস্যুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। দীর্ঘকাল ধরে আরবরা যখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হয়েছে, তখন ইরানের সরব উপস্থিতি তাদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। এখানে ‘শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু’ নীতিটি প্রকট। সুন্নিরা দেখছে, কথিত ‘কাফের’ ইরানই আজ গাজা ও ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে, অথচ অনেক সুন্নি আরব রাষ্ট্র নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এই দৃশ্যপটই বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ইরানের প্রতি একটি কৃত্রিম কিন্তু শক্তিশালী ধর্মীয় আবেগ তৈরি করেছে।
আরব বিশ্বের অনীহা ও রাজনৈতিক মেরুকরণ: আমরা অনেকেই লক্ষ্য করি না যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব বা বাহরাইনের মতো সুন্নি রাষ্ট্রগুলো ইরানকে চরম সন্দেহের চোখে দেখে। এর কারণ কেবল ধর্মীয় নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক। ইরান তার ‘বিপ্লব’ রপ্তানি করতে চায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া আধিপত্য বিস্তার করতে চায়-এমন একটি ভয় আরব রাজতন্ত্রগুলোর মধ্যে প্রবল। বিশেষ করে হুতি বিদ্রোহী, হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের মিলিশিয়াদের মাধ্যমে ইরান যেভাবে প্রভাব বাড়াচ্ছে, তাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরব নিজেদের অস্তিত্বের সংকট দেখছে। ফলে তারা অনেক সময় ইরানের চেয়ে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করাকেই নিরাপদ মনে করছে। অথচ বাংলাদেশে বসে আমরা কেবল ধর্মীয় চশমা দিয়ে বিচার করছি, যেখানে আরবরা বিচার করছে জাতীয় নিরাপত্তা ও ক্ষমতার ভারসাম্য দিয়ে।
জাতীয় স্বার্থ ও আমাদের হুরমুজ সংকট: সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের এই আবেগ অনেক সময় জাতীয় স্বার্থকেও ছাপিয়ে যায়। হুরমুজ প্রণালী দিয়ে আমাদের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে যখন ইরান বাধা দেয় বা অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন বাংলাদেশে তেমন কোনো প্রতিবাদ দেখা যায় না। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন জাগে-আমাদের কাছে দেশের মর্যাদা বড়, না কি একটি নির্দিষ্ট দেশের ধর্মীয় পরিচিতি বড়? হুরমুজ প্রণালীতে বাংলাদেশি জাহাজের হয়রানি আমাদের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। কিন্তু ইরানের প্রতি অন্ধ আবেগের কারণে এই বিষয়গুলো জনসমক্ষে আলোচনাতেই আসে না।
ধর্মীয় অনুভূতি অবশ্যই ব্যক্তিগত ও পবিত্র। কিন্তু সেই অনুভূতি যখন ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণে ব্যবহৃত হয়, তখন সেখানে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। শিয়ারা যদি সুন্নিদের দৃষ্টিতে কাফেরই হয়, তবে তাদের কর্মকান্ডকে কেন ‘ইসলামী বিজয়’ হিসেবে দেখা হবে? আবার যদি তারা ভাই হয়, তবে আরব রাষ্ট্রগুলোর সাথে তাদের কেন এই রক্তক্ষয়ী বিরোধ? বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে বুঝতে হবে যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কেবল ফতোয়া দিয়ে চলে না। এখানে প্রতিটি দেশ নিজের স্বার্থ দেখে। আমাদের আবেগ যেন এমন না হয় যা দেশের স্বার্থকে ছোট করে আর বিদেশের সংকীর্ণ স্বার্থকে মহান করে তোলে। আবেগ ও বিবেকের সঠিক সমন্বয়ই কেবল আমাদের এই দ্বিচারিতা থেকে মুক্তি দিতে পারে। লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট

Ads small one

জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা, সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা, সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বা জোয়ারাধার কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছে যুব পানি কমিটি। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, নদী সচল থাকা অবস্থায় টিআরএম চালু করা না হলে আগামী এক-দুইটি শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই নদীতে আবারও পলি জমে নাব্যতা কমে যেতে পারে। এতে সম্প্রতি ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সুফলও দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরে উত্তরণের আঞ্চলিক কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৯০-এর দশক থেকে সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, তালা, আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর এলাকা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে। এতে অববাহিকার ৬ লাখের বেশি মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

 

বিভিন্ন সময়ে নদী-খাল খনন, স্লুইসগেট নির্মাণ ও উপকূলীয় বাঁধ সংস্কারে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রতি বছর বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীতে ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পলি জমছে। এতে উজানের অংশ ভরাট হয়ে নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে। এর সঙ্গে নদী-খাল দখল, অনিয়ন্ত্রিত চিংড়ি চাষ এবং স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি প্লাবিত হচ্ছে। এতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হয়ে অনেক পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াটার রিসোর্স প্ল্যানিং ইনস্টিটিউটের আওতাভুক্ত আইডব্লিউএমের সমীক্ষা এবং বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, পলিবহুল এ অঞ্চলে শুধু নদী খনন করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। টিআরএমের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নির্দিষ্ট বিলে প্রবেশ করিয়ে পলি জমার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে বিলের উচ্চতা বাড়বে এবং নদীতে পলি জমার চাপ কমবে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০-এ বেতনা-মরিচ্চাপ অববাহিকার সুখদেবপুর, টিকেট, ঝিলমারী, দুর্গাপুর, শ্রীরামপুর, বাগমারা, গোবিন্দপুর, হাজীখালী, আমোদখালী, চাপড়া ও মাটিয়াডাঙ্গা এই ১১টি বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের নির্দেশনা রয়েছে। আইডব্লিউএমের সমীক্ষা অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পুনঃভরাটের হার ৬০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

তবে যুব পানি কমিটির নেতারা বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় পোল্ডার নম্বর ১, ২, ৬-৮ ও ৬-৮ (সম্প্রসারণ)-এর জন্য ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চার বছর মেয়াদি যে প্রকল্প সম্প্রতি শেষ হয়েছে, তাতে টিআরএম রাখা হয়নি। ফলে নদী সচল রাখার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় মৎস্যঘের ও ভেড়ির কারণে অনেক জায়গায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ রয়েছে। ফলে নদী-খাল খনন বা বাঁধ সংস্কার করলেও পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামোগত প্রকল্পের পাশাপাশি পানি চলাচলের সব বাধা দূর করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকার নির্ধারিত বিলে দ্রুত টিআরএম চালু, পানি নিষ্কাশনের সব প্রতিবন্ধকতা দূর, নদী-খাল দখলমুক্ত করা এবং মৎস্যঘেরের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া পানি চলাচলের পথ খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে স্থানীয় জনগণসহ সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনের কার্যকর অংশগ্রহণ ও সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে যুব পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল, প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সদস্য সাজিদুল ইসলাম, করিমুন নেছা শান্তা, লামিয়া সুলতানা, রাবিয়া খাতুন, আজমিরা খাতুন, আবু তাহের ও মিলন কুমার উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া উত্তরণের কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন, কেন্দ্র পানি কমিটির সদস্য মীর জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ বাবু, উত্তরণের নাজমা আক্তার ও প্রতিনিধি গোলাম হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় সচেতন হচ্ছেন সাতক্ষীরার উপকূলীয় নারীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় সচেতন হচ্ছেন সাতক্ষীরার উপকূলীয় নারীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর ও আশাশুনি। যা বারবার জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। সেখানে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। দুর্যোগের পূর্বমুহূর্তে কেবল ত্রাণের জন্য অপেক্ষা না করে, নিজেদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় এবার সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন স্থানীয় নারীরা।

এর সর্বশেষ উদাহরণ দেখা গেল গভীর নিম্নচাপের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য ও ঝোড়ো হাওয়ার ফলে সাগর উত্তাল থাকার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আশাশুনির আনুলিয়া, প্রতাপনগর ও শ্যামনগরের পদ্মপুকুর, গাবুরা ইউনিয়নের নারী বাঁধ সুরক্ষা দলের সদস্যরা সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন-এর কাছে উপকূলের বেড়িবাঁধ সম্পর্কিত সরেজমিন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নারী বাঁধ সুরক্ষা দলের নেতৃবৃন্দ বেড়িবাঁধ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদ্বয়ের কাছে জমা দেন। নারী বাঁধ সুরক্ষা দলের প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি কোনো গতানুগতিক আবেদনপত্র নয়, বরং একটি পেশাদার ও তথ্যসমৃদ্ধ পর্যবেক্ষণ।

গভীর নিম্নচাপের সতর্কবার্তা পাওয়ার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নারী বাঁধ সুরক্ষা দলগুলো মাঠে নামে। তারা সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর, হাওলাদারবাড়ি, মাদারবাড়ি, আদর্শগ্রাম, কল্যাণপুর ও আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট, একসরা, কাকবাসিয়া এবং শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনীমুখা, ডুমুরিয়া, চকবারা, ৯নং সোরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কামালকাঠি, খুটিকাটা, পাখিমারা, ঝাঁপা, পদ্মপুকুর গ্রামের বেড়িবাঁধের অতি-ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। কেবল পরিদর্শনই নয়, তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সাথে জরুরি বৈঠক করে মাঠের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।

নারী বাঁধ সুরক্ষা দলগুলোর বেড়িবাঁধ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনটি গ্রহনকালে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, ‘উপকূলের নারীরা এখন দুর্যোগের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করতে এবং তা নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হচ্ছে। এটি তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির দৃষ্টান্ত।’
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ‘স্থানীয় নারীরা নিজেদের এলাকার বেড়িবাঁধের দুর্বল জায়গা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। তাদের দেওয়া তথ্য নির্ভুল হলে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে আমাদের সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের উপকূলীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নারীদের অংশগ্রহণ মূলত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান বা প্রাথমিক প্রস্তুতি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। তবে, সুইডেন দূতাবাস ঢাকা এবং ইউএন উইমেন এর সহায়তায় ‘বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠন’-এর বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প এই ধারায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। প্রকল্পের আওতায় গঠিত নারী বাঁধ সুরক্ষা দল বা (ইপিজি) এখন উপকূলের বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

গাবুরায় ভূমি অফিসের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
গাবুরায় ভূমি অফিসের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নাম ব্যবহার করে বসতভিটার কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায়, গাবুরা লক্ষীখালী হাফিজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় উক্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এলাকাবাসীরা জানায়, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে গাবুরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীখালী এলাকার মো. হেলাল উদ্দিন, মো. আলামিন গাজী, মোছা. ফিরোজা ও মোছা. ফাহিমাসহ অনেকের কাছ থেকে কাগজপত্র সংশোধনের কথা বলে টাকা নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের বিভিন্ন জটিল কাজ দ্রুত সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি। তিনি গাবুরা চকবারা এলাকার হযরত আলীর ছেলে। এভাবে এলাকাটির প্রায় ৫০ জন বাসিন্দার কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করছেন তারা।

মিথ্যা আশ্বাসে টাকা আদায়ের এ ঘটনায় গাবুরা ইউনিয়নজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে অর্থ লেনদেনের কোনো লিখিত রসিদ বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি অভিযোগকারীরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ সব দাবি অস্বীকার করে বলেন, “আমার সঙ্গে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল গনি উপস্থিত ছিলেন। আমি কোনোভাবেই কারও কাছ থেকে টাকা আদায় করিনি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

এ বিষয়ে গাবুরা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল গনির কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহকে আমি সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলাম। তবে আমার জানামতে সে কোথাও থেকে কোনো টাকা আদায় করেনি।”

অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভূমি অফিসের মতো একটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা উদঘাটনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।