বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা নিউজিল্যান্ডের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা নিউজিল্যান্ডের

তৃতীয় টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউজিল্যান্ড ১১.৪ ওভারে ১০৪/৪ (জ্যাকবস ৬২*, ফক্সক্রফট ১৫* ; ক্লার্ক ১, ক্লিভার ১, রবিনসন ২৩, কেলি ১)

ফল: নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী

বাংলাদেশ ১৪.২ ওভারে ১০২/১০ (মেহেদী ৭*; সাইফ ১৬, তানজিদ ৫, পারভেজ ০, লিটন ২৬, শামীম ৩, হৃদয় ৩৩, সাইফউদ্দিন ০, রিশাদ ৫, শরিফুল ২, রিপন ০)

সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি জিতলে ইতিহাস গড়তে পারতো বাংলাদেশ। কোনও সফরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একাধিক সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়তো। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেটা হয়নি। শেষ ম্যাচ ৬ উইকেটে জিতে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে নিউজিল্যান্ড। প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশও ৬ উইকেটে জিতেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে।

অবশ্য ১০৩ রানের মামুলি লক্ষ্য দিয়েও ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করে দিয়েছিলেন পেসার শরিফুল ইসলাম। নতুন বলে কিউইদের ২৫ রানের মধ্যে তুলে নেন ৩ উইকেট। তার পর ৩৩ রানে মেহেদী চতুর্থ উইকেট তুলে নিলে তখনও ম্যাচে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তার পর পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচ কেড়ে নেন বেভন জ্যাকবস। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২৯ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। ফিফটির পর তার ঝড়েই ১১.৪ ওভারে ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ডিন ফক্সক্রফট। তিনি ১৫ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থেকেছেন। পঞ্চম উইকেটে এই জুটি যোগ করেছে ৭১ রান!

বল হাতে ১৯ রানে শরিফুল ৩ উইকেট নিলেও সেটা বৃথা গেছে শেষ পর্যন্ত। ২০ রানে একটি নেন মেহেদী হাসান।

মেহেদী এনে দিলেন চতুর্থ উইকেট

লক্ষ্য তাড়ায় কিউইদের স্বস্তিতে খেলতে দিচ্ছে না বাংলাদেশ। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ডট বলের চাপে ফেলছে। তাতে মিলছে সাফল্যও। শরিফুলের তিন উইকেট নেওয়ার পর পঞ্চম ওভারের শেষ বলে মেহেদী হাসানের শিকার হয়েছেন নিক কেলি। মেহেদীর ঘূর্ণিতে ১ রানে বোল্ড হয়েছেন তিনি। নিউজিল্যান্ড চতুর্থ উইকেট হারায় ৩৩ রানে।

শরিফুলের তৃতীয় শিকার রবিনসন

একপ্রান্ত নড়বড়ে হলেও শুরু থেকে চড়াও হচ্ছিলেন ওপেনার টিম রবিনসন। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে তাকেও থামিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন তিনি। রবিনসন ১৪ বলে ২৩ রানে ফিরেছেন। তার ইনিংসে ছিল দুটি ৪ ও একটি ছয়।

দ্বিতীয় ওভারে শরিফুলের জোড়া আঘাত

প্রথম ওভারে ৯ রান তুলেছে নিউজিল্যান্ড। তবে দ্বিতীয় ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে শুরুর জুটি ভেঙেছেন শরিফুল ইসলাম। ১.২ ওভারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ওপেনার কাটেনে ক্লার্ক (১)। একই ওভারের শেষ বলে আবারও আঘাত হানেন শরিফুল। এবার গ্লাভসবন্দি হন নতুন ব্যাটার ক্লিভার।

১০২ রানে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস

তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ১০৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ।

মূলত বৃষ্টি বিরতির পর খেই হারায় বাংলাদেশের ইনিংস। ম্যাচ ১৫ ওভারে নেমে আসায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে তারা। তাতে কাঙ্ক্ষিত স্কোরবোর্ড পায়নি। কিউইদের দারুণ বোলিংয়ে ১৪.২ ওভারে অলআউট হয়েছে ১০২ রানে।

মূলত প্রশ্ন বিরতিতে ব্যাটিংয়ে বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর পাশাপাশি বাজে শট সিলেকশন তাদের ডুবিয়েছে। যে কারণে শেষ দিকে গতি পায়নি ইনিংস। বাংলাদেশ শেষ ৬ উইকেট হারিয়েছে মাত্র ২৬ রানে!

এই সময় স্কোরবোর্ড সচলে মুখ্য ভূমিকা রাখেন তাওহীদ হৃদয়। লিটনের ২৬ রানের পর সর্বোচ্চ ৩৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে। হৃদয়ের ২৪ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছয়। লিটনের ১৭ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছক্কা।

কিউইদের হয়ে ২ ওভারে ৯ রানে ৩টি উইকেট নেন জশ ক্লার্কসন। দুটি করে নিয়েছেন নাথান স্মিথ ও বেন সিয়ার্স। একটি করে নেন জেইডেন লেনক্স ও ইশ সোধি।

শরিফুলের পর রিপনের আউটে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস

শতরান পার করার পর শরিফুলও আউট হয়েছেন ২ রানে। তাকে শেষ ওভারের প্রথম বলে বোল্ড করেছেন সিয়ার্স। পরের বলে রিপনও বোল্ড হলে ১৪.২ ওভারে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

রানআউটে ফিরলেন রিশাদ

শেষ দিকে এসে দ্রুত উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। রিশাদ হোসেনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৩.১ ওভারে রানআউটে ফিরেছেন। তার বিদায়ে বাংলাদেশ ৯৫ রানে হারায় অষ্টম উইকেট।

হৃদয়ের পর ফিরলেন সাইফউদ্দিনও

১৫ রানে জীবন পাওয়ার পর স্কোরবোর্ড সচল রাখছিলেন তাওহীদ হৃদয়। অন্যপ্রান্ত নড়বড়ে হলেও তিনি রান তুলছিলেন। ১২.১ ওভারে অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি। জশ ক্লার্কসনের বলে মেরে খেলতে গিয়ে ৩৩ রানে তালুবন্দি হয়েছেন হৃদয়। পরের বলে ক্যাচ আউট হন নতুন নামা সাইফউদ্দিনও (০)। বাংলাদেশ সপ্তম উইকেট হারায় ৮৯ রানে।

শামীম ফিরলেন ৩ রানে

আগের ম্যাচে রান তুলতে ভূমিকা ছিল শামীম হোসেনের। কিন্তু শেষ ম্যাচে ৩ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। ১১.৩ ওভারে সোধির বলে স্টান্স পরিবর্তন করে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

কিপারের ভুলে বাঁচলেন হৃদয়

লিটন ফিরলেও রানের চাকা সচল রেখেছেন তাওহীদ হৃদয়। অবশ্য তিনি ১৫ রানেই ফিরতে পারতেন। কিন্তু ওই সময় কিপারের ভুলে বেঁচে যান তিনি। হৃদয় ক্রিজের বাইরে থাকলেও উইকেটকিপার বল গ্লাভসে নেওয়ার আগেই বেলস ফেলে দেন।

২৬ রানে থামলেন লিটন

বৃষ্টি বিরতির পর বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হয়েছে খেলা। কিন্তু বিরতির পর ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি লিটন দাস। বিরতির আগে যেভবে মেরে খেলছিলেন, ক্লার্কসনের বলে সেভাবে খেলার চেষ্টায় ৮.২ ওভারে ২৬ রানে ক্যাচ আউট হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায় ৬৩ রানে।

খেলা শুরু বিকাল সাড়ে ৪টায়

বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হচ্ছে খেলা। বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হচ্ছে ম্যাচ। ওভারও কমেছে। ২০ ওভারের বদলে খেলা হবে ১৫ ওভার করে।

মিরপুরে থেমেছে বৃষ্টি

মিরপুরে বৃষ্টিতে বন্ধ ছিল খেলা। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি থেমেছে। রোদের দেখাও মিলেছে। এখন আম্পায়ারদের মাঠ পর্যবেক্ষণের পরই জানা যাবে বিস্তারিত।

বাংলাদেশের পঞ্চাশ পূরণের পর মিরপুরে বৃষ্টি

৬.৩ ওভারে দলীয় পঞ্চাশ পূরণ হয়েছে বাংলাদেশের। ইশ সোধির চতুর্থ ডেলিভারির পরই মিরপুরে নেমেছে বৃষ্টি। ম্যাচ আপাতত বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাভারে ঢেকে রাখা হয়েছে উইকেট। বৃষ্টির আগে লিটন দাস আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রানের চাকা সচল রাখছিলেন। ১৩ বলে ২৫ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। সঙ্গে ২ রানে রয়েছেন তাওহীদ হৃদয়।

পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের ৪৩

পাওয়ার প্লেতে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ওপেনার সাইফ হাসান দারুণ ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু বেশি বড় করতে পারেননি ইনিংস। ১৬ রানে তার ফেরার পর টানা দুই বলে আউট হয়েছেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। তার পরও লিটন দাস আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলায় পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিক দল সংগ্রহ করেছে ৪৩ রান।

টানা দুই বলে আউট তানজিদ-পারভেজ

সাইফের আউট হওয়ার পরের ওভারে দ্রুত বিদায় নেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসানও। শুরু থেকে বাক্সবন্দি ছিলেন। তাকে পঞ্চম ওভারে বোল্ড করেছেন নাথান স্মিথ। তানজিদ সাজঘরে ফেরেন ৫ রানে। পরের বলে নতুন ব্যাটার পারভেজ হোসেনকেও (০) তুলে নেন কিউই পেসার। আপার কাট করতে গিয়ে পারভেজ ক্যাচ আউট হয়েছেন। দ্রুত তিন উইকেট পতনে মুহূর্তেই চাপে পড়ে গেছে বাংলাদেশ।

সাইফের বিদায়ে পড়লো প্রথম উইকেট

টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন ওপেনার সাইফ হাসান। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩ ওভারেই স্কোর দাঁড়ায় ২১। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে অবশ্য মেরে খেলার মাশুল দেন সাইফ। লেনক্সের বলে ক্যাচ তুলে ১৬ রানে কাটা পড়েন তিনি। বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায় ২১ রানে। সাইফের ১১ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার।

শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

মিরপুরে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস হেরেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড শুরুতে বোলিং নিয়েছে।

চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। তাই আজ শনিবার মিরপুরে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি হতে যাচ্ছে সিরিজ নির্ধারণী। প্রথম ম্যাচ জিতে এরই মধ্যে সিরিজে এগিয়ে আছে স্বাগতিক দল। তবে আজ সিরিজ জিতলে ইতিহাস গড়বে তারা। কিউইদের বিপক্ষে কোনো সফরে এর আগে একাধিক সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার সেই কীর্তি গড়ার সামনে লিটন দাসের দল।

একাদশে কারা

শেষ ম্যাচে একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। তানজিম সাকিব ইনজুরিতে বাদ পড়েছেন। তার বদলে এসেছেন সাইফউদ্দিন।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, রিপন মন্ডল ও শরিফুল ইসলাম।

নিউজিল্যান্ড একাদশ: টিম রবিনসন, কাটেনে ক্লার্ক, ডেন ক্লিভার, নিক কেলি (অধিনায়ক), বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, জেইডন লেনক্স ও বেন সিয়ার্স।

Ads small one

উপকূলের লবনাক্ত মাটিতে শখের আঙুর চাষে সফল উদ্যোক্তা তৈয়েবুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
উপকূলের লবনাক্ত মাটিতে শখের আঙুর চাষে সফল উদ্যোক্তা তৈয়েবুর রহমান

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষের উদ্যোক্তা ও কৃষক হিসাবে তৈয়েবুর রহমান সফলতা অর্জন করেছেন। তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে মিষ্টি আঙ্গুর চাষে বিপ্লব ঘটেছে। যা লবনাক্ত উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য একেবারেই নতুন ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। আঙ্গুর চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন এবং আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তিনি স্কোয়াশ চাষ করে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কৃষকের স্বীকৃতি পেয়েছেন।

উপজেলায় কপিলমুনি ইউনিয়নের বিরাশি গ্রামের উদ্যমী উদ্যোক্তা ও নার্সারী ব্যবসায়ী তৈয়েবুর রহমান আঙ্গুর চাষে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরেজমিনে তার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন শতক জমিতে জিও ব্যাগ ব্যবহার করে তিনি আঙ্গুর চাষ করছেন। মাচার উপর গাছ ছড়িয়ে আছে। নিচে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে বিদেশি ফল আঙুর। এমন দৃশ্য চোখে পড়লে মনে হবে বিদেশে আঙুর চাষের দৃশ্য। তার সংগ্রহে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের বাইকোনুর, পার্পেল, গ্রিন লং, একলো এবং সুপার নোভাসহ ১০ টি জাতের আঙুর গাছ আছে। তার বাগানে প্রায় এক হাজার ছোট চারা রয়েছে। যা এক শত থেকে তিন শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উদ্যমী উদ্যোক্তা তৈয়েবুর রহমান জানান, শখের বশে আঙুর চাষ শুরু করেন। অনলাইনে ইউটিউব ও বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক ওয়েবসাইট দেখে আঙ্গুর চাষ সম্পর্কে ধারণা নেন। গত বছর তিনি পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির উঠানে মাত্র দুটি আঙ্গুর গাছ রোপণ করেন। প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলন হওয়ায় তিনি নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে সাত আট মাস আগে আরও ২০টি জিও ব্যাগে আঙ্গুর গাছ লাগান।

 

বর্তমানে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় আঙ্গুর ধরেছে। ছোট বড় থোকা ঝুলছে, যার ওজন প্রায় পাঁচ শত গ্রাম থেকে এক কেজিও বেশি হয়েছে। গাছগুলোতে ফলের পরিমাণ ও মান দেখে স্থানীয় মানুষজন বিস্মিত এবং আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তার বাগানে প্রতিনিয়ত স্থানীয় কৃষকরা পরিদর্শনে যাচ্ছেন এবং নতুনভাবে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আঙ্গুর চাষ করতে চাহিলে, আমি তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছি। আমাদের এলাকায় এই চাষ ছড়িয়ে পড়লে কৃষকরা নতুনভাবে লাভবান হতে পারবেন। এখন আঙ্গুর চাষে সফলতা পেয়ে আরও বড় পরিসরে চাষের পরিকল্পনা করছি। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষ করতে চাই।

মূলত জিও ব্যাগে চাষ করার ফলে গাছের শিকড় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি, সার ও পানি ব্যবস্থাপনা করা যায়। এছাড়া মাচা পদ্ধতিতে গাছগুলো উপরের দিকে ছড়িয়ে দেওয়ায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, ফলে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দুটোই বৃদ্ধি পায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, উপকূলীয় লবনাক্ত এলাকায় আঙ্গুর চাষ একটি ব্যতিক্রমী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আঙ্গুরের জন্য অনুকূল নয় বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছেন তৈয়েবুর রহমান। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা উন্মুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।

পাইকগাছার উদ্যোক্তা তৈয়েবুর রহমান উপকূলের মাটিতে আঙ্গুরের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। লবণাক্ততা আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি সবসময়ই চ্যালেঞ্জের মুখে থাকে। প্রতিকূলতাকে জয় করে আঙ্গুর চাষে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।

 

 

সাতক্ষীরায় নারী খামারিদের দক্ষতা উন্নয়নে আধুনিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নারী খামারিদের দক্ষতা উন্নয়নে আধুনিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

সংবাদদাতা: “দক্ষ নারী শক্তি, খামারের উন্নতি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় নারী খামারিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে আধুনিক ডেইরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রজেক্টের আয়োজনে বুধবার (৬ মে) সকালে সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে এই প্রশিক্ষণে প্রায় ১০০ জন নারী দুগ্ধ খামারি অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত। তিনি বলেন, ব্র্যাক প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নারী দুগ্ধ খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের স্বাবলম্বী করতে সহায়ক হবে এবং দেশের দুগ্ধ শিল্পকে আরও টেকসই করবে। তিনি আরো বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু সামাজিক উন্নয়ন নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিরও অন্যতম চালিকাশক্তি।

 

তিনি আরো বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীরা এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, বিশেষ করে দুগ্ধ খামার ব্যবস্থাপনায় তাদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে নারী খামারিরা শুধু স্বাবলম্বীই নয়, দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও বড় অবদান রাখতে পারবে। এ ধরনের উদ্যোগকে তিনি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্ট এর যশোর অঞ্চলের সাতক্ষীরা এরিয়ার এরিয়া ম্যানেজার মোঃ সোহেল রানা’র সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা: মো: মশিউর রহমান, সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ রেজাউল করিম,ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ইন্সপেক্টর শরিফুল ইসলাম, ব্র্যাকে’র জেলা সমন্বয়ক আশরাফুল মাশরুদসহ আরো অনেকে। নারী খামারিদের দক্ষতা উন্নয়নে আধুনিক ডেইরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সাতক্ষীরা এরিয়ার ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ তাজ মোহাম্মদ।

আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে দুগ্ধ খামারে নারীদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুগ্ধ শিল্প নারীর ক্ষমতায়নের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। টেকসই দুগ্ধ শিল্প গড়ে তুলতে নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা জরুরী। এ ধরনের প্রশিক্ষণ নারী খামারিদের দক্ষতা বাড়াবে এবং খামারের আয় বৃদ্ধি করে নারীর ক্ষমতায়নে সহায়তা করবে।
প্রশিক্ষণে নারীর ক্ষমতায়ন, দুগ্ধ খামারে নারীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা, সুযোগ ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে গরু পালন, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ, কৃত্রিম প্রজনন, দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর খামার পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক নারী খামারিকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে দুধ সংগ্রহের জন্য বিনামূল্যে একটি করে মিল্ক নেট (দুধ ছাঁকনি) ও গাভি পালনের বই বিতরণ করা হয়।

সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন শুরু

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন (পরীক্ষা) আজ বুধবার থেকে শুরু হয়েছে। প্রথম দিন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

 

শনিবার (৯ মে) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রাথমিক গণিত এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ ছাড়া রোববার (১০ মে) তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক গণিত, সোমবার (১১ মে) একই শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান ও ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, জেলার ১ হাজার ৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, “প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়নের পাশাপাশি সব বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থীর বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দক্ষতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, ক্লাস্টারভিত্তিক উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনাও প্রস্তুত করেছেন।

উল্লেখ্য, এবারের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্ষেত্রে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পরিচালিত বিষয়ে ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৫০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন রাখা হয়েছে। আর যেসব বিষয়ে শুধুমাত্র শিক্ষক সহায়িকার ভিত্তিতে পাঠদান হয়, সেসব ক্ষেত্রে শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্ষেত্রে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকাভিত্তিক বিষয়ে ৩০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৭০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে শুধুমাত্র শিক্ষক সহায়িকাভিত্তিক বিষয়ে থাকবে শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, পরীক্ষাকক্ষে শৃঙ্খলাপূর্ণ আসন বিন্যাস এবং উত্তরপত্র অন্তত এক বছর সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির পাঠদান স্বাভাবিক থাকবে এবং নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী মূল্যায়ন কার্যক্রম চলবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।