বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা নিউজিল্যান্ডের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা নিউজিল্যান্ডের

তৃতীয় টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউজিল্যান্ড ১১.৪ ওভারে ১০৪/৪ (জ্যাকবস ৬২*, ফক্সক্রফট ১৫* ; ক্লার্ক ১, ক্লিভার ১, রবিনসন ২৩, কেলি ১)

ফল: নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী

বাংলাদেশ ১৪.২ ওভারে ১০২/১০ (মেহেদী ৭*; সাইফ ১৬, তানজিদ ৫, পারভেজ ০, লিটন ২৬, শামীম ৩, হৃদয় ৩৩, সাইফউদ্দিন ০, রিশাদ ৫, শরিফুল ২, রিপন ০)

সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি জিতলে ইতিহাস গড়তে পারতো বাংলাদেশ। কোনও সফরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একাধিক সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়তো। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেটা হয়নি। শেষ ম্যাচ ৬ উইকেটে জিতে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে নিউজিল্যান্ড। প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশও ৬ উইকেটে জিতেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে।

অবশ্য ১০৩ রানের মামুলি লক্ষ্য দিয়েও ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করে দিয়েছিলেন পেসার শরিফুল ইসলাম। নতুন বলে কিউইদের ২৫ রানের মধ্যে তুলে নেন ৩ উইকেট। তার পর ৩৩ রানে মেহেদী চতুর্থ উইকেট তুলে নিলে তখনও ম্যাচে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তার পর পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচ কেড়ে নেন বেভন জ্যাকবস। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২৯ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। ফিফটির পর তার ঝড়েই ১১.৪ ওভারে ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ডিন ফক্সক্রফট। তিনি ১৫ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থেকেছেন। পঞ্চম উইকেটে এই জুটি যোগ করেছে ৭১ রান!

বল হাতে ১৯ রানে শরিফুল ৩ উইকেট নিলেও সেটা বৃথা গেছে শেষ পর্যন্ত। ২০ রানে একটি নেন মেহেদী হাসান।

মেহেদী এনে দিলেন চতুর্থ উইকেট

লক্ষ্য তাড়ায় কিউইদের স্বস্তিতে খেলতে দিচ্ছে না বাংলাদেশ। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ডট বলের চাপে ফেলছে। তাতে মিলছে সাফল্যও। শরিফুলের তিন উইকেট নেওয়ার পর পঞ্চম ওভারের শেষ বলে মেহেদী হাসানের শিকার হয়েছেন নিক কেলি। মেহেদীর ঘূর্ণিতে ১ রানে বোল্ড হয়েছেন তিনি। নিউজিল্যান্ড চতুর্থ উইকেট হারায় ৩৩ রানে।

শরিফুলের তৃতীয় শিকার রবিনসন

একপ্রান্ত নড়বড়ে হলেও শুরু থেকে চড়াও হচ্ছিলেন ওপেনার টিম রবিনসন। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে তাকেও থামিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন তিনি। রবিনসন ১৪ বলে ২৩ রানে ফিরেছেন। তার ইনিংসে ছিল দুটি ৪ ও একটি ছয়।

দ্বিতীয় ওভারে শরিফুলের জোড়া আঘাত

প্রথম ওভারে ৯ রান তুলেছে নিউজিল্যান্ড। তবে দ্বিতীয় ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে শুরুর জুটি ভেঙেছেন শরিফুল ইসলাম। ১.২ ওভারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ওপেনার কাটেনে ক্লার্ক (১)। একই ওভারের শেষ বলে আবারও আঘাত হানেন শরিফুল। এবার গ্লাভসবন্দি হন নতুন ব্যাটার ক্লিভার।

১০২ রানে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস

তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ১০৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ।

মূলত বৃষ্টি বিরতির পর খেই হারায় বাংলাদেশের ইনিংস। ম্যাচ ১৫ ওভারে নেমে আসায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে তারা। তাতে কাঙ্ক্ষিত স্কোরবোর্ড পায়নি। কিউইদের দারুণ বোলিংয়ে ১৪.২ ওভারে অলআউট হয়েছে ১০২ রানে।

মূলত প্রশ্ন বিরতিতে ব্যাটিংয়ে বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর পাশাপাশি বাজে শট সিলেকশন তাদের ডুবিয়েছে। যে কারণে শেষ দিকে গতি পায়নি ইনিংস। বাংলাদেশ শেষ ৬ উইকেট হারিয়েছে মাত্র ২৬ রানে!

এই সময় স্কোরবোর্ড সচলে মুখ্য ভূমিকা রাখেন তাওহীদ হৃদয়। লিটনের ২৬ রানের পর সর্বোচ্চ ৩৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে। হৃদয়ের ২৪ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছয়। লিটনের ১৭ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছক্কা।

কিউইদের হয়ে ২ ওভারে ৯ রানে ৩টি উইকেট নেন জশ ক্লার্কসন। দুটি করে নিয়েছেন নাথান স্মিথ ও বেন সিয়ার্স। একটি করে নেন জেইডেন লেনক্স ও ইশ সোধি।

শরিফুলের পর রিপনের আউটে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস

শতরান পার করার পর শরিফুলও আউট হয়েছেন ২ রানে। তাকে শেষ ওভারের প্রথম বলে বোল্ড করেছেন সিয়ার্স। পরের বলে রিপনও বোল্ড হলে ১৪.২ ওভারে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

রানআউটে ফিরলেন রিশাদ

শেষ দিকে এসে দ্রুত উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। রিশাদ হোসেনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৩.১ ওভারে রানআউটে ফিরেছেন। তার বিদায়ে বাংলাদেশ ৯৫ রানে হারায় অষ্টম উইকেট।

হৃদয়ের পর ফিরলেন সাইফউদ্দিনও

১৫ রানে জীবন পাওয়ার পর স্কোরবোর্ড সচল রাখছিলেন তাওহীদ হৃদয়। অন্যপ্রান্ত নড়বড়ে হলেও তিনি রান তুলছিলেন। ১২.১ ওভারে অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি। জশ ক্লার্কসনের বলে মেরে খেলতে গিয়ে ৩৩ রানে তালুবন্দি হয়েছেন হৃদয়। পরের বলে ক্যাচ আউট হন নতুন নামা সাইফউদ্দিনও (০)। বাংলাদেশ সপ্তম উইকেট হারায় ৮৯ রানে।

শামীম ফিরলেন ৩ রানে

আগের ম্যাচে রান তুলতে ভূমিকা ছিল শামীম হোসেনের। কিন্তু শেষ ম্যাচে ৩ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। ১১.৩ ওভারে সোধির বলে স্টান্স পরিবর্তন করে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

কিপারের ভুলে বাঁচলেন হৃদয়

লিটন ফিরলেও রানের চাকা সচল রেখেছেন তাওহীদ হৃদয়। অবশ্য তিনি ১৫ রানেই ফিরতে পারতেন। কিন্তু ওই সময় কিপারের ভুলে বেঁচে যান তিনি। হৃদয় ক্রিজের বাইরে থাকলেও উইকেটকিপার বল গ্লাভসে নেওয়ার আগেই বেলস ফেলে দেন।

২৬ রানে থামলেন লিটন

বৃষ্টি বিরতির পর বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হয়েছে খেলা। কিন্তু বিরতির পর ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি লিটন দাস। বিরতির আগে যেভবে মেরে খেলছিলেন, ক্লার্কসনের বলে সেভাবে খেলার চেষ্টায় ৮.২ ওভারে ২৬ রানে ক্যাচ আউট হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায় ৬৩ রানে।

খেলা শুরু বিকাল সাড়ে ৪টায়

বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হচ্ছে খেলা। বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হচ্ছে ম্যাচ। ওভারও কমেছে। ২০ ওভারের বদলে খেলা হবে ১৫ ওভার করে।

মিরপুরে থেমেছে বৃষ্টি

মিরপুরে বৃষ্টিতে বন্ধ ছিল খেলা। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি থেমেছে। রোদের দেখাও মিলেছে। এখন আম্পায়ারদের মাঠ পর্যবেক্ষণের পরই জানা যাবে বিস্তারিত।

বাংলাদেশের পঞ্চাশ পূরণের পর মিরপুরে বৃষ্টি

৬.৩ ওভারে দলীয় পঞ্চাশ পূরণ হয়েছে বাংলাদেশের। ইশ সোধির চতুর্থ ডেলিভারির পরই মিরপুরে নেমেছে বৃষ্টি। ম্যাচ আপাতত বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাভারে ঢেকে রাখা হয়েছে উইকেট। বৃষ্টির আগে লিটন দাস আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রানের চাকা সচল রাখছিলেন। ১৩ বলে ২৫ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। সঙ্গে ২ রানে রয়েছেন তাওহীদ হৃদয়।

পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের ৪৩

পাওয়ার প্লেতে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ওপেনার সাইফ হাসান দারুণ ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু বেশি বড় করতে পারেননি ইনিংস। ১৬ রানে তার ফেরার পর টানা দুই বলে আউট হয়েছেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। তার পরও লিটন দাস আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলায় পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিক দল সংগ্রহ করেছে ৪৩ রান।

টানা দুই বলে আউট তানজিদ-পারভেজ

সাইফের আউট হওয়ার পরের ওভারে দ্রুত বিদায় নেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসানও। শুরু থেকে বাক্সবন্দি ছিলেন। তাকে পঞ্চম ওভারে বোল্ড করেছেন নাথান স্মিথ। তানজিদ সাজঘরে ফেরেন ৫ রানে। পরের বলে নতুন ব্যাটার পারভেজ হোসেনকেও (০) তুলে নেন কিউই পেসার। আপার কাট করতে গিয়ে পারভেজ ক্যাচ আউট হয়েছেন। দ্রুত তিন উইকেট পতনে মুহূর্তেই চাপে পড়ে গেছে বাংলাদেশ।

সাইফের বিদায়ে পড়লো প্রথম উইকেট

টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন ওপেনার সাইফ হাসান। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩ ওভারেই স্কোর দাঁড়ায় ২১। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে অবশ্য মেরে খেলার মাশুল দেন সাইফ। লেনক্সের বলে ক্যাচ তুলে ১৬ রানে কাটা পড়েন তিনি। বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায় ২১ রানে। সাইফের ১১ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার।

শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

মিরপুরে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস হেরেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড শুরুতে বোলিং নিয়েছে।

চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। তাই আজ শনিবার মিরপুরে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি হতে যাচ্ছে সিরিজ নির্ধারণী। প্রথম ম্যাচ জিতে এরই মধ্যে সিরিজে এগিয়ে আছে স্বাগতিক দল। তবে আজ সিরিজ জিতলে ইতিহাস গড়বে তারা। কিউইদের বিপক্ষে কোনো সফরে এর আগে একাধিক সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার সেই কীর্তি গড়ার সামনে লিটন দাসের দল।

একাদশে কারা

শেষ ম্যাচে একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। তানজিম সাকিব ইনজুরিতে বাদ পড়েছেন। তার বদলে এসেছেন সাইফউদ্দিন।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, রিপন মন্ডল ও শরিফুল ইসলাম।

নিউজিল্যান্ড একাদশ: টিম রবিনসন, কাটেনে ক্লার্ক, ডেন ক্লিভার, নিক কেলি (অধিনায়ক), বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, জেইডন লেনক্স ও বেন সিয়ার্স।

Ads small one

পাইকগাছায় কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন ধ্বস, ১০ লাখ টাকার ক্ষতি, স্বাস্থ্যসেবা চলছে স্কুলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন ধ্বস, ১০ লাখ টাকার ক্ষতি, স্বাস্থ্যসেবা চলছে স্কুলে

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় প্রায় আড়াই বছর আগে সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা পাশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সম্প্রতি ভবনটি ধসে পড়ায় অবকাঠামোর পাশাপাশি ক্লিনিকের বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মী।

দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মী উষা মন্ডল জানান, গত সোমবার সকালে ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। ভবনের সঙ্গে থাকা বৈদ্যুতিক মিটার, পানির মোটর, পানির ট্যাংক, রাউটারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে। তাঁর হিসাবে ভবন ও সরঞ্জাম মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে আমুরকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকটি নির্মাণ করা হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, সমতল জমির পরিবর্তে একটি চিংড়িঘেরের পাশে নিচু জায়গায় কয়েকটি রড ও সিমেন্টের পিলারের ওপর ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ক্লিনিকে যাতায়াতের জন্য স্থায়ী কোনো সড়কও ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে সিমেন্ট খসে রড বেরিয়ে আসে। ভবনে ওঠানামার সিঁড়িও ছিল ঝুলন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ। এরপরও সেখানে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলতে থাকে।

 

প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর ধরে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঝুঁকি বেড়ে গেলে পাশের রঙধনু মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আমুরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্বাস্থ্যকর্মীকে অন্যত্র কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেন। পরে কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী ক্লিনিকের কার্যক্রম আমুরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানারা আহম্মেদ বিনতে বলেন, “আমি কয়েক মাস আগে এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি জেনেছি, উপজেলার আরও কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেগুলোও পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা এবং নতুন ভবন নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার আগেই ভবনটি পরিত্যক্ত করা হয়েছিল বলেই বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে স্বাস্থ্যসেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন।

 

 

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মাঠ পর্যায়ের তথ্য অফিসের সাথে মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মাঠ পর্যায়ের তথ্য অফিসের সাথে মতবিনিময় সভা

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য মাঠ পর্যায়ের তথ্য অফিসের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) বেলা ৩ টায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সভাকক্ষে দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য মাঠ পর্যায়ের ৬৮ তথ্য অফিসের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবদুল জলিল সভাটির সভাপতিত্ব করেন। এ সভায় সদর দপ্তরের পরিচালক (কারিগরি ও প্রশিক্ষণ) মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সৈয়দ এ মু’মেনসহ অধিদপ্তরের সকল উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট সকলে সরাসরি এবং মাঠ পর্যায়ের ৬৮ তথ্য অফিসের অফিস প্রধানগণ অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। সাতক্ষীরা জেলা তথ্য অফিসার মোঃ জাহারুল ইসলাম টুটুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

সাতক্ষীরায় পেশাজীবী চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় পেশাজীবী চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

পত্রদূত ডেস্ক: সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা এবং পেশাজীবী গাড়ি চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেলের উদ্যোগে একটি বিশেষ রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পেশাজীবী চালকরা অংশগ্রহণ করেন।

বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মোঃ জিয়াউর রহমানের নির্দেশনায় এবং সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল চালকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এবং সড়ক নিরাপত্তার আধুনিক কলাকৌশল সম্পর্কে তাদের সম্যক ধারণা প্রদান করা।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মোঃ ওমর ফারুক, যেখানে দুর্ঘটনা রোধে চালকদের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেওয়া চালকরা তাদের দৈনন্দিন কর্মক্ষেত্রে সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। অনেক চালক অভিযোগ করেন যে, অনেক সময় যান্ত্রিক ত্রুটি এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের চাপের কারণে তারা নির্ধারিত নিয়ম মেনে গাড়ি চালাতে হিমশিম খান।

তবে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের মতে, অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকে চালকদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং ট্রাফিক সাইন সম্পর্কে অজ্ঞতা।

প্রধান প্রশিক্ষক বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, একজন দক্ষ চালকই পারে সড়কের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে। তিনি পেশাজীবী চালকদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, লাইসেন্স থাকা আর দক্ষ হওয়া এক বিষয় নয়, বরং প্রতিটি ট্রিপে সতর্ক থাকা এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলাই একজন সচেতন চালকের মূল পরিচয়। চালকদের এই বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে কর্মশালায় নিরাপদ ওভারটেকিং, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

কর্মশালায় বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী উসমান সরওয়ার আলম এবং উচ্চমান সহকারী মোঃ নাসির উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে চালকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি চালকদের পেশাদারিত্বের মানদন্ড বজায় রাখার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের ফলে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং এটি সড়ক শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বিআরটিএ প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে এবং যারা প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান প্রয়োগে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

পরিশেষে, পেশাজীবী চালকদের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা সাতক্ষীরায় সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা একটি জাতীয় সংকট হিসেবে বিবেচিত হওয়ায়, চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে কেবল প্রশিক্ষণ নয়, বরং চালকদের মানসিকতা পরিবর্তন এবং সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে অকাল মৃত্যুর মিছিল কমাতে। সাধারণ মানুষের নির্বিঘœ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আগামী দিনেও অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।