সাতক্ষীরায় পটগানে মানব পাচার প্রতিরোধের ডাক
নিজস্ব প্রতিনিধি: আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতি পটগান। আর সেই গানের সুরে সুরেই এবার ফুটে উঠল মানব পাচারের করুণ আখ্যান আর নিরাপদ অভিবাসনের স্বপ্ন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী পটগান প্রদর্শনী। লক্ষ্য—সাধারণ মানুষকে মানব পাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা এবং নিরাপদ প্রবাসযাত্রার পথ দেখানো।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর আয়োজনে এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের বাস্তবায়নে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সুইজারল্যান্ড সরকারের সহযোগিতায় ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রদর্শনীতে শিল্পীরা পটের ছবির মাধ্যমে তুলে ধরেন কীভাবে দালালের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ অজানার পথে পা বাড়ায় এবং পাচারকারীদের হাতে নিগৃহীত হয়। পাচার থেকে ফিরে আসা নারী ও পুরুষদের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাগুলো গানের কথায় ও চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। উপস্থিত দর্শকরা পিনপতন নীরবতায় শোনেন সেই যন্ত্রণার গল্প আর প্রতিরোধের উপায়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সঠিক তথ্যের অভাব আর অতি মুনাফার লোভে পড়ে অনেকেই মানব পাচারের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। আইনি জটিলতা আর ভাষার প্রতিবন্ধকতার কারণে বিদেশের মাটিতে তারা মানবেতর জীবন যাপন করেন। তাই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য পটগানের মতো গ্রামীণ সাংস্কৃতিক মাধ্যম অত্যন্ত কার্যকর।
প্রদর্শনীতে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে রূপান্তরের কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর মো. মাহবুবুর রহমান এবং সিটিআইপি অ্যাক্টিভিস্ট আল আমিন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ব্রহ্মরাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবুল খায়েরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। আয়োজক সংস্থা রূপান্তরের প্রতিনিধিরা জানান, সাতক্ষীরার মতো সীমান্ত জেলাগুলোতে মানব পাচারের ঝুঁকি বেশি। তাই জনসচেতনতা বাড়াতে জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় পর্যায়ক্রমে এই পটগান প্রদর্শনী অব্যাহত রাখা হবে।








