রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সীমান্তে বিজিবির অভিযান: সাড়ে ১৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবির অভিযান: সাড়ে ১৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১৩ লাখ ২২ হাজার ৮০০ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার (৯ জুন) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধীনস্থ ভোমরা, কালিয়ানী, কাকডাঙ্গা, মাদরা ও হিজলদী বিওপির টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, শাড়ি, চিংড়ি মাছের রেণুপোনা, ফেনসিডিল, কোডিন সিরাপ এবং একটি বাংলাদেশি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভোমরা বিওপির একটি দল সাতক্ষীরা সদর থানার কুলিয়া রোড আনসারের মোড় এলাকা থেকে ৬ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় চিংড়ির রেণুপোনা জব্দ করে। কালিয়ানি বিওপির দল খৈতলা এলাকা থেকে ১ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল পার্টস এবং কাকডাঙ্গা বিওপির দল কলারোয়া থানার কেড়াগাছি থেকে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি আটক করে। এছাড়া মাদরা বিওপির দল কলারোয়ার রাজপুর থেকে ১ লাখ৩২ হাজার৮০০ টাকা মূল্যের ফেনসিডিল, কোডিন ও একটি মোটরসাইকেল এবং হিজলদী বিওপির দল বড়ালি এলাকা থেকে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইলের যন্ত্রাংশ জব্দ করে।
শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব মালামাল অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল। বিজিবি জানায়, ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। চোরাচালান রোধে বিজিবির এমন জনস্বার্থমূলক অভিযানকে স্থানীয় বাসিন্দারা সাধুবাদ জানিয়েছেন।

Ads small one

শ্যামনগরে প্রাণি স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রাণি স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে বারসিকের উদ্যোগে প্রাণি স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্টিত হয়েছে। জলবায়ু সংকটাপন্ন অঞ্চলের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদারকরণ (অগ্রযাত্রা) প্রকল্পের আওতায় শনি ও রবিবার (২৫-২৬ জুলাই) বুড়িগোয়ালিনীর সিডিও হলরুমে দুই দিনব্যাপী প্রাণি স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ করা হয়।

প্রশিক্ষণ প্রদান করেন শ্যামনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: সুব্রত বিশ্বাস এবং উপসহকারী প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা সুদীপ্ত কুমার বিশ্বাস।

দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে জলবায়ু সহনশীল পদ্ধতিতে গবাদিপশু পালন, সাধারণ রোগবালাই প্রতিরোধ, টিকাদান এবং আপদকালীন সময়ে প্রাণিসম্পদ সুরক্ষার বিভিন্ন কৌশল হাতে-কলমে শেখানো হয়। নেটজ্ বাংলাদেশের সহযোগিতায় সমাপনীতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বারসিকের ইউনিট ম্যানেজার মননজয় মন্ডল, প্রকল্প ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ, এ্যাডভোকেসী ফ্যাসিলিটেটর ফজলুল হক ও ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মহিরঞ্জন মন্ডল প্রমুখ।

 

 

কয়রায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মৎস্যঘের দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
কয়রায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মৎস্যঘের দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ সানা জমি দখল, চাঁদাবাজি, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে কয়রা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টায় কয়রা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী জহুরুল শিকারী, কোহিনুর সানা, বাপ্পি ওরফে শুভ, আশিক, রবিউল সানাসহ তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভোগদখলে থাকা জমিজমা ও মৎস্যঘের জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মৎস্যঘেরে ক্ষয়ক্ষতি এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদার টাকা না দিলে তাকে ও তার পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, গত ৭ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাগালী মৌজায় তাদের ৯ একর আয়তনের মৎস্যঘেরে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অভিযুক্তরা হামলা চালায়। এ সময় তারা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে বলে অভিযোগ করা হয়। হামলার সময় বাধা দিতে গেলে তার ছোট ভাই মিনারুল সানা ও তার স্ত্রী রেহেনা খাতুনকে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়ে মৎস্যঘেরটি জোরপূর্বক দখলে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আব্দুর রশিদ সানা আরও জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমার বড় ভাই খলিলুর রহমান সানা বাদী হয়ে কয়রা থানা পুলিশ ও খুলনার পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। বরং অভিযুক্তরা দখল করা মৎস্যঘের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের অব্যাহতভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রশিদ সানা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, জবরদখলকৃত মৎস্যঘের ফেরত প্রদান এবং তার পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: উপকূলের সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি, বনায়ন কর্মসূচি, আলোচনাসভা সহ অন্যান্য কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (২৬ জুলাই) উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় নদীর চরে ১.৩ কিলোমিটার এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন ও রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশনের সহযোগিতায় উত্তরণ কর্তৃক বাস্তবায়িত জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রামের আওতায় দক্ষিণ কদমতলা গ্রামে মালঞ্চ নদীর তীরে প্রায় ১.৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ম্যানগ্রোভ ও রাস্তার পাশের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশনের থিমেটিক লিড তামান্না রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম ম্যানেজার পলাশ সরকার, ফিল্ড অপারেশন ম্যানেজার এ. জে. এম. শফিকুল ইসলাম, উত্তরণের প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর মো. আরিফুর রহমান এবং নাজমা আক্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

কর্মসূচির আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় ম্যানগ্রোভ বন একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যূহ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কার্বন শোষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই জলবায়ু সহনশীল উপকূল গড়ে তুলতে ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

বক্তারা আরও বলেন, রাস্তার পাশে ও উপকূলীয় এলাকায় পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে, অন্যদিকে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ উপকূল নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণ, পরিচর্যা ও নতুন করে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল উপকূল গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরে ম্যানগ্রোভ রক্ষায় শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবসের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।