সুন্দরবনে ‘দুলাভাই বাহিনীকে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন ১৩ মৌয়াল
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে মধু আহরণে গিয়ে বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র হাতে অপহরণের শিকার ১৩ জন মৌয়াল মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। শনিবার (৯ মে) বিকেলে তারা খুলনার কয়রা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান। তবে ফেরার পথে তারা কেবল শূন্য হাতেই ফেরেননি, সঙ্গে নিয়ে এসেছেন দস্যুদের নির্মম নির্যাতন আর ঋণের বোঝা।
গত বৃহস্পতিবার সকালে সুন্দরবনের বানিয়াখালি ফরেস্ট স্টেশন থেকে অনুমতি নিয়ে মধু কাটতে গিয়েছিলেন এই মৌয়ালরা। শিবসা নদী সংলগ্ন কুমড়াখালি খাল এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা দস্যুরা তাদের দুটি নৌকা আক্রমণ করে। মৌয়াল দলের সরদার আব্দুল গফুর গাজী জানান, বনের ভেতর আটকে রেখে তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়। দস্যুরা তাদের কাছে থাকা নগদ ৪২ হাজার টাকা, কাপড়চোপড় ও সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয়। পরে বিকাশের মাধ্যমে আরও ৩৬ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী মৌয়ালদের অভিযোগ, এই দস্যুবৃত্তির পেছনে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। মৌয়াল হারুন গাজী ও খোকন ম-ল জানান, দস্যুরা তাদের মারধরের সময় বারবার বলছিলÑ ‘কেন হাসান মেম্বরের কাছে টাকা না দিয়ে বনে ঢুকেছ?’
মৌয়ালদের দাবিÑআমাদি ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল হাসান ওরফে হাসান মেম্বর এই ‘দুলাভাই বাহিনী’ নিয়ন্ত্রণ করেন। তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ‘টোকেন’ সংগ্রহ করলে তবেই দস্যুরা বনে শান্তিতে কাজ করতে দেয়। হাসান মেম্বরের সহযোগী বিপুল ম-ল দস্যুদের খাবার সরবরাহ এবং লুট করা মধু বিক্রির কাজ তদারকি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আবুল হাসান বলেন, “এলাকার শাহাদাত কবিরাজের সঙ্গে আমার বিরোধ থাকায় দস্যু আফজাল আমার নাম ব্যবহার করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”
অন্যদিকে, বানিয়াখালী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন জানান, মৌয়ালরা ফিরে এসেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
দাদন নিয়ে বনে যাওয়া মৌয়ালরা এখন দিশেহারা। মৌয়াল পরিমল সরকার আক্ষেপ করে বলেন, “ডাকাতরা নগদ টাকা তো নিছেই, আবার বাড়ি থেকেও টাকা পাঠাতে হইছে। এখন মহাজনের ঋণ শোধ করবো কী করে আর পরিবারকে খাওয়াবো কী?” স্থানীয়দের ক্ষোভÑপরিচিত দস্যু ও তাদের মদদদাতারা লোকালয়ে ঘুরে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।













