শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেওয়ার পর ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, মূলত ব্যয় কমাতে সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেখানে সংবর্ধনার অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনাতেও অংশ নেবেন তিনি।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চারনভিরাকুল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-সাবাহ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টনিও কোস্তা, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশের আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েও চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

সফরকালে ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আকাঙ্ক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কে তার খুব ব্যস্ত সময়সূচী থাকবে। সাধারণ পরিষদের ফাঁকে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।’

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইডলাইন ইভেন্ট হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সফরের অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইডলাইন ইভেন্ট হবে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় অগ্রাধিকার।’

জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশন নিয়ে আলোচনা হবে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সফরকালে সরকার বৃহত্তর রোহিঙ্গা সংকটের দিকে নজর দেবে।

তারেক রহমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা সম্পর্কে হুমায়ূন কবির বলেন, বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রায়ই শেষ মুহূর্তে এ ধরনের আলোচনা চূড়ান্ত করা হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ২০২৪ সালের ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পরে গণতন্ত্রের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির রূপরেখা তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জুলাইয়ের আন্দোলনের পরে সরকারের প্রতিশ্রুতি, বিশেষত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা তুলে ধরতে পারেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে জনগণের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য তার সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং প্রচেষ্টা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। গত ছয় মাসে সংসদে পাস হওয়া বিলসহ ক্ষমতায় আসার পর থেকে তার সরকার কর্তৃক গৃহীত পদ্ধতিগত সংস্কার ও উদ্যোগের রূপরেখাও তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তার সরকারের মিশন, ভিশন ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা তুলে ধরবেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ৮১তম সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তার জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং উন্নয়নের অগ্রাধিকার উপস্থাপনের সুযোগ দেবে।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি নতুন যাত্রা, একটি নতুন সম্ভাবনা এবং একটি নতুন আকাঙ্ক্ষা চিহ্নিত করে।’

শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতি প্রধানমন্ত্রীর সম্পৃক্ততার দিকনির্দেশনা দেবে এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে উপস্থাপন করার ওপর জোর দেবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ নজর পাবে এবং সাধারণ পরিষদের সময় প্রধানমন্ত্রীকে সম্পৃক্ত করে একটি নিবেদিত অধিবেশনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

Ads small one

সালমান শাহকে যেভাবে খুঁজে পেলেন নির্মাতা সোহানুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
সালমান শাহকে যেভাবে খুঁজে পেলেন নির্মাতা সোহানুর রহমান

প্রয়াত নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরেই সিনেমায় আসেন নায়ক সালমান শাহ। এ নির্মাতার ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমা দিয়ে সালমানের চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি।

নির্মাতা সোহানের দেখা পাওয়ার আগে থেকেই সালমান নায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। এক সাক্ষাৎকারে তাকে নিয়ে এমন তথ্য দেন সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর।

তিনি আরও জানান, ইমনকে থেকে সালমান শাহ হিসেবে গড়ে তোলার প্রথম উদ্যোগটা নেন তার মা খোশনূর আলমগীর।

আঁখি বলেন, ‘ইমনের (সালমান শাহ) মা নীলা আন্টি রাজনীতি করতেন। পাশাপাশি কিন্তু গানও গাইতেন। তিনি আমার মায়ের লেখা একটা গান করেন বিটিভিতে। সেই গানের সূত্রে নীলা আন্টি আর আমার মায়ের সঙ্গে একটা পারিবারিক বন্ডিং তৈরি হয়। সেভাবেই ইমনের সঙ্গে আমাদের পরিচয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমাদের পরিবার সিনেমা ও সংগীতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত, সেজন্য ইমন (সালমান শাহ) বার বার আম্মুকে দেখলেই বলতো, ‘আন্টি প্লিজ একটা কিছু করেন। আপনি চাইলে হবে’। আমি দেখেছি ও আসলে নিজেকে ছোটবেলা থেকে নায়ক হিসেবেই গড়ে তুলেছে। ওর মধ্যে এর বাইরে আর কোনও প্ল্যান ছিলো না। এরপর ওকে নিয়ে আম্মু সোহান আঙ্কেলের কাছে যান। তারপরের ইতিহাস তো সবারই জানান।’

অভিনয় ছেড়ে জাপানে কী করছেন অপর্ণা ঘোষঅভিনয় ছেড়ে জাপানে কী করছেন অপর্ণা ঘোষ
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সালমান শাহর ৫৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে সিলেটের জকিগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহন করেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমা হলো-‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘বুকের ভেতর আগুন’।

‘বিগ বস’থেকে বাদ পড়বেন কারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
‘বিগ বস’থেকে বাদ পড়বেন কারা

উত্তেজনা আর টানটান অপেক্ষার মধ্যেই আরও কঠিন হয়ে উঠেছে ‘বিগ বস বাংলা’-এর খেলা। গত সপ্তাহে ঘর ছেড়েছেন জয়িতা চট্টোপাধ্যায়। এর মধ্যে সপ্তাহ ঘুরে আবার শনিবার এসেছে। দাদা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দরবার নিয়ে উত্তেজিত দর্শক। কারণ সৌরভের দরবার মানেই বকাবকি, সারা সপ্তাহের ঠিক-ভুলের হিসাব এবং এলিমিনেশন।

এ দিকে জানা গেল এ সপ্তাহে শুধু একজন নয়, ঘর ছাড়বেন দুজন প্রতিযোগী।

এই মুহূর্তে বিগ বসের ঘর থেকে ছিটকে যাওয়ার তালিকায় রয়েছেন সাতজন প্রতিযোগী দুর্নিবার সাহা, মনামী ঘোষ, নিরঞ্জন মণ্ডল, দীপেন্দু বিশ্বাস, সৃজলা গুহ, আলেকজান্দ্রা টেলর এবং সায়ক চক্রবর্তী।

এ বারের নমিনেশন পর্ব যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তা আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সাতজনের মধ্যে দুজনকে বিদায় নিতে হলে বাকিদের জন্যও যে চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। কারণ বিগ বসের মতো শোয়ে জনপ্রিয়তা, ঘরের ভিতরের পারফরম্যান্স, দর্শকের ভোট—সবকিছুই শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

সালমান শাহকে যেভাবে খুঁজে পেলেন নির্মাতা সোহানুর রহমানসালমান শাহকে যেভাবে খুঁজে পেলেন নির্মাতা সোহানুর রহমান
সাধারণত সপ্তাহের শেষে একজন প্রতিযোগীর বিদায় ঘিরেই উত্তেজনা থাকে। কিন্তু এ বার একসঙ্গে দুজনকে বিদায় জানানোর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় উত্তেজনার মাত্রা আরও বেশি। সাতজনের মধ্যে কারা নিরাপদ থাকবেন এবং কারাই বা শেষ পর্যন্ত বাড়ির দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসবেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

এছাড়া আজকের পর্ব শুধু দুজনের বিদায়ের গল্প নয়। বরং কারা থাকছেন, কারা চলে যাচ্ছেন এবং তাদের বিদায়ের পর বিগ বসের ঘরের খেলাটা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাও দেখার বিষয়। সেই সঙ্গে পরবর্তী ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি কে? সেদিকেও তাকিয়ে আছে দর্শক।

দেশে প্রথমবার ‘ইমোশনাল ডোনার’ দিয়ে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
দেশে প্রথমবার ‘ইমোশনাল ডোনার’ দিয়ে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন

দীর্ঘদিনের কিডনি জটিলতা, চিকিৎসার অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার পর নতুন জীবনের পথে ফিরেছেন এক রোগী। গাইবান্ধা থেকে আসা একজন স্বেচ্ছাদাতার কিডনি নিয়ে সফলভাবে প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে তার শরীরে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা ‘আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত’ স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে এই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। একই দিন সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়ার উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে রোগী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত চিকিৎসক, স্বজন ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বিএমইউ। এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, নিকট আত্মীয়ের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত অন্য কোনো ব্যক্তিও স্বেচ্ছায় কিডনি দান করতে পারবেন।

উপাচার্য জানান, ইমোশনাল ডোনার যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলো কাজ করছে। সম্ভাব্য ডোনারের আইনগত বিষয়গুলো যাচাই করার পরই প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের একটি বিশেষজ্ঞ টিম ডোনারের মেডিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় মূল্যায়ন করে। রোগীর সঙ্গে ডোনারের সম্পর্ক, দানের স্বেচ্ছাসম্মতি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথ কি না, তাও যাচাই করা হয়।

তবে কিডনি দানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই বলে কঠোরভাবে উল্লেখ করেন অধ্যাপক সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “অর্থের বিনিময়ে কিডনি দান বা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। কিডনি দান হতে হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত শর্ত মেনে।”

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রমও চলমান রয়েছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ধীরে ধীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বিএমইউ আরও সক্ষমতা অর্জন করছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিমের সদস্য ও ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশের প্রথম ইমোশনাল ডোনার কিডনি প্রতিস্থাপন দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশেই এ ধরনের জটিল ও আধুনিক চিকিৎসা সম্ভব হওয়ায় ভবিষ্যতে রোগীদের চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমবে। এতে রোগীদের ভোগান্তির পাশাপাশি চিকিৎসার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের চাপও কমানো সম্ভব হবে।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, এই সফলতা শুধু একটি রোগীর চিকিৎসায় সাফল্য নয়; বরং বাংলাদেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপন চিকিৎসার সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

বিএমইউ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট থেকে আসা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত একজন রোগী গত ১০ আগস্ট ২০২৬ বিএমইউতে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ৩১ আগস্ট তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। গাইবান্ধা থেকে আসা একজন আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতা ওই রোগীকে কিডনি দান করেন।

সফল অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা শেষে শনিবার রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের কিডনি জটিলতা ও চিকিৎসার অনিশ্চয়তার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার এই মুহূর্তটি আবেগঘন করে তোলে পুরো আয়োজন। রোগী ও তাঁর স্বজনরা সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ইউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম, নেফ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ এইচ হামিদ আহম্মদ, গ্রহীতা টিমের সার্জন অধ্যাপক ডা. এ কে এম খুরশিদুল আলম, ডোনার টিমের সার্জন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান, উপাচার্যের একান্ত সচিব-১ অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিমের সদস্যরা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিএমইউর এই সফলতা দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আইনসম্মত, নিরাপদ ও মানবিক কাঠামোর মধ্যে অঙ্গদানের সুযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।