মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

আদালতের রায় পাওয়ার পরও জমির দখল পেতে আদালত পাড়ায় ঘুরছেন বৃদ্ধ সামছুল কবীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
আদালতের রায় পাওয়ার পরও জমির দখল পেতে আদালত পাড়ায় ঘুরছেন বৃদ্ধ সামছুল কবীর

পত্রদূত রিপোর্ট: ওয়ারেশ ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমির নামপত্তন ও খাজনা পরিশোধ করে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দপুরের অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ৮০ বছরের বৃদ্ধ একেএম সামছুল কবীর। রেকর্ড সংশোধনের মামলার রায় তার পক্ষে যাওয়ার পরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছ থেকে জমির দখল বুঝে না পেয়ে আদালতপাড়ায় সময় কাটছে তার। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা আদালত চত্বরে এমনই হাতাশা ব্যক্ত করেন সামছুল কবীর।

কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামের সামছুল রহমানের ছেলে একেএম শামছুল কবীর জানান, ২০০৭ সালে তিনি পূবালী ব্যাংকের খুলনা প্রধান শাখার পিন্সিপ্যাল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় অবসরে যান তিনি। মুকুন্দপুর মৌজার আরএস-২৪ খতিয়ানের ৭১২ দাগে ওয়ারেশসূত্রে ৭ দশমিক ৩৩ শতক ও ১৯৭৯ সালের ৬ জুলাই আবু বক্কর সরদারের কাছ থেকে চার শতক জমি কিনে মোট ১১ দশমিক ৩৩ শতক জমির নামপত্তন করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু ওই জমি ভুল করে একই গ্রামের আশরাফ আলীর নামে রেকর্ড হয়।

 

রেকর্ড মূলে ওই জমি আশরাফ আলীর ওয়ারেশগণ গায়ের জোরে জবরদখল অব্যহত রাখায় তিনি সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যােিজষ্ট্রট আদালতে পিটিশন ৪৩৯/১৭ নং মামলা করেন। ২০১৯ সালের ২২ আগষ্ট বিচারক ওই জমি তাকে ভোগদখল করার জন্য নির্দেশনা দেন। এরপরও তিনি ওই জমির দখল না পাওয়ায় রেকর্ড সংশোধনের জন্য সাতক্ষীরা ল্যা- সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ১৩৩১/২০ নং মামলা করেন।

 

মামলায় আশরাফ আলীর ছেলে দাউদ আলী সরদারসহ ১০জনকে বিবাদী করা হয়। ওই আদালতের বিচারক মোঃ জাহিদুল আজাদ ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তার (শামছুল কবীর) পক্ষে রায় ও ২৪ সেপ্টেম্বর ডিক্রী দেন। আদেশে তার (শামছুল কবীর) নামে রেকর্ড প্রদান করে খতিয়ান সংশোধনের জন্য তৎকালিন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও কালিগঞ্জ সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

বেগতিক বুঝে ল্যা- সার্ভে ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে বিবাদীপক্ষ মহামামন্য হাইকোর্টে ৪৭০৪/২৩ নং রিট পিটিশন দাখিল করে। আদালত শুনানী শেষে সাতক্ষীরা ল্যা- সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার জন্য বিবাদীপক্ষ দাউদ সরদার ও তার শরীকদের নির্দেশনা দেন। এরপর বিবাদীপক্ষ ল্যা- সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনালে ১১৫/২৪ নং আপীল মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় তিনি (শামছুল কবীর) স্বাক্ষ্য দিয়েছেন।

 

আপিল মামলা পরবর্তী ২৪টি ধার্য দিনেও পড়লে আপিলকারি পক্ষ মামলা বিলম্বিত করতে কৌশলে সাক্ষ্য দিতে গড়িমসি করছেন। আগামি পহেলা জুলাই সাক্ষীর জন্য পরবতী দিন ধার্য রয়েছে। ফলে তিনি ল্যা- সার্ভে ট্রাইব্যুনালে রায় পাওয়ার পরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছ থেকে জমি দখলে নিতে পারছেন না। প্রায় ৮০ বছর বয়সেও তিনি ন্যয় বিচারের মাধ্যমে জমির দখল পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জীবদ্দশায় ওই জমির দখল পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি।

তবে এ ব্যাপারে মনিরুল সরদার সাংবাদিকদের বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. প্রণব সরকার বলেন, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তিনি একেএম শামছুল কবীরের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আদালত দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য যথেষ্ট আন্তরিক।
আপিলকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. পরিতোষ কুমার ঘোষের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

 

Ads small one

ভারতীয় ভিসা আবেদনে ‘টাইম স্লট’ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
ভারতীয় ভিসা আবেদনে ‘টাইম স্লট’ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ভারতীয় ভিসা আবেদনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বরাদ্দে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)। বুধবার (১ জুলাই) থেকে নতুন এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীরা আর নিজেদের পছন্দমতো অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় (টাইম স্লট) নির্বাচন করতে পারবেন না। পরিবর্তে, আবেদন জমা দেওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে খালি থাকা একটি সময় আবেদনকারীর জন্য বরাদ্দ করবে সিস্টেম।

আইভ্যাক জানিয়েছে, ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশের সব ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে টাইম-স্লটভিত্তিক আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করছে।

প্রতিটি আইভ্যাকের দৈনিক আবেদন গ্রহণের সক্ষমতার ভিত্তিতে সিস্টেম ক্রমানুসারে আবেদনকারীদের জন্য সময় নির্ধারণ করবে। ফলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময় আবেদনকারীদের আলাদাভাবে টাইম স্লট নির্বাচন করতে হবে না।

ভিসা আবেদন নির্বিঘ্নে ও সময়মতো জমা দেওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিতকরণে উল্লেখিত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইভ্যাকে উপস্থিত থাকার পরামর্শ দিয়েছে আইভ্যাক।

দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

মাসুদ রানা

নদী, প্রকৃতি, ইতিহাস আর সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা দক্ষিণ-পশ্চিমের ঐতিহ্যবাহী জেলা সাতক্ষীরা। আর এই জেলার শিক্ষার আলো ছড়াতে যে প্রতিষ্ঠানটি গত আট দশক ধরে বাতিঘর হিসেবে কাজ করছে, তা হলো সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ। ‘জ্ঞানী শক্তি’-এই মহৎ বাণীকে বুকে ধারণ করে ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই বিদ্যাপীঠটি আজ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও জাতীয়করণ:সাতক্ষীরা জেলার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৪৬ সালে এই কলেজের যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন শিক্ষানুরাগীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই বিদ্যাপীঠটি পরবর্তীতে ১ মার্চ ১৯৮০ সালে জাতীয়করণ করা হয়। জেলা শহরের রাজারবাগান এলাকায় অবস্থিত ৩০ একরের বিশাল এই ক্যাম্পাসটি সাতক্ষীরার শিক্ষার ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

চোখ জুড়ানো সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস: ৩০ একরের এই বিশাল ক্যাম্পাসে পা রাখলেই মন জুড়িয়ে যায়। কলেজের মূল ফটক বা প্রবেশদ্বার রয়েছে দুটি। প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই ডান পাশে চোখে পড়বে এক বিশাল আকৃতির শিশু গাছ, যা মূল ভবনের সামনের বিস্তৃত খালি জায়গাকে সবসময় মায়াবী ছায়ায় আবৃত করে রাখে। এছাড়া পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে রয়েছে অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছপালা।

ক্যাম্পাসের ভেতরে রয়েছে: মনোরম লেক ও মিঠা পানির পুকুর,যা ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শহীদ মিনার: কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ের ঠিক সামনেই বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনারটি অবস্থিত।
আরসিসি ঢালাই রাস্তা: কলেজের মসজিদের পাশ এবং বিজ্ঞান ভবনের সামনে দিয়ে একটি দীর্ঘ ও আঁকাবাঁকা আরসিসি ঢালাই রাস্তা চলে গেছে সরাসরি ছাত্রী হোস্টেলের সামনে।

অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শুধুমাত্র পড়াশোনাতেই নয়, শিক্ষার্থীদের আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ। ছাত্রদের আবাসিক হোস্টেল ২টি, ছাত্রীদের আবাসিক হোস্টেল ১টি, লাইব্রেরী ও ১টি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ, বিস্তৃত ও উন্মুক্ত মাঠ, সুপরিসর সাইকেল ও মোটরসাইকেল শেড।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে কলেজ অনুমোদিত ডিজিটাল আইডি কার্ড প্রদান করা হয়।

শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী সংখ্যা: বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৫,০০০ (পনের হাজার) শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন। উচ্চশিক্ষার বিস্তারে এখানে রয়েছে, অনার্স (স্নাতক) কোর্স ১৬টি বিষয়ে,মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) কোর্স ১৫টি বিষয়ে
সহ-শিক্ষা কার্যক্রম ও সংস্কৃতি চর্চা: লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে কলেজটিতে নিয়মিত সহ-শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং রোভার স্কাউট-এর সক্রিয় ইউনিট।

এছাড়াও প্রতি বছর ক্যাম্পাসে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ’ বা বাংলা নববর্ষ বরণ
যুগের পর যুগ ধরে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ এই অঞ্চলের মেধা ও মননশীলতা গঠনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। জ্ঞানালোক ছড়ানোর পাশাপাশি একটি আদর্শ ও আধুনিক ক্যাম্পাস হিসেবে এই কলেজটি সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের গর্বের প্রতীক হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

 

 

 

ইছামতির বাঁকে বাঁকে: জল ও জীবনের লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
ইছামতির বাঁকে বাঁকে: জল ও জীবনের লড়াই

দীপঙ্কর বিশ্বাস

নদীমাতৃক বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক চিরচেনা ও ঐতিহাসিক নদী ইছামতি। এই নদীকে ঘিরেই যুগ যুগ ধরে গড়ে উঠেছে কতশত জনপদ, সভ্যতার বিকাশ আর হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা। বিশেষ করে ইছামতির দুই পাড়ে বসবাসকারী মৎস্যজীবীদের কাছে এই নদী কেবলই একটি জলধারা নয়; এটি তাদের অন্নদাতা, তাদের সুখ-দুঃখের পরম সঙ্গী। কিন্তু সময়ের আবর্তে আজ কেমন আছে ইছামতির সেই মৎস্যজীবীরা? তাদের জীবন-জীবিকার হালচালই বা কী?

ভোর হওয়ার আগেই যখন চারপাশ কুয়াশায় বা মৃদু অন্ধকারে ঢাকা থাকে, তখনই ইছামতির বুকে শোনা যায় বৈঠার শব্দ। ছৈওয়ালা নৌকায় বসে জাল গোছাতে গোছাতে মৎস্যজীবীরা জপতে থাকেন এক অজানা প্রার্থনা-আজ যেন নদীর বুক থেকে কিছু রূপালি ফসল ঘরে তোলা যায়।

বংশপরম্পরায় এই পেশায় টিকে থাকা জলদাস বা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবন ইছামতির জোয়ার-ভাটার মতোই চঞ্চল। খেপলা জাল, কারেন্ট জাল কিংবা ঝাঁকি জাল ছুঁড়ে দিয়ে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। মাছ বলতে কখনো চিংড়ি, আবার কখনো বেলে, ট্যাংরা বা পারশে। এই মাছ বিক্রি করেই চলে তাদের সংসারের চাল-ডাল কেনা, সন্তানের স্কুলের খরচ আর বুড়ো মা-বাবার ওষুধের টাকা।

সংকটের চোরাবালি: বিপন্ন ইছামতি, বিপন্ন জীবন
সোনালী অতীতের গল্প এখন রূপকথা মনে হয়। বর্তমান সময়ে ইছামতির মৎস্যজীবীরা নানামুখী সংকটের মুখোমুখি। সাংবাদিক হিসেবে মাঠপর্যায়ে তাকালে কয়েকটি বড় ধাক্কা স্পষ্ট চোখে পড়ে,

১. নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে আগের মতো গভীরতা নেই, ২.কমে গেছে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র। ৩. কৃষিজমিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত কীটনাশক ধুয়ে এসে পড়ছে ইছামতিতে। ফলে মাছের মড়ক এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। ৪. ইছামতির একটি বড় অংশ বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা নির্ধারণ করে। সীমানা জটিলতা ও কড়া নজরদারির কারণে মৎস্যজীবীরা অনেক সময় স্বাধীনভাবে মাছ ধরতে পারেন না। অনিচ্ছাকৃত সীমান্ত লঙ্ঘনের ভয়ে আতঙ্কে কাটে তাদের দিন।

যখন নিষেধাজ্ঞার মেঘ নামে
মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে সরকারিভাবে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ইলিশের প্রজনন মৌসুম বা জাটকা রক্ষার এই উদ্যোগ পরিবেশের জন্য দারুণ হলেও, বিকল্প কর্মসংস্থানহীন মৎস্যজীবীদের পেটে তখন চড়া চাবুক পড়ে। সরকারের দেওয়া চালের বরাদ্দ অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল কিংবা পৌঁছাতে দেরি হয়। ফলে দাদন ব্যবসায়ী বা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হন তারা। এই ঋণের জাল থেকে তারা আর সহজে বের হতে পারেন না।
“নদী আমাদের মা। মা কি কখনো সন্তানকে না খেয়ে মারে? নদী ঠিকই মাছ দিত, কিন্তু মানুষই তো নদীটারে মেরে ফেলল।” -একজন প্রবীণ মৎস্যজীবীর আক্ষেপ।

বাঁচিয়ে রাখার দায় আমাদেরই
ইছামতি নদী এবং এর ওপর নির্ভরশীল মৎস্যজীবীদের জীবন বাঁচাতে হলে এখনই সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

১. শিল্পবর্জ্য নদীতে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

২. মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে মৎস্যজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত ও সঠিক সময়ে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিকল্প আয়ের (যেমন- হাঁস-মুরগি পালন, কুটির শিল্প) প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।

৩. মহাজদের কবল থেকে বাঁচাতে সরকারি ব্যাংক বা সমবায় সমিতির মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের স্বল্প সুদে বা সুদহীন ঋণের ব্যবস্থা করা উচিত।

ইছামতি নদী শুধু এক ফালি জলরেখা নয়, এটি হাজার হাজার মৎস্যজীবী পরিবারের ধমনী। এই ধমনী শুকিয়ে গেলে কিংবা দূষিত হলে থমকে যাবে একটি আস্ত জনপদের জীবনস্পন্দন। ইছামতির রূপালি মাছ আর মৎস্যজীবীদের মুখের অমলিন হাসি টিকিয়ে রাখতে হলে নদীকে ভালোবাসতে হবে, নদীকে বাঁচাতে হবে। কারণ, ইছামতি বাঁচলে, বাঁচবে মৎস্যজীবী; আর মৎস্যজীবী বাঁচলে টিকে থাকবে আমাদের চিরন্তন বাংলার রূপ।