বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

আদালতের রায় পাওয়ার পরও জমির দখল পেতে আদালত পাড়ায় ঘুরছেন বৃদ্ধ সামছুল কবীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
আদালতের রায় পাওয়ার পরও জমির দখল পেতে আদালত পাড়ায় ঘুরছেন বৃদ্ধ সামছুল কবীর

পত্রদূত রিপোর্ট: ওয়ারেশ ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমির নামপত্তন ও খাজনা পরিশোধ করে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দপুরের অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ৮০ বছরের বৃদ্ধ একেএম সামছুল কবীর। রেকর্ড সংশোধনের মামলার রায় তার পক্ষে যাওয়ার পরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছ থেকে জমির দখল বুঝে না পেয়ে আদালতপাড়ায় সময় কাটছে তার। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা আদালত চত্বরে এমনই হাতাশা ব্যক্ত করেন সামছুল কবীর।

কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামের সামছুল রহমানের ছেলে একেএম শামছুল কবীর জানান, ২০০৭ সালে তিনি পূবালী ব্যাংকের খুলনা প্রধান শাখার পিন্সিপ্যাল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় অবসরে যান তিনি। মুকুন্দপুর মৌজার আরএস-২৪ খতিয়ানের ৭১২ দাগে ওয়ারেশসূত্রে ৭ দশমিক ৩৩ শতক ও ১৯৭৯ সালের ৬ জুলাই আবু বক্কর সরদারের কাছ থেকে চার শতক জমি কিনে মোট ১১ দশমিক ৩৩ শতক জমির নামপত্তন করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু ওই জমি ভুল করে একই গ্রামের আশরাফ আলীর নামে রেকর্ড হয়।

 

রেকর্ড মূলে ওই জমি আশরাফ আলীর ওয়ারেশগণ গায়ের জোরে জবরদখল অব্যহত রাখায় তিনি সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যােিজষ্ট্রট আদালতে পিটিশন ৪৩৯/১৭ নং মামলা করেন। ২০১৯ সালের ২২ আগষ্ট বিচারক ওই জমি তাকে ভোগদখল করার জন্য নির্দেশনা দেন। এরপরও তিনি ওই জমির দখল না পাওয়ায় রেকর্ড সংশোধনের জন্য সাতক্ষীরা ল্যা- সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ১৩৩১/২০ নং মামলা করেন।

 

মামলায় আশরাফ আলীর ছেলে দাউদ আলী সরদারসহ ১০জনকে বিবাদী করা হয়। ওই আদালতের বিচারক মোঃ জাহিদুল আজাদ ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তার (শামছুল কবীর) পক্ষে রায় ও ২৪ সেপ্টেম্বর ডিক্রী দেন। আদেশে তার (শামছুল কবীর) নামে রেকর্ড প্রদান করে খতিয়ান সংশোধনের জন্য তৎকালিন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও কালিগঞ্জ সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

বেগতিক বুঝে ল্যা- সার্ভে ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে বিবাদীপক্ষ মহামামন্য হাইকোর্টে ৪৭০৪/২৩ নং রিট পিটিশন দাখিল করে। আদালত শুনানী শেষে সাতক্ষীরা ল্যা- সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার জন্য বিবাদীপক্ষ দাউদ সরদার ও তার শরীকদের নির্দেশনা দেন। এরপর বিবাদীপক্ষ ল্যা- সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনালে ১১৫/২৪ নং আপীল মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় তিনি (শামছুল কবীর) স্বাক্ষ্য দিয়েছেন।

 

আপিল মামলা পরবর্তী ২৪টি ধার্য দিনেও পড়লে আপিলকারি পক্ষ মামলা বিলম্বিত করতে কৌশলে সাক্ষ্য দিতে গড়িমসি করছেন। আগামি পহেলা জুলাই সাক্ষীর জন্য পরবতী দিন ধার্য রয়েছে। ফলে তিনি ল্যা- সার্ভে ট্রাইব্যুনালে রায় পাওয়ার পরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছ থেকে জমি দখলে নিতে পারছেন না। প্রায় ৮০ বছর বয়সেও তিনি ন্যয় বিচারের মাধ্যমে জমির দখল পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জীবদ্দশায় ওই জমির দখল পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি।

তবে এ ব্যাপারে মনিরুল সরদার সাংবাদিকদের বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. প্রণব সরকার বলেন, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তিনি একেএম শামছুল কবীরের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আদালত দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য যথেষ্ট আন্তরিক।
আপিলকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. পরিতোষ কুমার ঘোষের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

 

Ads small one

কপিলমুনিতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কপিলমুনি থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ ২ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১১ টায় কপিলমুনি ফাঁড়ী পুলিশ তাদের আটক করে।

পুলিশ জানায়, কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনপেক্টর মোঃ মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে কাশিমনগর মৎস্য আড়ৎ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষও পুলিশকে সহায়তা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির দেহে তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, কপিলমুনির নাছিরপুরের খালেক বিশ্বাসের ছেলে মোঃ জয়নাল বিশ্বাস (২৬) ও আফসার বিশ্বাসের ছেলে মোঃ আলমগীর বিশ্বাস (৪০)। তাদের পাইকগাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনপেক্টর মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এমন নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার থাকবে বলে জানান তিনি।

 

 

 

 

 

নব জীবনের উদ্যোগে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
নব জীবনের উদ্যোগে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ

সংবাদদাতা: মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নভজীবন ইউকে-এর আর্থিক সহায়তায় নবজীবন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরার পলাশপোলে অবস্থিত নবজীবন ইনস্টিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীদেও মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারাবিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত।

 

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান প্রজন্মকে ছোটবেলা থেকেই বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একটি গাছ একটি প্রাণÑএই উপলব্ধি থেকেই আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ শুধু পরিবেশের সুরক্ষাই নিশ্চিত করেনা, বরং খাদ্য নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নব জীবন শিক্ষার্থীদেও মাঝে গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে তাদের পরিবেশ বান্ধব মানসিকতা গড়ে তোলার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি নবজীবন কে উদ্দেশ্য কওে বলেন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, পরিবেশ, নিরাপদ পানি, আয় বর্ধক কার্যক্রম এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ কওে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

 

অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নবজীবনের নির্বাহী পরিচালক তারেকুজ্জামান খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মশিদুল হক শহর, সমাজসেবা অফিসার, সৌমেন মিত্র, সহকারী পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, সাতক্ষীরা।

 

আরও উপস্থিত ছিলেন আফরোজা খান চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ, নব জীবন কার্য নির্বাহী কমিটি, শেখ শফিক উদ দৌল্লা (সাগর) সাবেক কাউন্সিলার ৯নং ওয়ার্ড সাতক্ষীরা পৌরসভা, মনোয়ারুল ইসলাম মন্টু (বীর মুক্তিযোদ্ধা), শিরিন আফরোজ, কার্যনির্বাহী সদস্য, নব জীবন কার্যনির্বাহী কমিটি, নবজীবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, নবজীবন ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ শামসুল আলম খান। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি নবজীবন ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গনে একটি ফলজ গাছের চারা রোপন করেন এবং শিক্ষার্থীদের হাতে ফলজ ও বনজ গাছের চারা তুলে দেন। শিক্ষার্থীরা নিজনিজ বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় চারা গুলো রোপণ ও পরিচর্যার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খান ফাহিম আল ফুয়াদ, পরিচালক, নবজীবন।

 

 

 

শ্যামনগরে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

সংবাদদাতা: দুর্নীতি বিরোধী শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নতুন সূর্য শিখা জ্বলবেই এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণসচেতনতা সৃষ্টি ও সততা চর্চায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বুধবার (২২ জুলাই) শ্যামনগর নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার আয়োজনে ও শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন ও শ্যামনগর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ব্যবস্থাপনায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং পুরস্কার বিতরণ করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ আবুল কালাম বাবলা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য কবি ও সাহিত্যিক মোঃ শহীদুর রহমান, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুস সাত্তার, সদস্য মোঃ আকবর হোসেন প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা শিক্ষা ইন্সটাক্টর মোঃ কামরুজ্জামান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার মন্ডল, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রকাশ কুমার মন্ডল। রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শ্যামনগর উপজেলার ১৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শ্যামনগর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সহকারি অধ্যাপক মানবেন্দ্র দেবনাথ।