বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক আত্ম-যতœ দিবস: নিজের যতœ, সুস্থ জীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক আত্ম-যতœ দিবস: নিজের যতœ, সুস্থ জীবন

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানবজীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো সুস্বাস্থ্য। সুস্থ শরীর, স্থিতিশীল মন এবং সুষম জীবনযাপন একজন মানুষকে কর্মক্ষম, উৎপাদনশীল ও সুখী করে তোলে। কিন্তু আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, প্রযুক্তিনির্ভরতা, মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণে বিশ্বজুড়ে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আত্ম-যতœ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। এ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর ২৪ জুলাই পালিত হয় আন্তর্জাতিক আত্ম-যতœ দিবস।

দিবসটির সূচনা করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেলফ-কেয়ার ফাউন্ডেশন। ২৪ জুলাই বা ২৪/৭ তারিখটি প্রতীকীভাবে নির্দেশ করে যে সুস্থতা রক্ষায় দিনে ২৪ ঘণ্টা এবং সপ্তাহের ৭ দিনই নিজের যতœ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত পালিত ‘সেলফ-কেয়ার মান্থ’-এর সমাপনী দিন হিসেবেও দিবসটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এর মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করা এবং দৈনন্দিন জীবনে এমন অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা, যা সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।

আত্ম-যতেœর ধারণা আধুনিক বিশ্বের সৃষ্টি নয়; এর শিকড় মানবসভ্যতার বহু পুরোনো ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সমাজে সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নানা পদ্ধতি ও রেওয়াজ গড়ে উঠেছে। জাপানের ‘ইকিগাই’ দর্শন জীবনের উদ্দেশ্য ও আনন্দ খুঁজে পাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়, আর ‘শিনরিন-ইয়োকু’ বা বনভ্রমণ মানসিক প্রশান্তির একটি স্বীকৃত চর্চা। চীনের ঐতিহ্যবাহী ‘ইয়ান শেং’ দর্শনে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ভেষজ উপাদান এবং ‘তাই চি’র মতো ধীরগতির ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়। দক্ষিণ এশিয়ার গ্রামীণ সমাজেও ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় হাঁটা, সুষম ও দেশীয় প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান গ্রহণ, ঋতুভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস এবং সামাজিক মেলবন্ধনের সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত, যা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির ভেতর দিয়েই আত্ম-যতেœর এক অনন্য রূপ ফুটিয়ে তোলে।

দর্শনশাস্ত্রেও আত্ম-যতœ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রাচীন গ্রিক ও স্টোইক চিন্তাবিদরা মনে করতেন, মানুষের প্রকৃত উন্নতি নির্ভর করে তার আত্মনিয়ন্ত্রণ, চিন্তা, আচরণ ও অভ্যাসের ওপর। পরবর্তীকালে ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো ‘কেয়ার অব দ্য সেলফ’ ধারণাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করে দেখান যে আত্ম-যতœ কেবল শরীরের পরিচর্যা নয়; এটি আত্মসচেতনতা, আত্মসমালোচনা এবং ব্যক্তিগত বিকাশের একটি চলমান প্রক্রিয়া।

পৃথিবীর ধর্মীয় ঐতিহ্যগুলোতেও শরীর ও মনকে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, পরিমিত আহার, বিশ্রাম, আত্মসংযম, মানসিক প্রশান্তি এবং মানবকল্যাণ-এসব বিষয় বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষায় গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। ফলে আত্ম-যতœ কেবল স্বাস্থ্যগত নয়, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গেও সম্পর্কিত একটি ধারণা।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান আত্ম-যতœকে রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং মানসিক সুস্থতার চর্চা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক প্রশান্তি স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, অন্যদিকে নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতা উন্নত করে। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের তরুণ ও কর্মজীবীদের মাঝে প্রযুক্তিগত অতিরিক্ত আসক্তি থেকে মুক্ত থাকার জন্য সচেতন মানসিক বিরতি অত্যন্ত জরুরি।

আত্ম-প্রভাব কার্যকর ভিত্তি গড়ে ওঠে কয়েকটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের ওপর। সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো, ডিজিটাল মাধ্যমের অতিনির্ভরতা কমানো এবং পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখাÑএসবই আত্ম-যতেœর অংশ। একই সঙ্গে বই পড়া, সৃজনশীল কাজে অংশ নেওয়া, ব্যক্তিগত শখ চর্চা এবং নিজের জন্য কিছু নিরিবিলি সময় রাখা মানসিক সুস্থতা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। দৈনন্দিন রুটিন থেকে প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট নিজের শারীরিক ও মানসিক কল্যাণে ব্যয় করার ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে আমাদের সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে পারে।

আজকের বিশ্বে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, কর্মব্যস্ত জীবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতার মধ্যে আন্তর্জাতিক আত্ম-যতœ দিবসের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। দিবসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সুস্থতা কেবল রোগমুক্ত থাকার নাম নয়; বরং এটি শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত কল্যাণের একটি সমন্বিত অবস্থা। তাই নিজের যতœ নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি সচেতন দায়িত্ব। ব্যক্তি পর্যায়ে আত্ম-যতেœর সংস্কৃতি গড়ে উঠলে পরিবার হবে আরও সুস্থ, সমাজ হবে আরও মানবিক এবং জাতি হবে আরও কর্মক্ষম ও সমৃদ্ধ।

 

 

Ads small one

কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের দু’জনার বাড়ি সাতক্ষীরায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের দু’জনার বাড়ি সাতক্ষীরায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহতদের ২ জন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। বুধবার (১৯ আগষ্ট) রাত ১০টার দিকে এলাকায় খবর পৌঁছানোর পর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন নিহতদের একজনের পরিবারের সদস্যরা।

নিহত আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত. ইউনুচ সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী এবং অপরজন একই উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেবতী সরকার। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহত সাজুর নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, কোমরে ব্যাথার জন্য চিকিৎসক দেখাতে ৫-৬ দিন আগে সাজু ভারতে যায়। বুধবার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১০টার দিকে বাড়িতে খবর আসে হোটেলে অগ্নিকান্ডে সে নিহত হয়েছেন।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জানানো হয়, ঘটনাটি জানার পর বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে হোটেলটিতে অগ্নিকান্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশী।

৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শার উলাশীতে রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে ৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে মাসিক ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অসহায় পরিবারের হাতে চাল, ডাল, তেল, সাবানসহ এক মাসের প্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্বাচিত ৫০টি পরিবারের হাতে দেওয়া হয় মাসিক ত্রাণ কার্ড। এ কার্ডের মাধ্যমে এসব পরিবার নিয়মিত প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাবেন।
একই অনুষ্ঠানে অসহায় মো. জাহাঙ্গীরের অপারেশনের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের জন্যও মাসিক ত্রাণ কার্ডের মাধ্যমে এক মাসের প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রুবিয়া রহমানের নিজস্ব অর্থায়নে এসব মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

শ্যামল শীল
২০২৩ সালের ২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৩ পাশ হয়। ১৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতিকল্পে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ইনকিউবেটর-এর মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা অতীব প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত।
একইদিনে নারায়নগঞ্জে আরো একটি বিশ্ববিদ্যালয় এর আইন পাশ করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তবে, ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণ করা হয়।
জাতীয় সংসদের গত বাজেট অধিবেশনে ১০৬ সাতক্ষীরা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং একই সাথে জেলা/উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং থাকলে, তা কতদিনে বাস্তবায়ন হতে পাবে? প্রশ্ন করেন।
উত্তরে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে বর্তমানে সরকার কর্তৃক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার এবং আঞ্চলিক বৈষমা হ্রাসের লক্ষ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি সরকার সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করে থাকে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার, উদ্ভাবনী চর্চা, গবেষণামনকতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ, সম্ভাবাতা যাচাই এবং অর্থায়নের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। যদি এ সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদিত হয়, তবে প্রকল্পের ধরন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।”
মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয় তাঁর প্রশ্নে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) সম্পর্কে যেমন সুনিদিষ্ঠ কিছু বলেননি, ঠিক একইভাবে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এর উত্তরেও “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি” উল্লেখ করে আইনের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যে আইনটি বিগত সময়ে প্রণয়ন হয়েছিল, সেটি বাতিল হয়েছে এমন কোন তথ্য আমরা খুজে পাইনি। যদি আইনটি থাকে, তবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আর কি কি প্রয়োজন সেটা সম্পর্কেও সুনিদিষ্ঠ কোন তথ্য কারো কাছ থেকে জানতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন আমার এমন একজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন, আইন পাশের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ভিসিসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ এবং একাডেমিক কার্যক্রম যে কোন সময় শুরু করা যেতে পারে।
সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এটা এখন সময়ের দাবী। তবে, রাজনৈতিক গ্যাড়াকলে পড়ে আমাদের অনেক দাবীই বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। বিশ্বাবদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনাটুকু অতিতে সৃষ্টি হয়েছিল তা আবার হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রয়োজন থেকেই এই জনপদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হোক-এই দাবীতে সাতক্ষীরাবাসীর দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা এখন জরুরি। এব্যাপারে সকলে এগিয়ে আসুন।