বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

আশাশুনির রেস্টুরেন্টগুলোতে লাগাম টানবে কে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনির রেস্টুরেন্টগুলোতে লাগাম টানবে কে?

সম্পাদকীয়

আশাশুনিসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকান। আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের বাইরে খাওয়ার প্রবণতা যেমন বেড়েছে, তেমনি একে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল বাণিজ্যিক পরিম-ল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আশাশুনির বুধহাটা, সদর বাজার, প্রতাপনগর কিংবা গুনাকরকাটির মতো জনবহুল এলাকার অধিকাংশ রেস্টুরেন্টেই এখন চলছে ভোক্তার পকেট কাটা এবং স্বাস্থ্য ধসের এক নীরব উৎসব। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাব এবং একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর অতিমুনাফার লোভের কারণে এখানকার সাধারণ ভোক্তারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উপজেলার অধিকাংশ রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড শপের রান্নাঘর চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। ফ্রিজে দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা ও রান্না করা মাছ-মাংস একসাথে ফেলে রাখা হচ্ছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, পোড়া তেল বারবার ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে হরেক পদের ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড। মেন্যুর আকর্ষণীয় নামের আড়ালে নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার এবং আকাশচুম্বী দাম আদায় এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এমনকি বহু প্রতিষ্ঠানের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স কিংবা ফুড গ্রেড সনদ পর্যন্ত নেই।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের বাসি, পচা এবং পোড়া তেলে ভাজা খাবার শরীরে এক প্রকার বিষের মতো কাজ করে। এটি শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্যে বিষক্রিয়া বা গ্যাস্ট্রিকের ব্যবস্থাপনাই নষ্ট করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে লিভার নষ্ট হওয়া, হৃদরোগ এবং ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি ডেকে আনে। অর্থাৎ, টাকার বিনিময়ে আশাশুনির মানুষ আসলে রোগ কিনে বাড়ি ফিরছেন।

নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য পাওয়া নাগরিকের কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলে কোনো ব্যবসাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে দেওয়া যায় না।

অধিকাংশ ব্যবসায়ী সততার সাথে ব্যবসা করতে চাইলেও, এই গুটি কয়েক অসাধু চক্রের কারণে পুরো খাদ্য খাতের ওপর মানুষের আস্থা চিরতরে উঠে যাচ্ছে। এই অচলাবস্থা ভাঙতে হলে উপজেলা প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে কেবল কাগজের দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আশাশুনির প্রতিটি ছোট-বড় বাজারে আকস্মিক ও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

 

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ পেলেই শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান সিলগালা ও কারাদ-ের মতো কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি, ভোক্তাদেরও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন দেখলেই তা বর্জন করা এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানো নাগরিক দায়িত্ব। আশাশুনির মানুষের সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখে দিতে একটি সমন্বিত ও কার্যকর অভিযান এখন সময়ের দাবি।

Ads small one

শ্যামনগরে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

সংবাদদাতা: দুর্নীতি বিরোধী শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নতুন সূর্য শিখা জ্বলবেই এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণসচেতনতা সৃষ্টি ও সততা চর্চায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বুধবার (২২ জুলাই) শ্যামনগর নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার আয়োজনে ও শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন ও শ্যামনগর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ব্যবস্থাপনায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং পুরস্কার বিতরণ করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ আবুল কালাম বাবলা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য কবি ও সাহিত্যিক মোঃ শহীদুর রহমান, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুস সাত্তার, সদস্য মোঃ আকবর হোসেন প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা শিক্ষা ইন্সটাক্টর মোঃ কামরুজ্জামান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার মন্ডল, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রকাশ কুমার মন্ডল। রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শ্যামনগর উপজেলার ১৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শ্যামনগর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সহকারি অধ্যাপক মানবেন্দ্র দেবনাথ।

 

 

 

 

কলারোয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি, ২৭ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি, ২৭ হাজার টাকা জরিমানা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই আইসক্রিম তৈরির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আজ বুধবার (২২ জুলাই, ২০২৬) বেলা ১২:৩০টার দিকে কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা মোড়ে অবস্থিত একটি আইসক্রিম কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মেহেদি হাসান তানভীর এর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এই জরিমানা আদায় করেন।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসূত্রে জানা যায়, হেলাতলা মোড় এলাকায় আমানুল রহমান নামের এক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে কোনোপ্রকার বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সম্পূর্ণ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের উপাদান দিয়ে আইসক্রিম তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বেলা ১২:৩০টার দিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানের চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পেয়ে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী ব্যবসায়ী আমানুল রহমানকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ না করার জন্য তাকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনার সময় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (পুলিশ)-র একটি চৌকস দল উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।

অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদি হাসান তানভীর জানান, জনস্বার্থে ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

 

 

মাধক বিক্রেতাসহ সকল অপরাধীকে আইনের সোপর্দ করুন: ওসি শামীম আহমদ খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
মাধক বিক্রেতাসহ সকল অপরাধীকে আইনের সোপর্দ করুন: ওসি শামীম আহমদ খান

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনিতে বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সাপ্তাহিক প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) সকালে আশাশুনি থানা চত্বরে আয়োজিত প্যারেডে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

 

প্যারেডে উপস্থিত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ শামীম আহমদ খান। তিনি বলেন, গ্রাম পুলিশ হচ্ছে পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী বাহিনী। গ্রামের প্রতিটি এলাকায় তাদের উপস্থিতি থাকায় যে কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার সুযোগ থাকে। তাই প্রত্যেক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মাদক, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, জুয়া, সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিংবা যে কোনো অপরাধমূলক কর্মকান্ডের তথ্য গোপন না রেখে তাৎক্ষণিকভাবে থানাকে জানাতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন।

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের কাজের মূল্যায়ন করা হবে। যারা দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা, সততা ও কর্মদক্ষতার পরিচয় দেবেন এবং অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করবেন, তাদের সর্বোচ্চ নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হবে। এসময় নবাগত ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার দাস, সেকেন্ড অফিসার এসআই রশিদুজ্জামান সহ থানার অফিসারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।