মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধের মধ্যে ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত সৌদি আরব ও ইরাক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
ইরান যুদ্ধের মধ্যে ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত সৌদি আরব ও ইরাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরাকি মিলিশিয়াদের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এখন সরাসরি সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে। গত পাঁচ সপ্তাহের লড়াইয়ে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে কয়েক ডজন বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা একে দেখছেন যুদ্ধের ভেতরে আরেকটি ‘ছায়াযুদ্ধ’ হিসেবে।

সৌদি আরবের একটি মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশটিতে চালানো প্রায় ১ হাজার ড্রোন হামলার অর্ধেকই এসেছে ইরাকি ভূখণ্ড থেকে। এই তালিকায় রয়েছে লোহিত সাগরের ইয়ানবু তেল শোধনাগার এবং সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের তেলক্ষেত্রগুলোতে চালানো হামলা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু থেকে রেহাই পায়নি কুয়েতের একমাত্র বেসামরিক বিমানবন্দরও। এমনকি এ মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরও বাহরাইনে হামলা চালানো হয়েছে। মিলিশিয়ারা ইরাকের ভেতরেও উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পদে হামলা চালাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে বসরায় অবস্থিত কুয়েতি কনস্যুলেট এবং কুর্দিস্তানে অবস্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের কনস্যুলেট।

এই সংঘাত মূলত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধেরই একটি ছায়া অংশ। ইরান নিজেও তার উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি ইসরায়েল ও এই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ বাহিনীও এই যুদ্ধে ইসরায়েলের দিকে রকেট ছুড়েছে। এই মিলিশিয়া বাহিনীগুলো ইরানের জন্য শত্রুপক্ষকে আক্রমণ করার সুযোগ এবং শক্তির পরিধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে জানিয়েছে, মিলিশিয়ারা আরও হামলার পরিকল্পনা করছে। নাগরিকদের ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বারবার হামলার শিকার হওয়ায় সেখানকার বেশিরভাগ কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

দুই দশকের বেশি সময় আগে মার্কিন আগ্রাসনের পর ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের উত্থান ঘটে। তারা শিয়া এলাকাগুলোকে সুন্নি জঙ্গিদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এবং মার্কিন বাহিনীকে ‘দখলদার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে। ইরান এসব গোষ্ঠীকে অস্ত্র সরবরাহ শুরু করে, যারা পরবর্তীতে ২০১৪ সালে সিরিয়া থেকে আসা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ সদস্য, কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে এই মিলিশিয়াদের। এদের মধ্যে কাতাইব হিজবুল্লাহ এবং আসাইব আহল আল-হক সবচেয়ে শক্তিশালী। ইরাকি ও ইরানি উভয় সরকারের ওপরই তাদের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

তারা দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতকে হুমকি দিয়ে আসছে। ২০২১ সালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাজ কমপ্লেক্স এবং রাজ পরিবারের ব্যবহৃত মরুভূমির একটি ক্যাম্পে ড্রোনের সাহায্যে তারা সফল হামলা চালিয়েছিল।

গত বছরের জুন মাসে ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধে ইরাকি মিলিশিয়া বা হিজবুল্লাহর তেমন কোনও ভূমিকা ছিল না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্য হলো, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে, যা মিলিশিয়াদের জন্যও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মিলিশিয়ারা এখন আগের চেয়ে অনেক কম সংযত এবং কিছু ক্ষেত্রে তারা সরাসরি ইরানি সামরিক কমান্ড কাঠামোর অধীনে কাজ করছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল ইসমাইল কানি বিদেশে মিলিশিয়া তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন। তিনিও সপ্তাহান্তে বাগদাদ সফর করেছেন।

উপসাগরীয় দেশগুলো মনে করছে, সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে আক্রমণ না করে ইরাকের মাটিতেই এর জবাব দেওয়া সম্ভব, যাতে বড় কোনও প্রতিশোধের মুখে না পড়তে হয়।

কৌশলগত উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান হরাইজন এনগেজ-এর প্রধান এবং ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের অ্যাডজাঙ্কট ফেলো মাইকেল নাইটস বলেন, ইরাকই হলো সেই জায়গা যেখানে তারা সবাই পাল্টা আঘাত করতে পারে এবং এটি তাদের জন্য ন্যায্য ক্ষেত্র।

নাইটস মনে করেন, সৌদি আরব সতর্কবার্তা হিসেবে ইরাকে প্রতীকী হামলা শুরু করতে পারে। অন্যদিকে, কুয়েত ও বাহরাইন ইরাকি মিলিশিয়াদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারে।

উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি) রাজনীতি ও আলোচনা বিষয়ক সহকারী মহাসচিব আবদেল আজিজ আল-উয়াইশেগ জানিয়েছেন, মিলিশিয়াদের এই হামলা ইরাক ও তার উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের মধ্যকার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো অনেক ক্ষেত্রেই এই মিলিশিয়ারা এখন জাতীয় সরকারের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সমস্যা তৈরি করছে।

আল-উয়াইশেগ জোর দিয়ে বলেন, ইরাকি সরকারকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

 

ইরাকের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটি অশান্ত ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯০ সালে তৎকালীন স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেন কুয়েত আক্রমণ করেন এবং সৌদি আরব দখলের হুমকি দেন। সেই সময় ইরাক কুয়েতে হামলা ও সৌদি আরবের দিকে কয়েক ডজন স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে সাদ্দাম সরকারের পতন ঘটাতে মার্কিন বাহিনী কুয়েতকে মূল ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে ইরাকে প্রবেশ করে।

ইরাকে নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনের পর বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। সরকার গঠন নিয়ে দলীয় কোন্দল ইরাকি নেতাদের মিলিশিয়াদের নিরস্ত্রীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির সঙ্গে মিলিশিয়া ও ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও বছরের শুরুতে ট্রাম্প তার ওপর আপত্তি জানিয়েছিলেন।

চ্যাথাম হাউসের ইরাক ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের পরিচালক রেনাড মানসুর মনে করেন, এখনকার মিলিশিয়ারা আগের তুলনায় অনেক বেশি সাহসী। তিনি বলেন, তেহরানে শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার বা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা, বিশেষ করে এই প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি অস্তিত্বের সংকট। কারণ এটিই তাদের শক্তির প্রধান উৎস।

মানসুর আরও বলেন, ইরানের ও কমান্ডের অধীনে থাকা এই গোষ্ঠীগুলোর কৌশল হলো, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে ব্যাহত করা এবং এই যুদ্ধের পরিণাম কী হতে পারে তা প্রদর্শন করা।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

Ads small one

পাইকগাছায় স্কুল ফিডিংয়ে পচা ডিম ও মানহীন খাবার, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় স্কুল ফিডিংয়ে পচা ডিম ও মানহীন খাবার, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলমান স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও নি¤œমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। সরবরাহকৃত রুটিতে ফাঙ্গাস (ছত্রাক), পচা ডিম এবং কাঁচা কলা দেওয়ার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও জনমনে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

গত ২০ এপ্রিল উপজেলার ৮ নম্বর কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে নি¤œমানের খাবার সরবরাহের সত্যতা পাওয়া গেছে। তালিকায় বিস্কুট থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ স্কুলে আজও তার দেখা মেলেনি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের অভিযোগ, সরবরাহকৃত বনরুটির কোনোটিতে মেয়াদ নেই, আবার কোনোটি মেয়াদোত্তীর্ণ। প্যাকেটজাত অনেক রুটিতে ছত্রাক দেখা দিয়েছে এবং তা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। প্রতিদিন সরবরাহ করা

 

ডিমের মধ্যে ২০ থেকে ৪০টিই নষ্ট থাকছে। এমনকি ইউএইচটি দুধের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকেরা। ৫নম্বর সলুয়া গোলাবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রমা জানায়, “দুধ খেলে মাঝেমধ্যে বমি হয়, পেট খারাপ করে। সিদ্ধ ডিমগুলো দেখে মনে হয় পরিষ্কার না করেই সিদ্ধ করা হয়েছে। আর কলা দেওয়া হয় একদম কাঁচা।”

জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে পাবনার ‘ওসাকা’ নামের একটি এনজিও। তবে স্থানীয়ভাবে খাবার সরবরাহ করছে ‘বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. মাহদী হাসান নিজের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন।

উপজেলার ১৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। নি¤œমানের এই খাবারের কারণে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ার বদলে উল্টো অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “উপজেলার প্রায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই নি¤œমানের খাবারের অভিযোগ আসছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।”

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি। তবে অভিভাবকেরা অনতিবিলম্বে শিশুদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

 

বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডকে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডকে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ আটক

পত্রদূত ডেস্ক: অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড; সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড মো. আব্দুস সামাদ মোল্লাকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্ট গার্ড। মঙ্গলবার সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন”এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে তৃতীয় বারের মতো “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে র্দুর্ধষ ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড কে আটক করা হয়।

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড সুন্দরবন হতে বাগেরহাটের রামপাল থানাধীন শুকদারা বাজার সংলগ্ন এলাকায় পরিবারের সাথে সাক্ষাতের নিমিত্তে আগমন করার তথ্য জানা যায়। প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১০টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড মো. আব্দুস সামাদ মোল্লাকে আটক করা হয়।

 

পরবর্তীতে আটককৃত ডাকাতের তথ্যের ভিত্তিতে, আজ মঙ্গলবার মধ্যরাত ২টায় মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকা হতে ১টি একনলা বন্দুক, ১টি এয়ার গান ও ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। আটককৃত ডাকাত মো. আব্দুস সামাদ মোল্লা (৩৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে ডাকাতি করে আসছিলো। জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

 

কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি, আতঙ্কে ডুমুরিয়ার ব্যবসায়ী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি, আতঙ্কে ডুমুরিয়ার ব্যবসায়ী

Oplus_16908288

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি: ডাকযোগে চিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি এবং পথরোধ করে টাকা ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আলমগীর কবির রাসেল নামের এক ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার সকালে খুলনার ডুমুরিয়া সদরে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ভুক্তভোগী আলমগীর কবির রাসেল খুলনা নগরীর গোবরচাকা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডুমুরিয়ার কাকমারী এলাকায় মৎস্য ঘের পরিচালনা করে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি এবং ঘের দখলের হুমকি দিয়ে আসছে। গত বছরের আগস্ট মাসে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই চক্রটি তাঁকে হয়রানি করতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ মার্চ তাঁর নগরীর ঠিকানায় ডাকযোগে একটি চিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠায় দুর্বৃত্তরা। খামের ওপর প্রেরক হিসেবে ‘সুনীল ম-ল’ নাম লেখা থাকলেও চিঠিতে অজ্ঞাত পরিচয় দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘আগের দিন বেঁচে গেছিস, তোর নিস্তার নাই। কাফনের কাপড় আগে পাঠালাম, কারণ পরের বার সময় পাবি না। দিন গুনতে থাক।’

এই ঘটনায় তিনি খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে রাসেল আরও অভিযোগ করেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি মৎস্য ঘেরের জন্য বাঁশ কিনতে ডুমুরিয়া সদরে এলে ওত পেতে থাকা ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে তাঁর ওপর হামলা চালায়। এসময় তাঁকে মারধর করে তাঁর কাছে থাকা সাড়ে ২১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় ডুমুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে তিনি জানান।

ব্যবসায়ী আলমগীর কবির রাসেল বলেন, ‘কাফনের কাপড় ও হত্যার হুমকি পাওয়ার পর থেকে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রতিনিয়ত এক অজানা আতঙ্ক আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।’ তিনি দ্রুত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।