সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

প্রকাশ ঘোষ বিধান

ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল ও জনস্্েরাত বাংলাদেশের অন্যতম বড় উৎসবের অংশ। প্রতি বছরই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের এই চাপে ঢাকা ও এর আশেপাশের মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের তীব্র চাপ ও যানজট তৈরি হয়।

উৎসবকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলো ফাঁকা হতে থাকে, আর মহাসড়কগুলো পরিণত হয় মানুষের স্্েরাতে। লাখো মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের পথে ছুটে যায়। ঈদে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার উচ্ছ্বাস এবং নাড়ির টানে ঘরে ফেরার ব্যস্ততা।

কিন্তু প্রতি বছর উৎসবের সময় অতিরিক্ত যাত্রীচাপ এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে মহাসড়কগুলো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। আনন্দের এই যাত্রা রূপ নেয় শোকের মিছিলে। অতিরিক্ত গতি, বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণহীন মোটরসাইকেল, ক্লান্ত চালকের ঘুম, অব্যবস্থাপনা ও আইন অমান্য করার প্রবণতা অসংখ্য প্রাণ কেড়ে নেয়।

নবীনগর-চন্দ্রা, ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যানবাহনের চাপ থাকে। গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির অতিরিক্ত চাপে কিছু কিছু পয়েন্টে ধীরগতি ও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সদরঘাটের মতো টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। লঞ্চ ও ফেরিগুলোতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। কমলাপুর স্টেশনসহ অন্যান্য স্টেশনে যাত্রীদের প্রচন্ড জনস্্েরাত লক্ষ্য করা যায়।

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ হলো অতিরিক্ত যাত্রীচাপ। ঈদের আগে কয়েক দিন শহর ছেড়ে মানুষ গ্রামের বাড়িতে রওনা দেয়। ফলে সড়কে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, সিএনজি, নসিমন-করিমনসহ সব ধরনের যানবাহন একসঙ্গে সড়কে নেমে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনও চলাচল করে। পরিবহনের চাহিদা বাড়ায় যাত্রী পরিবহনে মালবাহী ট্রাক পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সড়ক ব্যবস্থাপনায় কঠোর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা দরকার। সড়ক, যানবাহন ও চালকের শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজন মহাসড়কে ত্রুটিপূর্ণ এবং লাইসেন্সহীন গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। ওভারস্পিডিং বা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধে স্পিড গান ও সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা। চালকদের বিশ্রাম নিশ্চিত করতে একটানা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো বন্ধ করে বিকল্প চালকের ব্যবস্থা রাখা। ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং রোধে মহাসড়কে বিপজ্জনকভাবে লেন পরিবর্তন ও ওভারটেকিং করা কঠোরভাবে বন্ধ করা।

 

মোটরসাইকেলে চালকসহ সর্বোচ্চ দুজন আরোহী এবং মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধ করতে বাস, ট্রেন বা লঞ্চের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ঠেকাতে টার্মিনালগুলোতে কড়া নজরদারি করা। ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
চালকদের বেপরোয়া মনোভাবও দুর্ঘটনার বড় কারণ। অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং প্রবণতা, মোবাইল ফোন ব্যবহার, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা ঈদযাত্রায় ভয়াবহ রূপ নেয়।

 

পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা, হঠাৎ রাস্তা পার হওয়া কিংবা মহাসড়কে হাঁটার প্রবণতাও দুর্ঘটনা ঘটায়। একটানা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে অনেক চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় ঘুমঘুম অবস্থায় চালানো যানবাহন বড় ধরনের দুর্ঘটনার জন্ম দেয়।

ঈদযাত্রাকে আনন্দময় করতে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য। ফিটনেসবিহীন গাড়ি এড়িয়ে চলা। যানজট এড়াতে ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে রওনা হওয়া উচিত। চরম ভিড়ের মাঝে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ সঙ্গে রাখা আবশ্যক।

সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যানজট নিরসনে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় ও নজরদারি বাড়াতে হবে। বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত তদারকি বৃদ্ধি করা। টোল প্লাজায় বুথ বাড়িয়ে দ্রুত গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা করা, যাতে দীর্ঘ যানজট ও চালকদের ক্লান্তি না বাড়ে। মহাসড়কের মোড় বা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার ও স্ট্যান্ড দ্রুত অপসারণ করা। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

oppo_0

একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় নাগরিকরা নিয়মিত কর পরিশোধ করবেন, আর বিনিময়ে পাবেন ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাÑএটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকার চিত্র দেখলে মনে হয়, সেখানকার বাসিন্দারা যেন কোনো পরিত্যক্ত জনপদে বসবাস করছেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যকাটিয়ার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে কার্যত একটি উন্মুক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কাদা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ড্রেনের উপচে পড়া কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। একই চিত্র সাতক্ষীরা তুফান কোম্পানীর মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়টির। এ সড়কটির কোথাও আস্ত নেই।
একটি সভ্য সমাজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সড়ক যদি এমন নরককু-ে পরিণত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকছে। রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো এই নোংরা পানির নিচে লুকিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; এই জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। এলাকার মানুষ ঘরের দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছেন না দুর্গন্ধের কারণে। অথচ নাগরিকরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করে যাচ্ছেন। ট্যাক্স দিয়েও কেন মানুষকে এমন আদিম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বাস করতে হবেÑএই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে আরও কতটা ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে, তা সহজেই অনুমেয়।
পৌরসভার পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই “বিষয়টি অবগত আছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু মুখের আশ্বাস বা আশ্বাসের চাদরে দুর্ভোগ ঢেকে রাখার সময় আর নেই। মধ্যকাটিয়াবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান।
আমরা সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—অবিলম্বে মধ্যকাটিয়া এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা পৌরসভার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আশা করি, কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাঠে নামবেন এবং মধ্যকাটিয়াবাসীকে এই দুঃসহ নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

পত্রদূত রিপোর্ট: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আগামী ২০ জুন খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসব সভার বক্তারা বলেন বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এই বিভাগীয় সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাবেশ সফল করতে সব স্তরের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় উপজেলার কর্মপরিষদ সদস্যসহ সব ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতায়াত ব্যবস্থা, লিফলেট বিতরণ ও সাংগঠনিক প্রচারণা জোরদার করার বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।


সাতক্ষীরা সদর: উপজেলা জামায়াতের আমীর ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সেক্রেটারি ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।
কলারোয়া: উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. ওসমান গনী ও জেলা ইউনিট সদস্য অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহজাহান কবীরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমীর, সেক্রেটারি ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রচার-প্রচারণা জোরদার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
আশাশুনি: আশাশুনিতে লিফলেট বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আশাশুনি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সদর ইউনিয়নের শ্রীকলস ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রচারণাকালে সড়কের যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ এবং সমাবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা হয়।


লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন আশাশুনি সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ, সহ-সম্পাদক এস এম শহিদুজ্জামান বাবলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, ওয়ার্ড সম্পাদক হাফেজ আব্দুল করিম, শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন এবং আবুল কাশেমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
‎তালা: ‎“খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ” সফল করার লক্ষ্যে তালায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামির উদ্যোগে তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে লিফলেট বিতরণ করা হয়। ‎লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, তালা সদর ওয়ার্ড সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান রিপনসহ দলীয় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। নেতৃবৃন্দ আগামী ২০ জুন শনিবার বেলা ২টায় খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানের সমাবেশ সফল করার জন্য তালা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত পাঁচজনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃত গফুর সানার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের জামাল সানা, শরিফুল ইসলাম, রেজাউল সরদার, বাবু গাজী ও হযরত আলী সানার সঙ্গে বাদীর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ১৪ জুন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাদী জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি যাওয়ার পথে জামাল সানার বাড়ির সামনে ওয়াপদা রাস্তার ওপর পৌঁছালে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে তার পথরোধ করে।
এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছোট ভাই দ্বীন মোহাম্মদ সানা, ভাগ্নে জসিম ও সাহিদুল, এবং চাচাতো ভাগ্নে তরিকুল ইসলাম সানাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার ২০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বাদীর স্ত্রী জ্যোৎস্না খাতুনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে যাওয়ার পথে আহতদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানিয়েছে।