বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

একজন প্রধান শিক্ষকের প্রচেষ্ঠায় বদলে গেল কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
একজন প্রধান শিক্ষকের প্রচেষ্ঠায় বদলে গেল কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে এক আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের সুদক্ষ পরিচালনা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে এক মনোরম ও সুন্দর পরিবেশে গড়ে উঠছে স্কুলটি। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি এখন এলাকায় রোল মডেল।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের চারপাশের পরিবেশ অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি আনন্দঘন ও ভীতিহীন পরিবেশ। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, শিক্ষার্থীদের নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিকতা এবং সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল জানান, বর্তমান প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ের সার্বিক চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তাঁর চমৎকার প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে দিন দিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি তিনি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনেও বিশেষ ভূমিকা রাখছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষাই একটি শিশুর ভবিষ্যতের ভিত্তি। আমরা কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এমন একটি সুন্দর পরিবেশে রূপান্তর করার চেষ্টা করছি, যেখানে শিশুরা আনন্দের সাথে শিখতে পারে। সকল শিক্ষকের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং পরিচালনা কমিটির সহযোগিতায় আমরা বিদ্যালয়টিকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।”

একটি আদর্শ ও সুন্দর পরিবেশে কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার এই কারিগর ও তাঁর প্রতিষ্ঠানটি আগামী দিনে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় এলাকাবাসীর। সংবাদদাতা জুলফিকার আলী

 

Ads small one

ফকিরহাটে গ্রীস্মকালীন  ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
ফকিরহাটে গ্রীস্মকালীন  ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের ফকিরহাটে ৫৩তম জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রীস্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ সম্প্রসারিত কমপ্লেক্স ভবনের মিলনায়তনে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রোকনুজ জামান। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: গোলাম মোস্তফা।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় এসময় উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার মো: আলমগীর হোসেন, বিএনপি নেতা মো: আলমগীর হোসেন, কাজী শাহানশাহ মিথুন, সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতার আয়োজনে ফকিরহাট জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি।

সাতক্ষীরা আদালত প্রাঙ্গনে গড়ে উঠছে দৃষ্টিনন্দন ‘শাপলা চত্বর’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা আদালত প্রাঙ্গনে গড়ে উঠছে দৃষ্টিনন্দন ‘শাপলা চত্বর’

বদিউজ্জামান: সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত জায়গাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ‘শাপলা চত্বর’। আদালত প্রাঙ্গণের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থী ও দর্শনার্থীদের জন্য একটি মনোরম পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ হিসেবে ইতোমধ্যে এর দৃশ্যমান কাজ শুরু হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম-এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পরিত্যক্ত জায়গাটিতে জাতীয় ফুল শাপলার নান্দনিক প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে। এর চারপাশে রয়েছে ছোট ছোট শাপলাপাতা ও ফুলের সমন্বয়ে আরও চারটি সৌন্দর্যবর্ধক সেট। পুরো স্থাপনাটি আদালত চত্বরের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃত্তাকার জলাধারের মাঝখানে স্থাপন করা হয়েছে আকর্ষণীয় বৃহৎ শাপলা। চারপাশের জলাধারে রয়েছে শাপলাপাতা ও ফুলের সৌন্দর্যবর্ধক নকশা। ইতোমধ্যে স্থাপনাটি আদালত চত্বরে আগত বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শাপলা চত্বরের সৌন্দর্য আরও বাড়াতে সেখানে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিচারপ্রার্থী ও দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হবে ওয়াকওয়ে। পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যান্য সৌন্দর্যবর্ধক কাজও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আব্দুস সাত্তার জানান, পরিত্যক্ত জায়গাটিকে নান্দনিক ও ব্যবহারযোগ্য করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ফোয়ারা, ওয়াকওয়েসহ অন্যান্য সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

আদালত চত্বরে এমন একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বিচারালয়ের কর্মপরিবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘শাপলা চত্বর’ সাতক্ষীরা আদালত প্রাঙ্গণের একটি নান্দনিক পরিচিতি হয়ে উঠবে।

কেশবপুরে ৩৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী নেই ১২১ টিতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে ৩৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী নেই ১২১ টিতে

এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে ১৫৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৬টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। একই সঙ্গে ১২১টি বিদ্যালয়ে নেই নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরি। এতে একদিকে যেমন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে নৈশপ্রহরী না থাকায় রাতে অরক্ষিত থাকছে বিদ্যালয়গুলো।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ১৫৮ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৬ টিতে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২১ হাজার ৭৬৫ জন। কিন্তু বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের সংকট শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ, বিভিন্ন সভা, উপবৃত্তি ও সরকারি হিসাব-নিকাশসহ নানা কাজে প্রায়ই শিক্ষা অফিসে যেতে হয়।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা এসব দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকায় তাঁদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে ৩৬ টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

কেশবপুরের একাধিক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি অন্যান্য শিক্ষকরাও চাপে পড়ছেন। দ্রুত শূন্যপদগুলোতে নিয়োগ ও পদায়ন করা প্রয়োজন।

প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১৫৮ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২১ টিতে কোনো নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরি নেই।

দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ শূন্য থাকায় রাতে বিদ্যালয়গুলো অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সুযোগে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম, বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ সরকারি সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শূন্যপদের তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই সংকট দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।’ নৈশ প্রহরী নিয়োগ নিয়ে মামলা থাকায় নিয়োগ বন্ধ রয়েছে, যার কারনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হলে লেখাপড়ার মান বাড়বে।